আবারও স্বপ্নভঙ্গের হতাশা

424

এশিয়া কাপে এর আগে দুবার ফাইনালে উঠে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। তৃতীয়বার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয় লাল-সবুজের দল। না, এবারও পারেনি, স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন মাশরাফি-মুশফিকরা।

শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের করা ২২২ রানের জবাবে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে, তারা হারিয়েছে সাত উইকেট।

লক্ষ্য ছোট হলেও, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতেই ভারতের ইনিংসে ধাক্কা লাগে। শিখর ধাওয়াকে (১৫) ও আম্বাতি রাইডু (২) দ্রুত ফিরে যান সাজঘরে। পরে অবশ্য রোহিত শর্মার দৃঢ়তায় শুরুর ধাক্কা সামলায় তারা, ভারতীয় অধিনায়ক ৫৫ বলে ৪৮ রান করে আউট হন পেসার রুবেল হোসেনের বলে।

এর পর মহেন্দ্র সিং ধোনি ৩৬, দিনেশ কার্তিক ৩৭, কেদার যাদব ২৩, রবিন্দ্র জাদেজা ২৩ ও ভুবনেশ্বর কুমার ২১ রান করেন।

দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন দুটি করে উইকেট নিয়েও পারেননি ভারতের জয়ের পথে বাধা হতে। আর একটি করে উইকেট নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল ইসরাম অপু ও মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে লিটন দাসের অসাধারণ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বাংলাদেশ গড়েছিল ২২২ রান। উদ্বোধনীতে তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

দলের ইনিংস খুব একটা বড় না হলেও লিটন দাসের সঙ্গে উদ্বোধনীতে দারুণ একটি পার্টনারশিপ গড়েন মিরাজ। দুজনে মিলে করেন ১২০ রানের জুটি।

এর পর মিরাজ ৩৬ রানের একটা ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন। জাতীয় দলের হয়ে এবারই প্রথম উদ্বোধনীতে নেমে যথেষ্টই ভালো একটি ইনিংস খেলেন তিনি।

অবশ্য এর পরই মড়ক লাগে বাংলাদেশের ইনিংসে, দ্রুত সাজঘরে ফিরেন ইমরুল কায়েস (২), মুশফিকুর রহিম (৫) ও মোহাম্মদ মিঠুন (২)।

তবে এক পাশ আগলে রেখেছিলেন লিটন, পরে তিনি ১১৭ বলে ১২১ রান করে আম্পায়ারের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আউট হন। তাঁর এই ইনিংসে ১২টি চার ও দুটি ছক্কার মার ছিল।

পরে মাহমুদউল্লাহ (৪) ও মাশরাফি (৭) দ্রুত ফিরে যান। শেষ দিকে নেমে সৌম্য সরকার ৪৫ বলে ৩৩ রান কিছুটা চেষ্টা করলেও, দলের সংগ্রহটা খুব একটা বড় করতে পারেননি।

কুলদীপ যাদব ৪৫ রানে তিনটি এবং কেদার যাদব ৪১ রানে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান।

এর আগে ২০১২ পাকিস্তানের কাছে এবং ২০১৬ সালে ভারতের কাছে এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশ।