নতুন মন্ত্রীসভাঃ মানুষের বাস্তব ভাবনা-রণেশ মৈত্র

একাদশ সংসদের নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ শেষ হলো। যথাশীঘ্র সম্পন্ন হলো আরও কয়েকটি কাজ। যেমন- গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ, এম.পিদের শপথ গ্রহণ, মন্ত্রী পরিষদের নামের তালিকা প্রকাশ এবং মন্ত্রী পরিষদের শপথ গ্রহণ।
বি.এন.পি-গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সাত জন ঐক্যফ্রন্টের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে কবলে পড়ে শপথ নিতে পারলেন না। ইতোমধ্যে তাঁদের সংখ্যা আরও একজন বেড়েছে ব্রাক্ষণ বাড়িয়ায়। সংসদে না যাওয়াতে তাঁরা সংসদে বিরোধী দলীয় ভূমিকাই পালন করতে পারবেন না-অপরদিকে শপথ না নেওয়ার ফলে নির্দিষ্টকাল পরে তাঁদের আসনগুলিতে নতুন (এবং সম্ভবত: একদলীয়) নির্বাচন হবে। পূর্ণ হবে ষোলকলা। শতভাগ একদলীয় পার্লামেন্ট গঠিত হবে।
তবে এর দায়-দায়িত্ব আওয়ামীলীগের ঘাড়ে চাপানো অন্যায় হবে। এ কথা অবশ্য ঠিক, নির্বাচন বহু কারচুপি হয়েছে। তার প্রতিবাদ কোথায় করতে হবে ? নিশ্চয়ই শুধুমাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে নয়। প্রতিবাদ হতে হবে সর্বত্র, সংসদে-সংসদের বাইরে, হাটে বাজারে সর্বত্র। মিছিলে মিছিলে সমাবেশে সমাবেশে দেশটাকে প্রকম্পিত করতে হবে। অতীতে তাই করা হয়েছে। বাল্যকালে আমরা তাই করেছি। এমনিতেই ভাষা আন্দোলন হয় নি, এমনিতেই যুক্তফ্রন্টের বিজয় ঘটেনি, এমটিতেই শিক্ষা আন্দোলন হয় নি, এমনিতেই ৬ তে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন হয় নি- হয় নি গণ অভ্যুত্থান-হয় নি বঙ্গবন্ধু ও কমরেড মনি সিং এর মুক্তি, হয় নি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক বিজয় ও যে বিজয়কে আজ নানাভাবে ম্লান ও বিবর্ণ করা হচ্ছে একেবারেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে।

কথা বলছিলাম জাতীয় সংসদ নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে সুযোগ-সন্ধানী এরশাদ তার দলের অভ্যন্তরীণ মতামতকে অগ্রাহ্য করে বিরোধী দল সেজেছে সরকারি আনুকূল্য নিয়ে। ঠিক আগের বারের মতই। তবে আগেরবার স্পষ্টভাবে বিরোধী দল হিসেবে পরিচয় না দেওয়ার ফলে বেশ কয়েকটি মন্ত্রীত্ব বাগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এবারে সম্ভবত: তা নির্ভর করবে কি জাতীয় ভূমিকা তারা সংসদের পালন করে তার উপর। যদি প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে তবে হয়ত মন্ত্রীত্ব জুটবে না-নইলে হয়ত পাবে দু’একটি আসন। এ নিয়েও জাতীয় পার্টিতে প্রবল মতানৈক্য দেখা দেবে। দলটি ভেঙ্গে শেষ পর্য্যন্ত একটি অংশ আওয়ামীলীগে বিলীনও হয়ে যেতে পারে। অবশ্য এ সবাই আমার অনুমান মাত্র। সত্য হতেও পারে-নাও পারে।
ঐক্যফ্রন্টের আরও একজন প্রার্থী জিতবার ফলে তাঁদের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৮। আমার মনে আছে ১৯৭২ এ যখন সংসদে সংবিধান প্রণয়ন করা হয় তখন বিরোধী দলীয় একমাত্র সংসদ ছিলেন ন্যাপের প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। একাই তিনি গোটা সংসদ কাঁপাতেন তাঁর যুক্তি-তর্ক ও রসিকতা উপস্থিত বুদ্ধি প্রভৃতি দিয়ে। তা আজও সম্ভব তবে জানিনা সংসদের বর্তমান নেতারা ক্ষুদ্র একটি বিরোধী দলের নেতাকে তেমন কোন সময় দিতে চাইবেন কিনা। দিলে গণতন্ত্রই সমৃদ্ধ হয়-সংসদও প্রাণবন্ত হয়। একটি প্রাণবন্ত সংসদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কারণে। সেখানে আলোচিত হয় কৃষকের, শ্রমিকের সমস্যাবলী, মধ্যবিত্তের বেকারত্ব দূরীকরণের বিকল্প পথ। নারী-নির্য্যাতন, শিক্ষার মানের অবনতি থেকে সুরু করে মানুষের প্রয়োজনীয় সকল কিছু। আর পার্লামেন্ট তো সে কারণেই।

সরকারি দলের মন্ত্রীরা থাকেন তাঁদের কাজের সমালোচনার বস্তুনিষ্ঠ জবাব দিতে। এভাবেই একটি সংসদের জবাবদিহিতার সৃষ্টি হয়। সে সুযোগ বাঙালীর জীবনে আসনে না মূলত: দায়িত্ব জ্ঞানহীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে।
বি.এন.পি’র পরাজিতদের চাপ থাকেত পারে শপথ গ্রহণ ও সংসদ বর্জনের। যদি তাই হয় তবে সেটা চূড়ান্ত স্বার্থবাদী এক সিদ্ধান্ত যা হবে তাদের দলের জন্যই মারাত্নক ক্ষতিকর।

এবারে মন্ত্রীসভা প্রসঙ্গে আসি। নবীন-প্রবীণে এবারের মন্ত্রীসভাটি গঠিত। যেন প্রধানমন্ত্রী একটা চমক দিলেন। চমক যে দিবেন তা ও অনেক আগে থেকেই শুনা যাচ্ছিল কিন্তু তা যে এতটাই তা কেউ অনুমানও করতে পারি নি।
কী করে জানা যাবে টেকনোক্রাট হিসাবে হলেও প্রবীন অর্থমন্ত্রী বাদ যাবেন-যদিও যিনি এসেছেন তিনিও ঐ মন্ত্রণালয়ের আগেও যুক্ত ছিলেন বলে মনে পড়ে। তিনি তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন ঋণের টাকা আদায় ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করাই হবে তাঁর পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তিনি আন্তরিকভাবে সেই পথে অগ্রসর হন-সফল হবেন নিশ্চয়ই। দেশ বাসীর ব্যাপক সমর্থন থাকবে তাঁর প্রতি। আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, রাশেদ খান মেনন এবং আরও অনেক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা এবার মন্ত্রীত্ব পান নি। মন্ত্রীত্ব পাওয়াটা অবশ্য এম.পি.দের অধিকার নয়। সংবিধান মোতাবেক এ অধিকার একান্তই প্রধানমন্ত্রীর। তিনি কোন চিন্তা থেকে এদেরকে বাদ দিলেন-তা একমাত্র তিনিই জানেন। তবে মানুষের মনে এতে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবর্তন অপরিহার্য্য হলে ধীরে ধীরে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা করাই সমীচীন।

১৪ দল বা মহাজোটের কোন আসন এবার জোটে নি নবগঠিত মন্ত্রসভায়। হ্যাঁ একথা হয়তো ঠিক জোট গঠনের সময় তাঁদের কাউকে মন্ত্রীত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় নি। তবুও যতদূর জানি, কতকগুলি কমন কর্মসূচির ভিত্তিতে ১৪ দলের অন্য দলগুলির সাথে আদর্শিক ঐক্য গড়ে তোলা হয় আন্দোলন ও সরকার গঠণের লক্ষ্যে। সেই ভিত্তিতেই বিগত দুই দফা তাদেরকে মন্ত্রীসভায় হয়েছিল। ঐতিহ্য কে রক্ষিত হলো না ? “আদর্শিক ঐক্য”কে কোন যথার্থ মূল্য দেওয়া হলো না। তবুও বিষয়টি যেহেতু একান্তেই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারে তখন তিনি হয়ত আরও ভাল কোন পদের কথা ভাবছেন ১৪ দলীয়দের জন্য।
এগুলি যাক। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হঠাৎ ঘোষণা দিলেন এম.পি পদে দাঁড়ানোর সময় যাঁরা সম্পদের যে ঘোষণা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী দূর্নীতির প্রতি …….নীতির ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক-তা সে আগের বা পরের যখনকার এম.পি. মন্ত্রী তা সে যে দলেরই হোক না কেন ? হঠাৎ করে এমন হুশিয়ারি ঠিক মন্ত্রীসভা গঠনের পরপরই প্রকাশ্যে উচ্চারণের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট নয়। অতীতের মন্ত্রী/এম.পি তো দীর্ঘ পাঁচ বছর একটানা ঐ দুটি পদে অধিষ্ঠিত থাকলেন কিন্তু কে, তাঁদের বিরুদ্ধে তো সামান্যতম ব্যবস্থা নিতেও দেখা হয় না। অথচ কি মালয়েশিয়া/কি ইউরোপের নানা দেশে হোক প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকেও দুর্নীতির দায়ে প্রায় ৩০/৪০ বছর মেয়াদের জন্য জেল খাটতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে হঠাৎ টেলিভিশনে খবর পেলাম সম্ভবত: ফিলিপাইন বা মালয়েশিয়ার এক মহিলা উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা চুরি করার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সেই দেশের আদালত ৩০/৪০ বছর মেয়াদের জেল দিয়েছেন। আর এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যাবে কি যে দেশের বিপুল পরিমাণ টাকা চুরি হয়ে গেল-সে সে দেশের ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পার্টনার শিপ ছাড়া কি বাইরের কারও পক্ষে একা এসে এমন কিছু করা সম্ভব? তা যদি না হয় তবে এ দেশের যারা দায়ী আইনের হাত তাদেরকে কেন এতদিনেও স্পর্শ করতে পারছে না? তবে কি এতে কেউকেটা জড়িত বলেই এমন হচ্ছে? আর এর নামই কি ‘জিরো টলারেন্স’ যা কয়েক বছর যাবত শুনতে শুনতে মানুষের কান ঝালাপালা হয়ে গেল?

পূর্বেই হয়তো বলেছি অতীতের কমপক্ষে ছয় সাত জন সিনিয়র মন্ত্রীর সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল অতীতের সংগঠন ও আন্দোলনের সুবাদে। কিন্তু এবারে তা নেই ব্যক্তিগত পরিচয় একজন নতুন মন্ত্রীর সাথেও নেই (একমাত্র ব্যতিক্রম রূপপুর আণবিক প্রকল্প সংক্রান্ত মন্ত্রী ছাড়া। তাঁর কাজ অবশ্য প্রশ্নাতীত- এক সময়ের বুয়েটের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও সেখানকার ছাত্র সংসদের জনপ্রিয় ভি.পি ছিলেন তিনি। এই গেল আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত মন্ত্রী-যিনি এবারও মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন। আশা করি রূপপুর প্রকল্পের মত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পটি সময়মত সম্পন্ন করে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপক পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিত ও নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করবেন। এই প্রকল্পের সহায়তা করে রাশিয়া অতিশয় বন্ধুত্বসূলভ কাজ করলেন। সে কারণে সমগ্র বাঙালি জাতি রাশিয়ার প্রতি পুনরায় কৃতজ্ঞ।

নবগঠিত তারুণ্যভরা এই মন্ত্রীসভার সর্বাধিক দায়িত্ব হলো:
এক. দেশের বিরোধী দলসমুহের সাথে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা যাতে আমাদে দেশের বঙ্কুর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সত্বর নিষ্কন্ঠক হয়ে ওঠে;
দুই. অবিলম্বে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বা জোট ভিত্তিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ যাবত এবং সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সৃষ্ট সমস্যাবলী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের আন্তরিক চেষ্টা করা হোক;
তিন. চলমান মেগা প্রকল্পের নির্মাণ কাজে কোন প্রকার বাধা সৃষ্টি নয় বরং তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে তা দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা;
চার. বাহাত্তরের সংবিধানের মৌলিক চারনীতি নিয়ে ঐকমত্যো পৌঁছে ঐ সংবিধানের অবিকল পুরুজ্জীবনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া;
পাঁচ. বিগত সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী বিরোধী দলীয় প্রার্থীগণ যাতে দ্রুত শপথ গ্রহণ করেন এবং বিরোধী দলের আসনে বসে দেশের সমস্যাবলী নির্বিবাদে তুলে ধরেন।
ছয়. সন্দেহ নেই বিগত বছরগুলিতে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘটেছে এবং হয়তো শীঘ্রই রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে আরও অনেক পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে। দেশের এই বিদ্যুতের ডোমেষ্টিক এবং ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ব্যবহার কমহারে সরবরাহ করে ব্যাপক শিল্পায়নের ব্যবস্থা করে বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক;
সাত. সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সরকার শীঘ্রই জামায়াতে ইসলামী ও অপর কিছু ধর্মাশ্রয়ী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে যদি সরকার সে ব্যাপারে আন্তরিক হয় তবে ঘটনাটা হবে ‘তওবা’ করার সামিল। কারণ তারা তাদের ক্ষমতায় যাওয়া বিগত ২০টি বছরে বারবার ঘোষণা দিয়ে আজও সে পথে হাঁটে নাই বরং বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক জামায়তীকে আওয়ামীলীগে সাদরে ঢুকিয়ে নিয়ে তাদের মামলা মোকর্দ্দমা প্রত্যাহার করে বহু ইউনিয়ন জেলা পরিষদ চেয়াম্যান মেম্বর পদে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়ে জয়ী করে এনেছেন। তদুপরি দুবছর যাবত প্রকাশ্যে গোপনে উগ্র জঙ্গবাদী, অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবীদার হেফাজতে ইসলাম (পাকিস্তানপন্থী ও উগ্র জঙ্গী তৈরীর কারখানা) একই সাথে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বে-আইনী ঘোষণা করা হোক। এ নিয়ে জাতি আর রাজনৈতিক খেলা দেখতে উৎসাহী নন। অনেক হয়েছে তবে ব্যাখ্যায় যাওয়ার মত …নেই।
আট. পরিবেশ সংরক্ষণকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়ে নদ-নদীগুলি আগামী দু বছরের মধ্যে (অর্থাৎ ২০২০ সালের মধ্যে) সি.এস খাতিয়ান মোতাবেক দীর্ঘ এবং ভারী নৌযান চলাচলের মত ব্যাপক খনন কাজ দেশব্যাপী পরিচালনা করা হোক। জেলা শহরগুলির মধ্য দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া ও বেদখলকৃত নদীগুলিকে এ ব্যাপারে প্রাধান্য দেওয়া হোক। এই মেয়াদেই দেশের সকল উপযুক্ত স্থানে ব্যাপক বনায়ন করা হোক;
নয়. সমগ্র উত্তরবঙ্গের বিশেষত; রাজশাহী চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁও, নাটোর, পাবনাসহ আরও বহু অঞ্চলের দাবী দ্বিতীয় যমুনা নির্মাণ করে বর্তমান যমুনা সেতুকে নিরাপদ করা হোক, ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ কমানো হোক, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে শিল্প বিকাশ ও বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের ব্যবস্থা করা হোক। তার জন্য আরিচা-নগরবাড়ী রেল-সড়ক গ্যাস পাইপ চালানোর উপযুক্ত সেতুর প্রতিশ্রুতি, বঙ্গবন্ধু, মওলানা ভাষানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকসহ আজকের সম্মানিত নেতা-নেত্রীরাও অতীতে বহুবার প্রকাশ্যে করেছেন। কিন্তু এ পর্য্যন্ত কোন প্রকল্পই গ্রহণ করা হয় নি।
দশ. সমগ্র উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগে অত্যন্ত পিছিয়ে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেলপথ সমূহের উন্নযণ, সম্প্রসারণ, রেলগাড়ীর ও বগির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক।
দাবী আরও অনেক। সংসদে উভয়পক্ষ মিলিত উদ্যোগে এই কাজগুলি করলে সর্বোত্তম হয়।

রণেশ মৈত্র
লেখক,কলামিস্ট
একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।
ইমেইল : raneshmaitra@gmail.com