দল মত নির্বিশেষে ও দেড় ব্যাটারির গান- নামিদ ফারহান

  •  
  •  
  •  
  •  

দেড় ব্যাটারি:
কুনো প্রবাদ প্রবচন বা খনার বচনে বোধকরি শব্দটা পাওয়া যাবেনা, কিন্তু বাংলার মহল্লায় মহল্লায় এর প্রসার এবং প্রয়োগ বিশাল। আক্ষরিক এবং মৌলিকার্থ বুঝাতে গেলে বলতে হয় অকেজো কুনো পদার্থ বা ব্যক্তি বা কুনো সমষ্ঠি। আরো সহজ করে বললে শব্দার্থ আঞ্চলিক বা চলিত ভাষায় বুঝায়, ধুর, ফইর কিংবা বাতিল।
তো এখন, প্রশান্তিকায় দেড় ব্যাটারি কি করে? তেমন কিছুনা, কৌষ্ঠকাঠিন্যময় সময় ও সমাজব্যবস্থার পরিপ্রক্ষিতে কিছু আলপিন গাঁথাই এই দেড় ব্যাটারির কাজ। এখানে কুনো ঘটনাবলী বা কারও কুনো পদক্ষেপ অত্যন্ত আদর করে মুখোরোচাকারে রম্যস্বাদে আবৃত করা হবে এবং ব্যাটারীর মতো সকল ও নির্দিষ্ট কিছু সময়ালোচিত ব্যাপারের পজিটিভিটি, নেগেটিভিটি চলিত ও আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থাপন করা হবে। এতে করে কারও বা কাহারো যদি বিষফোঁড়ার উৎক্ষেপন ঘটে তবে দয়া করে নিজ দায়িত্বে তিতাস মলম খরিদে সিদ্ধহস্ত হয়ে বাধিত হবেন। যেহেতু এটি অষ্ট্রেলিয়া থেকে চালিত হয় সেহেতু এখানকার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
ধন্যবাদ।
বিভাগীয় সম্পাদক
দেড় ব্যাটারি।

 

দল মত নির্বিশেষে


কসম পয়দাকরনেওয়ালাকা, জ্ঞান হওনের পর থিকা হাডে ঘাডে মাডে মাইকে দেয়ালে নানান দলের নানান তুলুতুলু বাণীর লগে এই কথাটা সাটানি দেকতাছি।

হু, রাআআআজনিতী দলের কতাই কইতাছি। মুটামুটি দেশের যতো গুলান আন্দোলন দোলন দেকছি ভালোই লাগছে যে, যে যার জায়গা থিকা যার যার দলের ফেবারে চিল্লাইছে। ফেয়ার এনাফ। যেডা সাপট করি ঐডার লগেই তো থাকবো, নাকি?

তাইলে পেযগি কি?

দেড় ব্যাটারি হা-পুইত্তাশ করে ক্যান?

এই ধরেন আমাগো এই সিডনীতে দুইডা প্রধান দলেরই নানাবিধ বিভক্তির ভক্তি দেইখাই এ হা পুইত্তাশ। আগে সরকার দলের কতা কই। এইযে কতদিন আগে আমাগো প্রাইম মিনিষ্টারের জনমদিন ধুমধাম কইরা সেলিব্বিট হইলো। এক পাট্টি তো ডাকটিকিট ছাপায় দিলো, বাহবাযুক্ত কাম। কিন্তু গুতা কই খাই জানেন?
ভাই দল এক নেত্রী এক , সবচেয়ে আসলি হইলো দেশ এক , এত্তুকিছু এক হইয়াও এক পাট্টি আনন্দ করে ডাকটিকিট দিয়া আরেক পরশন দেহি লাহাম্বার লেবু বেকারীতে দল বাইন্ধা ঘুরে কেক কিনবো কইয়া। ক্যান ভাই এই সক্কল কাম হগ্গলতে মিল্লা একলগে করা গেলোনা? একটা মানুষের লিগ্গাই তো এতো কিছু করেন নাকি? তাইলে পিঠের পিছে পিঠ ক্যান? কান্ধের পাশে কান্ধ দেন।

কেক এর কতায় আরেকটা জিনিস ইয়াদ আয়া। দুই বছর আগেও এই কামডা নজরে আইছিলো। স্বাধীনতা দিবসে ক্যানবেরা হাই কমিশন অপিসে, দিবস উয্যাপনের লিগ্গা কেক আনছে, কইনছেন কি কেক? বাংলাদেশের পতাকা দিয়া কেক। মেলা হেডাম হুডাম বিবেকবান আছিলো ঐহানে, ফেবুর ছবি স্বাক্ষী। তো ঐ বিবেকবানগো মাথায় টুক্কা আইলোনা? যে দেশটারে চক্ষের সামনে কাইট্টা কুইট্টা ক্যামনে খাই? ভাই বোইন, আমরা অহনতুরি অতো উন্নত হইতাম পারি নাই যে পতাকা দিয়া ব্রা জুতা কিংবা বিকিনি বানায় ঘুরুম, অমন হইবারও চাইনা। আধুনিকায়ন ভালো, প্রশংসনীয় কিন্তু পতাকা বা মানচিত্রডা বাদ দেন। সম্প্রতি কুথায় কুন কেক ক্যমনে কাডা হইছে, আর কইলাম না।

শুধু দেড় ব্যাটারী কয়-
“ আমাগো ঘর পুরানাই ভালো
ঢিমঢিমাইয়া যদি জ্বলেও বা আলো?
ভালো ভালো, সব ভালো ভালো,
যদি চকিতে ভাবিয়া নেত্র সম্মুখে জ্বালাও আলো।”