ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মাশরাফি

119


পরিসংখ্যান কি সব সময় সঠিক তথ্য দিতে পারে? কিংবা পরিসংখ্যান ঘেঁটে-ঘুঁটে কি কখনও আসল ইতিহাস বের করা সম্ভব? সম্ভব নয়, অন্তত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্ষেত্রেও। ইনজুরির ভয়ঙ্কর থাবা তার পরিসংখ্যানটাকে সমৃদ্ধ করতে দেয়নি। বারবার ঠেলে দিয়েছিল মাঠের বাইরে। তবুও, অদম্য মাশরাফি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দোর্দণ্ড প্রতাপে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে।

ক্যারিয়ার শুরুর পর প্রায় ১৭ বছর চলছে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের। এই পর্যায়ে এসে যেখানে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নামের পাশে থাকার কথা ছিল ৩০০ প্লাস ম্যাচের সংখ্যা, সেখানে মাশরাফি মাত্র ২০০তম মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে টস করতে নেমে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচ খেলার তালিকায় নাম লেখালেন মাশরাফি।

ঘরের মাঠে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে অনেকেই তখন ধরে নিয়েছিলেন, মাশরাফির ক্যারিয়ার সেখানেই শেষ। কিন্তু অদম্য মাশরাফি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। শুধু ঘুরে দাঁড়ানোই নয়, ২০১৪ সালে নেতৃত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ দলকে আমূল বদলে দিয়েছেন তিনি।

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রথমবারেরমত তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলকে তুলেছেন সেমিফাইনালে। এছাড়া ঘরে-বাইরে সিরিজ জয়, বড় বড় শক্তিগুলোকে হারানোর মত একটি দলে পরিণত করেছেন তিনি টাইগারদের। তার হাত ধরেই র্যাংকিংয়ে ৭ নম্বর স্থানটি পাকাপোক্ত করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের যে কোনো দেশ এখন বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে সমীহ করে কথা বলে।

শুধু অধিনায়ক মাশরাফিই নন, পারফরম্যান্সেও অন্য যে কারও চেয়ে এগিয়ে মাশরাফি। দেশের পেসারদের মধ্যে সবার উপরে তিনি। এখনও পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়নি। শুধু তাই নয়, পারফরম্যান্সে গত কয়েক বছরে মাশরাফি ছাড়িয়ে গেছেন স্পিনারদেরও। ইনজুরি শঙ্কা মাথায় রেখেও ফিটনেসের অভাবনীয় উন্নতি ঘটিয়েছেন তিনি। খেলে যাচ্ছেন কয়েকবছরের প্রায় সবগুলো ওয়ানডে।

এখনো পর্যন্ত খেলা ২০০টি ওয়ানডে ম্যাচে মাশরাফির উইকেটসংখ্যা ২৫৫টি। যা কি-না দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এছাড়া দেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটাও নিজের দখলেই রেখেছেন ৩৫ বছর বয়সি মাশরাফি। ২০০৬ সালে কেনিয়ার জিমখানা মাঠে ২৬ রানে নেয়া ৬ উইকেট এখনো পর্যন্ত যে কোনো বাংলাদেশি বোলারের ম্যাচসেরা বোলিংয়ের পারফরম্যান্স।

২০০তম ম্যাচে এসে মাশরাফি পেলেন ৩ উইকেট। ১০ ওভারে দিয়েছেন ৩০ রান। অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাশরাফির বোলিং ফিগার ছিল ২/২৬। ৫০তম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল ২/৪৯। শততম ওয়ানডে ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ছিল ১/১৮। ১৫০তম ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১/৫২ এবং আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচে তার বোলিং ফিগার দাঁড়াল ৩/৩০।

২০০১ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু। এরপর নানা ঘাত প্রতিঘাতে এগিয়েছে মাশরাফির ক্যারিয়ার। হয়তো টিকে থাকবে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এরপর মাশরাফিও হারিয়ে যাবেন, অতীত হয়ে যাবেন ক্রিকেট নামক গ্রহ থেকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলার মাধ্যমে টাইগার অধিনায়ক দুইশো ওয়ানডে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করলেও, এর মাঝে রয়েছে একটি অন্য হিসেব। কেননা এখনো পর্যন্ত খেলা ২০০ ওয়ানডের মধ্যে ২টি তিনি খেলেছেন এশিয়া একাদশের হয়ে।