দোকানদার-ওয়াজীহ্‌ রাজীব

99

দোকানদার

আমার একটা দোকান আছে
এটা বেচি সেটা বেচি
এখান ওখান থেকে কিনে
এর ওর কাছে গছিয়ে দেই
খুব চলেনা, কোনমতে
দিন কেটে যায় পেটে ভাতে
অঙ্কে আমি একটু কাঁচা
তাই বুঝিনা দোকানটাতে
কত মরণ, কত বাঁচা।

আমার একটা দোকান আছে
কয়েকজনের ক্ষিদে মেটায়
পেটের ক্ষিদে, চোখের ক্ষিদে
রাতে স্বপ্ন দেখার ক্ষিদে
মনের ক্ষিদে খুব যে মেটায়
তা বলবনা, মনের কি আর
তল আছে ভাই?
রাত্রে যখন শাটার নামাই
সবাই ভাবে, ভালোই আছি
আমিও ভাই যে দাম মেলে
তাতেই খুশি। অন্ধ সেজে
খেলার নামই কানামাছি।

চেয়েছিলাম একটা দোকান
খুব সাজাব, শব্দে কথায়
কোথাও কোথাও সুর লাগাব
কোথাও কোথাও রঙ মাখাব
যে কিনবেনা, সে কিনবেনা
কিনতে চাইলে, সুরের সাথে
রঙ ফ্রী দেব।
শব্দ নিলে, স্বপ্নটা ফ্রি
কবিতাতে আধেকটা ছাড়
বেচে দেব, হেথায় হোথায়
যত্ত আছে গল্প আমার।

এই দোকানেও শব্দ আছে
গল্প আছে, কেউ কেনেনা
যে আমাকে আমি চিনি
সে আমাকে কেউ চেনেনা।

মাঝে মাঝে দূরের থেকে
একটা দুটো পথিক আসে
একটু বসে। এটা সেটা নেড়ে দেখে
কিনতে চায়না, কেনার ছলে
গল্প করে, তাদের গাঁয়ের
তাদের নদীর। আমি হাসি
আমি জানি, তারাও তাদের
গল্পগুলো বেচতে আসে
আমিও তাই, গল্প দিয়ে গল্প কিনি
এ ব্যবসাটাই সবার থেকে ভাল চিনি
তাইতো আমি ঝাঁপি খুলে
তাদের জন্য বসে থাকি।
যেমন থাকে চাতক কিংবা চকোর পাখি
পান করতে জোৎস্না কিংবা জলের ধারা
আমার আছে দুটো দোকান
দ্বিতীয়টা কেউ জানেনা
আমি ছাড়া।