একজন প্রণব মুখার্জি ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ । প্রতীক ইজাজ

  •  
  •  
  •  
  •  

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অমর কীর্তি। এই কীর্তির সঙ্গে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সব মানুষ ও দেশ, সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতি, লিখিত বা অলিখিত, সবকিছু সবটুকুই অমূল্য অসীম আমাদের কাছে। রনাঙ্গনের যোদ্ধা, মুক্তির তীব্র আকাঙ্খা, ঘরে ঘরে, যে যেখানে, সব সম্মিলিত প্রয়াসই একাত্তরের স্বাধীনতা। আর এখানেই অন্য সবার সবকিছুর মতোই প্রনম্য প্রণব মুখার্জি। এই স্বাধীন দেশ, স্বাধীন জাতি, এই স্বাধীনতার ইতিহাস, তিনিও অংশীদার। তার কাছে আমাদের ঋণ অসীম।

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত তৈরিতে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এমনকি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ও পরে দেশের যে কোন গনতান্ত্রিক সংকট উত্তরণে, কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে, বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অকুন্ঠচিত্তে। বাংলাদেশের জন্য তিনি ছিলেন একান্ত আপনজন। এদেশের জন্ম ও জন্মত্তোর ইতিহাসে তাঁর নাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অপর কন্যা শেখ রেহানাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে সেদিন যেভাবে তিনি দাঁড়িয়েছেন, বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছেন, সহযোগীতা করেছেন, সে অবদানের কথা বাংলাদেশের মানুষ চিরজীবন মনে রাখবে।

প্রণব মুখার্জি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের অভিভাবক। তার প্রয়াণে শোকে আপ্লুত ও স্মৃতিকাতর হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবার ও শেখ হাসিনার নিজের স্মৃতি স্মরণ করে এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখার্জির অনন্য অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সব সময় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত থাকাকালীন প্রণব মুখার্জি আমাদের সব সময় সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়ে তিনি আমার পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন, যেকোনো প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশে ফেরার পরও প্রণব মুখার্জি সহযোগিতা এবং উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ও পারিবারিক বন্ধু। যেকোনো সংকটে তিনি সাহস জুগিয়েছেন।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রণব মুখার্জির পারিবারিক সম্পর্কের কথা প্রণব মুখার্জি নিজেও বলেছেন। সেই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রণব মুখার্জি লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনা আমার ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু এবং আমি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে ভারত সহায়তা করেছিল।’

৭১’র ২৫ মার্চ রাতে এদেশের মানুষের ওপর হায়েনার মত নৃশংস হামলা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। বঙ্গবন্ধু ডাক দেন স্বাধীণতার। শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ মার্চ ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। সেখানে বলা হয়- ‘পূর্ব বাংলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে লোকসভা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে। পূর্ব বাংলার সমগ্র জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সেখানে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ন্যায়সঙ্গতভাবে যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের প্রতি যথার্থ সম্মান জানানোর বদলে পাকিস্তান সরকার তাদের ওপর গণহত্যা চাপিয়ে দিয়েছে। এই লোকসভা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামরত পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করছে এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতি অবিলম্বে নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রণব মুখার্জি তখন ভারতের কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভার একজন তরুণ সদস্য। রাজ্যসভায় স্পষ্ট অবস্থান নেন তিনি বাংলাদেশের পক্ষে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করেই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কে গড়ে ওঠে প্রণব মুখার্জির- এ কথা তিনি নিজে বলেছেন তার গ্রন্থে। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আন্তঃ সংসদীয় ইউনিয়নের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য মনোনীত হন। প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে তখন প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন, যে যার দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের সরকারকে বিষয়টি অবহিত করতে উদ্বুদ্ধ করেন। এ দায়িত্ব দিয়েই পরে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে ইংল্যান্ড ও জা্র্মানি পাঠান, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে।

যে আত্মজীবনীমূলক সিরিজ গ্রন্থ লিখেছেন প্রণব মুখার্জি, সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও ভালবাসার কথা তুলে ধরেছেন। এই সিরিজের প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য ড্রামাটিক ডিকেড: দ্য ইন্দিরা গান্ধী ইয়ারস’। সেখানে ‘মুক্তিযুদ্ধ: দ্য মেকিং অব বাংলাদেশ’ নামে যে অধ্যায়, সেটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের জন্মের কাহিনি নিয়েই। একেবারে দেশভাগের দিন থেকে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেস কোর্স ময়দানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ- অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত প্রতিষ্ঠা, জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর সময়কাল ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নানা ইতিহাস উঠে এসেছে। সেখানে তিনি লেখেন-ভারতে যখন এসব ঘটছিল, তখন পাকিস্তানের পূর্বাংশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এ ঘটনাই ১৯৭১ সালে উপমহাদেশের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এই গ্রন্থে উঠে এসেছে পাকিস্তান আমলে বাঙালির প্রতি পশ্চিমাদের শোষণ-বঞ্চনা, বাংলাদেশে ভাষাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ছয় দফা, সত্তরের নির্বাচন পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা ও তার প্রেক্ষাপট, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন, অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাস।

গ্রন্থে প্রণব মুখার্জি লেখেন- ‘১৫ জুন বাজেট অধিবেশন চলাকালে আমি রাজ্যসভায় বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিই। আমি বলেছিলাম, ভারতের উচিত বাংলাদেশের প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়া। একজন সদস্য জানতে চান, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। উত্তরে আমি জানাই, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই এর রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। রাজনৈতিক সমাধান মানে গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে বস্তুগত সহায়তা করা। আমি সংসদকে এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম যে, বিশ্ব ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করার বহু নজির আছে।’

এমনকি দেশ স্বাধীনের পর সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে ছিলেন প্রণব মুখার্জি। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন প্রণব মুখার্জি।

প্রয়াণের আগে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র, যে কোন সংকট ও ইতিহাসে, প্রতিটি পদক্ষেপে ইতিবাচক ভুমিকা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে ছিলেন।
আত্মজীবনীমুলক সিরিজ গ্রন্থের আরেক খন্ড ‘দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস: ১৯৯৬-২০১২’- এ প্রণব মুখার্জি তুলে ধরেন সে সময়কার বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস। ২০১৭ সালে প্রকাশিত ওই বইয়ে বাংলাদেশে ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পেছনের ভূমিকাও উঠে এসেছে। সেখানে প্রণব মুখার্জি লেখেন- আমি খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা উভয়ের মুক্তির ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সাক্ষাৎ চাই। তৎকালীন ভারতের জাতীয় উপদেষ্টা এম কে নারায়ণের মাধ্যমে আমার হস্তক্ষেপে আমি সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি এবং দেশটির স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেছিলাম।

২০০৬ সালে প্রণব মুখার্জি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সার্ককে কার্যকর সংস্থা হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। ২০০৭ সালের এপ্রিলে যখন দিল্লিতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়, সে সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর উদ্যোগী ভূমিকাও আমরা জানি। সেই সম্মেলনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আন্ত-আঞ্চলিক সংযোগ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রণব মুখার্জি। তাঁর ব্যাখ্যা হলো- ‘ভারত ও বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী নয়; তাদের মধ্যে রয়েছে নৃতাত্ত্বিক ও জাতিগত বন্ধন। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি ভারত সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। কেননা, আমরা অভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও ভৌগোলিক সংহতি ধারণ করি।’

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে মন্তব্য খাতা রয়েছে। বাংলাদেশ সফরে সেই জাদুঘর দেখার পর বরেণ্য ব্যক্তিরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নিজের হাতে মন্তব্য লিখেছেন। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি জাদুঘর পরিদর্শন করেন প্রণব মুখার্জি। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে সাহসী নেতা আখ্যা দিয়ে প্রণব মুখার্জি লিখেছেন, ‘আই স্যালুট দ্য ব্রেভ লিডার অব অল টাইমস। এই বাড়ি থেকে শেখ মুজিব বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে নেতৃত্ব দেন এবং এই বাড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয়।’ একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্মদাতাকে এভাবে হত্যা করায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রণব মুখার্জির স্ত্রী রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইলের মেয়ে। সে হিসেবে তিনি বাংলাদেশের জামাই। ১০ বছর বয়সে নড়াইলের ভদ্রবিলা থেকে পরিবারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী হন শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বিয়ে হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথমবারের মতো ভদ্রবিলায় শ্বশুরবাড়ি ঘুরেও গেছেন তিনি। অসুস্থতা সত্ত্বেও তখন হুইল চেয়ারে চড়ে নিজের জন্মভিটায় স্বামীর সঙ্গে এসেছিলেন শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ও। এর দুই বছরের মাথায় ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ৭৪ বছর বয়সে মারা যান শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ করার এক বছরের মাথায় আবারও বাংলাদেশে এসে বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনীতেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

প্রণব মুখার্জির প্রয়াণে বাংলাদেশ ব্যথিত। শোকাহত এখানকার মানুষ। রাষ্ট্রীয়ভাবে একদিন জাতীয় শোক পালন করেছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে চলছে স্মরণসভা।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধু হিসেবে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ প্রণব মুখার্জির হাতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তখনকার রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। তখন প্রনব মুখার্জি স্মৃতিচারণ করেন- বাংলাদেশের মানুষ যখন মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তখন আমি ৩৬ বছরের এক তরুণ সংসদ সদস্য। বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে ভারতের সমর্থন দানের জন্য ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ভারতের রাজ্যসভায় আমি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলাম।

৩১ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে সব পক্ষের শ্রদ্ধা পেয়েছেন এই রাজনীতিবিদ। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

আপনার প্রয়াণে আমাদের শ্রদ্ধা প্রণব মুখার্জি- ‘আ ম্যান অব অল সিজন ‘

প্রতীক ইজাজ: সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী, ঢাকা
৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০২০। 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments