আধুনিকতার দিকে ধাবিত এক নিষ্ফল প্রাণের করুন আহাজারি

  •  
  •  
  •  
  •  

 182 views

[ উদ্দেশ্য : চলমান ধারনার ব্যবচ্ছেদ, বিশ্লেষন, তাৎপর্য ও প্রয়োগের বিবেচনায় কারন অনুসন্ধানে অর্ন্তদৃষ্টির ভাগাভাগি
পাঠোদ্ধার পরামর্শ : স্থির মানসিকতা ও সময়, নিরপেক্ষ অবস্থানে নিজেকে ভাবার ক্ষমতা ও সুস্থ মানসিকতা
আকাংখা : সংস্কারের চেতনায় গঠনমূলক মতামত  ]

এমন একটি পৃথিবী আমরা চাই, যেখানে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ থাকবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালবাসা, মায়া-মমতা ও সাহায্য-সহযোগিতার বিনিময় গুলি যেন হয় অবাধে এমনই একটি মানব বিচরন ক্ষেত্র সর্বকালের চাহিদা। অসভ্য, বর্বর আর হিংস্র সমাজের বিভৎস বন্য জীবন থেকে মুক্তির তাগিদেই মানুষকে সভ্যতার ধারনা ও এর প্রয়োজনীয়তার বোধ যুগে যুগে মহামানবতুল্য ব্যক্তিরা দিয়ে গেছেন। কালের প্রবাহে মানুষের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপটির পরিবর্তনের সাথে সাথে সভ্য মানুষ ও সভ্য সমাজের ধারনাগত উন্নয়ন অথবা আধুনিকায়ন হয়েছে। দশ বা কুড়ি বছর আগে যে ধারনাটি উপযুক্ত ছিল এখন হয়তো সেটা উপযোগী নয়। পারিবারিক গঠন, সম্পর্কের সংজ্ঞা ও ব্যাপ্তি, আচরন বিধি তথা রাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তন আসছে । পরিবর্তন গুলির গ্রহনযোগ্যতা উপযোগিতার উপর ভিত্তি করেই হচ্ছে যাতে করে জীবন মান সংঘাতহীন ও সহজ হয়।আধুনিক সমাজ নির্মানের লক্ষ্যে পরিবর্তনগুলির বাস্তবায়নে আধুনিক মনটির প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলছে। মানস জগৎটির আধুনিকায়নে ব্যক্তি প্রচেষ্টার নিরন্তর চেষ্টা যে চলছে না, তা কিন্তু ঠিক না। মাঝে মাঝে নিজেকে সেই রূপে অধিষ্ঠিত করতে অনেকেই ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছি। ভুল গুলিকে অন্তরদৃষ্টি দিয়ে যাচাই-বাছাই ও ছাঁটাই করে আধুনিক মানুষে পরিনত হওয়া যায়।

অারো বেশী সংখ্যক আধুনিক মানুষ দরকার। মনে-প্রানে, বিশ্বাসে ও কর্মে আধুনিকতার যথার্থতায় সংজ্ঞায়িত মানুষ প্রয়োজন প্রানবন্ত জগৎ সৃষ্টির তাগিদে। রাস্তাটি বন্ধুর তবে সংস্কারযোগ্য। সংস্কারের প্রয়োজন এ জন্য যে, গন্তব্যে পৌঁছাতেই হবে। গন্তব্যটি আকর্ষনীয় , আরামদায়ক , উপভোগ্য ও কাংখিত। স্বাভাবিক মানুষের কথা বলছি, যারা স্বাভাবিক চেতনায় বিশ্বাসী তাদের কথা। কি লাভ হয় নকল করে পাশ করে? নকল ডিগ্রিটির মাধ্যমে যা অর্জিত হয়, সেটা কি বিষাদময় ও সাময়িক নয়? আধুনিক না হয়েও আধুনিকতার রূপ ধারন করার চেষ্টাটিও তদ্রূপ ক্ষনস্থায়ী ও ক্ষতিকর। রূপটি ব্যক্তি নিজেই উপস্থাপন করে অথবা উপস্থাপিত হয় । উপস্থাপিত হওয়াটি স্বাভাবিক ও গ্রহনযোগ্য ধারা; অপরদিকে উপস্থাপন করার বিষয়টি চেষ্টা যুক্ত ও কলুষিত অনুশীলন।তবে মহৎ উদ্দেশ্যে আপনাকে উপস্থাপন কিংবা তার প্রয়াশ প্রশংসনীয় ।মহৎ উপস্থাপনে কোন প্রকার আপত্তির প্রশ্ন অনুচিৎ। উদ্দেশ্যটির গুনগত মান মহত্বের মাপকাঠির বিচারে কতটা মহৎ , সেটাই বিচার্য। মহৎ উদ্দেশ্যগুলি যেমন- গঠনমূলক অনুপ্রেরনা, উপযুক্ত দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী ধারনা, বাস্তবসম্মত চেতনা, উপকারী পদক্ষেপ এবং উদ্দেশ্যগুলির বাস্তব রূপ দানে সংশ্লিষ্ট গুনগুলি যেমন- উন্মুক্ত মানসিকতা, কুসংস্কারমুক্ত বোধ, নিরপেক্ষ কিংবা প্রভাবমুক্ত চেতনা, মানুষকে তার মানবিক গুণাবলীর সাপেক্ষে বিচার করা, সত্যকে স্বীকার করার মানসিকতা, যুগের চাহিদা সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পোষন, প্রানবন্ত সম্পর্ক ও পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখার ক্ষমতা ব্যক্তি উপস্থাপনায় প্রোথিত থাকলে তার আলোকে আলোকিত হয় সারা বিশ্ব। উপোরোক্ত মহৎ গুনগুলি ধারন না করে শুধুমাত্র আধুনিক বিশেষনটি অর্জনের তাগিদে ব্যক্তি উপস্থাপনার প্রচ্ছন্ন কিংবা প্রত্যক্ষ প্রয়াশটি বোদ্ধা ও বিচক্ষন মানুষের কাছে সহজেই ধরা পরে। উপস্থাপনার ক্ষেত্রসমূহ সাধারণত পোশাক-পরিচ্ছদ, ভাষার ব্যবহার, বাচনভঙ্গী, জনপ্রিয় ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গদের বাহ্যিক অনুকরন, পশ্চিমা বিশ্বের ধ্যান-ধারনাকে নির্বিচারে গ্রহন, মৌখিক আস্ফালন ইত্যাদি, ইত্যাদি ।

নিজেকে আধুনিকায়ণের উদ্দেশ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ । তবে, শিক্ষিত মূর্খ সর্বকালেই অশিক্ষিত জ্ঞানীর চেয়ে নিকৃষ্ট । এখানে শিক্ষিত বলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত বলতে যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই তাদেরকে বুঝানো হয়েছে। শিক্ষা বলতে আমি জ্ঞানকে বুঝি ; যে জ্ঞান অর্জিত হয় সাধনায় ও চর্চায়, যে জ্ঞানের সাথে অর্থ লাভের সম্পর্ক নেই, যে জ্ঞানে ভোগের বাসনাকে উৎসর্গের মহত্ব দিয়ে প্রচ্ছন্ন করা যায়, যে জ্ঞান মানুষের সেবায় ও কল্যানে ব্যবহৃত হয়। অতএব, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও এ জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। মানুষ নিজেই নিজের একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের বিষয়গুলি অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ , বোধের আলোয় আলোকিত, স্বাভাবিক উপযোগী আচরণবিধির ধারায় পরিপূর্ণ , সেবা বিনিময়ের মাধ্যমে সুস্থ-সুন্দর ও স্বচ্ছল জীবন অতিবাহনের নীতিতে ভরপুর। সেবা গ্রহন করলে সেবা দানের বাধ্যবাধকতা স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহিতার উপর বর্তায়। সমাজভেদে সেবাকে সামঞ্জস্যতার বিচারে অর্থ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। সেবার চাহিদার উপর এর মূল্যমান নির্ধারিত । সেবাদানের কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে অর্থ সঞ্চয় এবং লব্ধ সেবারূপ অর্থ দিয়ে সেবা ক্রয়ের প্রক্রিয়াটিকেই প্রকৃত অর্থে বিনিময় বলা যায়। এ প্রথাটি রাষ্ট্র ও সমাজে প্রচলিত থাকলেও পারিবারিক পরিমন্ডলে আজও অনুপস্থিত। অবশ্য পরিবারের ক্ষেত্রে এ ধারাটির অনুশীলন না থাকলেও অর্থাৎ সরাসরি অর্থের লেন-দেন এর মাধ্যমে না হলেও ভালবাসা, মমতা ও কৃতজ্ঞতার আদান-প্রদানে হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ- মায়ের কিংবা স্ত্রীর ঘরোয়া সেবার মাধ্যে দিয়ে যারা বিকশিত ও উপকৃত হয় বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে ভালবাসা, স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা প্রাপ্তিটুকুই তাদের দানকে অর্থবহ ও মহান করে। সেবাধর্মের এ বোধটি লাভ করে তার যথার্থ ব্যবহারটি আত্মস্থ করার নামই এরূপ হাজারো জ্ঞানের একটিকে অর্জন করা । আধুনিক মানসিকতার এটি একটি উপাদান ।

আধুনিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যোগ্যতা অর্জনকে কে না স্বাগত জানাবে? তবে, নিজেকে অধিকতর যোগ্য প্রমানিত করার যে প্রয়াশ, তা ধরা পরলে তার ঋণাত্মক প্রভাবে ব্যক্তি ভাবমূর্তি কতটা খাটো হয় তা বুঝার ক্ষমতা থাকলে এ চর্চা থেকে নিঃসন্দেহে মানুষ নিজেকে বিরত রাখতো।

আধুনিক মানুষ হিসাবে নিজেকে জাহির করার জন্য যে সকল অন্যান্য উপসঙ্গ মানুষ সাধারণত গ্রহন করে তার মধ্যে অন্যতম হলো নিজেকে একটি বিশেষ শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত করা। শ্রেনীটি বিশেষ এ জন্য যে, এ শ্রেনীভূক্তরা প্রায়ই চলনে-বলনে, পোশাকে-আশাকে, বাচনে-ভঙ্গিতে এটা প্রর্দশন করতে চায় যে, তারা সাধারনের অতি সাধারন জীবন ধারা থেকে আলাদা। ধারনাটি এ রূপ যে, সাধারনেরা যাই করুক সেটা গ্রহনযোগ্য নয়; এটা ভাবে যদি গ্রহন কিংবা সমর্থন করে তাহলেতো বিভাজনকারী দাগটি মুছে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ- এক ধরনের বিশেষ পোষাক একটি শ্রেনী ব্যবহার করে বিধায় ঐ বিশেষ পোষাকটি পরিধান করলে পাছে তার ঐ শ্রেনীতে অন্তর্ভূক্তি ঘটবে এ আশংকা সর্বদাই তাকে পরিহারের নীতির দিকে ধাবিত করে, আবার সন্তানের নাম নির্বাচনে ঐ নামটিই নির্ধারণ করে যেটি সাধারনের মাঝে অনুপস্থিত, অর্থবহ কিংবা শ্রুতিমধুর কিনা সেটা বিচার্য নয়। ব্যতিক্রম ও স্বতন্ত্র ভাবনা থাকা কিংবা প্রতিফলন ঘটানো সৃজনশীলতার পরিচায়ক, তবে উদ্দেশ্যের মধ্যে যদি একটি শ্রেনীকে অবমাননা করার প্রয়াশ থাকে তাহলে তা গ্রহনযোগ্য হওয়া অনুচিৎ। এখানে “প্রয়াশ বা ইচ্ছা” শব্দটিকেই উপযুক্ত করছি এ কারনে যে, “করা” নামক ক্রিয়ার ভৌত রূপটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বের উপস্থতিটিকেই আপত্তিকর হিসাবে গন্য করা।
মূল কথায় ফেরা যাক, শ্রেনী বৈচিত্র থাকবেই ; গুনগত মান বিচারে শ্রেনী মূল্যায়নও থাকবে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শ্রেনীর বেশীরভাগ মানুষ খারাপ অথবা জনহিতকর নয় এরূপ কাজে সংশ্লিষ্ট থাকলে, সরাসরি শ্রেনীটিকে ঘৃনা না করে তার কারন অনুসন্ধান করে পুনর্গঠনে সহায়তার মানসিকতা পোষন করার নাম আধুনিকতা। আধুনিকতা মানে পরিহার কিংবা গ্রহন নয় বরং স্বচ্ছ ও অগ্রগতির অনুকূলে সহায়ক মানসিকতাটি তুলে ধরা এবং প্রয়োজনে অন্যদের মানসিকতাটি গঠনে অনুপ্রেরনা, সহযোগিতা ও যথাযথ অনুশীলন করতে উদ্বুদ্ধ করা।

সৃজনশীল, মৌলিক ও জনহিতকর কিছু উপহার দেয়ার মাধ্যমে আপামর জনগোষ্ঠির জীবনে আনন্দ, সচ্ছলতা ও শান্তি বহন করে আনা আধুনিক মানুষের কাজ। কাজটিকে দানের কিংবা অবদানের মহিমায় ভূষিত করা যায়। এর মধ্যে কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। কাজটি যতটা কাংখিত ঠিক ততটাই সংবেদনশীল। সংবেদনশীল এই অর্থে যে, গুনগুলির ধারক না হয়ে কিংবা ধারক হয়েও শুধুমাত্র নিজেকে একটি প্রসংশনীয় ও জনপ্রিয় অবস্থানে অধিষ্ঠিত করার জন্য কর্মগুলি আধুনিকতা নামের বিশেষনটির জন্য বড় হুমকি। প্রশংসা অর্জন অনেকসময় হয়তো সম্ভব হয় তবে, উৎসটি কি অথবা কারা সেটাই মূল বিবেচ্য। চোরের সমাজে চোরই পীর। আমি পীরে বিশ্বাসী না, সাধু অর্থে ব্যবহার করলাম। সুতরাং বেশিরভাগই যেখানে চোর সেখানে দক্ষচোরই প্রশংসা পাবে এবং সাধুটিই অকর্মন্য পরিগনিত হবে। কতিপয় মানুষ কর্মের স্বীকৃতি দিলে অথবা কর্মটি মহৎ হয়েছে বলে প্রশংসায় পঞ্চতন্ত্রের দিক্ষায় দিক্ষিত দাবি করে পঞ্চমুখ হলেই কর্মটির যথাযোগ্যতা প্রকাশ পায় না। কতিপয় মানুষগুলির উদ্দেশ্য, স্বার্থ ও জ্ঞানের পরিধি এক্ষেত্রে বিবেচনাধীন। বিখ্যাত অর্থাৎ বিশেষ ভাবে খ্যাতিসম্পন্ন হলে কুখ্যাত যে নয় সেটা বুঝা কঠিন। সুতরাং বিখ্যাত তথা জনপ্রিয় ব্যক্তি হলেও আাধুনিক মানসিকতার ধারক এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। প্রশংসাকারী জন-মানুষের মধ্যে কতজন মহৎ মানুষ আছে তার সংখ্যার উপর জনপ্রিয়তার বিশুদ্ধতার মান নির্ভর করে।

অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবাদী মানসিকতাটি আধুনিকতার ভূষনটি কেন পাবে না? এটা যে তারই প্রাপ্য। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় পরিস্কার হওয়া দরকার অর্থাৎ অন্যায় কি, প্রতিবাদটি কেন ও প্রতিবাদের প্রকৃতি কি হওযা উচিৎ । যা শান্তির পরিপন্থী, যার উপজাত সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষতির কারন, যা মানবতাকে ভূলুন্ঠিত করে, যা মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে সে সমস্ত কর্মকান্ড ও ধারনা বৃহদার্থে অন্যায় বলে পরিগনিত। অন্যায়টি স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় নিজের সত্তাকে সম্পূর্ন নিরপেক্ষ অবস্থানে রেখে নির্ধারণ করলে সূক্ষতম বিচ্যুতিগুলিকেও রোধ করা সম্ভব। এ জন্যই বিচারকের দায়িত্ব পালনে বিচারককে প্রায় ক্ষেত্রে অন্ধ, বধির ও হৃদয়হীন হতে হয়। উদাহরণ স্বরূপ, জুলুম বা অত্যাচার এবং মিথ্যাচার সহজ ধারনানুসারে অন্যায় । ধরা যাক একটি বিশেষ গোষ্ঠি বিশেষ একটি বিশ্বাসে বিশ্বাসী বলে, অন্য বিশ্বাসে বিশ্বাসী অন্য একটি গোষ্ঠিকে পূণ্য লাভের উদ্দেশ্যে অত্যাচার করছে; ব্যাপারটি প্রথম গোষ্ঠির মাঝে পূণ্য বা ন্যায়ের হলেও দ্বিতীয় গোষ্ঠির নিকট চরম অত্যাচার। সুতরাং বিশ্বাসের , অশুভ প্রভাবের এবং প্রয়োজনে সম্পর্কের বাঁধনের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়কে সনাক্ত করা উচিৎ।
এক্ষেত্রে আবেগের তারনাকে যৌক্তিক বিশ্লেষনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুক্তিকে অস্বীকার করা মানেই হলো একটি প্রভাবিত মনকে প্রশ্রয় দেয়া। প্রভাবকগুলির ক্ষমতাকে ক্ষমতাহীন করার ক্ষমতাটিই হলো আধুনিকতা। নিজেকে আধুনিক দাবী করার পূর্বে এ ক্ষমতাটি অর্জিত হয়েছে কিনা সেটি যাচাই করা প্রয়োজন । অন্যায়টি সনাক্ত করার পর তার প্রতিবাদ তথা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব আধুনিক মানুষটির উপর বর্তায়। প্রতিবাদটি হতে পারে মৌখিক, লিখিত অথবা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় । আধুনিক ধর্মটি সর্বদাই মানবতার কথা বলে।

পোশাকটি নয়, মানুষটিকে খুঁজুন। চেহারা বা রং নয় অন্তরাত্মাটি দেখুন। বাচনভঙ্গী নয়, বিশ্বাস ও বাচনটি উপলব্ধি করুন। বংশ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থনৈতিক অবস্থা নয়, মানুষটিকে ভাবুন।
আধুনিক মানুষ মহৎ। আধুনিক মানুষ প্রানবন্ত, স্বচ্ছ, উদার, প্রভাবমুক্ত ও নিস্বার্থ। আধুনিক মানুষের সংস্পর্শে মানুষ আরাম বোধ করে। আরাম শব্দটি আমার পছন্দের শব্দ; এতে হাস্যরস, শান্তি ও ভালোলাগা মিশ্রিত আছে।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments