অস্ট্রেলিয়ায় জবকিপার পেমেন্টে ৬০ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা ডেস্ক: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সরকার কর্মজীবী, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের প্রণোদনায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ মঞ্জুর করেছিলো। এটি ছিলো অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রনোদনার রেকর্ড। সেসময়ে একদিনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে পার্লামেন্টে অধিবেশন বসিয়ে জবকিপার বিলটি পাশ করানো হয়। এপ্রিলের এক তারিখ থেকে ৬ মাসের জন্য এই পেমেন্ট দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুরো এপ্রিলের জন্য অনেকেই তিন হাজার ডলার পেয়েছেন।

ট্রেজারার জশ ফ্রাইডেনবার্গ বলেন, জবকিপার পেমেন্ট প্রোগ্রামে ৬০ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে।

আজ শনিবার সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের বিশেষ একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃত অর্থে জবকিপার পেমেন্টের জন্য সর্বমোট ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। সেক্ষত্রে ৬০ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার বা অর্থমন্ত্রী জশ ফ্রাইডেনবার্গ বলেছেন, ৩০ মার্চে ঘোষিত জবকিপারের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিলো ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লক্ষ নাগরিকের। সেটা এখন সাড়ে ৩ মিলিয়ন নাগরিক পাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ায় সর্বমোট ১২ মিলিয়ন নাগরিক নিয়মিত কাজ করছেন। শুরুতে ট্রেজারার ধারণা করেছিলেন, অন্তত ৫০ ভাগ কর্মজীবী ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ আয় হারাবেন এবং তাদেরকে সহায়তা দিতেই এই প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সরকারের কঠোর নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে মুক্তি লাভ করে। সেক্ষেত্রে পুরো ৬ মিলিয়ন নাগরিককে সহায়তা দিতে হচ্ছে না।

জবকিপার প্রোগ্রাম ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ায় জবসিকার এবং সেন্ট্রাল লিংকের অন্যান্য প্রণোদনার মাধ্যমে নাগরিকদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। জবসিকারের মাধ্যমে বেকার বা অন্যান্য অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর ৫৫০ ডলার দেয়া হচ্ছে। ৬৬ বিলিয়ন ডলারের এই প্রোগ্রামে শুরুতেই এককালীন ৭৫০ ডলার সহায়তা দেয়া হয়। করোনাভাইরাসের কারণে এছাড়া নাগরিকদের সুপার ফান্ড থেকে দুই দফায় ২০ হাজার ডলার(২০১৯ অর্থবছরে ১০ হাজার এবং ২০২০ অর্থবছরে ১০ হাজার) নেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা চলে। দেশে এপর্যন্ত ৭১৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মোট ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকেই সপ্তাহে আক্রান্তের হার ৫ জনের নিচে নেমে এসেছে। সরকার জুন মাসের শুরু থেকে বেশ ক’টি রেস্ট্রিকশান তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস সহ অন্যান্য রাজ্যগুলোতে গত সোমবার থেকে স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে।