ক্যানবেরার ইয়ারাবি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করছেন মোহাম্মাদ মূনির হোসেন

  •  
  •  
  •  
  •  

 281 views

প্রশান্তিকা রিপোর্ট: মোহাম্মদ মূনির হোসেন অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার অদূরে ইয়ারাবি থেকে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন পার্টি থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২০ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁর জন্ম পুরান ঢাকার অভিজাত ব্যবসায়ী পরিবারে। বাংলাদেশী হয়েও তিনি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। আসুন জেনে নিই প্রবাসে আলোকিত বাঙালি মোহাম্মাদ মূনির হোসেন সম্পর্কে।

আগামী ১৭ অক্টোবর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মাদ মূনির হোসেন। নির্বাচনী প্রচারনায় তাঁকে সাহায্য করছেন তাঁর স্ত্রী আইভি রহমান এবং সমর্থক মিসেস হেলেন।

ছাত্রাবস্থায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন মূনির হোসেন। সেই থেকেই চলছে তার পরবাস জীবন। মাঝে দেশে ফিরেছেন। তারপর সেখানে নিজের ব্যবসা শুরু করেছেন। বিয়ে করেছেন আইনজীবী, কবি ও কথাসাহিত্যিক আইভি রহমানকে। আইভি রহমান অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার একজন জাস্টিস অফ দ্যা পিস। যোগ্য দুই পুত্র সন্তান হাসিন এবং ইবিয়ানের গর্বিত বাবা মোহাম্মদ মূনির হোসেন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় শহরে বাস করেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক মূনির হোসেন রাজনীতির সাথে জড়িত সেই ১৯৭৩ সাল থেকে এবং নিয়মিত যাতায়াত ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহেবের বাসভবনে। বলতে গেলে তাঁর কাছেই মূনিরের রাজনীতিতে প্রবেশের হাতে খড়ি।

অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ক্যানবেরা শাখার ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সুদীর্ঘ অনেক বছর। তারপর নীতিগত অমিলের কারনে ২০১৬ সালে ইনডিপেন্ডেন্ট সদস্য হিসেবে ক্যানবেরা লেজিসলেটিভ এসেম্বলির এম এল এ পদের জন্য লড়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম যিনি ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্যানবেরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। পরবর্তীতে হৃদরোগ/ স্বাস্থ্য জনিত কারণে নিজের দায়েরকৃত মামলা নিজেই প্রত্যাহার করে নেন।

ক্যানবেরায় সমর্থকবেষ্ঠিত মোহাম্মাদ মূনির হোসেনের প্রচারনা চলছে।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মোহাম্মদ মূনির হোসেন বাংলাদেশে গিয়ে ঢাকা ৭ আসনের জন্য নির্বাচন করার প্রেক্ষিতে নমিনেশন পত্র সংগ্রহ করেন কিন্তু জানা যায় ওই এলাকায় হাজী সেলিম নির্বাচন করতে যাচ্ছেন এবং মোহাম্মদ মূনির হোসেন এই নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন শুধু মাত্র অত্র এলাকার ডাঃ মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিনকে সহযোগিতা করার জন্য কিন্তু যেহেতু হাজী সেলিম ওই এলাকার নির্বাচনী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হোন তাই মোহাম্মাদ মূনির হোসেন তার নমিনেশন প্রত্যাহার করে নেন।

২০১৯ সালে তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যিনি অস্ট্রেলিয়ায় সিনেটর পদের জন্য নমিনেশন জমা দিয়েছেন। মোহাম্মদ মূনির হোসেন ক্যানবেরাস্থ এরিন্ডেল কলেজের পি এন্ড সি (প্যারেন্টস এন্ড সিটিজেন) প্রধান ছিলেন এবং সেই কলেজের ২৫ বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্টের পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ক্যানবেরাস্থ নারাবুন্দা কলেজেরও পি এন্ড সি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এই দুই কলেজে তাঁর দুই পুত্র অধ্যায়ন করেছে। সেই সুবাদেই তিনি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন দুই বছরের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য। তিনি ক্যানবেরাস্থ মেলরোজ হাই স্কুলেরও পি এন্ড সি প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তিনি বিভিন্ন দেশী বিদেশী সামাজিক সংগঠন এবং কার্যকলাপের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে যুক্ত। সদাহাস্যময় পরোপকারী মোহাম্মদ মূনির হোসেন একজন দয়াশীল এবং সবার জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানো সহৃদয় ব্যক্তিত্বের উদাহরণ।

কমিউনিটিতে কার্যক্রম এবং সমাজ সেবা মূলক কাজের সাথে জড়িত সেই ছোট বেলা থেকেই
দেশের সাথে সাথে এই প্রবাসে এসেও তা থেমে থাকেনি। এখানে এসেও সেবার বা সমাজের দুর্দিনে সেবার হাত বাড়ানো থামেনি, ক্যানবেরা তে ভয়াবহ বুশ ফায়ার হয়েছিল ২০০১ সেই সময় তাদের দুটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল এবং তা থেকেই সমাজের যারা যারা সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাদের যথাসাধ্য সাহায্য করা হয়। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত।তিনিই একমাত্র আওয়ামী লীগের সদস্য যিনি অস্ট্রেলিয়ার মুলধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করছেন

তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার:
১। ইয়ারাবি বিভাগের জন্য তিনি আরও বেশী সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনে আগ্রহী কারন এই বিভাগে পর্যাপ্ত পুলিশ নেই।
২। ইয়ারাবি বিভাগের জনসংখ্যা বিপুল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরো বাড়ার সম্ভবনা প্রচুর এবং অনেক নতুন নতুন এলাকা স্থাপনের পর জনবসতি গড়ে উঠছে খুব দ্রুততায় সেই অনুপাতে এই বিভাগে কোন হাসপাতাল নেই। এই বিভাগের সবাইকে ব্রুস এলাকার হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয় আর ব্রুস এলাকায় তিনটা হাসপাতাল আর ইয়ারাবিতে একটাও হাসপাতাল নেই।
৩। এই বিভাগে বৃদ্ধাশ্রমের কমতি দেখা যায়। যেই অনুপাতে বয়স্ক লোকজনের উপস্থিতি এই বিভাগে সেই ভাবে বৃদ্ধাশ্রমের অভাব রয়েছে। তাই এখানে আরো বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজন মেটাতে তিনি ইচ্ছুক।
৪। এই বিভাগে কোন মাল্টিকালচারাল কমিউনিটি সেন্টার নেই যেখানে ৮০০ থেকে ১০০০ জন মানুষের সমাগম হতে পারে। বিয়ে বা যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ক্যানবেরা সিটি বা অন্য এলাকার কমিউনিটি সেন্টারের উপর নির্ভর করতে হয় যা হয়ত অনেক সময় সময়মত পাওয়াও দুষ্কর হয়ে থাকে। এই অভাব মেটাতে তিনি ভীষণ আগ্রহী
৫।সম্প্রতি গাঙ্গালিন এরিয়া থেকে লাইট রেল চালু হয়েছে যা শুধু মাত্র গাঙ্গালিন থেকে ক্যানবেরা সিটি পর্যন্ত যায় এতে করে অনেক সমস্যার সমাধান হয়না যেমন কেউ যদি সিটি থেকে এ এন ইউ যেতে চায় বা ক্যানভেরি হাসপাতাল এবং ইউ সি যেতে চায় তারপর বেলকোনেন এই ব্যাবস্থায় তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়না যদি এই রুটে এ এন ইউ ,ইউ সি , বেলকোনেন যোগ করা হয় যা রাউন্ড ট্রিপ  করে গাঙ্গালিন ফিরে আসবে তাতে অনেকের জন্য অনেক সবুধা হবে বিশেষ করে ছাত্রদের এবং বয়স্কদের।
৬। মোহাম্মদ হোসেন ক্যানবেরা থেকে সিডনি দ্রুতগামী রেলের সংযোগ ঘটাতে প্রবল ভাবে আগ্রহী এতে করে পুরো ক্যানবেরাবাসী সুবিধা পাবে তারা সিডনি গিয়ে কাজ করে দিনে দিনে ক্যানবেরা ফিরে আসতে পারবে। যে যে এলাকায় এই রেল থামবে সেই সেই এলাকায় জনবসতী আরো বেড়ে যাবে এবং জায়গার দামও বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আসছে ১৭ অক্টোবর এই নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাঁর সাথে রয়েছেন এই বিশ্বাস মোহাম্মাদ মূনির হোসেনের। তিনি মনে করেন তার সাথে অন্যান্য মাল্টিকালচারাল এবং অজি ভোটাররাও তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। আমরাও তাঁর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments