আমার একলা আকাশ – রাফিয়া হাসিন যুঁই

  •  
  •  
  •  
  •  

রাতের বন্দর থেকে ভেসে আসা স্যাঁতসেঁতে বিষণ্ণ সুরে এক হিম শীতল কান্না। বয়ে চলা কালো রাস্তায় মানুষের ভিড় ফিকে হতে হতে শুন্য প্রায়। সে চলেছে একা, শুন্য হতে অনেকটা বাকি যেন। নাম যেন কি তার, নিজের নামটাও আজ বিস্মৃত প্রায়। এলা না আলেকজান্দ্রিয়া? বুকের ভেতর বাজে তার মন কেমনের সুর। মেঘে ঢাকা চাঁদ সব দেশেই আলো দেয়, তবুও সব দেশ নিজের হয় না। সব জোনাকি হয়তো প্রবাসী, নয়তো দেখা দেয় না কোন ভূতুড়ে অন্ধকারে। না কি জোনাকিরও কোন দেশ নেই মেয়েটির মতো? সস্তার হোটেলে মাঝ রাত্তিরে খেতে আসা সবুজ চোখের মেয়েটি, কি যেন নাম? হবে হয়তো ভ্যেলেন্তিকা…। হাল্কা বাদামি চুল গুলো আজ বড্ড এলোমেলো, মুখ জুড়ে এক অব্যক্ত বেদনার হাজারো বলিরেখা, শুষ্ক ঠোঁটে আজন্মের পিপাসা, ভুলে গেছে শীতের কাপড় টা গায়ে জড়িয়ে নিতে… টুং টাং টুং টাং টুং টাং বেজেই যাচ্ছে পেশাদার গীটার।

এখন কি বসন্ত না গরম, কেন যেন এ বোধ টুকুও টের পাচ্ছে না সে। ফিরতে ইচ্ছে নেই গলির মুখের ভাগ করা আস্তানায়। প্রচণ্ড খিদে পেটে। এত রাতে দেবে কি কিছু তৈরি করে এ পানশালা? কেন এত খিদে পায়, এত খিদে? খিদে কি শুধু পেট আর শরীরে? মনের খিদের খাদ্য আছে কি, কেও কি পায়? হয়তো পায়, হয়তো পায় না। মারিয়া, না না সারাহ পায় নি এখনও। খুঁজে ফেরে, এখনও স্বপ্ন দেখে। হয়তো একদিন ঠিক পেয়ে যাবে। তার সবুজ হাল্কা ঘোলাটে চোখে একটাই স্বপ্ন, গীটারের হারিয়ে যাওয়া সেই কর্ড খুঁজে পাওয়ার। সেই প্রিয় হাত স্পর্শ করার স্বপ্ন। স্বপ্ন সেই সুরে ভেসে যাবার, সেই ঘন নীল কুয়াশার কণ্ঠ ছুঁয়ে থাকার। স্বপ্নের কোন দেশ নেই, সীমানা নেই। পারে না স্বপ্ন মেঘে ডুবে থাকতে, পারে না জোনাকির মতো প্রবাসী হয়ে নিখোঁজ হতে। স্বপ্ন শুধু বয়ে নিয়ে যেতে পারে আদিগন্ত সমুদ্রের দিকে, বাড়াতে পারে হাত নিঃসীম আকাশের অসম্ভবের দিকে। হারিয়েছিল যাকে জীবনের বাস্তবতায়, স্বপ্ন দেবে খুঁজে তাকে। স্বপ্ন যে থামতে জানে না, শুধু হোঁচট খায় – আধপেটা খিদেটা যখন আবার মাথাচাড়া দেয় ভোরের আগে………।
“স্বপ্ন আমার জোনাকি দীপ্ত প্রাণের মনিকা, স্তব্ধ আঁধার নিশীথে উড়ছে আলোর কণিকা…।।“
নন্দিনী