উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন আবার ফিরে পেলেন শাহনাজ

  •  
  •  
  •  
  •  

অবশেষে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, উবারের মোটরসাইকেল চালক নারী বাইকার শাহনাজের ছিনতাই হওয়া বাইকটি। এছাড়া, আটক করা হয়েছে ছিনতাইকারী জনিকে। তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে শাহনাজের মাহিন্দ্রা ব্র্যান্ডের নীল রঙের স্কুটিটি অভিনব কৌশলে ছিনতাই হয় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার খামারবাড়ি এলাকা থেকে। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শাহনাজ। শেরে বাংলা নগর থানায় জিডি করেন তিনি। থানায় দায়ের করা জিডিতে বলা হয়, গত ১০ জানুয়ারি শ্যামলী এলাকায় আসামি জনির (২৭) সঙ্গে পরিচয় হয় শাহনাজের। জনি নিজে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পাঠাওয়ে বাইক চালায় বলে পরিচয় দেন শাহনাজের কাছে। তিনি শাহনাজকে আশ্বাস দেন, তার জন্য একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন।

জিডিতে আরো বলা হয়, সেই আশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শাহনাজকে খামারবাড়ি আসতে বলেন জনি। পরে সেখান থেকে যেতে বলেন বিমানবন্দর এলাকায়। এভাবে কয়েকটি স্থান ঘুরিয়ে শাহনাজকে ফের খামারবাড়ি এলাকায় আসতে বলেন জনি। বিকেল ৩টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চায়ের টং দোকানের সামনে স্কুটি রেখে চা খেতে বসেন শাহনাজ ও জনি। এসময় শাহনাজের কাছে স্কুটি চালানোর নিয়ম জানতে চান জনি। পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর কথা বলে চম্পট দেন বাইক নিয়ে। জিডিতে শাহনাজ লিখেছেন, “এক পর্যায়ে আসামি বলেন, ‘দেন তো কীভাবে চালায় দেখি’। আমি সরল বিশ্বাসে আসামিকে স্কুটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে দ্রুত স্কুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি পিছু পিছু ধাওয়া করলেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।” শাহনাজের বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। অনেকেই পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন দ্রুত ব্যবস্থা নেবার জন্য। দেশে সম্প্রতি মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবা জনপ্রিয় হলেও নারী বাইকারদের সংখ্যা এখনও অত্যন্ত সামান্য। রাজধানীতে যে কয়েকজন নারী এই সেবার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন, তাদের মধ্যে শাহনাজ অন্যতম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত।