একুশের প্রথম প্রহরে সিডনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি

  •  
  •  
  •  
  •  
একুশের প্রথম প্রহরে সিডনির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ছবি: ফাহাদ আসমার।

ফাহাদ আসমার: আজ অমর একুশে, জাতীয় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও সিডনিবাসি বাঙ্গালিরা একত্রিত হয়েছিলেন এশফিল্ড পার্কে স্থাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে। একুশের প্রথম প্রহরে তাঁরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহিদদের প্রতি।
বাংলাদেশের আদলে সিডনিতে কোন পূর্ন শহিদ মিনার নেই। সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে যে মিনারটি আছে তা আসলে পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্থাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিস্তম্ভ। তাই এই স্মৃতিস্তম্ভটি বিশেষভাবে অনন্য। প্রতিবছর একুশের প্রথম প্রহরে সিডনি সময় বারোটা এক মিনিটে স্থানীয় বাঙ্গালিরা এই স্মৃতিস্তম্ভেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এবারেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষজন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য জীবন দেয়া বীর বঙ্গসন্তানদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আ্যলামনাই এসোসিয়েশন, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন, এমএলসি মুভমেন্ট অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্তিকা, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন, সিডনি আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও সাধারণ জনগণ এসময় বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
জগন্নাথ হল আ্যলামনাই অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে সুরজিত রয় এবং অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন, বিশাল এই দলটিকে প্রতিবছর এইদিনে এখানে পাওয়া যায়। নির্মল পাল এবং তার এমএলসি মুভমেন্টের সদস্যগণও আজ উপস্থিত ছিলেন ফুলের ডালি হাতে। প্রশান্তপাড়ের বাংলা অনলাইন পত্রিকা, প্রশান্তিকা’র পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান নামিদ ফারহান, আরিফুর রহমান এবং ফাহাদ আসমার। এছাড়াও সিডনি আওয়ামীলীগের পক্ষে দিদার হোসেন, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের অপু সারোয়ার এবং অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরেও বেশ কিছু সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী লোকজন তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুলহাতে হাজির হয়েছিলেন প্রায় অন্ধকারে অ্যাশফিল্ড পার্কের স্মৃতিস্তম্ভে।
আজ এখানে কর্মদিন থাকার পরেও মধ্যরাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে সিডনিবাসি তাঁদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা, তাঁদের ইতিহাস ভুলে যাননি।