আজ থেকে হাওয়া চলছে অস্ট্রেলিয়ায় মহাসমারোহে

  
    
প্রশান্তিকা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের এই মুহূর্তে বহুল জনপ্রিয় সিনেমা ‘হাওয়া’ চলে এসেছে সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিনেমা হলে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় ব্লাকটাউনের হয়টস সিনেমায় হাওয়ার শুভমুক্তি হচ্ছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে হাওয়া মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপরাজ্য তাসমানিয়া থেকে দূরবর্তী ডারউইন পর্যন্ত বাঙালি অধ্যুসিত এলাকার সিনেমা হলগুলোতে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত- প্রায় ৩৫টি প্রদর্শনীর টিকেট সোল্ড আউট। নাটক ও বিজ্ঞাপন চিত্রের অত্যন্ত গুণী নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম পরিচালিত হাওয়া সিনেমাটি অস্ট্রেলিয়ায় পরিবেশন করছে পথ প্রোডাকশন্স ও দেশি ইভেন্টস।
হাওয়া সিনেমার অস্ট্রেলিয়া পরিবেশনার পোস্টার।
পথ প্রোডাকশন্সের পক্ষ থেকে সাকিব ইফতেখার প্রশান্তিকাকে জানান, “ আমরা সত্যিই আনন্দিত, হাওয়া সিনেমার অস্ট্রেলিয়া প্রদর্শনের ঘোষণার পর পরই দর্শকের চাহিদায় একের পরে এক প্রদর্শনীর তারিখ বাড়াতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “ এর আগে আয়নাবাজি ছবির বেলায় এরকম ঘটনা ঘটেছিলো। তবে এবার আয়নাবাজির সকল রেকর্ডও অতিক্রম করেছে হাওয়া।” দেশি ইভেন্টস’র কর্ণধার সাঈদ ফয়েজ বলেন, “ হাওয়া সিনেমাটি এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩৫টি প্রদর্শনীতে পা রেখেছে। এরমধ্যে শুধু সিডনি এবং মেলবোর্নেই প্রায় ২৫টি প্রদর্শনী হবে। এছাড়া তাসমানিয়ার হোবার্টেও হাওয়া সিনেমার প্রদর্শনী হবে, দেবী ছবির পরে এই দ্বিতীয়বার সেখানে বাংলা সিনেমা চলছে। তিনি আরও বলেন, এছাড়াও হাওয়া চলবে ডাবো, ডারউইন, নিউক্যাসেল, এডেলেইড, ক্যানবেরা ও ব্রিসবেন ও সিডনির সিনেমা হলে। দর্শকের চাহিদায় এর আরও প্রদর্শনী বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। আগ্রহী দর্শকেরা দেশি ইভেন্টসের ওয়েবসাইট (www.deshievents.com.au ) থেকে প্রদর্শনীর তথ্য এবং টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।
সিডনির লাকেম্বায় বাঙালি দোকানের সামনে হাওয়া সিনেমার পরিবেশকদের স্ট্রিট শো। ছবি- সাঈদ ফয়েজ।
সমুদ্রের জলকেন্দ্রিক পৌরাণিক গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘হাওয়া’। ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল সিনেমাটির শুটিং। গভীর সমুদ্রে একদল জেলে মাছ ধরতে গিয়ে নানা রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি হন। হাওয়ায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরীফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, সোহেল মণ্ডল, নাসির উদ্দিন খানসহ অনেকে।
নাটক ও বিজ্ঞাপন চিত্রের গুণী নির্মাতা মেজবাউর সুমনের প্রথম সিনেমা হাওয়া।
মেজবাউর রহমান সুমন ছোট পর্দায় কাজ করেছেন, বানিয়েছেন অনেক বিজ্ঞাপন। তবে সুমনের জন্য বড় পর্দার পরীক্ষা এই প্রথম। সিনেমার গল্প সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, “ এটা মিস্ট্রি-ড্রামা ঘরানার গল্প। বাস্তবতার গল্প হলেও শেষে গিয়ে রূপকথার গল্প হয়ে ওঠার ব্যাপার আছে। বলতে পারেন, ছবিটি দেখতে বসে দর্শক একটি জার্নির মধ্য দিয়ে যাবেন। গল্পটিকে নতুন আঙ্গিকে দর্শকের সামনে আনার চেষ্টা করেছি। এতটুকুই।” মাঝসমুদ্রে গন্তব্যহীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে আটকে পড়া আট মাঝিমাল্লা ও এক রহস্যময় বেদেনিকে ঘিরে হাওয়ার গল্প। দীর্ঘ দুই বছর গবেষণা শেষে ২০১৯ সালের অক্টোবরে গভীর সমুদ্রে ছবিটির শুটিং শুরু হয়। ওই বছরের নভেম্বরেই শেষ হয় শুটিং। একটি নৌকার মধ্যেই পুরো সিনেমা। বিষয়টি দর্শক কীভাবে নেবেন, সেটা নিয়েই চিন্তিত ছিলেন চান মাঝি চরিত্রে অভিনয় করা চঞ্চল চৌধুরী। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই যাঁর লুক দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে শুটিং করা সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা, ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে শুটিং করতে হয়েছে। দুই দিন একরকম হারিয়ে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমাদের সেই শ্রম বৃথা যায়নি। শুটিং করতে করতে একসময় মনে হয়েছিল, শেষ করে আসতে পারব কি না। সেই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আমাদের মুগ্ধ করেছে। হলে দেখার পর দর্শক সিনেমাটিকে কীভাবে নেন, সেই অপেক্ষায় আছি।’
হাওয়ার বিশেষ গেটআপে চঞ্চল চৌধুরী।
হাওয়ায় একমাত্র নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। বাংলাদেশে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পরে দর্শকের মাঝে তুষিকে নিয়ে তুমুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে নিশ্চিত হয়েছে বাংলা সিনেমায় আরেকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সৃষ্টি হলো।  সিনেমাটি প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীর কাছে ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়েছি। মুক্তির আগে দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগটা বেশ শক্তভাবে করতে পেরেছি। হাওয়া সকলের ভালো লাগলে আমারও আনন্দ।”
হাওয়ার একমাত্র নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি।
অস্ট্রেলিয়ায় হাওয়া সিনেমার মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্রশান্তিকা ও প্রভাত ফেরী।
বিজ্ঞাপন
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments