অস্ট্রেলিয়ায় করোনা সংক্রমণ রোধে আরও কঠোর হলো নিয়ম কানুন

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর হলো নিয়ম কানুন। আগামীকাল সোমবার থেকে বাইরে দু’জনের বেশি জটলা করা যাবেনা। সত্তরোর্ধদের ঘরে থাকা বা সেল্ফ আইসোলেশনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ষাটোর্ধ বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাদের যাদের অন্য কোন অসুখ রয়েছে তাদের ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এবর্জিনাল বা আদিবাসিদের জন্য এই বয়সসীমা ৫০ বছর। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে এসব কঠোরতা আরোপ করেন। কেউ শর্ত ভাঙ্গলে অর্থদন্ড অথবা এরেস্টও হতে পারেন।

রোববার জাতির উদ্দেশ্যে করোনার বিষয়ে কঠোর আইন মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, ডানপাশে চীফ মেডিকেল অফিসার ব্রেন্ডন মারফি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় খাবার কেনা ছাড়া কেউ শপিংয়ে যাবেন না এবং খাদ্য সামগ্রী কিনে অতি দ্রুত শপিং সেন্টার ত্যাগ করে বাড়ি চলে যাবেন।” এছাড়া মেডিকেল সেন্টারে যাওয়া, বিশেষ আইন মেনে ব্যায়াম করতে বের হওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে যদি অনলাইনে শিক্ষা প্রদানের সুযোগ না থাকে তবে যাওয়া যাবে। এছাড়া কোন ভাবেই নিজের পরিবার ছাড়া শুধুমাত্র অন্য একজনের সাথে বাইরে কথা বলা যাবে। একজনের বেশি দুজনের সাথেও নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “The strong advice is don’t gather together in groups”.

প্রধানমন্ত্রীর সাথে এসময় কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার চীফ মেডিকেল অফিসার ব্রেন্ডন মারফি। তিনি বলেন, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দেশে করোনা সংক্রমণ সেভাবে ছড়ায়নি। সংক্রমণের হার প্রথম দিকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও এখন ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সহ এসব পদক্ষেপ নিলে স্বল্প সময়ে এর আক্রান্তের হার আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ধারনা করা হচ্ছে আগামীকাল সোমবারের মধ্যে সমগ্র অস্ট্রেলিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ হাজারে, এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ভিক্টোরিয়ায় ৮০ বছর বয়সী এবং কুইন্সল্যান্ডে ৭৫ বছর বয়সী যিনি ক্রুজ শিপে ছিলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
সরকার সচেতনতা বাড়াতে Coronavirus (covid19) নামে একটি আ্যপ অবমুক্ত করেন। এই আ্যপে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সকল পদক্ষেপ এবং নিয়ম কানুন সহ করোনার সকল তথ্যাদি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গত দুদিন আগে বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সকলকে অবশ্যই হোটেলে দুই সপ্তাহের কোয়ারেনটাইনে রাখার বিধান চালু করেছেন। এতে করে বিদেশ থেকে আসা কারও পরিবারের সদস্য বা কমিউনিটিতে কোনমতেই সংক্রমিত হবেনা। ইতোমধ্যে এটি চালু হয়েছে। আগতদের বিশেষ বাসে করে হোটেলে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।