তানজিনা ফেরদৌস তাইসিনের তিনটি কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  

তানজিনা ফেরদৌস তাইসিনের তিনটি কবিতা

তোমাকে শুনি 

কবিতার মত পাঠ করি, তোমাকে,
বৃষ্টি অথবা নগরের শীতার্ত মরা সোডিয়াম।
ছিপিখোলা সন্ধ্যের পানশালা থেকে
ভুরভুরে কাবাব, পোড়া পোড়া
ঝাঁঝাল গন্ধের রেশ কাটবে না কোনদিন আর!
অভিশাপ হয়ে থেকে যাবে ক্ষত চিহ্নের মত।

যে বৃষ্টিতে কোনদিন ভেজা হয় নাই
তার ছাট লেগে ভেঙ্গে যায় দুপুরের ঘুম।
প্রেমিকার মুখে আলগোছে পরে থাকা
আদরের মত কোকড়ানো একগোছা চুল
মৃত মাছের ঠান্ডা পিঠের মত আশটে স্পর্শে
জেগে উঠি যে ঘন্টাধবনিতে — ওটা গির্জার
ফিউনারেল!

তোকে বলি কিংবা আমাকে 
[শিল্পি আফ্রিদা তানজীম মাহি কে। জানিনা কি বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে ছিল ছোট্ট মেয়েটা! এর উৎস কি! ওর আঁকা ছবিগুলো দেখেছি আর চমকে চমকে উঠেছি। আমিতো ছবি বুঝি না তেমন, বিষাদ পড়তে এতটুকু কষ্ট হচ্ছে না তো! তোমরা যারা বল, মরে যাওয়া এত সহজ না। দেখ, মরে যাওয়া কখনো কখনো এতটাও সহজ! বিষাদ কে এত ছোট করে দেখো না পৃথিবীর মানুষ!]
পুড়িয়ে দিস মেয়ে,
এইসব বেহায়া সভ্যতা!
ছোপধরা রক্তে
নাকের কাছটা লাল কেন?
ঐ যে সারি সারি মানুষের ভীড়
নীল কালো রিকশা।
ভ্যানগাড়ি, বিশ্ব ইজতেমা,
তুই-আমি এক হয়ে যাই।
গলির মোড়ে যে অশতিপর বৃদ্ধ
ঐখানে হেঁটেছিল কে?
আদরে কি ছুঁয়েছিলি ঠোঁটে,
প্রেমিকের কান?
তক্ষনি গলা চেপে
শ্বাসরোধ করেছিল কেউ?
প্রেমাদ্র ঠোঁটে ঢেলেছিল
নৈতিকতার বিষ,
ঠোঁট পুড়েছিল নিকোটিন আঁচে?
বাক্সে বাক্সে দুমড়ে মুচড়ে
আমারই মতন ছিলি
রংধনু সেলফোন হাতে
জন্মেরও আগে জঠরের মত
কুন্ডলি মেয়ে?
গাছের সবুজ হাতে মেখে
কে তোকে ছুঁত?
ছুঁয়ে দিলে বাদামী অসুখ।
ছুঁয়ে দিলে বেঁচে যেতি তুই
ছুঁয়ে দিলে মরে যাওয়া…
ওরা ঠিক বলল আজ,
মরে গেলে অর্থবহ হয়ে ওঠে
অর্থহীন বেঁচে থাকা।
মরে যা..
আরও মরে যা তুই!
মরে গিয়ে বাঁচ!
পৃথিবীতে কারও কোন দোষ নাই,
দোষ দিব কাকে!
একটা তারা জ্বলা জ্বলা অন্ধকার রাতকে?

হাহাকার থাক!

যে ক্ষতচিহ্ন ঢাকতে
তুমি প্রগলভ হও কদাচিৎ,
তার দেখা পেয়ে যাও ঠিক
আবার,
সফেদ অথচ নির্ঘুম বালিশে।
বাইজেন্টাইন কোন প্রাচীন কিশোরের
মুখ,
মায়া ভরে মনে কর
আজলা ভরে জলের মতন চুমু খাও
কপালে।
একপাটি জুতা চুরি গেছে,
সিন্ডারেলা!
মদের আসরে তুমি নেচেছ
একা এবং একা,
একা একা।
আদিমতম নর পৃথিবীর
অথবা আদিমতম নারী
নিউরনের কোষে জমা স্মৃতি
তোমার,
আদি থেকে আজ অবধি
সময় ভ্রমন।
যেহেতু যৌথতা মৌলিক
আর ছোট ছোট জীবনগুলো
হেঁটে হেঁটে চলে যায়
শশ্মান, কবরখানা অথবা
সিমিট্রীর দিকে,
অতৃপ্ত!
সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।
গোত্তা খাওয়া অতৃপ্তি
এডাম কিংবা ঈভ কিংবা লিলিথ,
কিংবা সবার!
কোন এক আলোকবর্ষ পরে
দীর্ঘশ্বাস গুলো আত্মার মত
ঝরে পরবেই
কোন এক মানবের দেহে,
মানবীর দেহে।
ততদিনে তুমি জেনে গেছ,
যা হয়, তা হয় সৌভাগ্য
নয় দুর্ভাগ্য।
তুমি মরাল গ্রীবা তুলে
বাতাসে চাইতেই জেনে যাবে
এ জন্মে
দূরতম জন্মের ছুঁতে না পারা
কিশোর তোমার বাগদত্ত্বা!
ততদিনে এই স্মৃতি যদি মুছে যায়,
হা ঈশ্বর!
হাহাকারটুকু ততদিন রেখো!