নারীদের সৌন্দর্যের আইকন মোহনীয় ঠোঁট

  •  
  •  
  •  
  •  

নারীদের সৌন্দর্যের আইকন মোহনীয় ঠোঁট। ঠোঁট রাঙাতে লিপস্টিকের জুড়ি মেলা ভার। ঠোঁট রাঙিয়ে নেওয়ার সাধ বড়ই মধুর। যুগে যুগে বিখ্যাত সুন্দরীরা ঠোঁট রাঙিয়েছেন লাল লিপস্টিকে। সাধারণ একজন নারীর চেহারাতেও মুহূর্তেই অন্যরকম মাত্রা যোগ করতে পারে লাল লিপস্টিক। নারী সত্তার বহিঃপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লিপস্টিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় একটি মেয়ের। বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ে চেনা-জানার পরিধি। ছোটবেলার কাঁপা কাঁপা হাতে লিপস্টিক পরাও তখন হয়ে ওঠে সুচারু শিল্প। সাধারণভাবে লিপস্টিক তো সবাই পরে, তাতে আর বিশেষত্ব কোথায়! কিন্তু সেটাই যদি হয় ট্রেন্ডি এবং পরার কায়দায় থাকে নতুনত্ব, তবে না সেটা হবে নজরকাড়া! সে কথা মাথায় রেখেই লিপস্টিক পরার কিছু কৌশল যা আপনাকে করে তুলবে আরও মোহনীয়। তা কঠিন কিছু নয়, ঠিকঠাক লিপস্টিক পরতে পারলেই আপনার মোহনীয়তা আটকায় কে!

কেমন হবে লিপস্টিক : সুচারু রূপে ঠোঁট রাঙাতে প্রথমেই ঠোঁটকে প্রস্তুত করতে হবে। ঠিক যেমনটা ত্বকের ক্ষেত্রে করেন। ঠিকঠাক এক্সফলিয়েট করা হলে ঠোঁটের মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যাবে। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন ঠিক তার পরেই। তবে হ্যাঁ, প্রতিটি স্টেপ যেন সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে করা হয়। যেমন ঠোঁটে যদি গাঢ় রঙের লিপস্টিক পরতে চান তবে অবশ্যই মুখ এবং চোখের মেকআপের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, মুখ, চোখ বা ঠোঁট; সব একসঙ্গে কখনো গর্জিয়াস করবেন না। অর্থাৎ ঠোঁট রাঙাতে মুখ এবং চোখের সাজ হালকা করতে হবে। একই চোখে গাঢ় মেকআপ করলে ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। আবার পার্টি সাজের ক্ষেত্রে একটু বেশি গ্লো আনবেন তাতেও কিন্তু বাজে দেখাতে পারে। তাই বাড়তি চকচকে ভাব (মেটালিক বা জরির মতো শিমার) এড়িয়ে চলুন। লিপস্টিকের ময়েশ্চারাইজার এবং এতে ব্যবহৃত উপাদানের কারণে ঠোঁটে বাড়তি চকচকেভাব থাকলে তা দেখতে বেশ ভালো লাগবে।

মোহনীয় ঠোঁটের কৌশল :লিপস্টিকে রয়েছে মায়াবি এক টান। এই টান বেশ শক্তিশালী যা অনেক পুরুষকে বন্দী করে মোহনীয় ঠোঁটের হাসিতে। তবে লিপস্টিক দেওয়ার কিছু কৌশল বা নিয়ম মেনে চলাই ভালো।

ঠোঁটকে প্রস্তুত করতে হবে : গ্লসি লিপস্টিক বা ম্যাট, প্রথমে ঠোঁটে ফাউন্ডেশন দিতে হবে। প্রাইমারের কাজ করবে। লিপস্টিক সমানভাবে বসবে পুরো ঠোঁটে। ফাটা, শুকনো ঠোঁটে সরাসরি লিপস্টিক দিলে মোটেও ভালো লাগবে না।

সঠিক রং বাছাই  : ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে লিপস্টিক বাছাই করা উচিত। একই রংয়ের লিপস্টিক একেক ত্বকে দেখতে ভিন্ন লাগতে পারে।

মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ : চাইলে ঠোঁটে দুই-তিন শেডের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। বিভিন্ন রঙের শেডের লিপস্টিক ঠোঁটকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। একই রঙের হতে হবে, বিষয়টি আসলে এমন নয়। আপনি চাইলে ভিন্ন দুই-তিন রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। এতে অন্য একটি রঙের রিফ্লেকশন আসবে। দেখতে ভালো লাগবে।

লিপ লাইনার ব্যবহার : ঠোঁটের আঁকিবুঁকির জন্য লিপ লাইনার জরুরি। শিল্পীর তুলির মতো ঠোঁট রাঙাতে লিপ লাইনার ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে লিপস্টিকের রংয়ের সঙ্গে লিপ লাইনারের রঙেরও মিল থাকতে হবে।

শুরু হোক মাঝামাঝি : ঠোঁটের সাজটি শুরু করতে হবে ঠোঁটের মাঝখান থেকে। এতে লিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে। তাছাড়া গাঢ় লিপস্টিকের ক্ষেত্রে একটি ব্রাশ দিয়ে ঠোঁটে লাগালে তা আরও নিখুঁত হবে।

হালকা করে নিন : ঠোঁটের চারপাশের রেখা বেশি নিখুঁত হলে অস্বাভাবিক লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে চারপাশে খানিকটা হালকা স্মাজ করে নিলে দেখতে ভালো দেখাবে।

বাড়তি লিপস্টিক তুলে ফেলুন : লিপস্টিক পরার পর অতিরিক্ত যেটুকু আছে, সেটা ঠোঁটের মাঝে একটা টিস্যু চেপে সাবধানে শুষে নিন। টিস্যু চেপে ধরার ফলে অতিরিক্ত তেল বা বাড়তি লিপস্টিক উঠে আসবে।

সাবধানতা : লিপস্টিক পোশাকে লেগে গেলে বড্ড অস্বস্তিকর লাগে। এমন অবস্থা এড়াতে কিছু পান করার সময় স্ট্র ব্যবহার করুন এবং পোশাক পরা বা খোলার সময় ঠোঁট ভেতরের দিকে চেপে রাখুন। তাছাড়া ব্যাগে সব সময় লিপস্টিক রাখুন, যেন মুছে গেলে টাচ আপ করে নিতে পারেন।

লিপস্টিক স্থায়ী হওয়ার টিপস :
প্রথমে ঠোঁট স্ক্রাব করুন। এরপর ম্যাট লিপবাম লাগান। এরপর ঠোঁটে ফাউন্ডেশন বা কনসিলার লাগান। কনসিলার দিয়ে ঠোঁটের বাইরে বাউন্ডারি আঁকুন। এরপর লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে লিপ কালার ঠোঁটের মাঝখান থেকে দুইধারে সমান করে লাগান। এরপর একটি টিস্যু ঠোঁটের ওপর ধরে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার ব্রাশ দিয়ে লাগান। আর একপ্রস্ত লিপকালার লাগিয়ে নিন।