উবার ড্রাইভার নজরুলের ১০ মাসের কারেক্টিভ সাজা

নজরুল ইসলাম 

প্রশান্তিকা ডেস্ক: সিডনির ডাউনিং সেন্টারের আদালত বাংলাদেশী উবার ড্রাইভার নজরুল ইসলামকে ১০ মাসের কারেক্টিভ সাজা প্রদান করেছে। এটির জন্য নজরুল ইসলামকে জেলে থাকতে হবেনা, এটি অনেকটা কমিউনিটি সার্ভিসের মতো। আজ বেলা ৩টার একটু আগে জনাকীর্ণ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর সোমবার সিডনির ডাউনিং সেন্টারের লোকাল কোর্ট  বাংলাদেশী উবারচালক নজরুল ইসলাম কে ঘটনার জন্য দায়ী করে আদেশ দিয়েছিলেন। সেদিন তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেও রায় মুলতবি ছিলো। যে রায়টি আজ দেয়া হলে। রায়টিতে নজরুলের ড্রাইভার্স লাইসেন্স ৯ মাসের জন্য বাতিল করা হয়েছে।
রায় পেয়ে খুশি কিনা এ প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম প্রশান্তিকাকে বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না এখনো। কি হতে পারতো আর কি হয়েছে এটা বিবেচনা করে পরে বলতে পারবো।” তবে তিনি বরাবরের মতো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
জানা গেছে, নজরুল কে গাড়ি চালনায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও রাস্তার অবস্থা, নিহত উবার যাত্রীর মদ্যপ অবস্থায় হঠাৎ গাড়ির দরজা খুলে বাইরে যাওয়া সহ অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে জেল শাস্তি না দিয়ে জেলের বাইরে বিশেষ কারেক্টিভ সাজা দেয়া হয়।

এর আগে নজরুলের দোষী সাব্যস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ হতে থাকে। তারা মনে করে, দূর্ঘটনায় নজরুল ইসলামের কিছু করার ছিলো না এবং তাকে নির্দোষ হিসেবে রায় দেয়ার কথা ছিলো। আগামীতে উচ্চ আদালতে নজরুলকে আইনি সহায়তার লক্ষ্যে কম্যুনিটিতে বেশ ক’টি ডোনেশন ফান্ড খুলে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম (৩২) ২০১৭ সালের ১৭ জুন উবারে তিনজন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় সিডনি সিবিডির এলিজাবেথ স্ট্রিটে দুর্ঘটনায় পড়েন। সেদিন রাত তিনটার সময় লাল বাতিতে গাড়ি থামিয়েছিলেন নজরুল। সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগে পেছনের আসনে থাকা যাত্রী স্যামুয়েল থমাস গাড়ির দরজা খুলে বাইরে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাতি সবুজ হওয়ায় নজরুল গাড়ির গতি বাড়ালে থমাস রাস্তায় পড়ে যান এবং অপর পাশ থেকে আসা একটি বাসের চাপায় দুর্ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, ‘আমি না কোনো শব্দ পেয়েছি, না কিছু দেখেছি। আমি শুধু শুনলাম যাত্রীরা থামাও থামাও বলে চিৎকার করছে আর আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চাপি। সবকিছু পাঁচ মিটার জায়গার মধ্যেই ঘটে গেল। তারপর আমরা বাইরে গেলাম আর একটা মৃতদেহ দেখলাম। আমি পুলিশে ফোন করলাম।’ আদালতের বিচারপতি তার বয়ানে বলেন, “একজন চালককে যে সতর্কতা মেনে গাড়ি চালাতে হয়, নজরুল সেটি অনুসরণ করেননি। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, থমাস পেছনের দরজার খোলার পর নজরুলের গাড়িতে ৬ সেকেন্ড সতর্ক বাতি জ্বলে। এরপরও নজরুল গাড়ি চালু করে দেন, যার ফলে থমাস পড়ে যান। একজন সতর্ক চালকের জন্য এই ৬ সেকেন্ডই যথেষ্ট। তাই চালক হিসেবে যথেষ্ট সতর্ক না থাকায় নজরুলকে অভিযুক্ত করা হলো।”
আজ জনাকীর্ণ আদালত পাড়ায় নজরুলের পরিবারের কেউ না আসলেও অনেক শুভাকাঙ্খী এসেছিলেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই জেল সাজা না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এই সাজা আরো লঘু হতে পারতো বলে অনেকেই মনে করছেন।