তারামন বিবি বীর প্রতীক

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৯৭১ সাল। রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের যুদ্ধে বীর বাঙালী মুক্তিযোদ্ধারা মুক্ত করেছিলেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এই যুদ্ধে আমরা হারিয়েছি ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ নারীর সম্ভ্রম ও আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য বুদ্ধিজীবির প্রাণ। ঘৃণাভরে ধিক্কার জানাই পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর ঘাতকদের। বিজয়ের এই মাসে আমরা প্রশান্তিকায় শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।]

তারামন বিবি বীর প্রতীক

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন তারামন বিবি। ১৯৭১ সালে তাঁর বয়স ছিলো মাত্র ষোল বছর। সেই সময় তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য মাত্র দুই নারী বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। তারামন বিবি সেই দুজনের একজন।

জন্ম: ১৯৫৬ সালের পহেলা ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম তারামন বিবির। বাবার নাম আব্বাস সোবাহান ও মা কুলসুম বেওয়া। তারামন বিবির স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।

অবদান: ১৯৭১ সালে ১১ নম্বর সেক্টরে রান্না ও হাতের কাজ করার জন্য তারামনকে নিয়োগ দেয়া হয়। কাজ শেষে তারামনের অস্ত্র চালিয়ে যুদ্ধ করার আগ্রহ ছিলো। সেক্টরের হাবিলদার মুহিত তাঁকে অস্ত্র চালানো শেখান। তিনি তাঁকে থ্রিনটথ্রি রাইফেল ও পয়েন্ট ফাইভ সাবমেশিনগান চালানো শেখান। তারামন বিবি সেক্টর কমাণ্ডার বীর মুক্তিযোগ্ধা আবু তাহেরের নেতৃত্বে সম্মুখ সমরে অংশ নেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে একদিন দুপুরে খাওয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনী একটি গানবোট নিয়ে সেখানে হানা দেয়। তারামন বিবিও সেদিন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের পরাস্ত করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পুরুষ সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে লড়াই করেন এই বীর নারী।

তারামন বিবি বীর প্রতীকের শেষ যাত্রায় রাস্ট্রীয় সম্মাননা, ছবি কৃতজ্ঞতা: রাইজিং বিডি। 

স্বীকৃতি: মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামনকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন। ওই বছর ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে বীর প্রতীক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

মৃত্যু: ২০১৮ সালের পহেলা ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে নিজবাড়িতে ৬২ বছর বয়সে তারামন বিবি মৃত্যুবরণ করেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখা তারামন বিবি বীর প্রতীকের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।