নিখুঁত ব্যক্তিত্বের সমস্যা । শিল্পী রহমান

  •  
  •  
  •  
  •  

 324 views

মালবিকা সরকার নিজেকে একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ মনে করেন, যিনি সমাজের দৃষ্টিতে পারফেক্ট। তাঁর কাজ খুব গোছানো, বাড়িঘর ঝকঝকে, নিজেও পরিপাটি করে চলেন, সবকিছু পরিমাণ মতো, সময় মতো, জায়গা বুঝে করতে জানেন। ওনার প্রশংসায় সমাজ পঞ্চমুখ ।
যারা একটু এলোমেলো তাদেরকে মালবিকা সরকার বুঝতে পারেন না। যারা এলোমেলো, তাদেরকে নিয়ে উনি কটু কথা বলে ফেলেন, ছোট করে দেখেন, তিরস্কার করেন, কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না মানুষ এই সাধারণ কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারেনা কেন। তাদের আরও ১০টা কাজ ভালো হলেও সেইসব ছাপিয়ে খুঁত গুলোই চোখে পড়ে বেশী।

মালবিকা সরকারের আচরণের কিছু বর্ণনাঃ
১/ তারের ওপর কাপড়টা কিভাবে শুকাতে দিতে হবে সেটা শুধু উনিই ভালো জানেন। কোথায় ক্লিপ লাগাতে হয়, কতোটুকু ঝুলে থাকতে হয়, কতোটুকু টান টান হলেই কাপড় শুকানোটা ঠিকমতো হবে এটা উনি ছাড়া বাসায় সাহায্যকারী খালা থেকে শুরু করে ছেলে, মেয়ে বা স্বামী কেউই ঠিক মতো করতে পারে না। তাই কাজটা উনাকেই নিজের হাতে করতে হয়।
২/ হলুদ মরিচের কৌটোগুলো কাবার্ডের ঠিক ডান দিকেই থাকতে হবে, বাঁয়ে রাখা যাবে না। জুতোগুলো কোথায় থাকবে, টাওয়েলটা কোথায় থাকা উচিৎ, ফুলগাছের টবটা কি দরজার সামনে রাখা যায়? প্লাস্টিক ব্যাগগুলোকে ঠিক এই ভাবে ভাঁজ করে রাখতে হয়, হট ওয়াটার ক্যাটলটা চুলার পাশে নয়, চামচ, কাপ-পিরিচ সবকিছু যেভাবে রেখেছেন, একদম সেভাবেই থাকতে হবে, এমন না হলে উনার মাথায় চট করে আগুন জ্বলে ওঠে। সবাইকে শত্রু মনে হয় তখন। এই সামান্য কথাগুলো কেন মানুষ বোঝে না? ঘুরে ফিরে সব উনাকেই দেখতে হয়।
৩/ এক মুহূর্ত শান্তি নেই মালবিকা সরকারের। নামাজে বসেছেন, এর মধ্যে সবাই মিলে বাড়িটা ওলোট পালোট করে ফেলে, নামাজটাও মন দিয়ে পড়তে পারেন না। ফোনে কথা বলছেন, এর মধ্যেই সামনে দিয়ে ভেজা কাপড়টা নিয়ে যেমন তেমন করে মেলে দেবে কেউ। ফোনের জরুরী কথা বাদ দিয়ে তখন সেই কাপড় শুকাতে দেয়ার সুন্দর পদ্ধতিটা আবারো বলতে হয়, উঠে যেয়ে দেখিয়ে দিতে হয়। কেউ উনার মতো পারেনা।
মালবিকা সরকার ভাবেন, এখনও সুস্থ আছেন বলে রক্ষা। কিন্তু যখন আরেকটু বয়স হবে, কিংবা যখন বাতের ব্যথা বা অন্য কোন অসুখে ভুগবেন তখন উনার সংসারের কি হাল হবে সেটা ভেবেই উৎকণ্ঠা হয় অনেক।

পার্ফেকশনিস্ট বা অবসেসিভ-কম্পালসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (OCPD):
ওপরে বর্ণিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্মিলিত ব্যক্তিত্বকে পারফেকশনিস্ট বলা হয়। এধরণের ব্যক্তিত্বের সমস্যায় যারা আক্রান্ত তাঁরা নিয়ম নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে চান। সবকিছুর মধ্যে পার্ফেকশন খুঁজে বেড়ান বলে স্বভাবটা হয়ে যায় খুঁতখুঁতে। এইসব ব্যক্তিত্ব অপেক্ষাকৃত দৃঢ়চেতা হয় এবং বেশি কাজ করতে পছন্দ করেন। সতর্ক থাকা অন্যকে সন্দেহ করা উনাদের আরেক বৈশিষ্ট। তাঁরা চান অন্যেরাও তাঁদের মতোই চলুক।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অবসেসিভ-কম্পালসিভ

পার্সোনালিটি ডিসওর্ডারের বৈশিষ্ট্য গুলি হলোঃ
১/ সবকিছু নিখুঁত হতে হবে
২/ খুব দৃঢ়, অদম্য এবং কঠোর (rigid)
৩/ অবাধ্য, দুর্দান্ত,জেদী এবং একগুয়ে(stubborn )
৪/ টাকা জমাতে পছন্দ করেন , বিশেষ কিছুর জন্য জমিয়ে রাখতে চান
৫/ খুব বিবেকবান বা এথিকাল হয়, সেটাও অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে এবং অন্য মানুষ কেন এমন নয় সেটা মানতে পারেনা।
৬/ পরিবারকে সময় দিতে পারেনা, কারণ অন্য কাজেই অনেক সময় চলে যায়।
৬/ নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না এবং যারা করে তাদের স্বভাবকে “ছেলেমানুষি” বলে মনে করে।

এমন ব্যক্তিত্ব আমাদের সমাজে অহরহ দেখা যায়। শুধু মহিলা নন, অনেক পুরুষ মানুষও এমন ব্যাক্তিত্বের অধিকারী হতে পারেন। একটু সময় নিয়ে ভাবুন তো- ঠিক এই মুহূর্তে কয়জনকে মনে করতে পারছেন আপনি? আমার লিস্ট কিন্তু অনেক লম্বা। এমনিতে উনারা খুব ভালো মানুষ শুধু এই জায়গাগুলোতে এসে নিজেরাও অসহায় হয়ে পড়েন।
পার্ফেকশনিজম বা নিখুঁততা অনেক বেশী মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে মানুষের মধ্যে। নিখুঁত হবার কারণে ভয়, উদ্বেগ এবং প্যানিক ডিসঅর্ডারের উৎপত্তি হতে পারে। নিখুঁততা হ’ল উচ্চ প্রত্যাশা এবং মান দ্বারা চিহ্নিত ব্যক্তিত্বের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যাকে OCPD- অবসেসিভ-কম্পালসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। OCD বা শুচিবাই হচ্ছে আরেকটি মানসিক রোগ যেখানে একজন ব্যক্তি একটি কাজ বার বার করেও শান্তি পায়না, পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম হয়। পারফেকশনিস্টিক বা OCPD প্রবণতাগুলি, OCD লক্ষণ হতে পারে বা আবার নাও হতে পারে। তবে হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায়না। তাই এই বিষয়ে অবগত হওয়া এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরী।
সমাজে পারফেকশনিস্টদের খুব কদর এবং মানুষ এদের বেশ গুণগান গেয়ে থাকে। মেয়ে মানুষ এমন হলে, এরা খুব লক্ষ্মী মেয়ে, ভারি সংসারী। খুব ভালো শিক্ষা দিয়েছে মা। আর ছেলেরা এমন হলে “হায় খোদা, এতো ভালো ছেলে! এমন ছেলে পাওয়া তো বউয়ের ভাগ্য , কি কপালটাই না করে এসেছে মেয়েটা ” ইত্যাদি কিছু বাঁধা ধ্যান ধারণা নিয়েই আমাদের সমাজ এদেরকে উচ্চ স্থানে বসাতে অভ্যস্ত হয়। কিন্তু যারা এই ব্যক্তিত্বের অধিকারী তারা সবকিছু শতভাগ নিখুঁত না হলে শান্তি পায়না। এই আচরণের পেছনে তাদের “উৎকণ্ঠা “ কাজ করে যা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, তখন তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবকিছু নিখুঁত করবার জন্য নিজের ক্লান্তি, শারীরিক ব্যথা বেদনা, অন্য কোন প্রতিশ্রুতি, কিংবা অন্য মানুষকে দুঃখ দেয়া, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কোন কিছুই বড় হয়ে দেখা দেয় না। সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে শুধু নিখুঁত করবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।

একজন পারফেকশনিস্টদের জীবনে শান্তি কম থাকে। নিজের একার জীবন হলে নিজেই সামলে নেওয়া যায়, সেখানে কাউকে কিছু বলতেও হয় না, আবার কারো মতো চলতেও হয়না। কিন্তু এদের জীবনে অন্য কেউ এলেই শুরু হয় যত বিপত্তি। না তাদেরকে শেখানো যায়, না তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা যায়। সে কারণে এরা অনেক সময় একাকী জীবন যাপন করে।
একজন ননপারফেকশনিস্টও কিন্তু নিজেকে নিয়ে সুখেই থাকতে পারে, কোন সমস্যা হয়না। একটু এলোমেলো সত্যি, কিন্তু ওতেই অভ্যস্ত তার জীবন। সে সব কাজ করতে জানে, শুধু সেই কাজগুলো হয় তার নিজের মতো যা একজন পারফেকশনিস্ট কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনা কারণ সে মনে করে তার কাজ করবার নিয়মই শ্রেষ্ঠ নিয়ম। তখনই শুরু হয় দ্বন্দ্ব এবং শান্তি নষ্ট।
সাধারণত ছেলেদের মধ্যে এমন স্বভাব একটু কমই দেখা যায়। মেয়েদের মধ্যে একটু বেশী, এর একটা কারণও আছে। আমাদের সমাজে এই ধরণের ব্যবহারকে প্রশংসা করা হয় এবং উৎসাহ দেয়া হয় অনেক বেশী। এমন স্বভাবের মানুষকেই সমাজ সংসারী বলে, লক্ষ্মী মেয়ে/বউ বলে এই ধরণের ব্যবহারকে প্রতিষ্ঠিত করে।

এবার বলি একজন কাউন্সেলর হিসেবে আমার অভিজ্ঞতাঃ
একজন ভদ্রলোক এসেছিলেন কাউন্সেলিং এ , যার স্ত্রী সবকিছু তার মনের মতো চায় বলে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সারাক্ষণ তার স্বামীকে তিরস্কার করতেই থাকে। স্বামী এই অপবাদ শুনতে শুনতে নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে শুরু করে এবং সাধারণ সিদ্ধান্ত নেবার সাহস কিংবা দক্ষতা হারিয়ে ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করে। নিজেকে খুব ছোট এবং অকর্মণ্য ভাবতে শুরু করে। এই সংসারটি শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গেই গিয়েছে।
আবার একজন পারফেকশনিস্ট মেয়ে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পর, শাশুড়ির ঘর সাজানোর ঢঙ, রান্না করার ধরন, টয়লেট পরিষ্কার করা ইত্যাদি পছন্দ করে না বলে, নানা বিষয়ে মহা জটিলতার সৃষ্টি হয়। এতে করে শাশুড়ির মন ছোট হয়ে যায়, তার এতো দিনের সংসার করবার অভিজ্ঞতাকে বা সাজানো সংসারকে একজন এসে দুদিনেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে শুরু করলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায় তাঁর জন্য এবং ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করে। পারফেকশনিস্ট মেয়েটি সবকিছু ঠিক নেই বলে প্রচণ্ড অশান্তি ভোগে এবং স্বামীর সাথে বচসা করে আত্মহানীর চেষ্টা করে কয়েকবার। এতে করে স্বামী দুকুল রক্ষা করতে যেয়ে নিজেও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বুক ধড়ফড়, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়। এই সংসারটিও নড়বড়ে, তবে টিকে থাকবার চেষ্টা করছে।
এই গল্পে শাশুড়ি পারফেক্ট, বউটা এসে কোন কাজ গুছিয়ে করতে পারে না। এ কেমন শিক্ষা দিয়েছে মেয়ের মা ? সকাল সন্ধ্যা সেই খোঁচা শুনতে শুনতে নতুন বউটার ডিপ্রেশন শুরু হয়। শাশুড়ির খোঁচার ভয়ে কোন কাজই ঠিক মতো করতে পারে না। নিজেকে খুব ছোট মনে করতে থাকে, কারণ একজন পারফেকশনিস্ট খুব সফলতার সাথে জানিয়ে দেয় উনারা ঠিক এবং অন্যরা ভুল। খুব মনোযাতনায় ভুগতে শুরু করে ননপারফেকশনিস্ট এবং সারাক্ষণ একটা উৎকণ্ঠা কাজ করে, “ আবার কি ভুল করলাম !” একটা সময় দেখা যায়, যেই কাজটা সে খুব কনফিডেন্সের সাথে করতো সেটা করতেও দ্বিধা বোধ করতে শুরু করে এবং দক্ষতা হারায়, পাছে ভুল হয়ে যায় সেই ভয়ে। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করে। অন্যদিকে পারফেকশনিস্ট শাশুড়িও শান্তিতে নেই, সবকিছু চোখে চোখে রাখতে হয়, অনেক বেশী কাজ করতে হয় বলে প্রায়শ ক্লান্তিতে ভোগে এবং সব দোষ গিয়ে পরে সে বউয়ের ওপর। এই ব্যাপারে পারফেকশনিস্ট এতোই শক্তিশালী থাকে যে অন্যরা তাঁদের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেই পারে না । এই সংসারটিও টিকে থাকবার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, মানসিক চিকিৎসা পেলে বেঁচে যেতেও পারে।

এবার ভাবুন, এই দু’দলের মধ্যে আপনি কোন দলে পড়েন? আপনি কি একজন মালবিকা সরকার?
নিজেকে চিনতে চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও। যে যেমন তাকে তার মতো করে বাঁচতে দিন, না পারলেও অন্তত ছোট করে দেখবেন না বা কটু কথা বলবেন না, নাহলে সংসারে অশান্তি হতে পারে অথবা দুপক্ষই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। নিজের নিয়মের বাইরে কিছু করা বা মেনে নেওয়া একজন পারফেকশনিস্টদের জন্য সহজ নয়। অনেক সাহস এবং ধৈর্য লাগে, তাই একজন কাউন্সেলরের সাথে কথা বললে কাজটা সহজ হতে পারে। এটা একধরণের অসুস্থতা সেটা মেনে নিয়ে সাহায্যের আশ্রয় নিতে হবে। আবার যারা এমন পারফেকশনিস্টদের সাথে থাকেন, তাদেরও বুঝে নিতে হবে উনারা কেন এমন ব্যবহার করছেন।
সবাইকে তার স্পেস দিলে সবার জীবন সহজ হবে এবং জটিলতা কমবে। বাড়িতে কাজের সাহায্যকারী মানুষটিকে তার কাজ পছন্দ না হলে কিছুদিন পর পর পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু যে মানুষটা কাছের তাকে তো একটু জায়গা দিতেই হবে। তার এলোমেলো পড়ার টেবিলটা, কারো রান্না করবার ধরনটা, কাপড় শুকাবার স্টাইল কিংবা বিছানা গুছাবার ধরন মেনে নিতে পারলে আপনার শান্তি হবে । পারফেকশনিস্টদের বলছি, আপনি কিছু না বললেই বরং দেখবেন, খুব গোপনে , ধীরে ধীরে ও আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখে নিচ্ছে। কিন্তু সারাক্ষণ তার কাজ নিয়ে তিরস্কার করলে বা কটু কথা বললে শেখানো তো দূরের কথা উল্টো আপনি সেই কাছের মানুষটাকে হারাবেন।
আমরা সবাই যদি নিজের যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু করি, অন্যের কাজ আমার মতো না হলেও মানুষটাকে গ্রহন করতে শিখি – এটাই হবে সবচেয়ে সভ্য এবং বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের সবার বয়স হবে, আমরা আমাদের মতো সব সময় কাজ করতে পারবো না তখন অন্যের কাজের ওপরই ভরসা করতে হবে। সেই দিনের জন্য হলেও অন্যের কাজ গ্রহন করতে শেখা প্রয়োজন। অন্য মানুষকে তাঁদের মতো করে গ্রহন করতে পারলে পৃথিবীতে অনেক সম্পর্ক অটুট থাকবে। আসুন সবাই সবাইকে শ্রদ্ধা করে একসঙ্গে ভালো থাকবার চেষ্টা করি।
সবশেষে একটা সতর্কবানী দেয়া অত্যন্ত জরুরী, একজন পারফেকশনিস্টের শুচিবাই বা severe OCD- obsessive-compulsive disorder হবার সম্ভাবনা আছে, এটাকে একদম হালকা করে দেখবেন না। তাই শুরুতেই লক্ষ্য করতে হবে অভ্যাসগুলো কতটুকু নিয়ন্ত্রণে থাকছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, সেখান থেকে ফিরে আসা খুব কঠিন হয়ে যেতে পারে ।তাই শুরু থেকেই লক্ষ্য করুন, নিজেকে এবং আপনার কাছের মানুষের, OCD বা OCPD যেটাই হোক না কেন কাউন্সেলিং এর সাহায্য নিয়ে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনবার চেষ্টা করুন ।
মনে রাখতে হবে যারা এই ব্যক্তিত্বের সমস্যায় আক্রান্ত তারা কোনো অপরাধী নন, তাদেরকে সুচিকিৎসার আওতায় আনা সকলের দায়িত্ব।

শিল্পী রহমান: 
গল্পকার, কবি, সংস্কৃতিকর্মী, কাউন্সেলর ও গবেষক। স্থায়ী নিবাস ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়ায়। 
প্রকাশিত গ্রন্থসমুহ: ধর্ষণ ধর্ষক ও প্রতিকার; উৎকণ্ঠাহীন নতুন জীবন; মনের ওজন; সম্ভাবনার প্রতিচ্ছায়ায়; যুদ্ধ শেষে যুদ্ধের গল্প; পথের অপেক্ষা; পাহাড় হবো ইত্যাদি।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments