অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার নির্বাচন : আনিস- সাদিকুর প্যানেলের সাক্ষাৎকার

  •  
  •  
  •  
  •  

সিডনি অষ্ট্রেলিয়ার অন্যতম ব্যস্ত শহর। প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিকাংশ বসবাস করেন সাউথ ওয়েষ্ট এলাকাস্থ ক্যাম্বেলটাউনে। এ এলাকার মধ্যস্থল মিন্টোতে ২০১০ সালে মুসল্লীদের দৈনন্দিন ইসলামিক কাজের জন্য ৫ একর বিশিষ্ট জমি ক্রয় করা হয়েছে। যা এখন এএমডব্লিওসি ইসলামিক সেন্টার নামে পরিচিত। এখানে কুরবানি, দুই ঈদের জামাত, তারাবীহ সহ নিয়মিত ইসলামিক কার্যক্রম পালিত হচ্ছে। বর্তমানে কমিউনিটি হলের অনুমোদন নেয়া হয়েছে। ফলে এখন মহিলাদের পৃথক ব্যবস্থাসহ ২টি জুম্মার নামাজের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সেন্টারে বিবাহ, দোয়া মাহফিল, মাসিক ইসলামিক প্রোগ্রাম, বয়স্কদের জন্য কুরআন শিক্ষা, সানডে মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন হচ্ছে। সেন্টারের রপিত আম বাগান সহ অন্যান্য দেশীয় ফলের বাগান দেখতে অনেক মুসল্লীরা সেন্টারে আসে। এছাড়াও সম্প্রতি মনোরম গেট যা অন্যান্য কমিউনিটির কাছে সুদৃশ্যমান হচ্ছে।

প্রতি দু’বৎসর পর পর অত্যন্ত সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভাবে র্নিবাচন কমিশনের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনার জন্য কমিটি নির্বাচন করা হয়। 2021-2023 সালের নতুন কমিটি নির্ধারনের জন্য আগামী ২৭ নভেম্বর 2021 নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আনিস-সাদিকুর এবং জলিল-খাইরুল প্যানেল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে। আনিস-সাদেক প্যানেলের ১৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। জলিল-খাইরুল প্যানেল চার জন সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে। প্রশান্তিকার প্রতিনিধি সম্প্রতি আনিস-সাদিকুর প্যানেলের প্রার্থিদের সাথে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।  সাক্ষাৎ প্রদান করেছেন বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক এবং আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী ড. আনিছুল আফছার। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ দেয়া হলো-

প্রশান্তিকা : আপনাদের সংগঠনের প্রাথমিক তথ্য যদি পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতেন ?
আনিছুল আফছার: আসসালামু আলাইকুম। এ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশীদের প্রাণের একটি সংগঠন। এখানের সদস্য হতে হলে বাবা-মার একজন বাংলাদেশেী বংশদ্ভুত হতে হয়। ২০০৭ সালে  এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্রমবর্ধমান মুসল্লীদের চাহিদার প্ররিপেক্ষিতে ২০১০ সালে মিন্টো এলাকায় ৫ একর বিশিষ্ট এ জমিটি ক্রয় করা হয়। অনেকেই ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন যে ২০০৭ সালে এ জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ জমি উপরেই পরবর্তীতে ইসলামিক সেন্টার এ রূপান্তরিত করা হয় ফলে এখন আমাদের সব ইসলামিক কার্যক্রমগুলি করতে পারছি।

প্রশান্তিকা:গত মেয়াদে আপনাদের পরিচালনায় কৃতিত্ব কী কী ?
আ. আফসার :
২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের সাফল্য আমি মনে করি অনেক। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা একটি মাল্টি পারমাস কমিউনিটি হলের আবেদন করে অনুমোদন লাভ করি। পরবর্তী মেয়াদে আমরা প্রায় ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজেক্ট ভাগ করে কার্যক্রম সম্পন্ন করি। আপনারা যদি দেখেন নতুন ভবন যেখানে মহিলাদের জন্য সুব্যবস্থা সহ পুরাতন বিল্ডি সেখানে নামাজের জন্য নির্দিষ্ট এর সস্পূর্ন সংস্কার কাজ, পুরুষ, মহিলা, ডিজাইবলদের জন্য পৃথক পৃথক বাথরুম, কিচেন এবং গাড়ী রাখার সুবিশাল পার্কিং, ৫৩৭ মিটার দৈর্ঘ্য সুয়ারেজ লাইন সিডনী ওয়াটারের সাথে সংযোগ, ৬ টি পারগোলা যেখানে মুসল্লীরা ব্যবহার করতে পারবে, ল্যান্ড স্ক্যাপিংসহ বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ রোপন। এছাড়া প্রবেশ পথে আল্লাহু সম্বলিত ফলক সহ গেট যা সেন্টারের সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রশান্তিকা : সামনে নির্বাচিত হলে আপনারা আরও কী কী পদক্ষেপের বাস্তবায়ন করবেন?
আ. আফসার :
আমরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষনা করেছি। সেখানে আমরা ৮ টি গুরুপূর্ন কার্য করার চেষ্টা করব। ১. আমাদের প্যানেলে সবাই ইসলামিক কাজের সাথে জড়িত। সুতারাং চেষ্টা করব কমিটি এবং অন্যান্যদের নিয়ে চলমান ইসলামিক কার্যক্রমগুলি যাতে আরও সচল এবং গতিশীল করার। ২ ফিউনারেল পারলারের প্রচেষ্টা করব  যাতে করে আমাদের এখানে মৃত ব্যক্তির সব আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করা যায়। ৩. সিডনীর ভেরোভিল সিমেটরিতে মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকাটা পরিচালনার দায়িত্ন দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে 4. আমাদের বর্তমান মাদ্রাসাতে ৫ জন বাংলাদেশী তরুন হাফেজ হয়েছেন। সুতারাং হাফেজদের দিয়ে একটি হিফজ মাদ্রাসা তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। 6. আমাদের তরুন ও মহিলাদের জন্য নতুন নতুন প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা রয়েছে 7. Place of Worship বাস্তবায়নের জন্য Environmental Living to Residential এ রূপান্তরিত করার জন্য পূর্বের মত আমাদের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে Planning Proposal তৈরী করে কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য দ্রুত ও সর্বাত্নক প্রচেষ্টা। 8. সংশ্লিষ্ট সরকারের কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সেন্টারে একটি Muslim Aged Care Centre একটি সময়ের দাবী, ইনশাল্লাহ আমরা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করব।

প্রশান্তিকা : আপনাদের প্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ কেমন, তাদের সম্পর্কে জানতে চাই।
আ. আফসার :
আমাদের প্যানেলের সবাই বাংলাদেশী। আমরা ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন প্রার্থী ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, শুধুমাত্র ৪ জন প্রার্থীর অপর পক্ষের সাথে প্রতিদ্বতা করবে। আমাদের আরও অনেক প্রার্থী ছিল যাদের আমরা প্যানেলে অর্ন্তভুক্ত করতে পারিনি। এখানে বলে রাখা ভাল সম্পূর্ন গনতান্ত্রিক সব সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নির্বাচিত করে থাকে। সাধারনত: যারা সেন্টারের জন্য পরিশ্রমী, অধিক সময় ব্যয় এবং অভিজ্ঞ  তাদেরকেই নির্বাচিত করে থাকে।

প্রশান্তিকা : বাংলাদেশী অধ্যুসিত এই এলাকায় একটি নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের খুব দরকার ছিলো। আপনি কি মনে করেন এটি সেই চাহিদা পুর্ণ করতে পারছে ?
আ. আফসার :
অধিকাংশ মুসল্লীদের চাহিদাই পূর্ন হয়েছে বলে মনে করি। এ সংগঠন সস্পূর্ন অরাজনৈতিক দল সুতরাং আমাদের প্যানেলের সব সদস্যরাও কোনভাবে রাজনৈতিক প্রভাব যাতে না পারে সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। আমাদের সবগুলি কাজ পরিচালিত হয় ইসলামিক ভাবধারা। নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্ধিতা থাকবে তবে কেহ রাজনৈতিকভাবে যেন ব্যবহত না হয় সে প্রচেষ্টা সবার দৃষ্টি রাখতে হবে।
প্রশ্ন: ভোটারের উদ্দেশ্যে আপনাদের মতামত কি বলবেন?
ইনশাল্লাহ আশা করছি ভোটাররা আমাদের বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আবারও নির্বাচিত করবে। আমাদের কাজ করার প্রমান আপনাদের ইতিমধ্যেই দিয়েছি। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম লগ্ন থেকেই জড়িত, সুতারাং সাফল্যের সাথে কাজ করতে পেরে আমরা ভাগ্যবান। অনেকেই মনে করেন সংগঠন মানে বিভেদ কিন্ত এএমডব্লিউসি আলহামদুল্লিহ সম্পূর্ন ভিন্ন পরিবেশ। এখানে আসলেই আমাদের মন ভরে যায়। সুতরাং এ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আমাদের কমিউনিটির যে প্রত্যাশা আমাদের প্যানেল নির্বাচিত হলে তা পূরনের চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

প্রশান্তিকা : প্রশান্তিকাকে আপনার মূল্যবান সময় দেবার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
আ. আফসার :
আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ। প্রশান্তিকার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments