অজয় দাশগুপ্তের জন্মদিনে…

  •  
  •  
  •  
  •  

 218 views


আমাদের প্রবাস জীবনটি কেমন হতো যদি এই অচেনা আলো  বাতাসে বসে দেশের কথা ভাবার সুযোগটি না থাকতো? সাতান্ন হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চি জমি শুকিয়ে গেলেও আমাদের প্রাণ কাঁদে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুলে দেখি কেমন আছে আমার দেশ। 
আমরা কি শুধু খবর দেখি নাকি জানতে চাই – রাজনীতির বৈরী পরিবেশেও আমার দেশ কেমন আছে? অনেকে কলাম লিখেন। দেশের কথা লিখেন।  বর্ণনা করেন ঘটে যাওয়া ঘটনা। কিন্তু মন ভরে  না। জানতে ইচ্ছে করে ঘটনার নেপথ্যে আর কি কি অনুঘটন থাকতে পারে? সবই যে সত্য হবে ঠিক তা নয়। কিন্তু আমাদের চিন্তার দিগন্ত তো আরো বিস্তৃত হতে পারে ! অজয় দাশগুপ্ত  আমাদের সেই তৃষ্ণা অনেকখানি মিটিয়েছেন তার তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দিয়ে। আমরা বলি সাহসী অজয় ভয়, ভীতি আর লোভ জয় করে আমাদের এক ভিন্ন ব্যাখ্যার জগতে নিয়ে যান। আমরা দেখি অজয়ের তির্যক মন্তব্য, তা সে সাধারণ রাজনীতিবিদ কিংবা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী – কেউ বাদ যায়নি। অজয়ের রসের হাঁড়ি ভারী করার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই অনায়াসে পকেট ফুটো সাংবাদিকের মতো কলম দিয়ে কথার খৈ ফুটান।  
অজয় এর কলম শুধু লম্বা গদ্য লিখেনি। যে কলমে ক্রোধ আর প্রতিবাদ জায়গা করে নিয়েছিল – সেই একই কলমে জায়গা করেছে শব্দের ছন্দ। এই কারণেই অজয়ের বিচরণ এত সহজ।  
এই গুণী মানুষটির আজ জন্মদিন।  
প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে অজয় দাশগুপ্ত কে জন্মদিনের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। এই যে প্রশান্তিকা বললাম, এই নামটিও দিয়েছেন এই গুণী মানুষ। 

জন্মদিনের নৈশভোজে স্ত্রী ও পুত্র সহ অজয় দাশগুপ্ত
আজ ১০ জানুয়ারী এই গুণীনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁর অসংখ্য পাঠক আর ভক্ত। এমন শুভার্থী কয়েকজনের শুভেচ্ছা আমরা প্রশান্তিকায় লিপিবদ্ধ করেছি। 

গামা আব্দুল কাদির, রাজনীতিবিদ ও সংগঠক, সিডনি: অজয় দাশগুপ্তের সাথে আমার পরিচয় তার সিডনি আসার পর পরই। এখানে আসার আগেই জানতাম উনি একজন তুখোর লেখক ও সাংবাদিক। সেসময় আরেক প্রখ্যাত সাংবাদিক ও তার্কিক বিরূপাক্ষ পাল ছিলেন সিডনিতে। অজয় আর বিরূপাক্ষ অনেক বার আমাদের ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় এসেছেন। কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত শিল্পী অদিতি মহসিন সিডনিতে এলে পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছিলেন অজয়। অত্যন্ত বিনয়ী অজয়ের মুখে হাসি ছাড়া মলিনতা দেখিনি কখনও। অজয় শতবর্ষী হোক এই প্রার্থনা করি। শুভ জন্মদিন।

নোমান শামীম, সম্পাদক, মুক্তমঞ্চ: প্রবাসে আমাদের কন্ঠ হিসেবে কাজ করেন প্রখ্যাত কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত। বাঙ্গালী চেতনার এই প্রখর মেধার বুদ্ধিজীবিকে আমাদের অনন্ত শুভেচ্ছা, শুভ জন্মদিন প্রিয় কবি, প্রিয় প্রাবন্ধিক।

রুমান হোসেন, সংবাদকর্মী, বাংলাদেশ: বিশিষ্ট কলামিষ্ট, কবি ও ছড়াকার শ্রদ্ধেয় অজয় দাশগুপ্ত (প্রিয় দাদা) এর জন্মবার্ষিকী আজ। দাদা, শুভ জন্মবার্ষিকী। শ্রদ্ধা নিবেন।
‘দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া’ আপনার এই শিরোনাম সারাজীবন মনে থাকবে। আপনার কাছ থেকে শিখি প্রতিনিয়ত।

দীপা দাশগুপ্ত: শুভ জন্মদিন প্রিয়তম। ৬০টি গোলাপের শুভেচ্ছা।

আরিফুর রহমান, লেখক ও সাংবাদিক, সিডনি: যে কয়জন মানুষের কথা শুনতে শুনতে আমি অন্যরকম মানুষ হয়ে যাই বা মুগ্ধ হয়ে তাঁকিয়ে থাকি এবং অবাক হই, কি করে এতো সুন্দর করে কথা বলতে পারে মানুষ, সেরকম একজন মানুষের নাম অজয় দাশগুপ্ত। ছোটকাল থেকে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের কথা শুনে টেলিভিশন থেকে দৃষ্টি ফেরাতাম না। অস্ট্রেলিয়া এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেরকম অজয়দার কথা শুনে আমি বুঁদ হয়ে যাই এবং আমি যেন তার কথার প্রেমে পড়ে যাই। আমি তাকে জানতাম দেশে থাকতেই। পত্রিকায় কলাম পড়ার আগ্রহের কারনেই তার লেখা পড়া হতো ভোরের কাগজে। কিছুদিন পরেই জানতে পারি আমার পছন্দের সেই মানুষ আমাদের পত্রিকা প্রশান্তিকার নামকরণ করেছেন ।তার প্রতি মুগ্ধতা আরও বেড়ে যায়।
শুভ জন্মদিন প্রিয় মানুষ।
দিন দিন প্রতিদিন ভালো থাকুন আপনি
এবং আপনার মঙ্গল কামনা করছি।

রাফিয়া হাসিন যুঁই, সাংস্কৃতিক ও প্রশান্তিকা প্রধান, মেলবোর্ন: আপনার জন্মবার্ষিকীতে অফুরন্ত ভালোবাসা প্রিয় লেখক। আপনার লেখায়, কলামে যেন আমরা আরও শক্তি পাই নির্ভয়ে সামনে এগিয়ে চলার, আলোকিত করতে পারি আমাদের মনের অন্ধকারকে এই শুভকামনা রইলো।

জন মার্টিন, নাট্যকর্মী, নির্দেশক, সিডনি: মানুষটির সাথে পরিচয় প্রায় ১৮ বছর আগে। কোনো দাওয়াতে না, দল ছুটের হাঙ্গামায়ও না। বাংলা সম্মিলিত সংস্কৃতি পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা । মানুষটির লেখার সাথে তখন তেমন পরিচয় ছিল না। তারপর খুঁজে খুঁজে উনার লেখা পড়লাম। বেশ ছড়া লিখেন। কিন্তু ছড়ার চেয়েও দুর্দান্ত উনার তির্যক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। কেউ কেউ বলেন উনি পক্ষ নিয়ে লিখেন। আমি বলি মানুষটি নিজের ভাবনার কথাগুলো বলেন এবং তা সবাইকে জানান দিয়ে লিখেন। এই কাজ সবাই করতে পারে না। উনার সাহস আছে তাই অকপটে যা ভাবেন, বিশ্বাস করেন – উনি বলেন। উনার পক্ষ আমরা জানি। আমাদের মতের সাথে না মিললে সেই পক্ষ মানব না। কিন্তু উনি যে সাহস করে মাঝে মাঝে আমার মনের কথাগুলো লিখেন তখন আমার রাগ হয়। ভীষণ ক্ষেপে যাই। মনে হয় এই কথাগুলো উনি না লিখলে আমিই লিখতাম। তার মানে এই মানুষটি আমার বড় শত্রু। তারপরও এই মানুষটির লেখা আমি পড়ি। ফোন দিয়ে গালমন্দ করি।
এই মানুষটিকে আরেকটি কারণে হিংসা হয়। অসম্ভব স্মৃতিশক্তি। সেই কবে কি পড়েছিলেন, তা ঠিক মনে রাখেন। শুধু তাই না – কখন, কোথায় ওটা ব্যবহার করতে হৰে সেটাও জানেন। কথায় কথায় দুস্টু-মিষ্টি উপমা দেয়ায় এই মানুষটির জুড়ি নেই। মানুষটি কথা শুরু করলে আমি উনার কথার অলিগলি গুগুল ম্যাপে খুঁজি।
অনেকের প্রিয়, অনেকের অপ্রিয় এবং আমার প্রিয় শত্রু অজয় দাশগুপ্তকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
শুধু মোমবাতি হয়ে নয় – এই প্রবাসে যারা দ্বিখণ্ডিত সত্তা নিয়ে ‘বনসাই’ হয়ে বেড়ে উঠে তাদের জন্যও আপনি বাতিঘর হয়ে উঠুন।
ভাল থাকুন। আনন্দে থাকুন প্রিয় অজয়।

প্রশান্তিকার সঙ্গে আলাপকালে অজয় দাশগুপ্ত বললেন, আজ সারাদিন ভালো কেটেছে। অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়েছেন। সন্ধ্যায় খুব কাছের কয়েকজনকে নিয়ে সিডনির রেস্টুরেন্টে নৈশভোজ করেন তিনি। নিজের জন্মদিনে অজয় আরেক মহীরুহ বাঙালির প্রথম স্বাধীনতা স্পৃহা ও সশস্ত্র সংগ্রামের নেতা মাষ্টার দা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা বিনোদ বিহারী চৌধুরীকে স্মরণ করেছেন। আজ তাঁরও জন্মবার্ষিকী ছিলো।

উল্লেখ্য সিডনি প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ছড়াকার অজয় দাশগুপ্ত ১৯৫৯ সালের ১০ জানুয়ারী চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এক ছেলে ও স্ত্রীসহ সিডনিতে বসবাস করছেন। একমাত্র ছেলে নামকরা অভিনেতা অর্ক দাশগুপ্ত। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও হলিউডের বেশ ক’টি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
অজয় দাশগুপ্তের বেশ ক’টি প্রবন্ধ, কলাম ও ছড়ার বই পাঠক নন্দিত হয়েছে। তিনি দেশের শীর্ষস্হানীয় দৈনিক ও নিউজ পোর্টালে কলাম লিখছেন।
আমরা প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে এই গুণী মানুষের সুস্বাস্থ ও আনন্দময় দীর্ঘজীবন কামনা করছি।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments