চন্দ্রিল, উপল, অনিন্দ্য সান্নিধ্যে চন্দ্রবিন্দুর মেলবোর্ন সন্ধ্যা -নাদিরা সুলতানা নদী

  •  
  •  
  •  
  •  

চন্দ্রবিন্দু, ১৯৮৯ কলকাতাতে জন্ম নেয়া বাংলা ব্যান্ড। জনপ্রিয়তার হাত ধরে দুই যুগেরও বেশী সময় নিয়ে দর্শক শ্রোতার মনে জায়গা করে আছে সমান ভালোবাসা নিয়ে এই ২০১৯ এ এসেও।সেই চন্দ্রবিন্দু প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়া ট্যুর করে তাঁদের শ্রোতাদের মাঝে থাকা মুগ্ধতার রেশকে যেন আরো বেশী পাকাপোক্তই করে গেল বলা যায়।

মেলবোর্নে পারফর্ম করছে চন্দ্রবিন্দু দল।

০৭ সেপ্টেম্বর ১৯, শনিবার ছিল মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া শো। সৌভাগ্য হয়েছে তাঁদের পারফর্মেন্স লাইভ দেখার।
এইরকম অনুষ্ঠান দেখে এসে আমি চেষ্টা করি আমার ফেসবুক জগত বা নিয়মিত লিখি এমন কোথাও তার অল্প বিস্তর ভালোলাগা মন্দলাগাকে তুলে আনতে কাছের বা দূরের গানপ্রিয় সবার কাছে। এবং সব সময় যা চেষ্টা করি অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষটা আমার চোখে পাঠকদের সামনে যতটা পারা যায় নিয়ে আসতে।
এই অনুষ্ঠানে দুর্ভাগ্যবশত সেটা হয়নি। শুরুটাই মিস করে গেছি, হয়তো অন্য শ্রোতা দর্শকের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিষয়টা পুরোটা তুলে আনা যায়। কিন্তু আমি আসলে সেটাই চাইছিনা বা খুব ভালো বোধ করবোনা…

ছোট্ট একটা ভূমিকা এবারও দিতে হচ্ছে, মেলবোর্ন শহর, এই মুহূর্তে র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের মোস্ট লিভেবল সিটির তালিকায় দুই… এই শহরে করছি বাস তাই একে নিয়ে কোন সমস্যার কথা তো বলা একদমই মানাবেনা। তারপরও বলি, দূরত্ব এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এই দুইয়ের সমন্বয় নিয়ে আজও কাজ চলছে এবং চলছে… হয়েছে অল্প বিস্তর ট্রাফিক জ্যাম এখানেও।
আমি যেখানে আছি, এই রকম বেশীর ভাগ অনুষ্ঠানগুলোর ভেন্যু থাকে মিনিমাম এক দেড় ঘন্টা ড্রাইভিং ডিসটেন্সে। কোন কারণে নিজেদের গাড়ী ড্রাইভ করে ভেন্যুতে পৌঁছানোর উপায় না থাকলে, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ধরে সেখান পৌঁছাতে উবার/বাস/ট্রেন এক দুই দফা বদলে অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক সময় পৌঁছাতে হাতে সময় নিয়ে বের হতে হবে অন্তত শনি/রবিবারে ২/৩ ঘন্টা।

এই অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে এবার আমাকে দিতে হয়েছে দূরত্ব এবং সময়ের মাশুল।
৫.৩০তে অনুষ্ঠান শুরুর কথা, একটু দেরী হয়েছে শুরু হতে ভেন্যুতে যেয়েই বুঝলাম, তারপরও ঘড়িতে তখন ৬.৩০টা পার হয় হয় অবস্থা।
আমি ও আমার সাথের আরো দুজন তখন অপেক্ষমান, যার কাছে টিকেট তার সাথে প্রোগ্রামের দিন দুপুরেও কথা হয়েছে, তিনটা টিকেট রাখা থাকছে। আমি আসলে এবার সত্যিই নার্ভাস, মানে সিকিউরটির দায়িত্বে থাকা ভদ্রমহিলা যখন বলছেন কোন রোতে সিট না বললে এই হাউসফুল অডিটরিয়ামে সে কিছু করতে পারছেনা, আমরা ঢুকতে পারছিনা, এর উত্তরে কি বলা উচিত বুঝে উঠতে পারছিলাম না..

অবশেষে আমাকে নাম বলতে বললেন, আমি যে দাদার কাছে টিকেট রাখা তার নামই বলছি, সে একটা খাম বের করে বলে, কিন্তু আমার কাছে তিনটা টিকেট রাখা আছে, তার নাম ‘’Nodi’’  আমার যেন ‘that’s me এই কথা বলার মত অবস্থাও নেই, সব মিলে অনাকাঙ্ক্ষিত এই চাপে।

হুম, অডিটরিয়ামে তাহলে আমরা এলাম শেষমেস, এত এত উল্টাপাল্টা বিষয়াদি, তারপরও আমি যতনা কুল আমার সঙ্গী দুইজন দেখি আজ আমার চেয়েও বেশী কুল, সুপার কুল। বলে না আপু, খুব বেশী বোধ হয় মিস করিনি আমরা, লেটস এঞ্জয়… হুম লেটস এঞ্জয়, বলতে নিয়েও দেখি মন খারাপটা ঠেলে বের হয়ে আসতে চাইছে।

না ঢুঁকেই দেখি, একি কান্ড, চন্দ্রবিন্দু বলছে ‘’সুইট হার্ট’’… এবং হল ভর্তি দর্শকদের দেখে মনে হল, সবাই তাঁদের সুইটহার্ট। কারণ সবাই মন্ত্রমুগ্ধ এবং তাঁদের সাথে রীতিমত টিউনড হয়ে লেগে আছে বসে বসে নাচে এবং সুরেতে সুর মিলিয়ে।

চন্দ্রবিন্দুর তিন রত্ন চন্দ্রিল, উপল ও অনিন্দ্যের সাথে লেখক

চন্দ্রবিন্দুর ডাই হার্ট ফ্যান আমি ছিলাম এটা বলা যাবেনা। বেঁছে বেঁছে ইউটিউবে এবং জী বাংলা সুবাদে তাঁদের শোনা। ভীষণ হিট যে গানগুলো… মন, বন্ধু তোমায়, ভিনদেশী তারা, ঘুম ঘুম ক্লাসরুম, এভাবেও ফিরে আসা যায় শুনেছি এবং আমার যখন তখন শুনার ইউটিউব প্রিয় প্রিয় তালিকায়ও রাখা আছে।
গীতিকার/প্রধান গায়ক  উপল এবং অনিন্দ্যকে মঞ্চে দেখে আমার অচেনা মনে হলোনা কেন যেন। তাঁদের মুখে লেগে থাকা সহজ এবং সরল হাসিটা আপন।  শুধু স্ক্রিনেই দেখা তারপরও…

গান গাইছেন, একের পর এক, কিছু আমার চেনা কিছু ওভাবে না। কিন্তু অনুষ্ঠান দেখতে আসা মেলবোর্নের কলকাতার শ্রোতা দর্শকদের কন্ঠে কন্ঠ মেলানো বা মাঝে মাঝেই শব্দ মেলানোতেই বুঝা যাচ্ছিলো এঁরা সবাই চন্দ্রবিন্দু শুনেন।

গান শেষ হলেই কিছু না কিছু উপল বা অনিন্দ্য বলছেন… দর্শককে রিলেইট করছেন। আবার এরপর কি গাইবেন এই প্রশ্ন উঠতে না উঠতেই দর্শক তখনও করেননি এমন সব ভালোলাগার গানগুলোর কথা বলে যাচ্ছেন…  এই যেমন একজন ‘’মন’’ তো অন্যজন বন্ধু… এর মাঝেই এক দর্শক মজা করে বলছেন, দুধ না খেলে হবেনা ভালো ছেলে। অনিন্দ্য বললেন, হবে…

আবার কোরাসে আরো অন্য সব গানের আবদারে উপল এও মজা করে জানিয়ে দিলেন তারা সব ঠিকঠাক শুনতে পারছেননা অনুরোধ।
আরো দুই একটা গান গেয়েই এবার মঞ্চে ডাকলেন সেই কথার যাদুকর চন্দ্রবিন্দু গীতিকার ‘চন্দ্রিলকে’। ইউটিউবে তাঁর কথার ভিডিও কিছু দেখেছি। জেনেছি স্যাটায়ারের রকম সকম। মঞ্চে এই প্রথম দেখলাম সে কতোটা, সাবলীল এবং সপ্রতিভ। সাপ্রতিক বিষয় নিয়ে মজার উপস্থাপনের মাঝেই স্ট্রং মেসেজ।

আমি কিছু সময় কোন নিউজ বা ফেসবুক নিউজফিড লক্ষ্য করিনি বলে,  ভারতের চন্দ্রাভিযানের বিষয়টা মিস করে গিয়েছিলাম। চন্দ্রিল মঞ্চে আসার পর তাঁর স্পিচেই উঠে এলো সেই প্রসঙ্গ। এবং তাঁদের দেশের রাজনীতি, নেতা, ধর্মীয় কুসংস্কার এমন অনেক বিষয়াদি।

না খুব ভালো করেই যেটা তাঁরা মেইনটেইন করে গেল, সেটা হচ্ছে, কোন কিছুতেই এক ঘেয়েমী নিয়ে না আসা। চন্দ্রিল ৫/১০ মিনিট কাটিয়েই মঞ্চ থেকে নেমে গেলেন এবং এর আগেও বোধ হয় উঠে এসেছেন যা আমি মিস করেছি।

আবার পালাক্রমে উপল এবং অনিন্দ্য গেয়ে চললেন, জুজু/ব্রহ্মা জানে, আমাকে রোগা বলোনা/ত্বকের যত্ন নিন/ আমরা বাঙালি জাতি এমন চেনা সব গান এবং যথারীতি গানের সাথে কিছু কথা, রসিকতা।

এবার ব্রেকের পালা, ২০ মিনিট। এমন সব অনুষ্ঠানে আরো যে বিষয়টা আমি উপভোগ করি, পরিচিত যাদের সাথে দূরত্ব বা সময় না মেলানোর জন্যে দেখা করা হয়ে উঠেনা। এমন কারো না কারো সাথে ঠিক দেখা হয়ে যাওয়া।

বের হয়েই দেখি অনেকেই, ভালো লাগা পছন্দের মানুষ, কাপল, বাংলাদেশী বন্ধু পরিবার। পেলাম সেই টিকেট রাখা দাদাকেও, জানলাম, উনার মোবাইল চার্জলেস তাই এই বিপত্তি আমাকে জানাতে পারেননি টিকেট বাইরে রেখে দেয়ার মেসেজটা।

এমন অনুষ্ঠান বিরতিতে শুধুই মনে হয় ইস একটু সিঙ্গারা চপ সমুচা ঝালমুড়ি, ডালের বড়া, পেঁয়াজুর সাথে গরমাগরম চা খেতে পারলে দারুণ হতো। একটু ছোটই ভেন্যু যা অনেকটাই হাউজফুল। ক্যাফেতে কফির লাইন অতীব বিশাল। আমার সাথে থাকা লোকজন সবার জানা আমার চা/কফি প্রীতি, তাই তাঁরাই উদ্যোগ নিল, আমাকে এক কাপ কফি যেভাবেই হোক যোগার করে দেয়া হোক সে কিউ লাইন যত বড়ই হোক। আহ এক কাপ ক্যাপাচিনু… এইটুকুন চুমুকেই চাঙ্গা।

ফিরে আসি আবার। গান শুরু করবেন, তার আগে আবার কে কি শুনতে চান সেই  জিজ্ঞাসা… যে শ্রোতা ‘দুধ না খেলে’ শুনতে চেয়েছিলেন, আবারও তুললেন সেই কথা… এবার অনিন্দ্য ততোধিক মজায় বললেন, এই শনিবার সন্ধ্যায় এমন করে দুধের কথা বলছেন বারবার… এই মেলবোর্ন থাকা আপনারা বুঝি… আরো কী বলছেন তার আগেই দর্শক মজার প্রতিউত্তর দিয়ে গানেই ফিরলেন। অনিন্দ্য অন্যরকম এক সরলতায় বলে উঠলেন, আহা সহজ কথা সহজেই বলুননা…

এইটুকুন পার্থক্য বোধ হয় আজও রয়ে গেছে এপার বাংলা, ওপার বাংলায়। বাংলাদেশী কোন শিল্পী এমন লেভেলের মজা করতে পারাটা কোন মঞ্চে সবদিক দিয়েই একটু মুশকিল। এক সেইরকম হিউমার লেভেল কম, দুই দর্শক প্রচন্ড মিক্সড আজ, কোন কথায় কার অনুভূতি যে ক্ষুণ্ণ হয় কে জানে।

গান হল আবার, চন্দ্রিল আবার মঞ্চে এলেন। আমি তাঁর কথাতে নূতন করে মুগ্ধ হলাম। কারণ সে যে শুধু স্ক্রিপ্ট ধরে কথা বলেছেননা উপস্থাপনা এবং ইন্সন্টান্টলি প্রসঙ্গ জুড়ে দিয়ে যেভাবে এই অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাঙালী, আমাদের লাইফ স্টাইল, এমসিজি এবং অন্য অনেককিছু সম্পৃক্ত করলেন তাঁকে আলাদা করে ধন্যবাদ দিতেই হয়।

তাঁর মজায়, আসলেই মজা পেয়েছি, জোর করে হাসানোর কোন প্রবণতা নেই, ভারতের সব সাম্প্রতিক বিষয়াদি বা রাজনৈতিক খুটিনাটি জানা নেই একদম বিচ্ছিন্ন লাগেনি নিজেকে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ে খুঁজে দেয়ার কথা বলা… গানে গানে ভাবা যায়!

চন্দ্রবিন্দুর অসম্ভব প্রিয় গান  ‘ভিনদেশী তারা’
আমার ভিনদেশী তারা
একা রাতেরই আকাশে
তুমি বাজালে একতারা
আমার চিলে কোঠার পাশে

এই গানে যখন বলে, তুমি মায়ের মত ভাল… এটা মনকে খুব করে ছুঁয়ে যায়। এই গানটাই মিস করে গেছি আমি।

কিন্তু আরেক প্রিয় গান,  এটা পেলাম এবার।

মন, হাওয়ায় পেয়েছি তোর নাম
মন, হাওয়ায় হারিয়ে ফেললাম!!

কেউ একজন, এভাবেই ফিরে আসা যায় শুনতে চাইলেন, মজা করে আবার উত্তর দিলেন, আবার আমাদের ডেকে আনুন সেবার গাইবো… ‘’এভাবেই ফিরে আসা যায়’’!!
প্রায় ৩০ বছর ধরে গাইছেন তাঁরা… কিন্তু মঞ্চে পারফর্মেন্সে এখনও তরুণ। ভীষণ এনাজের্টিক।গিটার, ড্রাম, পারকিউশন, কি-বোর্ড সব কিছুই মনে হচ্ছে, এই তাঁদের প্রথম শো, ভালো করতে হবে এবং তাঁরা ভীষণকরে এই মঞ্চকে ধারণ করে আছেন।

কিছু গানের লিরিক্স আগে শুনিনি বিধায় বুঝতে পারিনি। পারফরমেন্স শুনতে শুনতেই মনে হচ্ছিলো, তাঁদের মিউজিক এরেঞ্জমেন্টে কখনও আছে স্পেনিশ, কখনও আফ্রিকান আবহ, হঠাৎ রক এন রোল, আবার আছে ঠান্ডা ঠান্ডা ট্রুলি মেলোডি এবং লিরিক্স লাভারদের জন্যে মুগ্ধতা…

বন্ধু চল শুনতে যেয়ে, খুব অন্যরকম লাগছিল, উপল অনবদ্য… অনিন্দ্য মনকাড়া…

এই অনুষ্ঠান দেখতে যেয়ে যা অবাক করেছে আমাকে, টানা যে দুই তিন ঘন্টা গান করে গেলেন তাঁরা মঞ্চে সামনে রাখা ছিলোনা কোন গানের নোট বা লিরিক্স…

অনিন্দ্য একটা গান করতে যেয়ে জাস্ট মজা করে বলছিলেন লিরিক্স ভুলে গেছেন, কারণ দর্শক ঠিক গলা মিলিয়ে যাচ্ছিলো।

একদম শেষ ভাগ, তাঁদের নিজস্ব গানের লিস্টেই আছেন… তারপরও জিজ্ঞেস যখন করছেনই আমি আমার ক্ষীণ গলায় মঞ্চের মাঝামাঝি থেকে আওয়াজ দিলাম, বাংলাদেশের কোন গান হবে নাকি দাদা , উপল সেই মজার উত্তরই দিলেন কিছু আব্দার তাঁরা শুনতে পাননা… না আমি যে খুব কিছু ভেবে এটা বলেছি তা না, তারপরও মনে হল, যদি… তাঁরা এমন কিছু পারতেন।

বন্ধু তোমায় এ গান শুনাবো বিকেল বেলায়… এইটা তাঁদের রীতিমত সিগনেচার সং। এবার মঞ্চে ডেকে নিলেন আয়োজকদের কজনকে, যারা নিজেরাও আছেন গানের সাথে। আহ্বান জানালেন তাঁদের সাথে গলা মেলাতে এই গানে এবং অনুরোধ করলেন অডিটরিয়ামে থাকা সবাইকে দাঁড়িয়ে গলা মেলাতে… তাঁদেরই গান গাইছে সবাই গলা ছেড়ে এই দৃশ্য মনোরম।

চন্দ্রবিন্দু গানের মাঝে অনেকবার দর্শকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সাথে থাকা টিম মেম্বারদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এক হল ভর্তি দর্শকদের এভাবে মুগ্ধ বিমুগ্ধ করে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়া তাঁরা বিকেলের গান শুনিয়ে গেলেও তাঁদের ঘিরে থাকুক আরো অনেক নূতন ভোরের ডাক… এইরকম শুভকামনা রেখে এবার ঘরে ফেরার পালা আমাদেরও।
এই কনসার্ট দেখার পিছনে ছুটতে গিয়ে আজ দুপুরের খাবারটাও গেছে মিস হয়ে… খিদেয় পেট জানান দিচ্ছে, গান বাজনা অনেক গিলেছো বাপু এবার অন্যকিছু…

চলে আসছি, তুহিনদার সাথে আবার দেখা, বললেন কি নদী এবার শিল্পীদের সাথে ছবি উঠাবেনা… আমি বললাম না ঠিক ছবি (আমি জানিনা এই বিষয়টাকে ঘিরে কী হয়ে যেতে পারে নো আইডিয়া তাই দুনোমনো) উঠাবোই তা না, সুযোগ থাকলে বাংলাদেশের শ্রোতা হিসেবে হ্যালো বলে আসি।

মঞ্চের পিছনে দ্রুত গতিতে চলছে প্যাকিং। চন্দ্রিল, উপল, অনিন্দ্যকে এক সাথেই পাওয়া গেল। আরো কজন আছেন ছবি উঠানোর কিউতে। তুহিনদা, পরিচয় করিয়ে দিলেন, আমি ছোট্ট করে বললাম বাংলাদেশের গান শুনতে চাওয়া দর্শকটাই আমি, শুনতে চেয়েছি কারণ বাংলাদেশীদের অনেকেই আপনাদের শুনেন। হয়না, আমরা যে শুনি এটাকে আপনারা আদৌ গুরুত্ব দেন কিনা। উপল বলে উঠলেন, আরেকবার ঠিক শিখে আসবো বাংলাদেশের গান।
আমি প্রশান্তিকায় কাজ করছি, এটা এখান থেকে প্রকাশিত বাংলা অনলাইন প্রত্রিকা শুনে বললেন, দিদি আমরাও লিখতে চাই, নেবেন আমাদের… হয়তো রসিকতাই তারপরও বললাম কেন নয়।

ও আর হ্যাঁ এই প্রোগ্রামের একটা রিভিউ হয়তো আমিই করবো… আবারো সবাই অমায়িক হাসি দিলেন। এটা এঁদের মাঝে আছে। চন্দ্রিলকে আলাদা করে বললাম, আপনি সুস্থ থাকবেন, এমন কথায় মাতিয়ে রাখবেন…

এটা ঠিক বাংলাদেশে একটা সময় পর্যন্ত আমাদের ব্যান্ড সঙ্গীত অনেক বেশীই সমৃদ্ধ ছিল। আমাদের রেনেসাঁ, সোলস, মাইলস, এলআরবি, নগর বাউলের মত ব্যান্ড, মেইন ভোকাল এবং গানের লিরিক্স সব মিলে আমরা অনেক পরিপূর্ণই বলা যায়…

তবে মঞ্চে অনেক বছর পর এঁদেরই কাউকে কাউকে শুনতে যেয়ে মনে হয়েছে মূল গানের এনার্জিটা মিসিং, চন্দ্রবিন্দুর পরিবেশনায় অনেকবারই মনে হয়েছে ইউটিউবে শোনা তাঁদের পরিবেশনাকেও মঞ্চে অনেকবার ছাড়িয়ে যেতে পারছেন, এখনও।

নাদিরা সুলতানা নদী
কলামিস্ট/সংস্কৃতি কর্মী
উপস্থাপক, রেডিও বাংলা
সহযোগী সম্পাদক, প্রশান্তিকা।