‘ঝুঁকিমুক্ত’ শেয়ার ব্যবসা বনাম ‘দেশপ্রেম’- প্রকৌ. স. ম. আলী আকবর

  •  
  •  
  •  
  •  

 339 views

                 

“শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ‘ সম্পূর্ণ ঝুকিমুক্ত ও নিশ্চিত লাভজনক!”

সুতরাং-
করিতে স্বার্থক আয়-সঞ্চয়,  
চলো যাই ‘শেয়ার বাজার’!
আর নেই কোনো সংশয়,
‘ব্যাংক-ডিপিএস’এ টাকার মান হারাবার!!

ডিপিএসসিস্টেমে ব্যাঙ্কে অর্থ বিনিয়োগ করে, যত সময় ধৈর্য্য ধারন করে, যে ‘ক’টি টাকা’ মুনাফা পাওয়া যায়। তাকে টাকার অবমাননা ছাড়া, কোনোভাবেই ‘বাড়তি আয়’ বলা যাচ্ছে না!

প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা জমা করে ৫ বছরে, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জমার বিপরীতে, ইসলামী ব্যাংক হতে মুনাফা পাওয়া যায়, মাত্র ১৯ হাজার টাকা, আর আলআরাফা ব্যাংক হতে পাওয়া যায়, ২৩ হাজার টাকা! অর্থাৎ ব্যাংক ভেদে, মাসে ২ হাজার টাকা সঞ্চয়ের ডিপিএস সিস্টেমে, ৫ বছরের মুনাফা, কমবেশি মাত্র ২০/২২ হাজার টাকা!

পক্ষান্তরে শেয়ার বাজার সম্পর্কে জনশ্রুতিঃ ফটকাবাজী, মারাত্মক ঝুকি, লগ্নি মানেই নিঃঘাত লস, অতি চালাকদের আখড়া, ইত্যাদি আরো অনেক বিশেষণ! তাহলে জনগণ বিনিয়োগ করবে কোথায়?

একটি মজার(!) পরীক্ষাঃ যথাযথ ঠিকানা ও ব্যাংক একাউন্ট সম্বলিত নিজস্ব ‘বিও একাউন্ট’ খুলুন। লক্ষ লক্ষ টাকার শেয়ার না কিনে, প্রতি মাসে মাত্র ২ হাজার টাকা করে, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় ৬০টি ভাল ও ভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, ৬০ মাসব্যাপী যথাযথ নিয়মে কিনতে থাকুন, আর সেগুলোর দর উঠা নামার ট্রেন্ড ধৈর্য ধরে লক্ষ করতে থাকুন। ৬০ মাস বা ৫ বছরের শেষে, ব্যালান্সটি দেখুন। কি দাড়িয়েছে?

যদি দেখা যায়, বোনাস, রাইট, মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি সব মিলে(ডিভিডেন্ড ছাড়া!), মোট ব্যালান্স ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কাছাকাছিই রয়ে গেছে! সেক্ষেত্রে শেয়ার বাজারে আসতে উৎসাহিত করছিনা।

তবে ৫ বছরে প্রাপ্ত নগদ ডিভিডেন্ড (১০-২০ হাজার যাই পেয়েছেন, সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে চলে যাওয়ায়, তা খরচও করে ফেলেছন!) হিসেবে না ধরেও, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার শেয়ারের মোট ব্যালান্স, যদি কমবেশি ২ লাখের কাছাকাছি দাড়ায়! আর এটাই যদি হয় শেয়ার বাজারে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের স্বাভাবিক অর্জন! তাহলে সকল ধৈর্যশীল ও হতভাগ্য ডিপিএস ধারীগণ, কেন অধিক লাভজনক ‘লং টার্ম শেয়ার বিনিয়োগে‘ ঝাপিয়ে পড়বেন না?

না বুঝে অপরের পরামর্শে, লক্ষ লক্ষ টাকার শেয়ার ক্রয়ের ঝুকি না নিয়ে এবং টাকার মান খোয়ানো ডিপিএস না খুলে, আসুন না সবাই মিলে ৬০ মাসে ২ হাজার, অথবা এর যেকোনো গুনিতক টাকার ছোট্ট ঝুকিটি নিয়ে, মাত্র  ৫ বছরের বর্ণিত পরীক্ষা/ট্রেনিংটা সেরে ফেলি! এরপর অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং বিবেকে ভর করে, নিজ শেয়ার ব্যবসা স্বাধীনভাবে শুরু করি! এতে আপনার

* শেয়ার বাজার কি? সে সম্পর্কে মোটামুটি ভাল ধারনা হয়ে যাবে!
* ক্রয় করা ৬০টি ভিন্ন কোম্পানিসহ, অারো অনেক কোম্পানি সম্পর্কেও জানাশোনা হবে!
* সারা বছর শেয়ার বাজারের দর উঠানামার ট্রেন্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট একটা ধারনা জন্মাবে!
* লেগে থাকলে, ক্রমান্বয়ে শেয়ার বাজারের খুটিনাটি অনেক কিছুই, শিক্ষা হয়ে যাবে!
* শেয়ার নিয়ে আপনাকে আর পরনির্ভরশীল হতে হবেনা বা ভীতিকর ও ঝুকিপূর্ণ ব্যবসা মনে হবেনা!

যথাযথ নিয়ম হচ্ছেঃ
#  যথাযথ সময়ঃ ‘জো’ অাসলে, অর্থাৎ পছন্দের শেয়ার কাঙ্ক্ষিত মূল্যে নেমে এলে, দ্রুত কিনে ফেলা।
#  কাঙ্খিত দরঃ নেটে ৫২ সপ্তাহ/বছরের তথ্য ঘেটে, নিম্নতম দরের কাছাকাছি দরে শেয়ার ক্রয় করা।
#  পছন্দের কোম্পানিঃ যে সকল সফল কোম্পানি নিয়মিত এজিএম করে এবং কমবেশি লাভজনক।

বর্তমানে দেশের শেয়ার বাজারে নিবন্ধনকৃত ৩/৪ শত কোম্পানি, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানই বলা চলে, ‘ঝুকিমুক্ত ও বিনিয়োগ সহায়ক’! প্রতিমাসে যার কমপক্ষে ১০/১২ টি কোম্পানির শেয়ার, ক্রয় উপযোগী (জো!) দরে পাওয়া যেতেই পারে! যেগুলো বর্ণিত নিয়মে কিনলে, পুঁজি হারানোর ন্যুনতম সম্ভাবনাও, ইনশাল্লাহ নেই!

ঝুঁকিমুক্ত প্রতিষ্ঠানঃ
# নিবন্ধিত যে সকল কোম্পানির সফলতা সর্বজন স্বীকৃত।
# যাদের ব্যবসা যথেষ্ট স্থিতিশীল, সচ্ছ ও খ্যাতিমান।
# যাদের নগদ লভ্যাংশ, বোনাস ও ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপন পারষ্পরিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মজার এক ব্যবসা বটে! ইচ্ছা করলেই কি একখানা সফল ইন্ডাষ্ট্রি/ব্যাংক বানিয়ে, উহার মালিক বা অংশিদার হওয়া যায়? অথচ ইচ্ছা করলেই, শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত, যে কোনো সফল ব্যাংক অথবা কোম্পানির কয়েকটি শেয়ার কিনে, আপনিও খ্যাতিমান সেই প্রতিষ্ঠানের, ক্ষুদ্রতম অংশের হলেও, আসল মালিক বনে যেতে পারেন! বিষয়টি ইন্টারেষ্টিং নয় কি?

মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে সেই মালিকানাতো কাগুজে! এর কোনো গ্যারান্টি আছে কি? থাকলে তার নিশ্চয়তা কোথায়, এবং এর দায়ইবা কে নেবে?

সহজ উত্তরঃ শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইন এবং অবকাঠামো (ব্রোকার হাউজ, স্টক এক্সচেঞ্জ, এসইসি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ইত্যাদি), শুধু আপনার জন্যই! এদের ‘আইনী দায়-দায়িত্ব’ই, (কিছু ত্রুটি সত্ত্বেও!) আপনার মূল গ্যারান্টার! ইলেক্ট্রনিক শেয়ার বাজারে আসার পর, যা আরো সংহত হয়েছে! যাকে প্রায় ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের সাথে তুলনা করতে পারেন!

আমি বিশ্বাস করি, “বিদ্যমান ব্যবস্থায়, ভাল কোম্পানির সকল শেয়ার হোল্ডারই, কোম্পানির নিট আয়ের ন্যুনতম অন্তত ৮০% অর্জন বাস্তবিক অর্থেই, ভোগ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন!”

এতগুলো সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গর্বিত মালিক/অংশিদার হবার, এই অবাধ সুযোগ, দেশবিদেশের উৎসাহী বাঙ্গালি  জনগোষ্ঠি, কেন লুফে নিচ্ছেনা? বুঝে আসছে না!

শেয়ার বাছাইয়ের কয়েকটি নির্নায়কঃ
* বছরের চার কোয়ার্টারেই, টার্গেটেড শেয়ারের ঘোষনা সমূহ যথাসম্ভব অবলোকন করুণ।
* কোম্পানির পি/ই রেশিও কম হলে, ঝুকি কম, ধরে নিতে পারেন।
* বিগত ৪/৫ বছরের বার্ষিক ঘোষণা লক্ষ করে, শেয়ার সিলেক্টশন চুড়ান্ত করুণ।
* যে সকল কোম্পানির পাবলিক শেয়ারের সংখ্যা কম, সেগুলো চয়েস করুণ।
* অধিক পরিমাণ রিজার্ভ ও সারপ্লাস, কোম্পানির সংহত অবস্থান কে নির্দেশ করে।
* অথারাইজড ও পেইডআপ ক্যাপিটালের পার্থক্য বেশি হলে ভাল।
* যত ভাল ও লাভজনক কোম্পানিই হোকনা কেন, অতি মূল্যায়িত শেয়ার সাবধানে কেনা উচিৎ।

বর্ণিত পরামর্শ সমূহ, ‘ফটকাবাজীক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়!” মনে রাখতে হবে, শেয়ার বাজারে লোভের বশবর্তী হয়ে, যিনি নিজেকে, যত চালাক/জ্ঞানী ভাবতে যাবেন, তাঁর ঝুকি ততই বাড়তে থাকবে!’

এক্ষণে করণীয়ঃ যাদের চাকুরী বা মাসিক নির্দ্দিষ্ট আয়ের সুযোগ আছে এবং বয়স ৪০-৪৫ বছরের কাছাকাছি বা তার চেয়ে কম। তাদের প্রতি আহ্বান, দেরি না করে, উপরে বর্ণিত ৫ বছরেরপরীক্ষাকামট্রেনিং‘ টা সেরে ফেলুন। এরপর বুঝে, শুনে, নিজ জ্ঞানে, সাধ্যমত অঙ্কের মাসিক বিনিয়োগ করতে থাকুন। আর শেয়ার বাজারের আসল মজা লুটতে থাকুন!

ধৈর্য ধরে, মাসিক বিনিয়োগ শেষ পর্জন্ত চালাতে পাড়লে, দেখবেন সকল নগদ ডিভিডেন্ড এবং মাঝে মধ্যেই, নানা প্রয়োজনে প্রচুর ‘মূলধনী আয়’ ভোগের পরেও পেনশনের সময়, আপনার বিও তে, মূল পেনশন অপেক্ষা, কত অধিক টাকার শেয়ার অবিশ্বাস্য ভাবে জমে আছে?

বুঝে শুনে উল্লেখিত নির্ণায়ক সমূহ অনুসরণে শেয়ার ক্রয় করলে, প্রাপ্তি নিশ্চিত! হতে পারে তা, দু/তিন দিনেই! আবার তিন/চার বছরও লেগে যেতে পারে! ধরা যাক, ক্রয় করা কোনো শেয়ারের, কাঙ্খিত ফল পেতে দীর্ঘ ৫ বছরই লেগে গেল! তাহলে কি ঐ শেয়ারটিতে আপনার ‘লস’ হয়ে গেল?

মোটেই নয়! কারণ ৫ বছরে আপনি যে ‘নগদ ডিভিডেন্ড’ অথবা ‘ডিভিডেন্ড + বোনাস’ অথবা ‘রাইট শেয়ার’ প্রতি বছর, যার একটি হলেও পেয়েছেন! সেগুলোসহ হিসাব কষে দেখুন, শুধু চালানই ফিরে পেলেন? নাকি দ্বিগুণ বা তার বেশী কিছু, দর না বাড়া সত্ত্বেও, পেয়ে গেলেন!

বিবিধ শেয়ারে বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণে আপনি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষণিক বিফলতাসহ, অহরহ পরীক্ষায় পড়বেন, আর নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকবেন! তবে ভয়ের কিছু নেই, কারণ দেশের অর্থনীতির চাকা মোটা মুটি সচল থাকলে, লংটার্ম শেয়ার বিনিয়োগে লোকসানের কোন সুযোগই, আলহামদুলিল্লাহ নেই।

শেয়ার ব্যবসায়ীর হাতে নগদ টাকা না থাকলেও বেচাকেনা চলতেই থাকে! ধরুন, আপনার কাঙ্ক্ষিত কোনো শেয়ার জো-মত দরে নেমে এল, কিন্তু আপনার কাছে টাকা না থাকায়, শেয়ারটি সংগ্রহ করতে পারছেননা! চিন্তা নেই, আপনার অভিজ্ঞতা বলেই দেখতে পাবেন, বিওতে বেশকিছু শেয়ার পড়ে আছে, যা আগামী ৫/৬ মাসের পূর্বে বৃদ্ধি পাওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। আপনি সেই শেয়ার গুলোর ৭০-৮০% (আমি বিও খালি করার পক্ষে নই) সেল করে  টার্গেটের শেয়ারটি কিনে ফেলুন!

আবার  দেখা গেল, আপনি যে শেয়ার গুলোকে ‘অলস’ মনে করে বেচে দিলেন, সেটির দাম বাড়া শুরু করলো! আর যেটিকে পছন্দ করে ক্রয় করলেন, তার দর স্থির রইল বা পতন শুরু হয়ে গেল! ভয় নেই, আপনার ক্রয় ‘বিবেচনামত’ হয়ে থাকলে, ‘মওকা’ও একসময় আসবেই, ইনশাল্লাহ! জেনুইন ষ্টক হোল্ডার গণের পক্ষে, এ ধরনের ‘ঘুপচি আয়!’ অতি সহজ ও সাভাবিক!

বিবিধ বা ডাইভার্সিফিকেশনই মূলমন্ত্র! মাস ভিত্তিক ক্রয় ছাড়া, শেয়ার ব্যবসা লাভজনক নয়? তা কিন্তু নয়! আপনি কোটি টাকা এনেও, ঝুকিমুক্ত ব্যবসা শুরু করতে পারেন! যদি আপনার বিনিয়োগ হয়-
# জ্ঞানগর্ভ, ধীরস্থির ও ক্রম বর্ধমান,
# পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি,
# এবং বহু প্রকারের ভাল কোম্পানি ভিত্তিক।

এক্ষেত্রে স্বল্প পুঁজির সাধারণ জনগোষ্ঠীকে, সহজ, লাভজনক ও ঝুকিমুক্ত পথে শেয়ার বাজার চেনানোর জন্যই, টাকা অবনমনের মাসিক সঞ্চয়কে, উপলক্ষ হিসেবে নেয়া হয়েছে।

অবিশ্বাস্য বাস্তবতা হচ্ছে,লংটার্ম বিনিয়োগ‘ এর কোনো ১৯৯৬ বা ২০১০ এর উত্তাল, অথবা ১৯৯৭-২০০০ এবং ২০১১-২০১৫ কালীন মন্দার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব নেই! অস্বাভাবিক উর্ধমূখী বাজারে, কথিত চালাক বোদ্ধারাই ধরা খেয়ে থাকেন! আর ধৈর্যশীল ব্যবসায়ীরা, মওকামত চড়াদামে শেয়ার ছাড়ার, সুযোগ পেয়ে থাকেন! তবে প্রকৃত শেয়ার ব্যবসায়ীর কাছে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত নয়!

আবার মন্দার সময়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়ীর ডিভিডেন্ড, বোনাস, রাইট ইত্যাদি কার্যক্রম, কমবেশি  চলতেই থাকে। সে তখন তাঁর সাময়িক প্রয়োজন, তুলনামূলক উর্ধদরের লটসমূহ হতে, ক্ষুদ্রতর অংশ বিক্রি করে, প্রয়োজন মেটাতে পাড়লে, শেয়ারের মূল ব্যবসা দিব্যি চলমানই থাকে!

খেলাধুলা(ফটকাবাজী!)তে আপনার বাধা কিসে? শেয়ার বাজারে, খেলোয়াররা খেলবেই! তারাতো খেলবে ঝুকি নিয়ে, ধুমধাড়াক্কা! তারা হারবে আর জিতবে! অপরদিকে, আপনি বান্দাই করা লক্ষ লক্ষ টাকার সুসংহত মাল ছাড়বেন/ধরবেন, ধীরে-সুস্থে, বুঝে-শুনে, মওকামত সময়ে! মুনাফা হলে বেচবেন, না হলে নয়! শেয়ারতো আর পঁচে যাবার মাল নয়! শেয়ার পুষলেওতো, সময় সময় নগদ, বোনাস, ও রাইট যা পাবার তাতো পাবেনই! সুতরাং আপনার ‘ঝুকি’ কোথায়? বুঝলেন কিছু?

 সাধারণ পাবলিক যদি সত্যি সত্যি শেয়ার বাজারে ঢুকে পড়তো!
# হতভাগ্য দেশটির শেয়ার মার্কেটে বিপ্লব ঘটে যেত!
# বিদ্যমান মাত্র ৩/৪ শত কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বাজারে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত!
# দেশের সকল ভাল কোম্পানিসহ, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি সমূহও বাজারে নিবন্ধিত হতো!
# ফটকাবাজদের দৌড়াত্ব কমে,বাজার স্থিতিশীল হত এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়তেই থাকতো!
# তবে এই আহবানের ফলে, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী সত্যি সত্যি, ছোট্ট এই মার্কেটটির প্রতি ঝুকে পড়া জনিত সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায়, এসইসিকে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে!

অনেকের মনে হতে পারে, লেখাটি কি প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থার বিরূদ্ধে? মোটেও তা নয়! কারণ, এ মুহুর্তে আমার নিজেরই ৩ টি ডিপিএস চলমান এবং বেচে থাকলে, আমাকে প্রতি বছর ৩/৪ টি করে ডিপিএস ইনশাল্লাহ খুলতেই হবে! সেই প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন!

এ ছাড়া, ব্যক্তির বিও (শেয়ার) একাউন্টের যাবতীয় লেনদেনের মূল মাধ্যম, তাঁর ব্যাংক একাউন্ট! সুতরাং শেয়ার ব্যবসা চাঙ্গা হলে, দেশের ব্যাংক সমূহ চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা আরো অনেক বেশী, নয়কি?

সাবধান! শেয়ার বেচাকেনা, সকল সময়েই সিদ্ধ! তবে অস্বাভাবিক(৯৬/২০১০!) বাজারে, নগদ টাকা ঢালতে যাবেননা না না!

উপসংহারঃ নিবন্ধটি, বিগত ২২ বছর প্রান্তিক পর্যায়ের অবস্থানে থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার পুঞ্জিভুত বাস্তব উপলব্ধি হতে রচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এ সেক্টরে, সংশ্লিষ্ট অনেক জ্ঞানী-গুনীজন আছেন, যারা এর বিভিন্ন অর্থনৈতিক দিক সম্পর্কে, আরো ব্যাপক ও ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

তবে এটা সত্যি যে, মুষ্ঠিমেয় কতিপয় উঁচু পর্যায়ের স্বার্থান্বেষীর খপ্পরের শেয়ার বাজারটি, আজও নিভু নিভু জ্বলছে! শুধুমাত্র নিঃস্বার্থ জ্ঞানগর্ভ সংষ্কার এবং ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই, সম্ভাবনাময় এ সেক্টরটিকে গণমূখী করে, অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দুয়ার খুলে দেয়া যেতে পারে!

দেশপ্রেমের ফাঁকা বুলি নয়! দেশটির রূগ্ন শেয়ার বাজারে পরিকল্পিত বিনিয়োগ করে, নিজে অভাবিত অর্জন করুণ! আর সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির গর্বিত অংশিদার বনে যাবার অপূর্ব সুযোগটি লুফে নিন!

পরিশেষেঃ “পবিত্র কোরআনে, ব্যবসাকে হালাল ঘোষনা করা হয়েছে। যার মূল চালিকা শক্তি, ব্যক্তির একাগ্রতা, সততা ও ছবর।”

সুতরাং মনে রাখতে হবে– “ধৈর্যই শক্তি” “ধৈর্যেই শান্তি” “ধৈর্যেই সমৃদ্ধি!” আমিন।।

 

প্রকৌ. স. ম. আলী আকবর
লেখক ও প্রৌকশলী

 

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments