আদার ব্যাপারী যখন জাহাজের খোঁজে – এস এম আলী আকবর

  •  
  •  
  •  
  •  

তৃতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্বের পর

৩. নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো জনিত বিরম্বনাঃ অজানা পরিবেশে, অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত কৃষককে তার স্বকীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে, অনিবার্য কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হবে! যেমন-

  • ভাষাগত দুর্ভোগ, যা প্রায় অবধারিত!
  • অক্ষ-দ্রাঘিমা জনিত বিপরীত অবস্থানের কারণে সৃষ্ট, আবহাওয়ার বৈপরীত্বের বিরম্বনা।
  • অচেনা ভু-প্রকৃতির মাঝে স্থান কাল ভেদে, ব্যাপক ভুল ধারণার শিকার হওয়া!
  • অনভ্যস্থ পরিবেশে, অজানা আতঙ্কে সদা আতঙ্কিত থাকা!
  • সীমাহীন জঙ্গল পরিবেষ্টিত প্রকল্প এলাকা, হঠাৎই মাইগ্রেটরি পশুদলের পদতলে লন্ড-ভন্ড হয়ে যাওয়া!
  • বিশাল পাখির ঝাক বা পঙ্গপালের আক্রমনে, প্রকল্প এলাকার ফসল নিমিষেই সাবার হয়ে যাওয়া!
  • যে কোনো অসাবধানতায়, ভয়াবহ দাবানলে সবকিছু ছাড়খার হয়ে যাওয়া!
  • দরিদ্র কৃষক পরিবারের সদস্যদের, সভাবজাত উন্মুক্ত ঝোপ-ঝাড়ে প্রাকৃতিক কর্মরত অবস্থায় অজগর, কুমির, বাঘ, হায়েনা ইত্যাদি হিং¯্র প্রাণীর পেটে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা!
  • কৃষকের আবাসস্থলের পোল্ট্রি, পশু ও মানুষের উপর রাত-বিরাতে হিং¯্র প্রাণীর অযাচিত আক্রমন!
  • অহেতুক ভুল বোঝাবুঝিতে, হোষ্ট দেশের নেটিভ গোষ্ঠি দ্বারা অনাকাঙ্খিত আক্রমনের স্বীকার হওয়া!
  • অভিনব কিছু জটিল পরিস্থিতিসহ কল্পনাতীত কিছু বিড়ম্বনার মোকাবেলা করা!

অর্থাৎ, নিরাপত্তা এবং মানবতা জনিত ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার অনঅভিপ্রেত ঝুট-ঝামেলার সম্ভাবনা রয়েই গেছে। তবে, যথাযথ নিরাপত্তা ও নজরদারীতে, টেষ্ট-কেইস এ অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে ধৈর্যের সাথে, ক্রমান্বয়ে এগোবার পরিকল্পনা করা হলে, প্রকল্পটির মৌলিক স্বার্থকতা স্পষ্টতই ইর্ষণীয়!

৪. ত্রিপাক্ষিক সমঝোতাঃ দ্বায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক সংস্থা (WFP, FAO!), হোষ্ট ও কৃষক, এই ত্রিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্ম পরিধি অন্তর্ভূক্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নপূর্বক এগোতে হবে সন্তর্পণে। যেখানে আবশ্যিক বিবেচ্য বিষয়গুলো হতে পারে-

  • আর্থিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়াদির পূঙ্খানুপূঙ্খ বিশ্লেষণে প্রাক্কলনপূর্বক ডিপিপি প্রণয়ন।
  • কৃষকদেরকে নিজ দেশে প্রশিক্ষণ, শিফটিং এবং হোষ্ট দেশে প্রশিক্ষণ, ট্রায়াল কর্ষণ শেষে বাছাই করা বিরান অঞ্চল বরাবরে চলমান হাই-ওয়ে সমুহের উভয় পার্শ্বে ন্যুনতম ১ কি. মি. গ্যাপ রেখে কৃষক বসানো শুরু করে, ক্রমান্বয়ে অভ্যন্তর পানে প্রকল্প কার্যক্রম বর্ধিত করণ।
  • ভিনদেশী কৃষক কর্তৃক, হোষ্ট দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্যের কঠোর অনুসরণ নিশ্চিতকরণ।
  • কোনো সুযোগ সন্ধানী নির্বোধের কৃষকের ভান করে বিদেশ গমন রোধে, কঠোর নীতি সংযোজন।
  • অসহায় কৃষকদের মানবাধিকার সুরক্ষাসহ আন্তর্জাতিক বিচারিক নজরদারি নিশ্চিতকরণ।
  • হোষ্ট রাষ্ট্র বা নাগরিক কর্তৃক কৃষকদের উপর যেকোনো প্রকার নিপীড়নের, সরাসরি সুবিচার ও আশ্রয়ের অধিকারগত ত্রিপক্ষীয় কঠোর আইনী বিধান প্রণয়ন। তবে বিশ্বে ব্যাপক সক্রিয় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম, নিরাপত্তার ক্ষেত্রটিকে স্পষ্টতই একধাপ এগিয়ে রেখেছে!
  • কৃষকদের অবস্থানকাল সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন। উল্লেখ্যঃ ব্যাপক চ্যালেঞ্জে গড়ে ওঠা প্রকল্পে, সফল ও অভিজ্ঞ কৃষকের জন্য বাধাধরা সময় নির্ধারণ, হোষ্ট বা কৃষক কারো জন্যই সুফলদায়ক হবে না!
  • প্রশ্ন উঠতে পারে, চাষ-বাসের উছিলায় কৃষক সেচ্ছায় হোষ্ট দেশেই জীবনপার করতে পাড়বে কি? উত্তর হতে পারেঃ একটি সফল কৃষক পরিবার তার নিজ পরিবার, স্বদেশ, হোষ্ট দেশ এবং বিশ্ব স্বার্থ সমুন্নত রেখে, বন্টন চুক্তির কোনো ব্যত্যয় না ঘটিয়ে, তার ন্যুনতম তার্গেট বজায় রাখার প্রাধিকার, সেই সেকেন্ড হোমেই সেচ্ছায় দ্বিতীয় শ্রেনীর জীবন মেনে নিলে দোষটা কোথায়? What’s wrong, obtaining service from a machine, till its specified life & efficiency?
  • একজন সফল কৃষক তাঁর অভিজ্ঞ ওয়ারিশদের সহিত কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, পরিত্যাক্ত কোনো দুরবর্তী স্থানে তাঁর একখন্ড কবর, হোষ্ট দেশের জন্য বড় কোনো বোঝা হবে কি?
  • তবে যে কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত ব্যত্যয়ে যুগপত বিতারণ, অবশ্যই হোষ্ট দেশের আইনী অধিকার!
  • এমনও হতে পারে, সুযোগ বুঝে কিছু কিছু চতুর(বেকুব!) কৃষক চাষের জমি পতিত রেখে ‘শর্ত বিহীন’ এক একরের আঙ্গিনাতেই স্বল্প পরিশ্রমে জীবিকা চালিয়ে নেয়ার পথ খুঁজছে!
  • উৎপাদন-বন্টন-চুক্তি-কৃষি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ, পরিবহন, বাজার, শিক্ষা, প্রশাসন ইত্যাদি যাবতীয় অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ড, হতে হবে সুপরিকল্পিত।
  • ভোটাধিকার বিহীন হলেও, কৃষকের অপরাপর নাগরিক অধিকার অত্যাবশ্যক!
  • হোষ্ট দেশের চলমান ইমিগ্রেশন আইনের আওতায়, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও আচরণ বিবেচনায়, কৃষকদেরও প্রচলিত নিয়মে, হোষ্ট দেশসহ যেকোনো দেশে নাগরিকত্বের আবেদনের অধিকার থাকা বাঞ্ছনীয়।
  • প্রকল্পের প্রভাবে হোষ্ট দেশসমূহে তৃতীয় বিশ্বের কৃষক আর উদ্বাস্তেু সয়লাব(!) জনিত কাল্পনিক ভিতি দুরী করণে প্রকৃত বাস্তবতা স্পষ্টিকরণ।
  • প্রস্তাবিত ‘সবুজ-শ্যামল’ প্রকল্পের স্থায়িত্ব সংহতকরণঃ বিশ্বব্যাপী হিংসা বিদ্বেষ রোধকরণসহ সুদুরপ্রসারী মানব উন্নয়নমূলক নানা কর্মসুচির সাথে প্রকল্পানুগ সাংষ্কৃতিক কর্মশালার অন্বেষণ!

 

একটি দুরাশা (A dream!): অষ্ট্রেলিয়ার উচ্চতম ও উষ্মতম কেন্দ্রিয় মরু শহর এলিচ স্প্রিংস। সেখানেও সবুজ গাছপালা চোখে পড়ে! এলিস স্প্রিংস হতে অনেক অনেক দুরবর্তী উপকুলীয় মহাগরী ডারউইন, নরম্যানটন, ব্রিসবেন, সিডনি, মেলবোর্ন, এ্যাডেলেইড ও পার্থসহ প্রায় সকল বৃহৎ সিটির সংযোগকারী, প্রতিটি হাইওয়ের উভয় পার্শ্বে সীমাহীন সবুজ প্রান্তর কারো অজানা নয়। আর বাংলাদেশীদের দ্বারা আরব মরুভুমিতে সবুজ-শ্যামলিমা স্থাপনের সফল গাঁথা, এখন জ্বলন্ত বাস্তবতা!

এহেন প্রেক্ষাপটে, মহাদেশটির পূর্বাংঞ্চলে ৬.৬০ লক্ষ বর্গমাইল ব্যাপী বিশ্বের বৃহত্তম ভুগর্ভস্থ জলাধার, অষ্ট্রেলিয়ান ‘গ্রেট আর্টেজিয়ান বেসিন’ এর উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বিদ্যমান কুইন্সল্যান্ডের উইনটন, ক্লোনকারী, হুঘেনডেন এবং বারক্যালডাইন, প্রায় জনমানবহীন ৪টি শহরসহ (চার শহরের মোট জনসংখ্যাঃ ৬০৪৬ জন!) আরো কয়েকটি শহর (লংরিচ, জুলিয়া ক্রিক … …) সংশ্লিষ্ট ৪০/৫০ হাজার বর্গমাইলব্যাপী, অনেকটা ‘ডায়মন্ড’ আকৃতির বিশাল গ্রাসল্যান্ড পড়ে আছে। সবগুলো শহরই হাইওয়ে দ্বারা সংযুক্ত, যেখানে উইনটন ও হুঘেনডেন শহরদুটি আবার কেনেডি হাইওয়ে ও সমান্তরাল একটি রেললাইন দ্বারা সরাসরি সংযুক্ত।

উক্ত বিরান অঞ্চলের মৌসুমি আবহাওয়া, প্রবাহিত নদী-জলাধার সমূহের বৈশিষ্ট, ইত্যাদি জরিপপূর্বক আর্টেজিয়ান বেসিন অক্ষত রেখে সার্ফেস ওয়াটারেই কৃষি কার্যক্রম চালু করা গেলে, ক্ষতিটা কোথায়?

অবিশ্বাস্য মনে হলেও, প্রায় এক বাংলাদেশের সমান অষ্ট্রেলিয়ার ঐ একটি গ্রাসল্যান্ড ও সংযুক্ত হাইওয়ে সমূহের উভয় পার্শ্বে ক্রমান্বয়ে প্রায় এক কোটি কৃষককে পূনর্বাসন করা সম্ভব! কল্পিত উৎপাদনের হারে, যেখান থেকে বছরে প্রায় ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) টন শষ্য দানা উৎপাদন করে, হোষ্ট অষ্ট্রেলিয়াই বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের যুগে প্রবেশ করতে পারে! যার ভুমি মালিকানার ১৫% ও খাজনার ১% অংশে অস্ট্রেলিয়া তার নিজ ভান্ডারে সরাসরি পেতে পারে, প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের খাদ্য পণ্য!

অষ্ট্রেলিয়ার ২৮ লক্ষ বর্গমাইল বিরান ভুমির মাত্র অর্ধ লক্ষ বর্গমাইল অঞ্চলেই যদি ১০ মিলিয়ন কৃষক পূণর্বাসন করে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্জন সম্ভবপর হয়। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি অঙ্গরাজ্যের রোড-গ্রীড সজ্জিত পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলীয় ২৫ টির বেশী সমতল রাজ্যের অধিকাংশ পতিত ভুমিতে কত কোটি ভুমিহীনকে খাটিয়ে, কত বিলিয়ন টন অতিরিক্ত খাদ্য শষ্য উৎপাদন করা সম্ভব? আর কানাডা, রাশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, প্রভৃতি রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ বর্গমাইল বিরান ভুমিতো আছেই! এক্ষেত্রে কোনো সঙ্কট, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ফুরিয়ে যাবার কিছু আছে কি? বিশ্ব বিবেকের জাগ্রত ঘুম কি ভাঙবেনা?

হ্যাঁ, মানবতা, প্রজনন (কাপল প্রতি সর্বোচ্চ দুই সন্তান!), সমাজ, শিক্ষা-দীক্ষা, ন্যায্য হিস্যাসহ সম্ভাব্য সকল অধিকার (সমাজতান্ত্রিক পুঁজিবাদ?), ত্রিপক্ষীয় কঠোর নজরদারিতে নিশ্চিত হলে, স্থানান্তরিত সেই হতভাগ্য কৃষককুল কথিত রাজনীতির বাইরে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরীকত্ব মেনে হলেও অর্থনৈতিক মুক্তি চায়! আর রাজনীতির দ্বার, সেওতো খোলা থাকবেই নিজদেশে, অথবা হোষ্ট দেশের বিদ্যমান আইনে নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে!

 

ভাবনাটি আকাশ-কুসুম মনে হলেও, টার্গেটকৃত দেশসমূহে বসবাসরত উৎসাহী ও সচেতন বাংলাদেশী প্রবাসীদের সহযোগিতা ও উদ্যোগে, রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দশটি করে কৃষক পরিবার বাছাই করে, স্ব-স্ব নগরীর শহরতলীর কাছাকাছি পতিত ভুমিতে যথাযথ নিরাপত্তায় টেষ্ট খামার গঠন, সহজতরই বলা যায়! টেষ্ট কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে শতেক পরিবারে উন্নীত করে, নির্ধারিত এলাকায় গ্রুপ ভিত্তিক কৃষক বসানো শুরু করা গেলে, সেই ‘স্বপ্ন প্রকল্প’ (Dream Project) কি খুব কঠিন ও অবাস্তব কিছু হবে?

‘প্রকল্পিত স্বপ্ন’(Hypothetic Dream!) সেদিনই বাস্তবায়ন সম্বব হবে! বিশ্ব বোদ্ধা মহল যেদিন-

  • ভন্ডামি ছেড়ে, বিশ্ব সমস্যাবলী নির্মূলে প্রকৃত অর্থে একাট্টা হবেন,
  • চরম হটকারী ও ফালতু কারণে সৃষ্ট, বিশ্বের নিরীহ মানবকুলের গগণবিদারী আর্তনাদ (সিরিয়া, ইরাক, আফ্রিকা, আরাকান, বাংলাদেশ!) বিশ্ব বিবেককে সত্যি সত্যি ‘নাড়া’ দিবে এবং
  • উৎপাদন-বন্টন-চুক্তি-কৃষি প্রকল্পটিকে বিশ্বের কৃষি ও কারিগরী বোদ্ধা মহল, পূর্ণ আমলে নিবেন!

তাহলে এটাই হতো বিশ্বের আধুনিকতম ও অভাবিত এক শান্তি সোপান, যেখানে –

  • কথিত অধম তথা উদ্বৃত্ত মানবকুল তাঁদের কর্মস্পৃহা মিটিয়ে, দুনিয়াবি হারানো হিস্যা খুঁজে পেতেন!
  • ধনাঢ্য ও ক্ষমতাবানদের অতি ক্ষুধা’র আরো পূণর্ভরণ হতো! (কত খাবি, খা!)
  • দুনিয়াবি হিংসা-বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্রের কুচক্রি ধারা বিলিন হয়ে, বিশ্ব শান্তির পথ সুগম হতো!

দুদিনের এই নশ্বর দুনিয়ায় বিধাতা, একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সবকিছু পরিপূর্ণভাবেই দিয়ে রেখেছেন! একটু পরিকল্পনা, ছবর আর আন্তরিক হলে, ‘জোর হতে জোর জন্মানুশাসন!’ অনুসরণে হাজার-কোটি বছরেও, সুন্দর এ পৃথিবী মানবে সয়লাব বা কোনো প্রকার ঘাটতির ন্যুনতম সম্ভাবনাও নেই! কর্মবঞ্চিত হতভাগারা দুনিয়ার বোঝা নয়, বোঝা হচ্ছে অব্যবস্থাপনা আর মানবরূপী দানবদের অনর্থক লালসা।

হে লালসা-কাতর দুনিয়ার নেতৃবর্গ, ছোট্ট-সুন্দর পৃথিবীটাকে কিছুটা উপর থেকে দৃষ্টিটা প্রশারিত করে, একবারের জন্য হলেও একটু তাকাও প্লিজ! এর মুষ্টিমেয় কৃত্রিম ক্ষত নির্মূলে তোমাদের অতি নগন্য ইচ্ছেটাই যথেষ্ট নয় কি?’

 

 

বাংলার এক ভুমিহীন কর্ম-কাঙ্গালের স্বকাতর অভিব্যক্তি!

(সিরাজগঞ্জের কাজিপুর অঞ্চলের চলতি ভাষায় অনুদৃত)

হুইনল্যাম যে, তামান দুনিয়ার অদ্দেকখানি বোলে পতিত পৈরা ওইছে, হাচাই নেহি? যিহিনে অগুন্তি জঙ্গল-জাব্রির মৈদ্যে বৈন্য পক-পহালিরা বোলে খালী ঘুইরত্যাছে আর দৌড় পাইরত্যাছেএ! আর কুলকেনারা না পায়্যাও খালী জম্মিত্যাছে আর মৈরত্যাছে! যিহিনে বোলে সায়েব-ম্যামেরা সক কৈরা বৈন্য মাইনষের ন্যাহল ন্যাংটা-ন্যাংটা (Nacked and fraid!) খেইলবার যায়! ছিক্ক ছিক্ক! এডো কোনো কৈব্যার কতাআঃ? আঙ্গোর ইহিনে হাগ পাতা বুইনব্যার এক পালান জমি পাইন্যাআঃ! আর উহুনে উনিরা ওইল্লা কি হৈরত্যাছে ? ওযে বোলে কৈছে আঃ! এনা দেইকত্যাচি কিয়ামতের আলামত শুরু অয়া গ্যাচেএ! নাহ্ আর নককৈরা থাকমুনা, ওবাই ওগোর এ্যাল্লা হ্যোইচ করেনচে, উনিরা বৈন্য পক-পহালীর নাইগ্যা দুনিয়ার যেহানি যাগা ছাইর‌্যা থুইচে, তার কুড়ি ভাগের একভাগ যাগা আঙ্গর এ্যাল্লা থাইকপ্যার দিলি, পক-পহালি আর ওগোর কি খেতি ওইবো? সইত্যো কৈরা কৈত্যাছি বাই, আল্লাবাস্তে ওগোর কোনো নোকসানই ওবোনা। ওগোর জমি ওগোরই থাইকপো, আঙ্গর খালী অ্যাল্লা আবাদ কৈরা খাইব্যার দিক! তরাইস্যা অইয়েননা, আমডাতো মাগনা চাইত্যাছি না –

  • দশমন মসম ত্যুলব্যার পারলি, খ্যাত থাইক্যাই ওগোরে তিনমন দিয়্যাদিমু!
  • ওগোর আশপাশের বাতাস নষ্ট অইবার দিমুনা। আঙ্গোর এ্যাল্লা দুরে থুলিও চইলবো।
  • ফসল তুইল্যা, ওগোর খায়খাজনা দিয়া-থুইয়া বাহি মসম, আঁসমুরগী, গরুছাগল, হাগপাতা, ফলফলাদি সবকিচু, আল্লা বাস্তে খালি এ্যাল্লা প্যাট ভৈরা খামু!
  • প্যাটের শান্তি বাদে যেইল্যা বাইচপো, ওগোর আট-বাজারেই বেইচপ্যার নিয়া যামু।
  • তহন ওগোর বাজারে আমজাম বাইরলে, উনিরাও হস্তায় নচনচা হাগপাতা, ফলমূল কিনব্যার পাইরবেন! আর বাড়তি আনাজ-কালাই বেইচ্যা, আঙ্গোর ঠ্যাকার জিনিষপাতিও এ্যাল্লা কিনব্যার পামু!
  • এম্মুরা ওগোর আট-বাজারের কাটতি বাইরবো, ওম্মুরা আমডাও এল্লা মৈদ্যে মৈদ্যে আঙ্গোর পরাণের দ্যাশে ব্যারাইব্যার যাইব্যার যোগান পাতির সাঁউস পামু!
  • আমডা হেদ্যাশে ভোট-আজনীতি হরমুনা, খালী এ্যাল্লা আবাদ বসত আর ফিরি ঘোরাঘুরি হৈরব্যার চাই!
  • প্যাটের শান্তি, নিচিন্ত্যা ঘোম, আর খোলাম্যালা এ্যল্লা দোম! এ্যা ছাড়া আঙ্গোর কোনো ঠ্যাকাই নাই!
  • আল্লার কসম! আঙ্গোর নাইগা ওগোর কোনো কিচ্চুই কৈমবো না, খালী বাইরবোই!
  • ও বাই কনচে, ভিক্কাতো চাইনা! বাগী আবাদ হৈরবার নাইগা এ্যাল্লা জমিন দিলি, কি খেতি অয়?
  • চিবিত থাকতি থাকতি এবি কোলে চিটক্যা নাইগ্যা গেছিগ্যা! তার মৈদ্দে কনতান বোলে ১১ নক্ক ওহিঙ্গা ঢ্যুইক্যা দিচে! এ্যাতো যাগা খালি থুইয়া ইহিনে ক্যা? দুনাইর মাইনসের কি উঁশ-আক্কেল নাই?
  • হ্যুনত্যাচি, এন্ডিয়ার আসামেও বোলে ৪০ নক্ক মোছলমান বাংলাদেশ বিলা খারা হৈরা থুইচেএ?
  • হোনেন, চাইরো পাইলে চাইপত্যাচেন চাপেন, তাইবুদ্যা মনে আইহেন ‘‘চিবিত পরা বিলাই যেদিন ‘উল্টা খামছা’ মাইরবো..না..আ, হেদিন ট্যার পাইবেন!’’ অ্যাহুনো কৈত্যাচি কোলে, পিলিজ নীচ মিক বিলা এল্লা ফিরা চান!

প্রয়োজন মনে হলে নোয়াখালী, বরিশাল, …  …, রংপুরসহ যে কোনো আঞ্চলিক ভাষায় অনুদিত হতে পারে।

শেষ