দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ

220

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনের মূল বিষয় ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। কোনো গুদামে খাবার ছলি না, ব্যাংকে টাকা ছিল না, যাতায়াত ব্যবস্থা ছিলনা। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি সবকিছুকেই গড়ে তুলেছেন।

আসাদুজ্জামান নূর জাতীয় জাদুঘররে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু কীভাবে আামদের স্বাধীনতা এনেছেন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতত্বি করেন বাংলাদশে জাতীয় জাদুঘররে র্বোড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাসেম খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহেমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান বিশ্বাস।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হঠাৎ করে বাঙালির আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে উঠেননি। চব্বিশ বছর তার কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে স্বাধীনতা লাভের জন্য। তাঁর নেতৃত্বের ক্যারিশমার ফলেই মাত্র নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু এর জন্য বাঙালি জাতিকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘকাল আন্দোলন করতে হয়েছে।

মুনতাসীর মামুন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামরেই ইতিহাস। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি বছর আমাদের ইতিহাসের মাইলফলক এবং প্রতিটির সঙ্গে তিনি জড়িত। অনেকের ধারণা ১৯৬৬-১৯৭০ সময়কালের মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সৃষ্টি। কিন্তু তা তো নয় , ১৯৪৮ সাল থেকেইে বাংলাদেশ স্বাধীন করার সংগ্রাম শুরু করেন বঙ্গবন্ধু ।

নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ হবে বলে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তিনি জীবিত থাকলে তা এতদিনে বাস্তবায়ন হয়ে যেতো। যুদ্ধবধ্বিস্ত বাংলাদশে খাদ্য ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৪-৭৫ র্অথবছরে ৮ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়ছিল। যা এখন র্পযন্ত আর কখনো হয়নি।

শিল্পী হাসেম খান নতুন প্রজন্মের সন্তানদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন পাঠ করার আহবান জানিয়ে বলেন , স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর মতো এত ত্যাগ শিকার বিশ্বের আর কোনো নেতা করেননি। এ কারণেই সারা বিশ্ববাসী বঙ্গবন্ধুকে সাধারণ মানুষের নেতা, শ্রমজীবী মানুষের নেতা হিসেবে জানেন। তাঁর জীবন ও আন্দোলনের ইতিহাস সকল বয়সের মানুষেরই জানা প্রয়োজন।