আদার ব্যাপারী যখন জাহাজের খোঁজে – এস এম আলী আকবর

  •  
  •  
  •  
  •  

‘আদার ব্যাপারী’ যখন জাহাজের খোঁজে-১

(A grave attempt to portray ‘the largest canvas’ from rock-bottom-1)

 

দুনিয়ায় এত যায়গা থাকতে স্রষ্টা কেন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ (অখ্যাত বাংলাদেশ!)কে সৃষ্টির সেরা ‘আশরাফুল মকলুকাত’ দিয়ে কানায় কানায় ভরে দিলেন? রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন। নগর-বন্দর, ক্ষেত-খামার, বন-পাহার, সাগর-নদী, সবই আছে মাত্র ৫৫হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট এই ভুখন্ডে। যার সর্বত্র ১৬.৫০ কোটি (১৬৫ মিলিয়ন) মানব কিলবিল করছে। দুনিয়ায় ‘অদ্বিতীয়!’ এবং ‘অস্বাভাবিক!’ বিষয়টি কারো নজরেই আসছে না! এত ছোট্ট পরিসরে এতগুলো মানব কিভাবে বেঁচে আছে, দেখার বা ভাববার কি কেউ নেই?

অসম আকৃতির দেশটির আয়তন, পৃথিবীর সমগ্র স্থলভাগের (মেরু অঞ্চলদ্বয় ব্যতিত) এক-সহস্রাংশের সমান হওয়ায়, বিশ্ব জনগোষ্ঠির এক-সহস্রাংশ বা ৭.৫ মিলিয়ন মানুষ দেশটির ভাগে পড়ার কথা। সেখানে তার দ্বিগুণ নয়, এমন কি দশগুণও নয়, বাস করছে ২২ গুণ মানুষ!

পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র বৃহত্তম ভুখন্ড, যেখানে প্রতি বর্গমাইলে গড়ে ২৯৫৬ জন করে মানুষ বাধ্যগত বাস করছে। অথচ ‘শাকের নীচে মাছ ঢাকা’র মত ম্যাকাও, সিঙ্গাপুর, বাহরায়েন, ভ্যাটিকান সিটি, ইত্যাদি কয়েকটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ‘রাষ্ট্র’ পরিচয়ধারী পর্যটন, বানিজ্য ও ধর্ম্ম কেন্দ্রিক ‘নগর’ সমূহের মানব-ঘনত্ব উল্লেখকৃত ঢালাও তালিকায়, ভয়াবহ বাংলাদেশ পড়ে আছে ১০/১২ তম অবস্থানে! এদেশটির বাইরে ৩ হাজার দুরের কথা, প্রতি বর্গমাইলে ২ হাজার মানব বাস করা, দ্বিতীয় কোনো দেশও দুনিয়াতে নেই! ১৪ হাজার বর্গমাইল আয়তনের তাইওয়ানই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘনত্বের দেশ, যেখানকার মানব ঘনত্ব প্রতি বর্গমাইলে ১৬৫৬ জন। এ দুটি দেশের বাইরে পৃথিবীতে হাজারের অধিক জন-ঘনত্বের দেশই আছে মাত্র ৫/৬ টি। বালাদেশের এই নজির বিহীন অসামঞ্জস্যিক অবস্থানের বিষয়টি অজ্ঞাত কারণেই লোকো চিন্তার অন্তরালে থেকে যাচ্ছে!

মূল তালিকার ১ নম্বরে স্থান পাওয়া ১১ বর্গমাইল(!) আয়তনের, চীনের ম্যাকাও নগরীর (রাষ্ট্র!) প্রতি বর্গ মাইলে বাস করে ৪৮ হাজার মানুষ। অথচ ম্যাকাও রাষ্ট্র অপেক্ষা প্রায় ১২ গুন বড় ঢাকা মহানগরীর প্রতি বর্গ মাইলে বাস করছে ১ লক্ষ ২২ হাজার করে মানুষ, কেউ ভেবে দেখেছেন কি? বাংলাদেশের এই নাজুক অবস্থার কথা বহিঃবিশ্ব দুরের কথা, স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক নেতৃবর্গ বা বুদ্ধিজীবি কারো বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা আছে বলেও মনে হচ্ছে না! চাপ সহ্য করতে করতে হতভাগ্য আমরা কি দিনকে দিন ‘গন্ডার’ হয়ে যাচ্ছি? অধুনা ঘনত্ব বিচারে ১০০টি জনবহুল দেশের অপর এক তালিকায়, বাংলাদেশকে অবশ্য এক নম্বরেই রাখা হয়েছে।

দেশটির মানব ঘনত্ব এতটাই বেখাপ্পা যে, প্রায় একই পরিবেশের প্রতিবেশী ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রিলঙ্কা, পাকিস্তান, এর কোনোটিতেই বাংলাদেশের অর্ধেকতো নয়ই, এমনকি এক-তৃতীয়াংশ ঘনত্বের বসতিও নেই। এতো ব্যাপক সংখ্যা বৈষম্যের হিসাবটি, কোনো ভাবেই মেলানো যাচ্ছে না!

তবে ভৌগলিক ও ঐতিহাসিক কিছু দুঃজনক ‘অবহেলা আর অবিচার’ এর উল্লেখ, এক্ষেত্রে না করলেই নয়!

১।      বলা হয়, নদীবহুল দেশটির মাটির ব্যাপক উর্বরতা আর অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন ঘন বসতির অন্যতম কারণ!

২।      বিভাজনপূর্ব ভারতে হিন্দুদের তুলনায় মুসলিম-ব্রিটিশ দুরত্ব বেশী ছিল। ফলে ‘পাকিস্তান’ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচলে শঙ্কিত/ব্যস্ত মুসলিমলীগ নেতৃবর্গ সীমানার যথাযথ হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন!

৩।       পূর্বের প্রতি চরম উদাসীন, মুসলিমলীগের পশ্চিমী মূল নেতৃত্বের নিঃস্পৃহতার সুযোগে, ইংরেজ ঘনিষ্ঠ কংগ্রেসের মদদেই পূর্ব পাকিস্তানকে জনানুপাতে প্রাপ্য সীমানা হতে বঞ্চিত করা হয়!

৪।       উদার বাঙ্গালিদের অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা আর মুসলিম লীগের বাংলা-আসাম মিলে পূর্বপাকিস্তান দাবীর মাঝে, ধর্মীয় উন্মাদনায় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা বাধানো কুচক্রি মাউন্টব্যাটেন ও প্রভাবশালী কংগ্রেসের কুটচাল আর জিন্নাহ গং কর্তৃক শুরুতেই পূর্বফ্রন্টে ষড়যন্ত্রের বীজ বপনের অন্তরালে, পাপিষ্ঠ র‌্যাডক্লিফ অবহেলিত পূর্বপাকিস্তানের সর্বনাস করে ফেলে!

৫।       আসাম-বাংলা মিলে পূর্বপাকিস্তান গঠিত হলে, ভারতকেও পৃথক পূর্বভারত তথা দ্বিখন্ডিত ভারত মেনে নিতে হত! সবল কংগ্রেস যা হতে দেয়নি। আবার আসামসহ জনে-বলে-আয়তনে পূর্বপাকিস্তান বৃহত্তর হয়ে গেলে, বাঙ্গালি প্রভাবিত পাকিস্তান হত! যা কেবল ঠেকানোই হয়নি, ত্রিপুরা রাজের আগ্রহ সত্বেও পশ্চিমীরা ত্রিপুরার পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তি পর্যন্ত ঠেকিয়ে দিয়েছে!

৬।       কেবল আসাম নয়, বাংলার রাজধানী কোলকাতা আর ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত রাখতে গিয়েও, পূর্বপকিস্তান সীমানার ‘বারোটা’ বাজানো হয়েছে!

৭।       তৎকালীন ভারতীয় লিয়াকত আলী ও মামদোত যথাক্রমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী বনে গেলেন! অথচ অবিভক্ত বাংলার শেষ মূখ্যমন্ত্রী সোহরয়ার্দি নয়া পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী হতে গিয়ে, কোলকাতার বাসিন্দা হবার অপরাধে, নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে গেলেন! ফলে শেরে বাংলা, আবুল হাসেম, মওলানা ভাসানী ও ছাত্র নেতা বঙ্গবন্ধুসহ কেন্দ্রে কোনঠাসা সকল বাঙ্গালী নেতৃবর্গ, ১৪ জন পারিবারিক এমপি সমৃদ্ধ পশ্চিমা ঘেষা খাজা নাজিম গং প্রযোজিত সেই চক্রান্তের নির্বাচনে ব্যস্ত হয়ে পড়ায়, সীমানার ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ভুমিকা পালন হতে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন!

৮।       ১৯৪৬ এ কোলকাতাসহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায়, তিন দিকে ঘেরা বিশাল ভারতীয় অঞ্চল হতে মুসলমানদের ঢল নেমেছিল। পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র পূর্ববঙ্গে সংগঠিত দাঙ্গায়, মূলত বর্ণহিন্দুদের দেশত্যাগের সংখ্যানুপাতে অকল্পনীয় (১১ঃ১!) তারতম্য ছিল!

৯।       ‘ন্যুনতম’ বিচারেও মুসলিম অধ্যুষিত বনগাঁ, নদীয়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার, কাছার ও করিমগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বের প্রাপ্য পাহাড়ী অঞ্চল হতে পূর্বপাকিস্তানকে ব্যাপক বঞ্চিত করা হয়েছিল! অথচ ‘‘অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী সোহরয়ার্দি নয়া পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারলে, পুরো কোলকাতা সম্ভব না হলেও, শিয়ালদা ষ্টেশন পর্যন্ত পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করেই ছাড়তেন!” মর্মে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু আক্ষেপ করেছেন!

১০।       অর্থাৎ সেই ১৯৪৭ এ বৃটিশ-বিতারন কালীন সংঘটিত ‘ষড়যন্ত্রমূলক অবিচার’ই, অবহেলিত এ ভুখন্ডের অস্বাভাবিক জনঘনত্বের অন্যতম মূল কারণ! এর বিচার কোথায় পাব?

সৃষ্টির সেরা জীবের আধিক্য যাদের, তাদের কর্তৃত্বেইতো দুনিয়া চলার কথা! কিন্তু একি বাস্তবতা? কিলবিল করা সেই আশরাফুল মকলুকাতের চাপেই আজ বাংলাদেশের-

১।       সর্Ÿক্ষেত্রে ঘাটতি আর স্বার্থ-দ্বন্দে পারষ্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালবাসা উধাও!

২।       অসহিষ্ণুতা, অসহমর্মিতা ও বিতারিত মানবিক মননশীলতা, দেশটির মানব চরিত্রের স্বাভাবিক অনুসঙ্গ!

৩।       সর্ব-ব্যাপী সন্দেহ আর কুটচালের প্রভাবে, সাচ্ছন্দ্য ভন্ডামি, অবলিলায় মিথ্যাচার, নিপীড়ন, দখল, চুরি, ছিনতাইসহ চলমান নানা অপকর্ম, দেশটির উঠতি কিশোর-কিশোরীদের মজ্জাগত অভিজ্ঞতা!

৪।       ক্রমবর্ধিষ্ণু মানবিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা, ১৫% হতে এখন ২০% এ দাড়িয়েছে! এর শেষ কোথায়?

৫।       প্রতি দিন গড়ে প্রায় ২০০ হেক্টর আবাদি জমি আবাসন আর শিল্পখাতে ঢুকে যাচ্ছে! অবশিষ্ট কৃষি জমিটুকু বর্জ্জ-দুষনে ক্রমাগত চাষ-বাস যোগ্যতা হারাতে বসেছে!

৬।       শুধু মাত্র কাজ করে বাঁচার আশায় শত-সহ¯্র কর্মহীন মানব, চোরাই পথ, নৌকা, জাহাজের খোলসহ নানা ঝুকিপূর্ণ পন্থায় দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে সর্বস্ব হাড়িয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছে! বিমানের চাকায় বসে বিদেশে (পরপারে!) যাত্রাকারী হতভাগ্য যুবকের কথা মনে পড়ে কি?

৭।       সহজ খুন, ধর্ষণ আর যৌন নির্জাতন! যেখানে বখাটে আক্রান্ত ভিক্টিমকে উদ্ধারে এসে দাদা-নানা, বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-বন্ধু যে কেউ, এক বা একাধিক খুন হচ্ছেন!

৮।       উৎফুল্ল প্রবাস ফেরৎ যাত্রী, আর দেশের ঘর-ফেরা উচ্ছসীত ঈদ/উৎসব যাত্রীদের মলম পার্টির নিকট সর্বোস্ব খুঁইয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফেরা, এখানকার স্বাভাবিক খবর!

৯।       দেশটির ছোট্ট পাহাড়ী অঞ্চলে এত বসতি হয়েছে যে ভারী বর্ষণ, পাহার ধস, আর নিরীহ মানুষ গুলোর জীবন্ত সমাধি একাকার হয়ে আছে! তার উপর বিষ্ফোঁড়ার মত জেকে বসেছে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা!!

১০।       এদেশে ঈদ মানেই, অফুরন্ত আনন্দ সেই সাথে সড়ক ও নৌপথে মৃত্যুর মিছিল!

১১।       ‘গুচ্ছ খুন’ আর ‘গুচ্ছ আত্মহনন’সহ নানা ফরমেশনের মৃত্যু, অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে!

১২।       যানযট, জনযট, পরীক্ষা/ভর্তিযট, নিয়ন্ত্রনহীন সড়ক দুর্ঘটনা, শিল্প দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নি, একের পর এক ছাপিয়ে যাওয়া গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণসহ মর্মান্তিক ঘটনা/দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে!

১৩।       বিপুল সংখ্যক জ্ঞানী, গুনী ও বুদ্ধিজীবী কোনো না কোন শিবিরভুক্ত! ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতির দাপটে, ‘নিঃস্বার্থ ও দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীগণ’(সংখ্যা মোটেও কম নয়!) এখানে কোনঠাসা!

১৪।       দেশটিতে প্রায় সমশক্তির দুটি পক্ষ-বিপক্ষ রাজননৈতিক বলয় গড়ে উঠলেও, কেন্দ্রিয় নেতৃবর্গের প্রজ্ঞা ও অদুরদর্শিতার সুযোগে, ধুরন্ধর, চাটুকার, অর্থ ও পেশী শক্তির সুবিধাবাদি মাফিয়া চক্র, বলয় দুটিকে প্রায় আষ্টেপৃষ্ঠে গিলে ফেলেছে! ফলে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, ভেজাল, আয়নাবাজি আর বিরোধী নির্মূলের আত্মঘাতি সংস্কৃতি দেশটিকে আজ খাদের একেবারে কিনারে এনে দাড় করিয়েছে!

সকল দুরাবস্থার জন্য ঢালাওভাবে দেশটির দুঃশাসন গুলোকে, পারস্পরিক দোষারপের ভিত্তিতে দায়ী করা হলেও, ‘মূল কারণঃ অস্বাভাবিক জনচাপ!’ থেকে গেছে লোকো চিন্তারও অন্তরালে! আর রাজনীতির চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার (অন্যতম কারণও বটে!), সেতো চলছেই বিরামহীন! 

 

অস্বাভাবিক জন চাপে পর্যুদস্ত পৃথিবীর একমাত্র দেশটিতে পরিত্রাণের পথ হিসেবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যতিত, তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছেনা! অথচ বর্তমান বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলেও এক, দুই, বড়জোর তিন, এর অধিক সন্তানের পরিবার খুব একটা চোখে পড়েনা! সুতরাং-

১।       ভ্রুণ ঠেকিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রন করে মানব ঘনত্ব কমানো, দেশটিতে এখন প্রায় অকার্যকর!

২।       ৮০’র দশকপূর্ব জন্ম হার বৃদ্ধির প্রবনতা এখন আর নেই। কোন কোন দেশেতো আজকাল জন্মহার হ্রাসের খবরও শোনা যায়! সুতরাং ‘দুনিয়া মানবে সয়লাব’ জনিত ‘জুজু-ভয়’ আর কেন?

৩।       খাদ্য-পণ্য উৎপাদন ও উন্নয়নে ‘সুস্থ ও দক্ষ মানব শক্তি’ই হতে পারে, শান্তির মুল উপাদান!

৪।       দক্ষ মানব সম্পদ এর বিশ্বব্যাপী চাহিদা স্বত্বেও ৫/৬ কোটি উদ্বৃত্ত বাংলাদেশী, আর ৫/৬ কোটি যুদ্ধ উদ্বাস্তুকে কর্মহীন রেখে ধ্বংস করা হচ্ছে, কোন কারণে?

৫।       বাংলাদেশী আর যুদ্ধ-উদ্বাস্তু মিলিয়ে মাত্র ১০/১২ কোটি মানবই, আজ বিশ্বের গলার কাঁটা নয় কি?

৬।       পৃথিবীর ৭৫০ কোটি মানবেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রচেষ্টাসহ, মাত্র ১০/১৫ কোটি ‘অধপতিত’ মানবকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ন্যুনতম অধিকার ফিরিয়ে দেবার কার্যক্রমে, ক্ষতিটা কোথায়?

৭।       বাংলাদেশের প্রায় অশিক্ষিত কৃষকেরা চরম বৈরী পরিবেশেও, প্রতি মৌসুমে একরে ৬০/৭০ মন খাদ্য-শষ্য অনায়াসে ফলিয়ে যাচ্ছে! অথচ চাহিদা মাফিক চাষের জমিই পাচ্ছে না!

৮।       কৃষি ও শিল্পখাতে বাংলাদেশী শ্রমজীবিদের দৃশ্যমান দক্ষতাই জানান দিচ্ছে সংখ্যানুপাতিক স্পেস পেলে, বিশ্বায়নে এরা কত ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারতো?

অথচ সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা অধ্যুসিত ও পাঁচ গুন বড় আকৃতির বিশাল মিয়ানমার হতে ১১ লক্ষ মুসলিম রোহিঙ্গা কে ‘মরার উপর খরার ঘা’র মত, জনচাপে পিষ্ট মানব ভাগাড়েই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে! যেখানে অদ্ভুতরকমভাবে সভ্যতা, মানবতা, অধিকার, স্থান, কাল, পরিবেশ কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে, পরাশক্তি চীন, রাশিয়া ও ভারতের সহিত মিয়ানমারের তথাকথিত স্বার্থকেই শুধু বিবেচনা করা হয়েছে! অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ৩ থেকে ৪ শত বছরের পুরনো যে ইস্যুতে এসব করা হচ্ছে, একই ইস্যুতে চীনা, তিব্বতী ও মঙ্গোলিয়ান বংশোদ্ভুত গোষ্ঠি গুলোকেও তাঁড়ানো হলে, বার্মায় থাকবে কারা? প্রতিহিংসার একই ধারা দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পরলে, জনশুন্য আমেরিকা এবং অষ্ট্রেলিয়াসহ অপরাপর বিশ্বেরইবা কি অবস্থা হবে?

চলবে

এস এম আলী আকবর
লেখক ও প্রকৌশলী
ঢাকা, বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় পর্ব