অর্থহীন । জিয়াউন নাহার

  •  
  •  
  •  
  •  

সারাদিন এমনি কেটে গেল,
সকালে হাঁটতে যেয়ে পার্কের বেঞ্চে
বসে কেটে গেল সময়
জটলা থেকে দূরে একা একা।
কোথাও ছেলেরা হল্লা করে,
কোথাওবা বয়স্করা সময় কাটায়
যাপিত জীবন নিয়ে করে দীর্ঘ আলোচনা।

একটা ফড়িং নরম রোদে উড়ে বেড়ায়,
শালিক ঘুরে বেড়ায় এগাছ থেকে ওগাছে
কারণে কিংবা অকারণে।
থেকে থেকে বাতাস এসে লাগে গায়ে,
শিরশির শব্দ ওঠে গাছের ডালে, পাতায়।
শুনেছেন নাকি? সীমা ভাবির তো সুখবর আছে!
তাই, কয়মাস চলছে ?
চারমাসে পড়েছে।
আর এদিকে তো একটা খারাপ খবর আছে।
লিপি ভাবীর মা তো চলে গেলেন।

শোনা গেল, আফগানিস্তান থেকে সরে আসছে আমেরিকা,
তালেবানের সাথে চলছে জোর শান্তি আলোচনা
রোহিঙ্গা পল্লী বলে আর কোথাও কিছু নেই,
মুছে গেছে সব চিহ্ন।
মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সময়ের চেয়ে ক্লাব ফুটবলেই বেশী ভালো।
আরে ভাই, খেলোয়াড় ছিল ম্যারাডোনা।
একটা কাঠবেড়ালী তড়িঘড়ি লুকিয়ে পড়ে ঝোপের আড়ালে।
ঘড়ির কাঁটা চলতে থাকে, টিক টক, টিক টক।
রোদ বাড়লে এক পা, দুই পা করে আবার ফিরে আসি।
এখনও প্রতিদিন সকালে পার্কে যাওয়া হয়।
দেখি, সেই একইরকম রোদ আর হাওয়া,
একইরকম মানুষের জটলা।
তুমি যে আর আসোনা
কেমন করে যেন সেটা আর কারোরই মনে নেই।

জিয়াউন নাহার
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামে আমার জন্ম। বেড়ে ওঠা পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত মহানগর রাজশাহীতে। সাহিত্যের প্রতি ভালোলাগা থেকেই ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা। বিবাহসূত্রে পাড়ি জমাই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে হিসাববিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করেছি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মেলবোর্নের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত। কিছুকাল মেলবোর্নভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একতারা’র যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছি। আমি ‘কবিতার পৃথিবী’ নামের একটি আবৃত্তি সংগঠনের সদস্য এবং এই সংগঠনের বিভিন্ন আয়োজনে বাচিক শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকি। মেলবোর্ন থেকে প্রকাশিত ‘ইনোভেট’ নামক একটি টেক ম্যাগাজিনে এ্যাসিসটেন্ট এডিটর হিসেবে কাজ করেছি। এ পর্যন্ত ‘পেন্সিল’, ‘প্রশান্তিকা’ এবং সাহিত্য পত্রিকা ‘অকালবোধন’ এ আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। লেখালেখি আমার কাছে শুধু মানবমনের নানা অনুভবকে ছুঁয়ে দেখার তীব্র ইচ্ছের বহিঃপ্রকাশই নয়, একই সাথে তা সমাজ বিনির্মাণের আন্তরিক প্রয়াস; জীবন এবং জগতকে একজন নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা এবং পুরুষ শাসিত সমাজের কাছে সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে উপস্থাপনের উৎকৃষ্ট মাধ্যম।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments