অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নুসরাতের গায়ে আগুন

  •  
  •  
  •  
  •  

 133 views

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মোট ১৩ জন জড়িত ছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত দুজন ছাত্রী। তাদের একজন অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি।

মাদ্রাসার ছাদে বোরকা পরা চারজন নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। তাদের একজন ছিল নূর উদ্দিনের বন্ধু শাহাদাত হোসেন শামীম। তদন্ত কর্মকর্তারা এটা নিশ্চিত করে। এই শামীমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল নুসরাত।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিল নুসরাত। গত ২৬ মার্চ নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার মামলা করেন। পরদিন সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার ধানমণ্ডিতে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, “তারা দুটি কারণে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করে। এর একটি হচ্ছে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করে আলেম সমাজকে হেয় করা। আর অপরটি হচ্ছে শাহাদত হোসেন শামীমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা।”

৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।

ডিআইজি বনজ কুমার জানান, ঘটনার দুই দিন আগে নূর উদ্দিন কারাগারে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে দেখা করে আসে এবং তার ধারনা সেই সাক্ষাতেই সিরাজ নূর উদ্দিনকে সকল নির্দেশনা দিয়ে দেন। সেই নির্দশনা অনুযায়ী নুসরাতকে আগুনে পুডিয়ে মারার পরিকল্পনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে আসার পরদিন মাদ্রাসার পশ্চিম হোস্টেলে শাহাদত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, আব্দুল কাদের এবং আরেকজনকে নিয়ে বৈঠক করে নূর উদ্দিন। তিনি বলেন, “এই বৈঠকেই নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা এবং কার কী দায়িত্ব তা বণ্টন হয়।”

 

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments