দশ মিনিটে ক্যানসার শনাক্ত পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যিনি 

  •  
  •  
  •  
  •  


বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর আবিস্কার, দশ মিনিটে শনাক্ত হবে ক্যানসার। এমন ছন্দবদ্ধ হেডলাইনে ছেয়ে গেছে বাংলা ভাষাভাষী সকল সংবাদপত্র। আর সেই সংবাদের শিরোমনি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনবাসী আবু সিনাহ শুভকে ঘিরেই আমার আজকের তুলির আঁচরের বিষয়।

স্বদেশকে ভালবাসার প্রমাণ দিতে প্রস্তুত থাকে যে কোন দেশপ্রেমী। আর প্রবাসীদের বেলায় তো বলবো তারা তাদের কর্ম দিয়ে এর প্রমাণ রাখতে সবসময়ই একটু বাড়তি চাপ লালন করে মনে-প্রাণে।সেই সব চাপ আর কর্মঠ কর্মযজ্ঞ দিয়েই তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

এই তো গত ৫ই ডিসেম্বর বুধবার সারা বিশ্বের সকল টিভি চ্যানেল আর মিডিয়া জগত নড়েচড়ে বসে বিশ্ববাসীকে এক যুগান্তকারী আবিস্কারের খবর জানিয়ে তাক লাগিয়ে দিল।
ক্যান্সার নির্ণয়ের একটি ইউনিভার্সাল বায়োমার্কারের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা যখন ধ্যানরত, আমাদের দেশের ড: আবু আলী ইবনে সিনা শুভ (research fellow at university of Queensland) ও তার পুরো টিম আচমকা তাদের ধ্যান ভাঙালো ইউরেকা চিৎকারে ।

তার গবেষণা দল ক্যান্সারের এমন একটি ইউনিভার্সেল বায়োমার্কার আবিষ্কার করেছে যার মাধ্যমে ১০ মিনিটে সকল ধরণের ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব। পৃথিবীর বিখ্যাত সব মিডিয়া যেমন সিএনএন, ফোর্বস, নিউইয়র্ক পোস্ট, ইউএসএ টুডে, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ, কুরিয়ার মেইল এবং দি অস্ট্রেলিয়ান সহ অস্ট্রেলিয়ার সকল টেলিভিশন চ্যানেল তার সাক্ষাৎকার সহ খবরটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রচার করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বা প্রধান সংবাদপত্র “ courier mail” ১২ই ডিসেম্বর  তাদের প্রথম পাতায় “ It’s a game changer” নাম দিয়ে exclusive শিরোনাম দিয়েছে ! এই আবিস্কারের সব লেখাগুলো পড়ে বা vidéo  দেখে আমি যা বুঝতে পারলাম তার সোজা বাংলা করলে দাঁড়ায় তার ব্যাখ্যাটি এমন যে, আমাদের শরীরের  নানা জায়গার রোগ প্রতিরোধক কোষগুলো নানা রকম আচরণ করে। তাই শরীরের নির্দিষ্ট স্হানে ক্যান্সার শনাক্ত করতে আলাদা আলাদা টেস্ট করতে হয়। এবার এই বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর DNA তে এমন একটি বৈশিষ্ট আবিস্কৃত হল যা সকল ক্যান্সারের cell এ দেখা যায়।

তার মানে এখন থেকে আর আমাদের প্রতিটি অঙ্গের জন্য আলাদা করে টেস্ট করতে হবে না ক্যান্সার সেলের উপস্থিতি জানতে। রক্ত পরীক্ষার মত সহজ, কমদামী আর স্বল্প সময়ে ( ১০ মিনিট) জানতে পারবো আমরা যে শরীরের কোন অঙ্গটি ক্যান্সারে আক্রান্ত।
এই যুগান্তকারী আবিস্কারের মাধ্যমে চিকিৎসা শাস্ত্রের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হল। এখন আর আমাদের প্রিয়জনকে হারাতে হবে না এই খবর শুনে যে “ ক্যান্সারের 4th stage ছিলো, আগে জানা যায়নি”!

শরীরের আয়রণ , হিমোগ্লোবিন, ডায়াবেটিকস, বা ভিটামিন ডি এর মাত্রা জানার টেস্টের মত করেই আমরা এখন নিয়মিত দেহে ক্যান্সার উপস্থিতির  টেষ্টটিও সহজেই করতে পারবো। ক্যান্সারে মৃত্যুর হার এখন কি পরিমান আয়ত্বে আনা সম্ভব হবে একবার ভাবেন তো !
যদিও এটা সকল formalities শেষ করে বাজারে আসতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। আমাদের আবিষ্কারক কিছু সুখবরও দিচ্ছেন যে পেটেন্টএর জন্য আবেদন করা শেষ। আর কিছু sponsor এগিয়ে এলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময়ও খুব কম লাগবে।


এবার যে কথাটা গর্বের সাথে বলতে চাই, তা হল এই স্বনামধন্য বিজ্ঞানী শুভর পাশে বসে খাওয়া, গল্প করা, কমিউনিটির জন্য একত্রে কাজ করার যে দূর্লভ সৌভাগ্য আমার হয়েছে তা জীবনের সঞ্চয় হয়েই রইল।
বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে আবু সিনহা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পিএইচডি করতে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।
তাকে এই বিশেষ অবদানের জন্য সম্বর্ধনা দিতে কালক্ষেপণ করেনি ব্রিসবেনে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটি। গত ৭ই ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার সন্ধ্যায়  “ বেঙ্গল কিচেন” এ ব্রিসবেনের কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ফুল উপহার দিয়ে আর কেক কেটে  ইবনে সিনাকে অভিনন্দিত করেন। এমন ঝটিকা আয়োজনে উপস্থিত হয়ে সবাই যেনো আনন্দের সাগরে ডুব সাঁতার দিচ্ছিল। আমার তখন কেবলি মনে হচ্ছিলো বিশ্বব্যাপি বাঙ্গালিরা এমন করেই আমাদের বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করে তুলুক। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ চলছে এখন।

তুলি নূর
লেখক ও সাংবাদিক
ব্রিসবেন প্রধান, প্রশান্তিকা।