ইতিহাসের সন্ত্রাসী রাষ্ট্র । মিতা চৌধুরী

  •  
  •  
  •  
  •  

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল অফিস বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র্যাব (RAB) এর সাবেক ও বর্তমান ছয়জন কর্মকর্তাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার অপরাধে নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন মুল্লুকে। র্যাবের কার্যক্রম নিয়ে অনেক তর্কই করা যায়, তবে সেই প্রসঙ্গে আমি যাচ্ছি না। ঘোষণাটা আমার কাছে নিতান্তই হাস্যকর ও ভূরাজনৈতিক মনে হয়েছে। অনেকটা চলুন সুঁইকে নিয়ে হাঁসছে তার পাছা ফুটো বলে।

এক্ষেত্রে ভূরাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিবো, কারণ শুধু নিকট অতীত নয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মার্কিনীরা যখনই কোনো দেশের বারোটা বাজাতে চেয়েছে তাদের আচরণগুলো এমনি ছিল। ইতিহাস থেকেই এর প্রমান পাই আমরা।আমেরিকা শুধু সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে তোষণ করে না বরং নিজেও সন্ত্রাসী কর্মে জড়িত। ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে যে তথ্যগুলো পেয়েছি তাই তুলে ধরছি আমেরিকা যে নিজে খোদ একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র তার প্রমান হিসেবে।

বলা হয়ে থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যত যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে মূলত তা সবই মার্কিন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রক্সি-যুদ্ধ, এবং তা সেই কোরিয়ান পেনিনসুলা থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম বা আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ইরাক ইরান যুদ্ধ ও সর্বশেষ ছিল আফগানিস্থানে তথাকথিত রাশায়ন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। Western State Terrorism নামক সম্পাদনা গ্রন্থে সম্পাদক আলেকজেন্ডার জর্জ ফিশ উল্লেখ করেছেন যে কিভাবে প্রথাগতভাবে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো তাদের শক্তি বা ক্ষমতাকে অন্য রাষ্ট্রের উপর দমন ও হুমকি হিসেবে ব্যবহার করেও তাকে সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা করেন অপরদিকে ঠিক একই কারণে অন্য রাষ্ট্র’র কর্মকান্ডকে শক্তিমান রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তকমা দেয়। আমরা ইতিহাস ঘাটলে দেখতে পাবো যে, পশ্চিমা শক্তি ( আমেরিকা ও তার মিত্ররা ) বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে অন্য রাষ্ট্রের উপর তাদের খবরদারি ও অভ্যন্তরীন বিষয়সমূহে নাকগলিয়ে আসছে। কখনো এর নাম দিয়েছে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, কখনোবা বলেছে মানবিক হস্তক্ষেপ, কখনোবা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ; কিন্তু উদ্দেশ্য ও কারণ মূলত এক।

৯/১১ কিন্তু পৃথিবীর বুকে এই প্রথম ছিল না, বরং এটা আমেরিকারই তৈরী পুরোনো ইতিহাস। নিক্সন সরকার ঘটিয়েছিলেন ইতিহাসের প্রথম ৯/১১ ১৯৭৩ সালে। ঐদিন আমেরিকা তার দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ও লেগে থাকার ফলাফল হিসেবে চিলির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান সালভাদোর আলেন্দেকে হত্যার মাধ্যমে  উৎখাত করতে সফল হয় ও সামরিক শাষক জেনারেল পিনোশের ক্ষমতায়ন ঘটায়।  মূলত ১৯৬২ সালে প্রেসিডেন্ট কেনিডি আঞ্চলিক নিরাপত্তার নাম যে ভূঞা আশঙ্কার ধোঁয়া সৃষ্টি করতে সফল হয়েছিল, পৃথিবী জুড়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অযাচিত উপস্থিতি আসলে তারই ফসল। আমেরিকা দীর্ঘ দিন দরে অক্লান্ত ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে লেগে থেকে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকাকে অস্থির করে তুলতে সফল হয়েছিল। দক্ষিণ আমেরিকা বা ল্যাটিন আমেরিকা যাতে নিজ দেশের সম্পদের ও জনগণের উপর কর্তৃত্ব গ্রহণ না করতে পারে এটি আমেরিকার মূল লক্ষ্য, আর তাই আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিক্সন বলেছিলেন ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।   এবং বলা বাহুল্য কিউবা বা ভ্যানিজুয়েলার মতো যে দেশগুলোতে  আমেরিকা নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সেখানে তারা নিরবিচ্ছিন্নভাবে এখনো সিআইএ ও তার বিভিন্ন এজেন্টগণ তৎপর আছে। এবং এরপর আমেরিকা লাগাতারভাবে নিকারাগুয়াকে অস্থির করে তোলে, তাদের অভ্যন্তরীন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অচল করেদিতে ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমেরিকা দিনের পর দিন সেখানে সিআইএ’কে নিযুক্ত রাখে।

আশির দশকে আরব অঞ্চলে লেবাবন, মিসরসহ আরো বেশ কিছু দেশে আমেরিকা তাদের খবরদারীর সঙ্গে ল্যাটিন আমেরিকায় নিকারাগুয়া হচ্ছে মার্কিন আক্রমণ ও হামলার চরম বলি। লাখখানেক মানুষ নিহত হয়েছে আমেরিকার এই লাগাতার হামলায়। সীমিত আয়ের একটি দেশ নিকারাগুয়া, পুরো দেশ ধ্বংস হয়েগিয়েছিল এবং যার প্রভাব এখনো চলছে। নিকারাগুয়ায়  এই সন্ত্রাসী আক্রমণের জন্য, আন্তর্জাতিক আদালত হেগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করে। বলা বাহুল্য ইতিহাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যাকে আন্তর্জাতিক আদালত হেগ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

চিলি, কিউবা ও নিকারাগুয়ার বা ইরাক ও আফগানিস্তানের সঙ্গে  অন্য যে দেশটির বারোটা বাজানোর কথা উল্লেখ করবো তা হলো সুদান। নিরাপত্তার ধোঁয়া তুলে সুদানের ১৯৯৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সুদানের আল শিফা ফার্মাসিটিকল নামের সুদানের একটি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মিসাইল হামলা করে। এবং এখানে বলা বাহুল্য যে যদি আমরা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতির ও প্রাণহানির হিসেবে করি তবে তা হবে চরম অপরিপক্কতা। এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল চিলি, কিউবা ও নিকারাগুয়ার বা ইরাক ও আফগানিস্তানের সঙ্গে  অন্য যে দেশটির বারোটা বাজানোর কথা উল্লেখ করবো তা হলো সুদান। নিরাপত্তার ধোঁয়া তুলে সুদানের ১৯৯৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সুদানের আল শিফা ফার্মাসিটিকল নামের সুদানের একটি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মিসাইল হামলা করে। এবং এখানে বলা বাহুল্য যে যদি আমরা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতির ও প্রাণহানির হিসেবে করি তবে তা হবে চরম অপরিপক্কতা। এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল সুদানের মতো দরিদ্র একটি দেশের জীবন রক্ষাকারী ঔষধের প্রধান উৎপাদক ৯৫% ঔষধ এখানেই প্রস্তুত হতো, ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগগুলোর ঔষধ এই আল শিফা প্রস্তুত করতো।শুধু মানুষের জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ’ই নয় প্রাণীর জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ একমাত্র এই ঔষধ কারখানাটি’ই প্রস্তুত করতো। শুধুমাত্র এই একটি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় পরের বছর সুদানে কয়েকলাখ মানুষ কলেরা, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়ার আক্তান্ত হয়ে ঔষুধের অভাবে মারা যায়। সুদানের সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন’ “আল শিফা ফার্মাসিটিকল ধ্বংস করার কারণে সুদানের মতো একটা চরম গরিব দেশে ঠিক কতজন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন এটা হিসেবে করে বের করাটা কঠিন, তবে লাখখানেক মানুষ হবেন ইটা একটা যৌক্তিক অনুমান (সূত্র: Werner Daum, “Universalism and the West”, Harvard International review, Summer 2001)

সিএইএ নিজের উদ্দেশ্য পূরণে যেকোনো স্থানেই যেকোনো পন্থায়ই লেগে থাকে, লেবাননের ধর্মীয় নেতা শেখ ফাহাদুল্লাহ বা হিজবুল্লাহ প্রধান সায়ীদ হাসান নাসারুল্লার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৯৮৫ সালে সিএইএ’র সমর্থনে ও সহযোগিতায় একটি মসজিদের সামনে ট্রাক বোমা দিয়ে  শেখ ফাহাদুল্লাহকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল। যদিও শেখ ফাহাদুল্লাহ প্রাণে বেঁচে যান কিন্তু প্রাণ হারায় মসজিদ ফেরত নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। কিংবা উসামা বিন লাদেনকে ঠিক কতখানি আইনি সহায়তা দেন করেছিল মানবতার রক্ষক আমেরিকা তা নিশ্চই আমরা ভুলে যাই নি। আমরা দেখি নুরেমবার্গ ট্রায়াল’এর মাধ্যমে এইসব ভয়ঙ্কর অপরাধীদের বিচারে মুখোমুখি করা হয়েছিল, কারণ আইনের সহায়তা পাবার অধিকার প্রতিটি মানুষেরই আছে তা সে যত বড় অপরাধী’ই হোক না কেন। একটি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু বিন লাদেনকে মূলত জীবিত ধরার বা আইনের আওতায় আনার কোনো ইচ্ছাই মার্কিন কর্তৃপক্ষের ছিল না। Daily Beast পত্রিকার সম্পাদক এরিক মার্গলিস বলেন যে, ওয়াশিংটন কখনোই জনসমক্ষে কোনো তথ্য হাজির করেনি যে ওসামা বিন লাদেন’ই ৯/১১’র হামলার পেছনে ছিল, আর তাই আমেরিকা বা হেগ’র আদালতে একটা প্রকাশ্য বিচার ছিল আমেরিকার সেই সুবর্ণ সুযোগ যাতে আমেরিকা প্রমান করতে পারতো বিন লাদেন’ই ৯/১১’র জন্য দায়ী। কিন্তু কেন করে নি সেই চিন্তার ভার পাঠককের কাছেই রাখলাম।

জেফ গ্রিনফিল্ড তার What if bin Laden had been captured, not killed? An alternate history (The Washington Post, May 6 2011) তে বর্ণনা করেছেন, বিন লাদেনকে যখন এবোটাবাদে সিআইএ ও আমেরিকার SEAL টিম আবিষ্কার করেন তখন বিন লাদেন দু’হাত উঁচুতে তুলে  মৃদু হেসে আরবিতে শুধু একটি বাক্য বলেছিলো যার অর্থ ছিল “আমি আত্মসমর্পন করছি”! একজন ব্যাক্তি সে যত বড় দাগী অঅপরাধী’ই হোক সে যখন আত্মসপমর্পন করে, জেনেভা কনভেনশন ও মানবধিকার আইনানুযায়ী তা আমলে নিতে বাধ্য। কিন্তু বলাই বাহুল্য, সাত হাজার মাইল দূরে সিআইএ’র অফিসে বসে পুরো অভিযান পর্যবেক্ষণরত ভাইস প্রেসিডেন্ট সিআইএ প্রধানকে আদেশ করেন, “আমরা এই @* বাচ্চাকে জীবিত থাকতে দিতে পারিনা” .এবং সিআইএ প্রধান যখন তাকে বুঝাচ্ছিলো যে, যদি সে (বিন লাদেন) কোনো প্রতিরোধ না করে বা পাল্টা আক্রমণ না করে তবে তাকে আটক করতে হবে হত্যা করা যাবে না। প্রেসিডেন্ট তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “ওর (বিন লাদেন) ওই হাসির  অর্থ হলো, ও এমন কিছু জানে যা আমরা জানি না!”

নূরেমবার্গ ট্রায়ালে নিযুক্ত প্রধান কাউন্সিল মার্কিন এটর্নি জেনারেল রবার্ট হেইচ জ্যাকসন আগ্রাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন এভাবে, আগ্রাসক বা আগ্রাসনকারী হলো সেই রাষ্ট্র যে প্রথমেই যুদ্ধ ঘোষণা করে বা করা ব্যতিরেকেই যে রাষ্ট্রটি তার সেনাবাহিনীকে দিয়ে আরেকটি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের সীমা লংঘন করে সেখানে আক্রমণে লিপ্ত হয়। এই ব্যাখ্যানুযায়ী বুশ প্রশাসন ও পরবর্তীতে ওবামা সেই সামরিক আগ্রাসনের কাজটি’ই করেছেন প্রথমে আফগানিস্তান ও পরে ইরাক আক্রমণের মধ্যে দিয়ে।
ইরাক যুদ্ধে যারা আটক হয়ে আবু গরিব বা গুয়ান্তামো বে প্রিজনে বন্দী হিসেবে ছিল তাদের এই আটক করা ও কোনোরকম স্বচ্চপ্রক্রিয়া ছাড়াই বছরের পর বছর নির্যাতন পুরোটাই ছিল মানবতার চরম লঙ্ঘন। ACLU বা আমেরিকান  সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন যারা মার্কিন সরকারের নিয়মবহিঃর্ভুত কাজগুলোর কড়া সমালোচক, বহুদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে গুয়ান্তামো বে’র অবৈধ কারাগার ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে। তাদের তথ্যানুযায়ী ২০০২ এর ১১ জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করা অব্দি, ৮০০এর বেশি মানুষকে এই কারাগারে নিয়মবহিঃর্ভুত ও আন্তর্জাতিক মানবধিকার আইনের কোনই তোয়াক্কা না করে জঘন্য নির্যাতন করা হয়েছে (GUANTÁNAMO BY THE NUMBERS; aclu.org)। শুধু তাই নয় এই নির্যাতন নিয়ে যেন কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেয়া যায় সে জন্য ২০০২ এর জানুয়ারিতে আফগানিস্তান কে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জেনেভা কনভেনশন থেকে বাদ দেয়া হয় (Habeas Corpus After 9/11 : Confronting America’s New Global Detention System)। কারণ তাহলে এই বন্দীদের নির্যাতন প্রক্রিয়াকে  জেনেভা কনভেনশনের আওতায় এনে আর বিচারের মুখোমুখি করা যাবে না। ইরাক যুদ্ধের বন্দিদের আবু গরিব কারাগারে ঠিক এমন অবনবিক ভাবেই নির্যাতন করা হয়েছে। মানুবাধিকারের নূন্যতম বিধিনিষেধ এখানে মানা হয়নি। Eric Fair যিনি আবু গরিব কারাগারে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তিনি তার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে  ( এই সাক্ষাৎকারটি ৪ এপ্রিল ২০০৬ প্রকাশ হয়, যা সবটুকু পড়া মানসিক ভাবে খুবই পীড়াদায়ক)  এই বিতর্কিত বন্দীশালার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “আমরা মানুষকে শুধু শারীরিকভাবেই আঘাত করি না। আমরা তাদের আবেগগতভাবে/ মানসিকভাবে  ধ্বংস করেছি, এবং … আমি মনে করি,  এটি আমাদের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত শাস্তি হবে যে আমরাও যদি এখন এর কিছু পরিণতি ভোগ করি।” (https://www.npr.org/sections/parallels/2016/04/04/472964974/it-was-torture-an-abu-ghraib-interrogator-acknowledges-horrible-mistakes)

কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো অপরাধে জড়িত থাকে তবে তা অবশ্যই নিন্দনীয় ও অপরাধের মাত্রাভেদে শাস্তির দাবিও রাখে। তবে, হ্যা তবেই তাকে অপরাধী বলা যাবে যখন কোনো আদালত বা আইনি প্রক্রিয়ায় তা রায় হয় বা নির্ধারিত হয়।  মির্কিনদের বাংলাদেশী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা যে এক কুটিল ভূরাজনৈতিক চাল তা বুঝতে রকেট সাইন্টিস্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। যেই রাষ্ট্র খোদ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক আদালত দ্বারা রায় প্রাপ্ত তাদের আর যাই হোক অন্যের উপর সন্ত্রাসী তকমা লাগানোর শোভা পায় না। আর আমাদের যেসকল বুদ্ধিট্যাংকরা এটা নিয়ে কপচাচ্ছেন তাদের নিশ্চই অতীত ইতিহাসের সব অধ্যায়’ই মনে আছে শুধু সিলেক্টিভ কিছু অধ্যায় না।

মিতা চৌধুরী
 : সাংবাদিক, চিত্রশিল্পী, সংগঠক, 
মেলবোর্ন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments