ইতিহাসের বাস্তবতায় যুবলীগের আত্নপ্রকাশ: দেশ গড়ার যুব নেতৃত্ব ও ভবিষ্যত -আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম

  •  
  •  
  •  
  •  

 

আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এখন তরুণদের, যুবকদের দেশ। এই তরুণ ও যুবকরাই এখন দেশের সম্পদ। ‘বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দিচ্ছেন অর্থনৈতিক মুক্তি আর ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি। আসুন আমরা বিশ্লেষণ করি ইতিহাসের পরতে পরতে তরুণ ও যুবকেরা কিভাবে আমাদের জাতীয় নেতৃত্বের অংশ হয়ে উঠলো।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও বাস্তবতা: দেশের তথা উপমহাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম যুব রাজনৈতিক সংগঠনও বটে। বিশ্বের মানচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গণ মানুষের রক্তাক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিতর দিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়। সেই গৌরবময় সংগ্রামে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ভাবাদর্শে অস্ত্র হাতে শত্রুর মোকাবেলা করেছিল এ দেশের অকুতোভয় ছাত্র-যুব সমাজ। শহুরে আধুনিক যুবক যেমন, তেমনই প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক-শ্রমিকের সন্তান এই স্বাধীনতার যুদ্ধে সক্রিয় অবদান রেখেছিলো, জীবন দিয়েছিলো, লড়াই করেছিলো। শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে আইয়ুব বিরোধী গণ-আন্দোলনেও দেশে যুব সমাজই ছিল রাজপথের প্রাণ স্পন্দন। আর তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ক্রমান্বয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা-‘বঙ্গবন্ধু’ এবং জাতির পিতা হয়ে উঠেন। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ তারই চেতনা, সংগ্রাম ও আদর্শে গড়া সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যুবলীগের নেতা কর্মীরা ভবিষ্যতমুখী দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেছে।

বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে ছাত্র ও যুবসমাজের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। সময়ের স্রোতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই শুরু হয় ক্ষমতা দখলের নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের রোলার কোষ্টার। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়্টুকু যেকোনো দেশের জন্যই কঠিন সংগ্রাম ও বাস্তবতার সময়, এসময় সাধারনত মাথা চাড়া দিয়ে উঠে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলি, বাংলাদেশেও ঠিক তেমনটাই ঘটলো। স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি জনপদে যখন দরকার দেশপ্রেমিক গঠনমুলক শিক্ষা ও কর্মভিক্তিক সমাজ গঠনের প্রয়াস, ঠিক তখনই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে একটি অলৌকিক অবৈজ্ঞানিক ধারনায় যুবসমাজের একটি অংশকে ক্রমাগত সন্ত্রাস, হত্যা, দাঙ্গা, লুটপাটের মাধ্যমে হতাশার রাজনীতির মারপ্যাচে প্রায় ধবংস করে ফেলার উপক্রম করা হয়। এখানে উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি ও অন্যান্য তরুন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ৭১ পরবর্তী জাতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামের মাহেন্দ্রক্ষনে রাজনৈতিক বোধের সুচিন্তিত একটি যুব সমাজের নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ বাস্তবতা হয়ে দেখা দিলো। ছাত্ররাজনীতির ভেতর ও বাইরের সারা দেশের একটি ব্যাপক যুব সমাজকে বিপথে ও বিভ্রান্তি থেকে ফিরিয়ে এনে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার অভিপ্রায়ে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর ত্রাস হয়ে ওঠা মুজিব বাহিনীর (মুজিব ব্যাটারী) অন্যতম প্রধান সংগঠক ও থিংক ট্যাঙ্ক, বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদের প্রবল অনুসারী, কর্মঠ শেখ ফজলুল হক মনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর দেশের প্রথম যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। মুলতঃ জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই হয়ে উঠে যুবলীগের মূল লক্ষ্য।
যুবনেতা শেখ মনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি বাংলার বানী ও বাংলাদেশ টাইমস নামে দুইটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকও ছিলেন, এতেই পরিস্কার হয়ে উঠে শেখ ফজলুল হক মনির বুদ্ধিবৃত্তিক মননশীল আধুনিক যুবসমাজ তৈরীর ইচ্ছে ও চিন্তার প্রতিফলন, তিনি কি চেয়েছিলেন এবং কিভাবে চেয়েছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অর্থনৈতিক সংগ্রামে লিপ্ত বাংলাদেশের তরুণ যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে আদর্শিক দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজে লাগানোই ছিল যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। যে কারণে যুবলীগের প্রতিটি কর্মী এক অনন্য গৌরবের উত্তরাধিকার বহন করে চলেন হৃদয়ের গভীরে।

শেখ ফজলুল হক মনি

সংগ্রাম ও বিবর্তনে যুবলীগ:
বলা যায়, আওয়ামী পরিবারের মধ্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার সম্মেলন ও নির্বাচনমুখী সবচেয়ে গতিশীল দলটিই যুবলীগ। এবার ৭ম কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক হাতিয়ারের বিশ্বস্ত সৈনিক শেখ মনির ভবিষ্যতমুখী চিন্তা চেতনার এই দলটি একটি ঐতিহাসিক পথের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌছেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যুবলীগ প্রতিবাদী রূপ ধারন করতে সমর্থ হয় ও যুবসমাজের মুখপাত্র হয়ে উঠে, পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক অপশক্তির অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সংগ্রাম করতে গিয়ে যুবলীগের রক্তে রক্তাক্ত হয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক রাজপথ। প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যান ও এডভোকেট সৈয়দ আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালোরাতে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সাথে শহীদ হোন শেখ মনি ও তার পরিবারের সদস্যরা, সেই কালো রাতে শেখ মনির নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটটির একটি বিশেষ দিক একটু পরেই আলোচনা করবো। ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে বগুড়ায় যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক খসরু, চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা মৌলভী সৈয়দ আহমদ স্বাধীনতা বিরোধীদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।
এরপর দেশবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিস্বার্থবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ক্ষমতা দখল-বেদখলের হিংস্র ডামাডোলের মধ্যে ১৯৭৮ সালে আমির হোসেন আমুকে চেয়ারম্যান ও ফকির আব্দুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে দ্বিতীয় কংগ্রেস সম্পন্ন হয়। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ফুলু সরকার। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর যুবলীগ নেতা নূর হোসেনসহ শত যুবনেতার রক্তের ঋণ শোধ করার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয় স্বৈরশাসক এরশাদ। ১৯৯৬ সালে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার চৌকস ও জনমুখী নেতৃত্বের অনবদ্য রাজনৈতিক ভুমিকায় ও স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধায় থাকা যুবলীগের ত্যাগী অবদানে প্রায় ২১ বছর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ কংগ্রেস, সেখানে শেখ ফজলুল হক মনির আপন ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম চেয়ারম্যান ও কাজী ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের ব্যাপক ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সারা দেশে নরকের ভয়াবহতা নেমে আসে সাধারন মানুষ ও আওয়ামী লীগসহ সমগ্র বিরোধীদলীয় প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনগুলোর উপর, কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি যুবলীগ। ২০০৩ সালে পঞ্চম কংগ্রেসে এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক চেয়ারম্যান ও মীর্জা আজম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, বিএনপি জোট সরকারের সরাসরি রাস্ট্রীয় মদদে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করা হয়, নিহত হন ২১ জন, আহত হোন শ’য়ের বেশী। দলীয় নেতা কর্মীদের আত্নত্যাগের মানবঢালের কারনে মারাত্নক আহত অবস্থায় দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান, এই ভয়াবহ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে যুবলীগ প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিলো এবং আছে। ২০০৫ সালের পল্টনে লগি-বৈঠা আন্দোলন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী যুবলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যুব সমাজ তথা দেশের আপামর জনসাধারনের কাছে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে নিজেদেরকে অপরিহার্য করে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। রাজনৈতিক প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারনে জনগনের নয়নের মনি জননেত্রী শেখ হাসিনা ১/১১ এর প্রেক্ষাপটে কারান্তরীণ হলে তার মুক্তির তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্যাটালিস্টের ভুমিকা পালন করে যুবলীগ।
এই দীর্ঘ পথে যুবলীগের অনেক যুব নেতৃত্বই কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা আওয়ামী লীগে স্থান পেয়েছেন এবং দেশ গড়ার কাজে আত্ননিয়োগ করেছেন। ২০০৯ সালে এড. জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হলে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব গ্রহন করেন।
৬ষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে, ২০১২ সালে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যান ও মোঃ হারুনুর রশীদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন। বাংলার জনগনের ম্যান্ডেটে যুদ্ধপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আসামিদের বিচারকার্য্যে জনমত তৈরী, পেট্রোল-আগুন সন্ত্রাস এবং ২০১৩ সালের ৫ এবং ৬ মে হেফাজতের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ সরকারের নিরবিচ্ছিন্ন ছায়াসঙ্গি হিসাবেও যুবলীগ রাজপথে অসামান্য অবদান রাখে। এই সময়ে বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে যুবলীগের ব্যাপক প্রকাশনা আলোড়ন তোলে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সার্বিক প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্ব শান্তির মডেল ‘জনগনের ক্ষমতায়ন’ আজ সারা বিশ্বে স্বীকৃত । ‘জনগনের ক্ষমতায়ন’ ১৭ ডিসেম্বর ২০১২তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে A/RES/67/107 শান্তির দর্শন হিসেবে গৃহীত হয়।

একথা বললে বেশী বলা হবে না, ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্টে জাতির পিতাকে হত্যা করার আগেই যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনিকে হত্যা করাটা একটি বিশেষ বৈশিষ্ট বহন করে। হত্যাকারীরা ওয়াকিবহাল ছিলো যুবলীগের কর্মক্ষমতা ও আনুগত্য সম্পর্কে, তারা নিশ্চিত ছিলো, শেখ মনির প্রতিষ্ঠিত ক্রান্তিকালীন এই যুবসমাজ একটি সুনির্দিস্ট লক্ষ্য হৃদয়ের গহীনে লালন করে, সেটি হচ্ছে; দল, বঙ্গবন্ধু ও জাতিয়তাবাদের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য। এই একটি যায়গা থেকে সারা বাংলার প্রানভোমড়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগেই শেখ মনির মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিলো হত্যাকারীরা, কারন তারা জানতো, বঙ্গবন্ধুর হত্যা আর যেই হোক, শেখ মনি ও যুবলীগ কোনোভাবেই মেনে নেবে না আর তাদের প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের সামনে কেউই দাঁড়াতে পারবে না। এই দৃস্টিকোন থেকেই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার আগে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনিকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে ৭১এর পরাজিত দালালরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজলুল হক মনি

আধুনিক ও পরিবর্তিত চাহিদার যুবসমাজ ও সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশের পথের যুব সমাজ ও তার নেতৃত্ব:
সময় পাল্টেছে, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরে পালটে গেছে বাংলাদেশ, সে এখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের পথে। পরিবর্তিত হয়ে গেছে যুব সমাজের চিন্তা ও মনন, সেই সাথে যোগ দিয়েছে টেকনোলোজি, আধুনিকতা ও বিশ্বায়নের সুযোগ ও পৃথিবী জয় করার স্বপ্নে বিভোর চ্যালেঞ্জিং যুব নেতৃত্ব।
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার, জাতির পিতার রাজনৈতিক আদর্শে বড় হলেও শেখ হাসিনা কখনই ইন্দিরা গান্ধী কিংবা বেনজির ভুট্টোর মতো সুবিধা পান নি, এ ধরনের পরিস্থিতিও ছিলো না। শেখ হাসিনা বিকশিত হয়েছেন তার আপন মহিমায় চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে। যেখানে সবকিছু তাকে দ্রুত জয় এবং আয়ত্ব করতে হয়েছে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, ক্রমাগত সংগ্রাম করতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এখন তরুণদের, যুবকদের দেশ। এই তরুণ ও যুবকরাই এখন দেশের সম্পদ। ‘বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দিচ্ছেন অর্থনৈতিক মুক্তি আর ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি’। এই নীতির ফলে, একই সাথে আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, চীন – বাংলাদেশের গনতন্ত্র, উন্নয়নের অংশীদার, সবাইকে এক কাতারে রেখে সমস্যা সংকুলিত বাংলাদেশকে ব্যাপক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন কৌশলী ডিপ্লোমেট শেখ হাসিনা। সৃস্টি হয়েছে, হচ্ছে চাকরী-ব্যবসা, শিক্ষা ক্ষেত্রে নব নব চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের টেক জগতকে একটানে বিশ্বমানে পৌঁছে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেস্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এ এক নতুন দিগন্ত, জনগনের মূল ধমনী যুবসমাজের সামনে আজ বিশ্বায়নের সুযোগ, এই সুযোগ-বাস্তবতা ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে কর্মমুখর ব্যস্ততা আজ আধুনিক মন-মানসিকতার, শিক্ষিত এবং দল-দেশের প্রতি অনুগত রাজনৈতিক চেতনায় সমৃদ্ধ নেতৃত্ব চায়।

যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, দেখিয়েছিলেন, উদ্বেলিত করেছিলেন, সেই স্বপ্ন এখন ধরা-ছোয়ার নাগালে। রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন ও উনার চিন্তা-চেতনা ও কাজের সাথে তাল মেলাতে পারে, যুবসমাজের সাথে যৌক্তিক ও প্রযুক্তি নির্ভর কর্ম পরিকল্পনায় অংশ নিতে পারে, সমন্বয় করতে পারে, সেই গতিশীল নেতৃত্ব এখন দরকার বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, সেই সাথে প্রায় ৮ কোটির যুব সমাজকে নেতৃত্ব দিতে যুবলীগের বিভিন্ন নতুন ও প্রাসঙ্গিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করা আজ এক মধুর বাস্তবতা। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব আমাদের সেই পথ দেখাবে, এই কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, পত্রিকা, যুবলীগের গবেষণা প্রবন্ধ, অনলাইন প্রকাশনা।

আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম
সম্পাদক, মাসিক মুক্তমঞ্চ
সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, অস্ট্রেলিয়া।