একাকিত্ব, অপ্রেম এবং মৃত্যুশোক বুঝিয়ে দিলো করোনা । অঙ্গনা চট্টোপাধ্যায়

  •  
  •  
  •  
  •  

[ পশ্চিমবঙ্গে শেষ হলো নির্বাচন। একদিকে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, অন্যদিকে এসেছিলো নির্বাচন। গতকাল পর্যন্ত এই রাজ্যে ৮.৪৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন প্রায় একশ’র কাছাকাছি। পুরো ভারতের পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। করোনার এমন পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে লিখে পাঠিয়েছেন নন্দিত সঙ্গীত শিল্পী অঙ্গনা চট্টোপাধ্যায়।]

অঙ্গনা চট্টোপাধ্যায়

২০২০ সালের অক্টোবরে আমি করোনা আক্রান্ত হই। হঠাৎ এক রাতে গায়ে জ্বর, গলা ব্যথা, স্বাদ চলে যায়। রিপোর্ট যখন হাতে এল তখন খুব অসহায় বোধ করেছিলাম। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি যে আমার সাথে সবসময় ছিল সে হলো আমার দীর্ঘ বারো বছরের বন্ধু, এখন স্বামী। মায়ের মতো সেবা পেয়েছিলাম স্বামীর কাছে। আমার দুই বৌদি ডাক্তার। তাদের দেয়া ওষুধ, পরামর্শ আর স্বামীর করা যত্নে করোনামুক্ত হলাম।

তবে এই করোনা আমাদের অনেক কিছু শেখালো। আমার কিছু উপলব্ধি ভাগ করে নিই আপনাদের সঙ্গে। করোনার কষ্ট যতটা শারীরিক তার থেকেও বেশী মানসিক। নিজেকে তখন অচ্ছুৎ মনে হয়। ভীষণ একা লাগে, অবাঞ্চিত লাগে। মানসিক জোর হারালে আমাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই সেরে উঠতে সময় লাগে। পাঠকদের অনুরোধ করব আপনাদের চারপাশে কারও এই অসুখটি হলে ভয় পাবেন না, ভয় প্রকাশ করবেন না রোগীর সামনে। আপনাদের সাহায্যের হাত দূর থেকেও বাড়াতে পারেন মানসিক জোর বাড়িয়ে। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করলে ওষুধ খেলে সেরে ওঠা কঠিন নয়। তবে শরীরে যদি আগে থেকে কোন রোগ দানা বেঁধে থাকে তাহলে বিশেষ সচেতন হওয়া জরুরী। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা… এমন কি কঠিন কাজ? এটুকু করলে যদি জীবন পাওয়া যায়, সুস্থ থাকা যায় ক্ষতি কি?!

শ্মশানে চলছে মৃত্যুর মিছিল।

দেখুন আমাদের গরীব দেশ। তাই যা ক্ষতি ওদের হবে, হচ্ছেও।
আমরা ভোটপ্রচারের বলি হলাম। করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল কিন্তু নেতা নেত্রীদের মিছিল, আমাদের সচেতনতার অভাবে আবার অসময় এল। মৃত্যুমিছিল আমাদের মানসিকভাবে ভেঙ্গে দিচ্ছে। কিন্তু বহু মানুষ সুস্থ হচ্ছেন সে খবর আমরা পাচ্ছি না। বহু মানুষ সুস্থ হচ্ছেন। বহু ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্সের চালক এইসকল মানুষ ভগবানের মতো বাঁচিয়ে চলেছেন মানুষকে। তাই তাদের সহযোগিতা করা খুব দরকার আমাদের।

দেখুন আমরা কেউই একা থাকতে চাই না। এই করোনা আমাদের একাকিত্ব বোধের কষ্ট, অপ্রেমের বেদনা, মৃত্যুশোক বুঝিয়ে দিল। আমরা সকলের সাথে মিলেমিশে ভালোবেসে থাকতে চাই। তাই আসুন সতর্ক হই। এই অসময় এই অভিশাপ থেকে শিগগির মুক্ত হই। আমাদের হাতেই আমাদের জীবন। We shall overcome. We shall overcome one day.

 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments