ক্যানবেরায় একুশ উদযাপন; শহরে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন।

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা ডেস্ক: ক্যানবেরা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরার উদ্যোগে প্রথমবারের মত হাইকমিশন প্রাঙ্গণের বাহিরে অস্থায়ী শহীদ মিনারে “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”-২০১৯ যথাযথ মর্যাদা এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশের মাধ্যমে পালিত হয়।

ক্যানবেরাস্থ তেলোপিয়া পার্কে মানুকা সার্কিট ও নিউ সাউথ ওয়েলস স্ট্রীট এর ক্রসমোড়ে স্থপতি জালাল আনিস কর্তৃক পরিকল্পিত শহীদ মিনার অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়। প্রত্যুষ ৬:১০ এ অস্থায়ীভাবে স্থাপিত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হয়।এতে অংশগ্রহণ করেন এসিটি গভর্ণমেন্ট এর মাল্টিকালচারাল মিনিষ্টার মিঃ ক্রিস্ট স্টিল, বিরোধী দলের নেতা মিঃ এলিস্টার কো, বাংলাদেশ হাইকমিশনার, ক্যানবেরাস্থ এলিটসহ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসতর প্রবাসী ও অভিবাসীগণ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মাকর্তা/কর্মচারীগণ। অংশগ্রহণকারীরা সমবেত স্থান থেকে পদব্রজে ক্যানবেরাস্থ অ্যাভিনিউর মানুকা অ্যাভাল প্রদক্ষীন শেষে অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ভাষা শহীদদের স্মরণে ০১ মিনিট নিরবতা পালন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার, এসিটি মাল্টিকালচারাল মিনিষ্টার এবং এসিটি বিরোধী দলের নেতা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করে “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। হাইকমিশনার সুফিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে সকল ভাষা শহীদ ও ভাষা সংগ্রামীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ব্যক্ত করে বলেন, ধর্ম ও বর্ণের গন্ডি পেরিয়ে বাংলা ভাষা এক ও অদ্বিতীয় বাঙ্গালী জাতি সত্ত্বার পরিচয় দিয়েছে যা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্টির ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান ও বিলুপ্ত ভাষা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সকলের সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষা সংরক্ষণে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। মাল্টিকালচারাল মন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা রক্ষা ও পূণ জীবনের এ আন্দোলনে অস্ট্রেলিয় প্রবাসী বাংলাদেশীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এরপর হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার সুফিউর রহমান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। নিজ নিজ ধর্মমত ও প্রথা মোতাবেক ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে মৌন প্রার্থনা এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসটির প্রথম প্রহরের অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এ বছরের “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” উদ্যাপনের বৈশিষ্ট হল ক্যানবেরাস্থ প্রসিদ্ধ তেলোপিয়া পার্ক স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের একুশের ব্যাপারে সম্যক অবহিত করা এবং নৃ-তাত্ত্বিক ভাষাসহ সকল মাতৃভাষার সম্মান তাদের মানসে বিস্তার করা। ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারী কয়েকশত ছাত্র/ছাত্রী এ শহীদ মিনার পরিদর্শন করবে।


সান্ধ্যকালীন আয়োজনে “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” এর তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনায় হাইকমিশনারসহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহন করেন। হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে বিলুপ্ত ভাষার প্রেক্ষিত বর্ণনা করে বাংলাসহ সকল মাতৃভাষার উন্নয়ন ও অধিকতর চর্চার উপর গুরাত্বারোপ করেন। তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি থেকে বর্তমান অবস্থায় উত্তরণে যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্র প্রস্তুতের মাধ্যমে বাংলা ভাষার বর্তমান উৎকর্ষ অবস্থান সৃষ্টির জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিশু কিশোরসহ স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় শতাধিক প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশী উক্ত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং নৈশভোজে অংশ নেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments