অসাধারণ এক জয় বাংলাদেশের; আজীবন তামিমকে মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব

490

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে দুরন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই বাংলাদেশের ইনিংসে ছিল অনেক নাটকীয়তা। আর শেষ চমক দেখিয়েছেন এক হাতে ব্যাট করে তামিম। আর ১৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে চমক দেখিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম তারকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। দলের প্রয়োজনে রঙিন জার্সিতে তিনি যতটা বিধ্বংসী, সাদা পেশাকে আবার ততটাই ধৈয্যশীল এই বাঁ-হাতি ওপেনার। আর সেই ধারাবাহিকতায় এবার এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য এক উচ্চতায়। কেবল দলের প্রয়োজনে আর স্বদেশ প্রেমের তাগিদেই একহাতে আগুনের গোলা মোকাবেলা করতে নেমেছিলেন এই ড্যাসিং ব্যাটসম্যান। যা অবাক করেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তামিমকে নিয়ে আলোচনা-বন্দনা।

সেদিন ড্রেসিংরুমে তামিমের সঙ্গে যে পরিকল্পনা হয় মাশরাফির

এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যান্ডেজ করা হাত দিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। সবাই তার এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করছেন। যদিও নিজের ইচ্ছায় ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন, তবে এ কাজে তাকে প্রথমে সাহস যুগিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনিই  স্লিংয়ে হাত ঝুলিয়ে বসে থাকা তামিমকে ডেকে অনুরোধ করেন ব্যাটিংয়ে নামার জন্য। তবে মাশরাফির পরিকল্পনা ছিল বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। মাশরাফি বলেন, মুস্তাফিজ যদি আউট হয়ে যায়, তাহলে মুশফিককে সঙ্গ দিতে তুই আবার ব্যাটিংয়ে যাস। কিন্তু মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর তামিমকে তো বল ফেসও করতে হতে পারে। বিষয়টা ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন অধিনায়ক। তখন মাশরাফি বলেন, ঝুঁকি নেওয়ার দরকার নেই। মুস্তাফিজ আউট হলে মুশফিক যদি স্ট্রাইকে থাকে তাহলে যাস। এরপর আঙ্গুল বের করে রাখার জন্য তামিমের হাতের গ্লাভস কেটে দেন এবং প্যাড পরিয়ে দেন মাশরাফি। যদিও ক্রিজে যেতে কোচ ও ফিজি নিষেধ করেছিলেন। তবে মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর যখন ওই ওভারে মাত্র একটি বল বাকি দেখলেন তখনই তামিম নিজেই বললেন, আমি পারব। এরপর তো এক হাত দিয়ে ব্যাট করে ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন এই টাইগার ড্যাশিং ওপেনার।

সেদিন তামিমকে যা বলেছিলেন কোচ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম লড়াকু ব্যাটসম্যান তিনি। স্বাভাবিকভাবে তার কাছে দলের প্রত্যাশাও অনেক। অথচ এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই সেই তামিম ইকবালই কিনা হাতে চোট পেয়ে বেরিয়ে গেলেন মাত্র তিন বলে খেলে। পরে দেখা গেল স্লিংয়ে হাত ঝুলিয়ে বসে থাকা এই ড্যাশিং ওপেনারকে। ফলে তামিম যে আর মাঠে নামতে পারছেন না সেটা অনেকটা অনুমান করে ফেলেছিল সবাই। কিন্তু সবার চিন্তাকে ভুল প্রমাণিত করে মাঠে নেমে মুশফিককে যোগ্য সঙ্গ দেন তামিম। এক হাত দিয়ে ব্যাট করে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলেছেন তিনি। দেশের জন্য তামিমের এই সাহসিকতা পুরো ক্রিকেট বিশ্ব দেখলেও ঝুঁকি ছিল অনেক। সেজন্য তামিম মাঠে যেতে নিষেধ করেছিলেন কোচ স্টিভ রোডস। তিনি তামিমকে বলেছিলেন, এতটা ঝুঁকি নিয়ো না। কিন্তু তামিমের মনে হয়েছিল তিনি পারবেন। আর পরেরটা তো ইতিহাস। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজের আউটের পরও ২২৯ রান থেকে বাংলাদেশের স্কোর যে ২৬১ হয়েছিল সেটা মুশফিকের এক লড়াকু ইনিংসের কারণে হলেও তামিম মাঠে না নামলে সেটা সম্ভব ছিল না।