কারাগার থেকে ভোটের খবর নিচ্ছেন খালেদা জিয়া

126
কারাগার থেকেই ভোটের খোঁজখবর রাখছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল রয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী তিনি বিটিভি ও একটি পত্রিকা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নিয়মিত নামাজ পড়ে আর বইপত্র পড়েই সময় কাটে তার। পত্রিকা-টিভি দেখার পাশপাশি ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতিমার সঙ্গে আলাপচারিতায় সময় কাটে বেগম জিয়ার। তবে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভোট-সংশ্লিষ্ট নানা ‘বার্তা’ দিচ্ছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন পরিবারের সদস্যরা বিএনপি প্রধানের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পান। এরপর পরিবারের সদস্য কিংবা দলের নেতারা কেউ দেখা করতে পারেননি বেগম জিয়ার সঙ্গে। এ নিয়ে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি কারা কর্তৃপক্ষের। কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা কী- এ নিয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হয় সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেনের কাছে। এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কারা কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর থেকে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থার কোনো তথ্যই আমরা পাচ্ছি না। চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমতি দেয়নি। ১৫ দিন ধরে বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’ কারাসূত্রে জানা যায়, কারাগারে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-িত বিএনপিপ্রধানের সময় কাটে বিটিভি দেখে, পত্রিকা পড়ে।াঝে মধ্যে তিনি গৃহকর্মী ফাতেমার সঙ্গে গল্প করেন। কারারক্ষীদের সহায়তা নিয়ে ফাতেমা তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বারান্দায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। ডিভিশন পাওয়া বন্দী হিসেবে কারাবিধি অনুযায়ী সব সুবিধাই তিনি পাচ্ছেন। পুরনো কারাগারের ভিতরই তার জন্য বিশেষভাবে রান্নার ব্যবস্থা আছে। কারারক্ষীরা তা তদারক করেন। মাছ, মাংস, ডাল, সবজি ও ভাত-রুটি রান্না করে তাকে দেওয়া হয়। বাইরে থেকে কোনো খাবারই সরবরাহ করার সুযোগ নেই। রান্না করা খাবার চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়। তিন বেলাই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে খাওয়া নিয়ে বেগম জিয়ার কোনো বিশেষ কোনো চাহিদাও নেই। হালকা লাউ-সবজি, রুটি, মুরগির মাংস বা অল্প ভাত খান বেগম জিয়া।

জানা যায়, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারটি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ভোট সামনে রেখে আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক কারারক্ষী ছাড়াও বাইরে সব সময় চকবাজার থানা-পুলিশের একটি দল দায়িত্বে থাকে। এ ছাড়া প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থার লোকই পালা করে দায়িত্ব পালন করেন কারাফটকে। কারাগারে দায়িত্বরত এক কারারক্ষী বলেন, খালেদা জিয়া খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। মাঝে মধ্যে কারারক্ষীদের সহযোগিতায় তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ভবনের বারান্দায় ঘোরানো হয়। এ ছাড়া তিনি ইবাদত-বন্দেগিতে সময় পার করেন। কারারক্ষীরা তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চেয়ারপারসন কেমন আছেন তার সঠিক চিত্র আমরা জানতে পারছি না। তবে সরকারি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, চেয়ারপারসনের অবস্থা স্থিতিশীল।

বেশ কিছুদিন ধরে পরিবারের সদস্যরাও দেখা করতে পারছেন না। তাই বেগম খালেদা জিয়া কেমন আছেন তা আমি এ মুহূর্তে বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন অনেক আগে থেকেই ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হাঁটুব্যথা ও চোখের সমস্যাসহ অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত। তার নিয়মিত থেরাপিও দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। আগে তিনি হুইল চেয়ার ছাড়াই চলতে পারতেন। কারাবন্দী হওয়ার পর তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। এই সময় খালেদা জিয়ার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু সে সুবিধাও তিনি পাচ্ছেন না।’জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। ওই দিনই নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। এক মাস চিকিৎসা শেষে ৮ নভেম্বর তাকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়।