জাকারান্ডা বিলাস ও আমাদের কৃষ্ণচূড়া

  •  
  •  
  •  
  •  

আতিকুর রহমান শুভ: আমাদের নিজস্ব দেশ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে এই প্রবাসে বসবাস আমাদের। যাপিত জীবনে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু ঠিকই মনে পড়ে, যেদিন থেকে সারি সারি বৃক্ষে বেগুনী বিলাস চোখে পড়েছে সেদিন থেকেই আমাদের নিজস্ব লাল রঙের কৃষ্ণচূড়ার কথা। একই রকম বৃক্ষ একই রকম পত্র। প্রবাসে আমাদের দু:খ বা আনন্দগুলো যেনোবা সারি সারি এই বেগুনীতে মিশে যায়। এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব স্থানেই সারি সারি জাকারান্ডার বেগুনী রঙে ঢেকে আছে।


অস্ট্রেলিয়ান কবি সেই ১৯৩১ সালে লিখেছিলেন Jacaranda কবিতাটি।

The softest mauve carpet
That ever was spread,
The deepest mauve canopy
Over my head.
A haze in the warm air
Of loveliest hue
That seems to envelop
The garden and you.

আমরা সেই অনুভুতি জানতে চেয়েছিলাম প্রবাসের প্রকৃতি প্রেমী কয়েকজনকে। তারা বলেছেন “জাকারান্ডা বিলাস ও আমাদের কৃষ্ণচূড়া” বিষয়ে। তাদের অনুভূতিকে পুজি করে সিডনির নামকরা কয়েকটা জাকারান্ডা স্থানে গিয়েছিলাম ছবি তুলতে। প্রথমেই অক্সফোর্ড
স্ট্রিট প্যাডিংটনের ভিক্টোরিয়া ব্যারাকের দেয়ালঘেষা সারি সারি জাকারান্ডা। অবাক কান্ড, জাকারান্ডা গাছগুলোর নীচে বসে আছেন এক ঋষি যেনো, পরনে বেগুনী আলখাল্লা। সাইনবোর্ডে লেখা তিনি ‘জাকারান্ডা সান্তা ক্লস’। ছবি তুলতে যেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মে আই নো ইওর নেম প্লিজ।’ তিনি হেসে বললেন, গ্লেন। আবার সঙ্গে সঙ্গে শুধরে বললেন, ‘সরি নো গ্লেন, জাকারান্ডা সান্তা ইজ মাই নেম।’ সান্তাজি বললেন, যতদিন গাছে ফুল থাকবে ততোদিন উইকেন্ডে তাঁকে এখানে পাওয়া যাবে।

জাকারান্ডা সান্তা

সিডনিতে জাকারান্ডা’র সৌন্দর্য দেখতে সবচেয়ে ভিড় জমে হার্বার ব্রিজের নর্থ সাইট কিরিবিলিতে। সেখানে গিয়ে দেখলাম এলাহীকান্ড। মানুষ কিলবিল করছে। সবাই এই বেগুনী রানীর সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত।

এবার পড়ুন কয়েকজন প্রবাসী জাকারান্ডা প্রেমীদের কথা।

সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান:
আমাদের শহরে এখন জারুল ফোটার দিন।
আমাদের শহরে এখন জাকারান্ডা ফোটার দিন।
১২ বছর আগে যেবার ঢাকা ছাড়ি, সেবার খুব করে ফুটেছিল। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া আর জারুল৷ সেই রং বুকে নিয়ে চলে এসেছিলাম এখানে। আত্মীয় পরিজনহীন এই শহরে জাকারান্ডাই ছিল প্রথম কিছু যা আমাকে ফেলে আসা শহরে, ফেলে আসা সময়ে নিয়ে গিয়েছিল ৷ জাকারান্ডার সাথে প্রতিবছর আমি ঘুরে আসি রমনা, শাহবাগ, ঢাকা ভার্সিটি, ধানমন্ডি লেক। মাঝে মাঝে চুপিচুপি মনের দেরাজটা খুলে মিলিয়ে দেখি, কে বেশী বেগুনী, জারুল না জাকারান্ডা? বেদনার রং নীল জানতাম, বেগুনী বোধহয় নস্টালজিয়ারই আরেক নাম।

বাড়ির আঙিনায় জাকারান্ডা’র সাথে হ্যাপি জান্নাত


ফাহাদ আসমার:

অস্ট্রেলিয়ার বসন্তে যখন জাকারান্ডা ফুটে চারপাশের সবকিছু বেগুনী হয়ে যায় তখন বসন্তের রূপে গন্ধে নেচে ওঠা মন ছাপিয়ে কোথায় যেন করুন একটা বিষাদ বাজতে থাকে। পুরো রাস্তা বা মাঠ নীলচে বেগুনী ফুলে ঢেকে দেয়া জাকারান্ডা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে খুব বলতে ইচ্ছে করে, “হে বসন্তের বৃক্ষ তুমি কেন কৃষ্ণচূড়া হলে না? কৃষ্ণচূড়া যে সেই ফেলে আসা মাটিতে আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুল, তুমি কেন ঠিক লাল হলে না”? জাকারান্ডা যদিও ঠিক বেগুনী নয় পার্পল, বাংলায় বলা যেতে পারে রক্তবেগুনী বা লালচে বেগুনী কিন্তু পুরোপুরি লাল হলে ওর কি এমন ক্ষতি হত?


জাকারান্ডা কোনদিন লাল হবে না, তবুও প্রতি বসন্তে যেভাবে পুরো শহর বেগুনী আগুনে ঢেকে দেয় ঠিক কৃষ্ণচূড়ার মত করে, ঠিক যেভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসে আমার ফেলে আসা বসন্তের ছোঁয়া, তাকে প্রিয় ফুলের তালিকায় না রাখাটা হবে বিরাট অন্যায়।

অনীলা পারভীন:
দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া এলাম, গভীর বেদনা নিয়ে একেকটি দিন কাটাতাম। দেশের জন্য কষ্ট, মায়ের জন্য কষ্ট, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুর জন্য কষ্ট। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, আমি দেশের গাছপালা, পাখিগুলোকেও ভীষণভাবে মিস করছি। বিশেষ করে আমার প্রিয় কৃষ্ণচূড়াকে। আমার অবস্থা হলো এমন যে,

‘আমি কোথায় পাবো তারে,
আমার প্রিয় ফুল যে রে’…


তখন পড়াশোনার পাশাপাশি একটা Pre-Schoolএ কাজ করি। স্কুলটিতে ঢুকতেই গেটের কাছে একটা বিশাল গাছ। দেখি আর ভাবি, এটা কি গাছ? কোনো ফুল হয় না, ফল হয় না! পড়াশোনার কারণে বেশ কিছুদিন কাজে যাওয়া হয়নি। নভেম্বরের শুরুতে স্কুলে গিয়ে দেখি, সেই মহীরুহ গাছটা বেগুনী ফুলে ছেঁয়ে আছে। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলাম, বেশ কিছুক্ষণ। আর ভাবলাম, আমার কৃষ্ণচূড়াই কি ভিন্ন রূপে দেখা দিল? কি তার নাম, কি  তার পরিচয়? আমাকে জানতেই হবে। স্কুলের এক সিনিয়র কলিগকে জিজ্ঞেস করতেই গাছটির নাম-ধাম, ইতিহাস জানতে পারলাম। জাকারান্ডা, সাউথ আমেরিকান গাছ। হয়তো কোনো এক পুস্পপ্রেমী সূদুর সাউথ আমেরিকা থেকে এনে, এদেশটাকে ভরিয়ে দিয়েছিলেন বেগুনী ফুলে ফুলে। আহা! কী তার সৌন্দর্য্য!
একসময় ক্যাম্পসির 8th Avenueতে বাসা খুঁজতে গেলাম। সেই পথে ঢুকেই মনে হলো, আমরা যেন জাকারান্ডার রাজ্যে প্রবেশ করেছি। পুরো রাস্তা যেন এক স্বর্গীয় রূপ ধারণ করেছে। তখনই ঠিক করে ফেললাম, বাসা যেমনই হোক, এখানেই আমরা বাসা নেব। যেমন কথা তেমন কাজ।
আমার কৃষ্ণচূড়ার অভাব পূরণ হলো জাকারান্ডায়। কৃষ্ণচূড়ার মতই গরমের শুরুতে এই ফুল ফোঁটে। আমরা প্রতি বছর বিমোহিত হই সৌন্দর্য্যে। যা কখনোই ফুরিয়ে যাবার নয়।

শাখাওয়াৎ নয়ন:
বসন্তের সিডনি শাখা।
বসন্ত এসেছে আবার। কোকিল দায়িত্বে প্রচার সম্পাদকের। গত বছর সিডনি শাখায় এ কাজে যে কোকিলটা নিয়োগ পেয়েছিল— গতকাল শুনলাম তার সাথে কাজে এসেছে আরও একজন। তার গলায় নাকি বিরহমিশ্রিত আহবান আছে। অফিস একই আছে, জাকারান্ডা। এ এক অন্য ভুবনের বৃক্ষ। পৃথিবীতে এত সুন্দর বৃক্ষ জন্মাতে পারে! সে যে বসন্ত প্রচারক। পাতা ছাড়া শুধুই ফুলের মহাসমাবেশ। অনেক ভেবে-চিন্তেও উত্তর মেলেনি, যে ঋতুর নামে কালান্তক ব্যধি ছিল; সেই ঋতু কিভাবে এত রূপবতী হয়? সেই রোগ মরে গেছে, বসন্ত মরেনি। নামকরনে ভুল ছিল। তাহলে এখন? বসন্ত কি রোগ সারায়, নাকি সে নিজেই একটা রোগ? এসময় কি প্রেমের প্রবৃদ্ধি বাড়ে?

কিরিবিলিতে জাকারান্ডার সারি

আর যদি কোনোদিন কোকিল না ডাকে, জাকারান্ডা না ফোটে, উত্তরসূরিদেরকে কিভাবে বোঝানো হবে, এই নীল গ্রহে বসন্ত নামের এমন একটা সময় ছিল? প্রত্ন কিংবা প্রানীবিজ্ঞানের যাদুঘরে কি কোনো নমুনা পাওয়া যাবে? নাকি নিজেদের চামড়ার নিচে বসন্তোদ্ধারের চেস্টা করা হবে? নর-নারীর কোষে কিংবা ডিএনএ তে কি পাঠ্যসূচীর মতো লেখা থাকবে, থোকা থোকা সেপ্টেম্বর? কিংবা বসন্তে কাকেরও অবদান ছিল।

সৈয়দা তাজমিরা আখতার:
ফুলের ব্যাপারে আমার জ্ঞান খুবই কম।ফুল ভালোবাসি এইটুকুই জানি। জাকারান্ডাকে ভালোবাসি। জাকারান্ডা দেখলে কৃষ্ণচূড়ার কথা মনে পড়ে যায়।

শাহরিয়ার পাভেল:
শুভ ভাই বললেন, ‘জাকারান্ডা বিলাস ও আমাদের কৃষ্ণচূড়া’ এই শিরোনামে যেন কয়েকটা লাইন লিখি। শিরোনাম দেখে আমি ভাবলাম এটা কি ‘দু:খ বিলাস’ টাইপ? কিন্ত মেলাতে পারলাম না। দু:খ বিলাস হলো দু:খ বিহীন দু:খীভাব। সে মতে সিডনির প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণচূড়া বিলাস হতে পারত। আবার ভাবলাম। বিষয়টা কি এমন কিছু — দু:খ বিলাস ও আমার সুখ? দু:খ আগলে রেখে সুখ পাওয়ার মত জাকারান্ডায় চোখ রেখে কৃষ্ণচূড়ার সাধ মেটানো?
জাকারান্ডা শীত গেলে বসন্তে আকাশের রঙে আমাদের চোখ রাঙিয়ে দেয়; মলিন ছোট দিন শেষে আমরাও মেতে উঠি উজ্জ্বল দীর্ঘ্য দিনের আলোয় গুচ্ছ গুচ্ছ ওই ফুলের বেগুনী-নীলে। গাছের ছড়ানো শাখা প্রশাখায় ভরপুর নীল, আর নীচে রাস্তায় বিছানো নীল—যেন নীলের মহোৎসব!

উৎসবের মত করেই জাকারান্ডা গাছের সারি দেখতে যাওয়া, সেসব গাছের নীচে দাঁড়িয়ে, বসে ছবি তোলা যেন বসন্ত বরণের নিয়ম হয়ে গেছে। সিডনির সব শহরতলীতে এই জাকারান্ডার দেখা মিলবে। এই ফুল এতটা প্রিয় যে কোনও কোনও এলাকার রাস্তার নাম হয়েছে জাকারান্ডার নামে; আর সে সব রাস্তায় দু’পাশে সারি সারি জাকারান্ডা গাছ। অথচ এই গাছ, এই ফুল, আমার মতই, এখানকার নেটিভ নয়। দক্ষিণ আমেরিকায় জন্ম নিয়ে এশিয়া হয়ে এখানে এই অস্ট্রেলিয়ায় এর আগমন। এসেই মন জয় করে নিয়েছে এখানকার মানুষের। জাকারান্ডা হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ায় বসন্তের প্রতীক, শীতের শেষে প্রকৃতির নবরূপে সেজে ওঠার অনন্য অলঙ্কার; যেমন ঢাকায় বসন্তে কৃষ্ণচূড়া।
প্রতি বছর বসন্তে জাকারান্ডায় চোখ রেখে তাই খুঁজে ফিরি কৃষ্ণচূড়া। মনে আসে কত কথা। ফাগুনে—যখন কৃষ্ণচূড়া আসে, যখন বৃষ্টি ঝরে, তখন মনে হয়, রাশি রাশি আগুন বুকে জ্বলে উঠে আমার প্রিয় শহর ঢাকা। সে ঢাকা কী সুন্দর! প্রেম তখন তার অনুসঙ্গ। সে প্রেমে মাতাল হতে বয়েস লাগে; আমি সে বয়েস কাটিয়েছি, জানি সে আগুন জ্বলা ঢাকা কতটা প্রার্থিত!

সে ঢাকা ছেড়ে পারি জমিয়েছি এই প্রশান্ত পারে। এখানে ঢাকা নেই, ফাগুন নেই, নেই আগুন লাগা কৃষ্ণচূড়া। তবে, এখানে আছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, আছে স্প্রিং, আছে জাকারান্ডা যার নীলে ছেয়ে যায় সিডনির নানান শহরতলী। সে দৃশ্য মনোরম। আরাম চোখে নীল এই ফুলরাশি আমারে ভুলিয়ে রেখেছে একই রকম বসন্তের কৃষ্ণচূড়ার লালে ঢাকা ঢাকার কথা। সত্যি? এভাবে ও ভুলে থাকা যায়?
প্রথম প্রথম নীলাভ বেগুনী এই ফুল কে ভুল করে নীল কৃষ্ণচূড়া ভাবতাম। সে আমার অজ্ঞতা! কিন্তু কেবলই অজ্ঞতা? না কি কৃষ্ণচূড়ার জন্য চোখের-মনের ক্ষুধা?
আশ্চর্য হলাম নেট ঘেটে যখন জানলাম সত্যি সত্যি জাকারান্ডাকে ভারত বর্ষে নীল কৃষ্ণচূড়া নামে ডাকে। ওরা ঠিক কৃষ্ণচূড়া বলে না; তবে, ওরা যে গুলমোহর বলে তার অর্থ তো কৃষ্ণচূড়া ই।
জাকারান্ডা আমার কাছে কৃষ্ণচূড়া হয়েই থাক, ক্ষতি কি এই বিলাসিতার !

নাদিরা সুলতানা নদী:
“এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে, হাতে হাত, চোখে চোখ কথা যেত হারিয়ে”! না নিজের প্রেম বিষয়ক কোন স্মৃতি কৃষ্ণচূড়া তলে রচিত না হলেও, গানে গানে নানান ভাবে এই নিয়ে রোমান্টিক আবহ মনকে নাড়া দিয়ে অনেকবার এবং আজও দেয়। ঝা ঝা রোদ্দুরে কতদিন ঢাকায় চন্দ্রিমা উদ্যান পার হতে হতে মন কেমন করে উঠেছে… দুই ধারের লাল কৃষ্ণচূড়া শুধুই বলে গেছে কি যেন নেই, কি যেন নেই আমার। কৃষ্ণচূড়ার লাল ছুঁইনি সেই কতকাল।

এডেলেড সাউথ অস্ট্রেলিয়ার যে শহরে ছিলাম সেখানে গ্রীষ্মের ছুটি আসার আগেই নগরের অনেক রাস্তা জুড়ে দেখা যায় অদ্ভুত জাকারান্ডার বেগুনী মায়া… আমি সেই মায়ায় ভিজে ভিজেও কেন যেন টুপ করে পোঁছে যাই ফেলে আসা কৃষ্ণচূড়ার বনেই ”আমার মন কেমন করে, কি জানি কিসের তরে” এমন ভাবনায় কেন যেন দেখি কৃষ্ণচূড়ার ভীষণ মন ভাল করা সেই লাল!!

রিমি রশিদ:
জাকারান্ডার বৈজ্ঞানিক নাম Jakaranda Mimosifolia। এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি স্থানীয় উদ্ভিদ। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশের শহরগুলো সাজানো হয়েছে এই জাকারান্ডা দিয়ে। বসন্তের শুরুতেই এর বেগুনী ফুল ফুটতে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটরিয়া শহরকে বলা হয় জাকারান্ডা শহর। গ্রীস্মে পুরো শহর নীলাভ বেগুনী রঙে ভরে গিয়ে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যে পরিণত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের নগর অলংকরণের সবচেয়ে বড় উপাদান এই জাকারান্ডা। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের গ্রাফটনে ২৮ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জাকারান্ডা উৎসব হয়। সিডনির কিরিবিলি, স্ট্র্যাথফিল্ড, কুজি সহ বেশ ক’টি সাবার্বে অনেক রাস্তায় সারি সারি জাকারান্ডা রয়েছে। সিডনি ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে একটি মিথ চালু রয়েছে। সেটি হলো গ্রীস্মে জাকারান্ডায় ফুল আসার আগেই যাদের পরীক্ষার পড়া শেষ হবেনা তারা নিশ্চিত ফেল করবে !

ব্রিসবেনে শিল্পী রহমানের বাড়ির জাকারান্ডা ও কৃষ্ণচূড়া সম্মিলন।

দীন মোহাম্মদ মনির:
আমাকে বিলীন করেছিলাম তোমাতেই।
কৃষ্ণচূড়ার ঝকমকে লালে নাকি সোনালুর হলুদে ?
না, মনে হয় কচুরীপানার বেগুনী-সাদার সমাহারে।
আজ সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়েও প্রতিনিয়ত তোমাকেই খুঁজি।
জাকারান্ডার বেগুনী এখানে ওখানে হাতছানি দেয়,
আহুত করার প্রয়াসে বেগুনী আচঁলটিও বিছিয়ে দেয় উদারতায়।
মোহাচ্ছন্ন হই ঐন্দ্রজালিক এক রক্তিম আবেশে,
সোনালুর হলুদের আভাও মিশে যায় অগোচরে।
এখন খুঁজে বেড়াই তোমাকে,অভূতপূর্ব এই বেগুনী জাকারান্ডায়।

কৃষ্ণচূড়ার লাল নাকি সোনালুর হলুদ

 

শিল্পী রহমান:
আমার নিজস্ব একটা কৃষ্ণচূড়া এবং একটা জাকারান্ডা রয়েছে। আমার বাড়ির আঙিনায়। দিনের আলো ফুরিয়ে যাবার সময় এরা দুটিতে মিলে এক অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ায়, যেখানে পৃথিবীর অন্য সবকিছুর সৌন্দর্য মলিন হয়ে যায়। নিজেকে অসম্ভব রকমের ধনী মনে হয় আমার।


আমার নিজস্ব একটা কৃষ্ণচূড়া এবং একটা জাকারান্ডা রয়েছে আমারই বাড়ির আঙিনায়। আমার কি আর পৃথিবীর কোথাও যাবার প্রয়োজন আছে?