কি খেয়ে কে নাঙ্গা, সব জানে এই রাঙ্গা -ফাহাদ আসমার

  •  
  •  
  •  
  •  

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হওয়া নূর হোসেন বিষয়ে বোমা ফাটানোর পর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রাঙ্গা সাহেবকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে অত্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টোমার সেজে আমরা হাজির হয়েছিলাম রাঙ্গা সাহেবের ডেরায়। কিন্তু নিজ ডেরায় বিশেষ ধ্যানরত অবস্থায় কিছুতেই অপরিচিত কারো মুখোমুখি না হওয়ার শপথ নেয়ায় আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল তার সিদ্ধিলাভ পর্যন্ত। সিদ্ধিলাভের পর রাঙ্গা ভাই উদারতার অনন্য নজীর দেখিয়ে এই শীতের মাঝেও আপত্তিকর খোলামেলা অবস্থায় চমৎকার খোলামেলা তথ্য দিয়েছেন আমাদের ক্যামেরার পেছনে। সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলঃ

আচ্ছা রাঙ্গা ভাই, আপনি যে বললেন নূর হোসেন ইয়াবাখোর ছিল…
– ছিল মানে আলবৎ ছিল, এখনো আছে। কইছি তো কইছি, ভদ্রলোকের এক জবান।

আচ্ছা, মানে কিভাবে কি সেটাই জানতে চাইছিলাম।
– কিভাবে মানে? পড়াশোনা করোনা কিচ্ছু? শুনো ছেলে, ইতিহাস শেখার জন্য ঠিক জায়গায় আসছো। নূর হোসেন মদ গাঁজা ইয়াবা ডাইল সব খাইতো।

আপনি সেটা কিভাবে জানেন?
– আমি জানবো না কেন? ঐ সময়ে আমার চাইতে বড় ডিলার আর কে ছিল? ফাইজলামি পাইছো?
“কার পেটে কত গাঁজা, কে রাজা কে প্রজা
কি খেয়ে কে নাঙ্গা, সব জানে এই রাঙ্গা”
কবিতাটা কেমন দিলাম মাম্মা? (বলতে বলতে রাঙ্গা ভাই উত্তেজিত হয়ে বিশাল এক কিল বসিয়ে দিয়েছিলেন এই প্রতিবেদকের পিঠে)

মশিউর রহমান রাঙ্গা

বাহ আপনি তো চমৎকার কবিতাও লেখেন, এই প্রতীভা তো জানা ছিল না।
– আরে নাহ সব এই বাবার কৃপা। তাছাড়া, ওস্তাদের কাছ থেইকা কিছু প্রতিভা মাইরা দিছি। আরেকটা ঢেলে দেই?

না থাক, আপনার ওস্তাদ?
– খামোশ!!! আমার ওস্তাদ কে তাও জানো না? বাংলা, পাহাড়তলি এবং রংপুরের মহান সেনাপতি, অ্যাডমিরাল জেনারেল…

আচ্ছা, আচ্ছা আমাদের আলোচনার মূল বিষয়ে ফিরে আসি, নূর হোসেন…
– হ, নূর হোসেন ইয়াবা খাইতো, আমি নিজে বেঁচেছি, মানে আমি নিজে চেখেছি, ধূর কি কই ছাই, আমি নিজে দেখেছি।

কিন্তু এতদিন পরে আপনার কিভাবে মনে পড়লো?
– আরে ধূর কত মানুষরে কত কিছু খাওয়াইছি, কত কত কাস্টোমার ছিল, তার মাঝে ঠিক এইরকম দেখতেও অনেকগুলা ছিল। এতদিন মনে ছিল না, কিন্তু এবারের বাবাটা খুব কড়া, অতীত ভবিষ্যৎ সব ক্লিয়ার কইরা দিছে। মনে হইছে আমি ঠিক এরেই দেখছি। আরে তার তো পুরিয়া জ্বালানোর ম্যাচ কেনারও টেকা ছিল না, আমিই জ্বালাইয়া দিতাম।

আপনি নিশ্চিত যে সেটা নূর হোসেনই ছিল?
– তুমি কি আমার সাথে ফাইজলামি কর? জানো আমি কে? আমি রাঙ্গা, ভাঙ্গা গলায় এই বাবা ছুঁইয়া কইতাছি, শুধু একটা না, নূর হোসেন অনেকগুলা ছিল। কথা কিলিয়ার নাকি ভেজাল আছে?

জি ভাই, বুঝতে পারছি কিন্তু ঐ সময়ে তো মনে হয় ইয়াবা ছিল না দেশে…
– ইয়াবা ছিল না মানে? একশ পঞ্চাশ বার ছিল, আমি বানাইছি, বদি ফদি কিছু না এই দেশে বাবা স্বাধীনতার আমিই ঘোষক, আমিই তোশক। নিজ হাতে বানাইয়া বেঁচছি, বলতে চাস রাঙ্গা কমদামী গাঁজা খাইয়া আবোল তাবোল কইতাছে?

না না ভাই, কখনোই না …
– এই বেয়াদব, তোর ডিলার কে? কোন জায়গার কমদামী জিনিস টানস? আমারে তোর ভাই মনে হয়? তোর বাপের বয়সী, চাচা বল, বেয়াদব…

স্যরি স্যরি আংকেল…
– আংকেল? আমি আংকেল? আমারে কি আপনার এত বুইড়া মনে হয়? আপনি কিন্তু ভদ্রতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।
(কিছুক্ষণ নীরবতা, রাঙ্গা সাহেব কিছুটা শান্ত হলে আবার আলোচনা শুরু হয়)

আচ্ছা স্যার আমাদের শেষ প্রশ্ন, আপনার যে বক্তব্যে দেশে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে…
– তোলপাড় হবে না মানে? তোলপাড় তোলার জন্যই তো কইছি, আবোল তাবোল কইয়া টিভি ক্যামেরা সব সরকারের মন্ত্রীরা নিয়া গেছে। আমি কি ভাইস্যা আইছি, নাকি ওদের চেয়ে কমদামী মাল খাই? এই রাঙ্গা যে সে রাঙ্গা নয়, তারে নিয়া বাংলা সাহিত্যেও শুনছি কালজয়ী লেখা আছে।

তাই নাকি?
– কেন তুমি পড়নাই সেই বুড়ি আর শেয়ালের গল্প? ওখানে নাকি এইরকম একটা লাইন আছে…
আয় আয় তু তু, রাঙ্গা ভাঙ্গা ভুতু

কিন্তু ভাই সেটা তো ছিল একটা কুত্তা…
(দীর্ঘক্ষণ নীরবতা)
– হে হে হে, তাই নাকি? আমার সাফল্যে ঈর্ষান্নিত হয়ে অসাধু কুচক্রী মহল এইসব বানাইছে আমারে নিয়া, দেখছেন ভাই। কালকেই মানহানির মামলা করবো। পিএস হারামজাদারে পাইয়া নেই… আইচ্ছা ভাই, ঐ লাইন বাদ দেন। বসেন আজকে খেয়েই যান…
এই কে আছিস, আমার ছিলিম নিয়ে আয়। মেহমান আছে, কি না কি খায় ভালো বাবাটা বাইর কর।

(উপরের এই সাক্ষাৎকার সম্পূর্ন কাল্পনিক। আপনার কোন বিশেষ তরলাবস্থায়, উর্বর মস্তিষ্কে অর্ধ কিংবা পূর্ণমাতাল কারো সাথে কোনপ্রকার মিল খুঁজে গেলে পাত্র বা পাত্রীপক্ষ এমনকি কতৃপক্ষ কাউকে দায়ী না করে নিকটস্থ বাবাশ্রমে যোযগাযোগ করুন।)