জানুন লেখককে, লিখবেন যিনি সবার জন্য-ফাহাদ আসমার 


  •  
  •  
  •  
  •  

আমি গ্রামের ছেলে, গ্রামে জন্ম, জীবনের প্রথম দশ বছর গ্রামেই কাটিয়েছি, তারপর মেঘনা ডাকাতিয়ার আলিঙ্গনে চাঁদপুর নামের রূপকথার এক মায়াবী মফস্বল শহরে বেড়ে ওঠা। এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার।

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় নিয়মিত ব্যাকবেঞ্চার এবং ফাঁকিবাজ হিসেবে বিশেষ সুনাম ছিল, এখনো আছে। একজন ভলান্টিয়ার হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। প্রাইমারী স্কুলে শুরু করেছিলাম কাব স্কাউট থেকে। হাই স্কুলে বয় স্কাউট তারপর রেড ক্রিসেন্ট। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)। বিএনসিসি ক্যাডেট হিসেবে দুর্যোগ কবলিত চাঁদপুর জেলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটা ছিল জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। অস্ট্রেলিয়ায় পা দেয়ার পরের সপ্তাহে যোগ দিয়েছিলাম গ্রেটার ওয়েস্টার্ন সিডনি রোভার্সে (স্কাউট)।

৪ বছরের কাছাকাছি রোভার্স জীবন ছিল অস্ট্রেলিয়ায় কাটানো শ্রেষ্ঠ সময়। ভলান্টিয়ার হিসেবে  যোগ দিয়েছিলাম সেইন্ট জনস এ্যাম্বুলেন্স, বুশওয়াকিং ওয়াইল্ডারনাস রেসকিউ স্কোয়াড (BWRS), গ্রীন পিস এবং প্রজেক্ট অ্যাওয়ার (ওসান অ্যাওয়ারনেস ভলান্টিয়ার্স) সংগঠনে।

ছোটবেলায় অ্যাথলেটিক্স ভালবাসতাম। স্প্রিন্ট, হাই জাম্প, সাঁতার এবং সাইক্লিং ছিল প্রতিযোগিতার পছন্দের মাধ্যম। সারাবছর অপেক্ষায় থাকতাম কবে কোথায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হবে। স্কুল, কলেজ, থানা এবং জেলা পর্যায়ে অল্প কিছু সফলতা ছিল পড়াশোনায় ফাঁকিবাজির চূড়ান্ত কৌশল। গণিত অলিম্পিয়াডে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে প্রথম রানার আপ হয়ে অংশ নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। পরবর্তিতে আয়োজক সংগঠন ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড ভলান্টিয়ার্স (MOVERS) হিসেবে কাজ করেছি দেশ ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত।

কলেজ পরবর্তি সময়ে অ্যাডভেঞ্চার নামক নতুন এক নেশায় আক্রান্ত হই। নাম লিখিয়েছিলাম সদ্য গঠিত বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং এবং ট্র্যাকিং ক্লাবে ( BMTC)। একটাই স্বপ্ন ছিল, এভেরেস্টের চূড়ায় তুলে নেবো বাংলাদেশের পতাকা। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে সজল খালেদ, এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদারদের সাথে একই সংগঠনে কাজ করতে পেরেছিলাম, আমি ছিলাম নিতান্তই সৌভাগ্যবানদের একজন।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে পরিচিত করতে কক্সবাজারে বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যারাথন দৌড় (৪২.৭ কিমি।) প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিলেন সজল খালেদ। তাঁর সাথে মিলে আয়োজন করার সৌভাগ্য হয়েছিল তিনটি পূর্ণদৈর্ঘের ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। সৌভাগ্য হয়েছিল নিজেও অংশগ্রহণ করে ম্যারাথন দৌড় সমাপ্ত করার। আরেকটা বিশাল সৌভাগ্য ছিল, প্রথম এভারেস্টজয়ী তেনজিং নোরগের প্রতিষ্ঠিত এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দার্জিলিং এর হিমালয়ান মাউন্টেইনারিং ইন্সটিটিউট (HMI) থেকে পর্বতারোহন বিষয়ে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপ্ত করা।

প্রবাস জীবনে পর্বতের অভাবে পর্বতারোহন বন্ধ হয়ে গেলেও যোগ দিয়েছিলাম সিডনি রক কালিম্বিং ক্লাবে। পর্বতারোহন যদি হয় জীবনের প্রথম সত্যিকার ভালোবাসা, স্কুবা ডাইভিং দ্বিতীয়। ভালোবাসি সেইলিং, সাইক্লিং, হাইকিং এবং অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। পাডি বা Professional Association of Diving Instructors থেকে স্কুবা ইন্সট্রাক্টর হিসেবে সার্টিফাই হওয়াটা ব্যক্তিগত জীবনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্জন।

কবিতা পড়তে ভালোবাসি। ঢাকা শহরের ৪-৫ বছরের ভাসমান জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে টিএসসি, বেইলি রোড আর রবীন্দ্র সরোবরে। আবৃত্তি করার সৌভাগ্য হয়েছিল ‘নন্দনকানন’ আবৃত্তিসংগঠনের সদস্য হিসেবে। সিডনিতে স্বল্প পরিসরে আমরা কাজ করছি ‘কবিতা বিকেল’ আবৃত্তি সংগঠন নিয়ে। স্কুল কলেজ জীবনে থিয়েটারের সাথে কিছুটা সম্পৃক্ত ছিলাম। সিডনিতে ‘সখের থিয়েটার’ নামক বাংলা নাটকের দল গড়ে আমরা প্রবাসে বাংলা থিয়েটার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আমি একজন ব্যর্থ মানুষ। ছোটবেলায় একমাত্র স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বৈমানিক হিসেবে কাজ করার। পরবর্তিতে স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়ে দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি দেয়া।

প্রবাসে পেশাগত জীবনে ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার এবং নতুন করে স্কুবা ইন্সট্রাক্টর। স্কুবা ডাইভিং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে এবছর যোগ হয়েছে PADI গ্লোবাল মেম্বারশিপ। সেই সাথে কাজ করছি ইমার্জেন্সি ফার্স্ট রেসপন্ডার (IFR) ফার্স্ট এইড ইন্সট্রাক্টর হিসেবে।

ফাহাদ আসমার
লেখক ও আলোকচিত্রী প্রধান, প্রশান্তিকা।