তিনটি নির্বাচিত চিঠি । স্বর্ণা, সুমাইয়া, মুনীম

  •  
  •  
  •  
  •  

[ সিডনি প্রবাসী লেখক আরিফুর রহমানের ফেসবুক পেজের নাম ‘গল্পের দেয়াল- আরিফুর রহমান’। সম্প্রতি তাঁর পেজ থেকে এক অভিনব চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জবাবে অসংখ্য পাঠক-পাঠিকা নানা রঙে, নানা বিষয়ে চিঠি লিখে পাঠান। অবশেষে নির্বাচক প্যানেল তিনটি সেরা চিঠি নির্বাচন করেন। অভিনন্দন তিন বিজয়ী পত্র লেখক স্বর্ণা ইসলাম, সুমাইয়া আফরিন এবং মুনীম উল পিয়াল। প্রশান্তিকার পাঠকদের জন্য তাদের লেখা সেই তিনটি চিঠি প্রকাশ করা হলো।]

নির্বাচিত প্রথম চিঠি: স্বর্ণা ইসলাম

সুপ্রিয় শুভঙ্কর,

এ চিঠি তোমার কাছে কখনোই পৌঁছাবে না। তবু আজ এত দিন পর তোমাকে লেখার জন্য মনে ভীষণ ভাবে সাধ জাগছে। এই সাধটা অন্যায় কিছু নয়; নিয়ম বহির্ভূত। নিয়ম অনুযায়ী এত দিনে তোমাকে ভুলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অবাধ্য এই দুনিয়া বরাবরই মানুষের ভাবনার বিপরীতে চলে। তাই বয়ে যাওয়া স্রোতে গা ভাসাতে নিয়ম ভেঙে তোমাকে লিখতে বসেছি।

তোমার সাথে প্রথম পরিচয়, প্রথম কবে দেখা হলো – তার কিচ্ছুটি আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে মাঘ মাসের গায়ে লেপ্টানো কুয়াশার স্তর চিড়ে দেবতার মতো একজন মানুষকে আমি হেঁটে আসতে দেখেছিলাম। শেষরাতে বিষাদেরা যখন করুণ কান্নায় আমাকে জর্জরিত করছিলো; ভাঙা চাঁদের আবছায়া আলোয় একটা স্নেহাশিস হাত আমার রুগ্ন হাতের জীর্ণশীর্ণ আঙুলের ভাঁজের অবলম্বন হয়েছিলো। সেই স্নেহাশিস হাতটি তোমার ছিলো শুভঙ্কর। সেই দেবতার মতো মানুষটি তুমি ছিলে।
বদ্ধ ঘরে নিজেকে আটকে রাখাই আমার স্বভাব।তুমি এলে। দেয়াল ডিঙিয়ে শরীর উহ্য করে পাঁজরের নিচে যত্ন করে লুকিয়ে রাখা মনটাকে ছুঁয়ে গেলে। আমার আনন্দ, বেদনা, গল্প, হাসি সব – সব কিছু তোমার নামে বরাদ্দ হতে থাকলো। বুকের জমিনে একটা দুটা তিনটা করে ফুটতে লাগলো আশার মেঘফুল। আমার কেবলই মনে হতে লাগলো এবার বুঝি একটু বেঁচে থাকা দরকার।

তুমি মাঝে মাঝেই বলতে মানুষের মন ভালো করে দেয়ার ক্ষমতা তোমার আছে। আমি ঠোঁট উল্টে জবাব দিতাম– মোটেই না। সত্যি বলতে যতক্ষণ তুমি কাছে থাকতে, ততক্ষণ পৃথিবীর সমস্ত সুখের উপর আমার এক মালিকানা জারি থাকতো। এই ভালো থাকাটাকে আমার পছন্দ হলো। তাই সব আশা–আকাঙ্খাকে তুচ্ছ করে খুব করে চাইতাম তুমি কেবল আমার সাথে থেকে যাও। আমি শুধু তোমাকে দুচোখ ভরে দেখে যাই। ইটের পাঁজার মতো থরে থরে সাজানো সুখের সাঁচিস্তূপ আমার জীবনে তো তুমিই প্রথম সাজিয়েছ অথচ সেই তুমি আজ সকল ব্যাথা বেদনার উৎস হয়ে রইলে। এখন আমার মাঝে মাঝেই চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়, শুভঙ্কর আমার মন ভালো নেই, তুমি আমার মন ভালো করে দাও প্লিজ!

প্রিয়তমেষু, তুমি আমার অব্যক্ত অনুভূতি। অপ্রকাশিত এক সত্য। যে সত্যের সন্ধান আমি কখনোই কাউকে দেইনি। তুমি নিজেও জানো না তুমি আমার কতটা জুড়ে আছো। এই ছটাক খানেক বুকে একটা গোটা আকাশ সমান ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছি তোমার জন্য। জানো! তীর্থের কাক হয়ে বসে থাকতাম কখন তুমি আসবে, কখন আমার সাথে কথা বলবে সেই অপেক্ষায়। কিন্তু আমার অপেক্ষা শুধু অপেক্ষা হয়েই থেকে গেছে। তবুও মুখ ফুটে বলিনি কিছু। কখনো বলা হয়নি তোমাকে ছাড়া আমার ভীষণ কষ্ট হয়। হারানোর ভয় পেতাম। তাই তোমাকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ অভিযোগের ধোঁয়া বাষ্পাকারে উড়িয়ে দিয়েছি পাঁজা পাঁজা মেঘের ভাঁজে।

কিন্তু নিয়তি একপেশে চাল চেলে গেল! এত মেনে নেয়া, মানিয়ে নেয়ার ভীড়েও তোমাকে আমার হারাতে হলো। খুব করে চাওয়া জিনিস গুলোই তো আমরা হারাই। তাই হয়ত তোমাকেও হারালাম। মন প্রাণ উজার করে তোমাকে চাওয়াটাই বোধহয় আমার বড় ভুল ছিলো। তুমি চলে গেলে। প্রচন্ড অভিমান হল। বুকের মধ্যে গেঁথে থাকা তোমার নামের শিকড়টাকে এক টানে উপরে ফেলতে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ টের পেলাম। দীর্ঘশ্বাস আর পাজড় ভাঙার চুরমার শব্দে প্রাণ পাখি হাফ ছেড়ে বাঁচতে খাঁচা ছেড়ে উড়ে পালাতে চায়। তবুও হার মানিনি। কারণ তুমিই তো আমাকে বাঁচতে শিখিয়েছিলে

এই পৃথিবীর সব কিছুই নিয়ম মেনে চলে। নিয়ম মেনে যায় আবার নিয়ম মেনে ফিরেও আসে। কিন্তু তোমার চলে যাওয়াটা যেন ধ্রুব এক সত্য। জানো! আমার মাঝেই মনে হয় এই বুঝি তোমার সাথে দেখা হয়ে গেলো। কখনো মনে হয় বাসের সিটে পাশে এসে বসলে, কখনো পিছন থেকে ডাকলে, কখনো বা পথ চলতে তোমার হাতঘড়ির সাথে আমার শাড়ির আঁচল আটকে গেলো। আঁচল ছাড়িয়ে নেয়ার বাহানায় আমি তোমার হাত ছোঁবো। সেই আনন্দেই কেটে যাবে আমার সহস্র জীবন। আচ্ছা, এসব কি শুধুই সিনেম্যাটিক ঢং। যদি তাই হয় তবে তোমার সাথে কি আমার কোনদিনও দেখা হবে না! এই পৃথিবীতে তো কত কিছুই ঘটে কিন্তু তোমার সাথে আমার দেখা হয় না কেন! বাস্তবতা কি এতোটাই কঠিন!

শুভঙ্কর, তুমি আমাকে নিদারুণ এক সঙ্কটে ছুড়ে ফেলেছ। তোমাকে ভুলেও থাকতে পারছি না। আবার তোমার কাছে যাওয়ার সব রাস্তা আমার বন্ধ। দুঃখের লোমশ হাতের নির্দয় নখরাঘাত আমাকে ছিন্নভিন্ন করছে প্রতি মূহুর্ত। কিছুতেই মনের শ্রাবণ থামে না। আমি অঝোরে অশ্রুজলে আঁচল ভিজাতে থাকি। ঘুরতে ফিরতে বলে চলি শুধু একটি কথাই– শুভঙ্কর তুমি কি একবার ফিরে আসবে প্লিজ! এবার ফিরে আসলেই তোমাকে বলে দিবো স্ট্রেটকাট–ভালোবাসি।

ইতি,
মৃণালিনী

নির্বাচিত দ্বিতীয় চিঠি: সুমাইয়া আফরিন

প্রিয় বাবা,
হাজারো মন খারাপের বেড়াজাল ছিন্ন করেও বলতে হচ্ছে, তোমার সাথে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ পাইনি। তাই আর পাঁচটা চিঠির মত এই চিঠিতে বাবা মেয়ের খুনসুটির খুব একটা গভীরতা থাকবে কিনা সেটা সত্যিই আমার জানা নেই। তবুও, তোমার সাথে সেই ছোটবেলায় করা খুনসুটিগুলোর স্মৃতিচারণ আর বর্তমানে তোমার না থাকাকে ঘিরে আমার মনের অব্যক্ত কিছু অনুভূতি নিয়েই আজকে তোমার তরে এই খোলা চিঠি লেখা ।

বাবা তুমি ছিলে আমার জীবনে-
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার শৃঙ্খলে ঘেরা লড়াকু সৈনিক নামের বীর, যে কি-না আমার জন্য হয়েছিলে- একরাশ নিরাপত্তার শক্ত কোনো প্রাচীর ।
বাবা আমার জন্য তুমি ছিলে-
মাথার উপর বটবৃক্ষের ন্যায় নিবিড় কোনো ছায়া, আজও আমার বুকে তোমার জন্য পুষে রাখি স্নেহভরা আছে যতো মায়া।
বাবা তোমার কাছে হাঁটতে শিখেছিলাম, শিখেছিলাম কথা বলতে;
তোমার হাতটি ধরে-ই শুরু করেছিলাম জীবনের প্রথম পথ চলতে ।
বাবা তুমি ছিলে উদার আকাশ, আমার জন্য বৃহৎ কোনো খুঁটি;
যে কিনা আগলে রেখে শুধরে দিয়েছিলে ছিল মোর যতো ত্রুটি ।
বাবা শত কষ্ট সহ্য করেও আমায় রাখতে তুমি সুখে,
লাগলে ক্ষুধা, করলে বায়না এনে দিতে তখন যা বলতাম মুখে ।
বাবা আমায় ভালো রাখতে গিয়ে এক চশমায় পার করে দিয়েছিলে হয়তো বয়স তোমার আশি,
মম কবিতায় বলছি আজ বাবা! তোমায় ভালোবাসি ।

আর তুমি ছাড়া এ জীবন ছোট্ট ডিঙ্গি নিয়ে উত্থাল সাগর পাড়ি দেওয়ার দুঃসাহসিক চেষ্টার নাম।
আজ মনপাঁজরে কড়া নাড়তে থাকে, অনন্ত পথ তোমায় ছাড়া চলতে হবে একা, জানি ভেঙে দিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা । কারণ বিরূপ বিশ্বের অজানা বিপদের হাতছানি থেকে আগলে রাখতে যেই তুমি সর্বদা এগিয়ে আসতে, আজ সেই তুমি আর আমার জীবনে নেই। আর নেই বলেই এখন নিজেকেই প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় সৈনিকের বেশে।

বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমার বর্তমানের তুমিহীনা জীবন কতটা অগোছালো সেটা তুমি থাকাকালীন সেই গোছালো জীবন খুব করে স্মরণ করিয়ে দেয় । তোমার সাথে মাত্র দুই-কদম হাঁটতে বের হলেও তুমি হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে । সেদিন সেই ধরে রাখার মানে বুঝতাম না কিন্তু আজকে সেই ধরে না থাকার অভাবটা যে বড্ড বেশি তাড়া করে বেড়ায়। এখন দুঃখের সাগরে পতিত হলেও কারো বুকে এসে একটু তীরের সন্ধান খুঁজে দেখা হয় না, চরম হতাশা কিংবা বিপদগ্রস্ত হলে কেউ এখন মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় না, দীর্ঘপথ চলতে গিয়ে চলার পথে হোঁচট খেয়ে হঠাৎ পরে গেলেও কেউ তোমার মত আর সামলে নেয় না ।

তাই আজও যখন নিজের চোখের সামনে অন্য কাউকে তার বাবার সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখি, তখন একরাশ কালো মেঘের ছায়া এসে ভর করে আমার হৃদয় কোণে। কখনো বা বুক ফেটে বেরিয়ে আসে শত না পাওয়ার, কত না ডাকতে পারার অতৃপ্ত যতো আর্তনাদ। কিন্তু ওই যে আমাদের মতো বাবাহীনদের বুক চিঁরে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস কিন্তু বুক যতোই ফেটে যাক; মুখ তো ফেটে যাওয়ার নয়। তাই লোকসমাজে আমি হয়তো স্বাভাবিক ভাবেই দিনের পর দিন জীবন অতিবাহিত করছি। কিন্তু যখন কোনো কিছু চোখের সামনে দেখলেও হাজারো ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কিনতে না পারার ব্যর্থতা অনুভব করি, তখন বুঝি আমার জীবনে তুমি নামক বটবৃক্ষের অবদান ছিল কতটা। এখন আর নিজের ইচ্ছেগুলো সব সময়ে পূরণ করা হয়ে উঠে না। প্রায়ই ইচ্ছেগুলো নিজের মন কুঠুরিতে রেখে দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না সামলিয়ে এগিয়ে যেতে হয় পরবর্তী সময়ে কি করব সেটা ভেবেই।

জানি আজকের এই খোলা চিঠিতে লেখা অনুভূতিগুলোও তোমার তরে গিয়ে পৌঁছাবে না।

বাবা! তোমাকে আর পাব না,
সে কথা জেনেও খুব যত্ন করে
সঙ্গপণে আজও অশ্রু ঝরাই হৃদয় কোণে ।
মনপাঁজরে রক্ত ঝরে-
ডুকরে ডুকরে ভেতর কাঁদে,
তুমি না-ই বা সেটা দেখলে ।”

আজ এখানেই শেষ করছি। অথচ তোমায় নিয়ে আমার সব অব্যক্ত কথামালা একটা চিঠিতে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু চিঠির যে ইতি টানতেই হবে একটু আগে কিংবা পরে। তাই আমার কথার ইতি না টেনে বরং চিঠির ইতি এখানেই টেনে দিলাম।

ইতি,
তোমার ছোট মেয়ে
সুমাইয়া আফরীন

নির্বাচিত তৃতীয় চিঠি: মুনীম উল পিয়াল

অরু,
অনেকদিন তোমাকে চিঠি দেওয়া হয় না।কাজের এতো চাপ। মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে মৌপুরে ফিরে যাই। পরক্ষনেই মায়ের অসুখের কথা ভাবি। আমরা সবাই আসলে একজনের ইচ্ছার ক্রীড়ানক। নইলে দেখো যে তোমার কথা আমি প্রতি সেকেন্ডে ভাবি সেই তোমাকেও সপ্তাহে একটা চিঠি দিতে পারি না, এতোটাই ক্লান্ত থাকি।

তো আমি না হয় ব্যস্ত থাকি, অরুনিমা মুখার্জী কি নিয়ে এতো চিন্তিত থাকে? মাধ্যমিকের তো ঢের বাকি! এখনো কি আগের মত টই টই করে ঘুরে বেড়ানো হয়? বড় হবে না কোনকালে? ২ সপ্তাহ পার হয়ে গেলো অথচ নীল খামের উপরে গুটি গুটি অক্ষরে শ্রী মাধব ব্যনার্জী লেখা না দেখলে কি মন ভালো থাকে? মেনে নিলাম আমি উত্তর দেইনি বলে তুমিও ফের চিঠি পাঠাচ্ছো না! অভিমানের পাল্লাটা ছোট বেলা থেকেই তোমার অনকে বেশী। মনে পড়ে যেবার শশীদার বিয়ে হলো তার মধ্যে আমাকে ঠাঁকুরদার বাড়ীতে যাওয়া লাগলো কি একটা কাজে। আসার পরে তোমার সে কী অভিমান!মুখ টুখ গুমড়িয়ে টানা ২ ঘন্টা কথা বলো নি আমার সাথে। আমি সেইদিনই প্রথম বুঝেছিলাম, অন্তরে যার জন্যে অভিমান বসত বাঁধে, সে অবশ্যই বিশেষ কেউ হয়। যদিও আমি আগ বাড়িয়ে তোমার চুল ধরে টান না দিলে সেদিন আর হয়তো কথাই বলতে না………..সেই কবে কার কথা! কিন্তু স্থির ছবির মত ভেসে ওঠে একটা ষোড়শ কিশোরীর অভিমানী মুখ! আহা কী দিন ছিল!

গত চিঠিতে তুমি জানতে চেয়েছিলে আমি এতো শুকিয়ে গেছি কেন? অন্তরে যার দৈন্য শরীরে কি তার প্রতিফলন ঘটবে না!!! কত শখ ছিল বল ছইওয়ালা নৌকায় লাল শাড়ীতে তোমাকে নিয়ে যাবো পূরবীর মেলায়। কাঁচের চুড়ি, আলনা, কাজল সব কিনে দেবো। তোমার হাসি হাসি মুখের সেই দৃশ্য কল্পনা করে বুকের মাঝে চিন করে ওঠে। কবে যে বিধাতা মুখ তুলে চাইবে!!

সামনের কালীপূজোয় ভেবেছি কয়েকদিনের ছুটি নিব। আবার আশায় বুক বেঁধো না। ম্যানেজার বাবুর ডান হাত আমি। আমাকে ছাড়া সব কিছু ম্যানেজ করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না, হয়তো এই জন্যেই ছুটি আমার কমই মঞ্জুর হয়। মায়ের জন্যে একটা সাদা থানের কাপড় কিনেছি! অথচ মায়ের কতই বা বয়স বলো? মালতী কাকী যখন কপালে চওড়া সিঁদূর, গায়ে রঙ্গিন শাড়ী পরে মায়ের কাছে গল্প করতে আসে। আমি জানি মায়ের খুব খারাপ লাগে। আমারও খুব ইচ্ছে করে মাকে ওমন করে দেখতে। কিন্তু সব ইচ্ছা করলেই তো আর হয় না। আমরা কেউই সমাজের উর্ধ্বে নই।

কিছু মনে করো না তোমার জন্যে একটা ঝুমকো দুল কিনেছি। সেদিন দেখলাম ম্যানেজার বাবু তার শালীর জন্যে কিনছেন, দেখে আমারও খুব ভালো লাগলো। আর আমি তো জানি একজোড়া ঝুমকোর কত সাধ তোমার। আমি এটা ভাবছি, চিঠিটা পড়তে পড়তে তোমার দুয়েক ফোটা আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়বে চিঠিটার উপরে….

চিঠি গুলো এখন কেমন জানি হয়ে যায় অরু।আমি এমনি করে লিখতে চাই না তবুও হয়ে যায়। আমার তো এইগুলো লিখার মত আর কেউ নেই। এই অসংলগ্ন পাগলের প্রলাপ পড়ে কখনো হাসো কখনো কাঁদো। তবে জেনো আমি কিন্তু অপেক্ষায় রইলাম কাল চিঠি চাইই চাই…..

একগুচ্ছ রজনীগন্ধার সুবাস পাঠিয়ে দিলাম।চোঁখ বন্ধ করে অনুভব করো। আমার প্রিয় শিউলির মালা গাঁথো কি এখনো ?

ইতি,
অপদার্থ মাধব।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments