নির্যাতন যুগে যুগে কালে কালে – তানজিলা মীম

  •  
  •  
  •  
  •  

নির্যাতন যুগে যুগে কালে কালে

তানজিলা মীম

“আমি এক নির্যাতিতা নারী। অবলা বলে সবার কাছেই শুধু করুণার পাত্র।” 
এই কথাটা আমি অনেক সহজে বলে ফেলতে পারি। সমাজ আমাকে নির্যাতিতা হিসেবে গ্রহণ করবে। কিন্তু নারীরাই কি কেবল নির্যাতনের শিকার? আমাদের সমাজে কি এমন পুরুষ পাওয়া যাবে না যে লোক চক্ষুর অন্তরালে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। কিন্তু তার এই কথা সে কাউকে হয়ত বলতে পারে না।পারে না কারণ সমাজ শুধুই নারীকে গ্রহণ করেছে নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে। পুরুষ চিরকাল শোষক রূপেই প্রতিষ্ঠিত। আমার জীবনে মেয়েলি ব্যাপারগুলি কোনদিন তেমন গুরুত্ব পায়নি।মেয়েলি ব্যাপার বলতে আমি বলতে চাই এই যেমন কারা জামা সুন্দর, কোন ছেলে কোন মেয়ের পেছনে ঘুরছে কিংবা কার বাচ্চা কত ভাল স্কুলে যাচ্ছে কার বাবার ইনকাম বেশি এইসব ……। আজীবন ছেলেদের নিয়ে একটা কথাই ভেবেছি যে এরা শুধু একটি জিনিসই চায় মেয়েদের কাছে।ভালোবাসার কোন মূল্য এরা দিতে জানে না।কিন্তু এই আমি কি কোনদিন বুঝেছি ভালোবাসামানে কি? সস্তা প্রেমের বস্তাপচা উদাহরণে আমার মন ছিল তিক্ত।বুঝে উঠতে পারতাম না কেন মানুষ একজনের জন্য সারাটা জীবন অপেক্ষা করে কাটিয়ে দেয়।তবে আমি বলছি না প্রেমের ফাঁদে পড়তে।ভালোবাসা একটা সুন্দর অনুভূতি। এটা জোর করে হয় না।আমার সারা জীবনে এই অনুভূতি কোনদিন কাজ করেনি।যে সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না তেমন সম্পর্কে আমি কোনদিন বিশ্বাসী ছিলাম না।কারণ আমার লক্ষ্য ছিল জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।সত্যিকার অর্থে এই ব্যাপারগুলি নিয়ে ভাবিনি কোনদিন।ভাসা ভাসা এক অনুভূতি নিয়ে পার করেছি জীবনের অনেকটা পথ।কেউ একজন বলেছিল আমি নাকি খুঁজিইনি যেমনটা আমি চেয়েছি, হয়ত আমার পাশেই সে ছিল দেখার চোখ ছিল না বলে দেখতে পাইনি।এ সবই এখন অতীত।যাহোক ছেলেদের যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচতে অনেককে আমি কমপ্লেইন করে শাস্তি খাইয়েছি স্কুল কলেজের প্রিন্সিপ্যালের কাছে।এখন ভাবলে খারাপ লাগে। আমি কি তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে পারতাম না?পারিনি কারণ আমার ভেতর তথাকথিত ভালোবাসা নামক বস্তুটি অনুপস্থিত ছিল।আজ নিজেকে মুদ্রার অন্য পিঠে দাঁড় করিয়ে খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে।ছেলেরা কেমন করে ভাবে বিষয়গুলি।আমি ভেবেছি আমার দৃষ্টিকোণ থেকে।ছেলেদের চিন্তায় ব্যাপারগুলি কেমন হতে পারে? একজন পুরুষ কিভাবে নিজেকে শক্ত খাঁচায় বন্দী করে মানুষকে তার হাসি মুখ দেখাতে পারে।নিজেকে সেইসব মানুষগুলির আসনে বসিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।অন্যের অনুভূতিকে আঘাত করে আমি কত বড় ভুল করেছি। আসলে ভালোবাসা হল এক স্বর্গীয় অনুভূতি। হৃদয়কে বিশ্বজনীন ভালোবাসায় আপ্লুত করতে পারলে পৃথিবীর সব সুন্দর এসে ধরা দেয় মনের মাঝে।এই কথাটা বুঝতে অনেকটা সময় লেগে গেলো। তবে এই সুন্দর অনুভূতিকে আমরা অনেক ভাবে অপব্যবহার করছি।প্রেমকে শুধু মাত্র নরনারীর প্রেমের মাঝেই সীমিত করে ফেলছি।সেই সাথে যোগ হচ্ছে নোংরামি।আমাদের সময় এতটা ছিল না এখনকার মত।একদিনে পরিচয় দুই দিনে প্রেম তারপর ব্রেক আপ ছুটছে অন্য কারো সন্ধানে।এত পশুর মত জীবন। আমাদের দেশে এখনো বিয়েকে একটা সামাজিক বন্ধন বলে মানা হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে সেসবের বালাই আর নেই বললেই চলে।এর কারণ কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েরাই।সব কিছু ওপেন হওয়ার পরও যখন বিয়ের জন্য এরা ছেলে বা মেয়ে খুঁজতে যায় পায় না অধিকাংশ মানুষ।কারণ মেয়েরা রান্না করতে চায় না কারো জন্য।কিংবা ভাবে পুরুষের অধীনে থাকবে না।আবার বিয়ে মানে দ্বায়িত্ব যার বোঝা অনেকেই বহন করতে শংকিত।এটা আমার অবজারভেশন।আমার পরিচিত একজন তারা লিভ টুগেদার করছিল প্রায় ২০ বছরেরও বেশি। তাদের ছেলে ইয়ার ১২ -এ পড়ে। ২০ বছর পর তারা সিদ্ধান্ত নিল বিয়ে করার কিন্তু বিয়ের ঠিক বছরখানেকের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।২০ বছর লিভ টুগেদার করে তারা এক ছাদের নিচে থাকতে পেরেছে।অথচ বিয়ের পর এক বছরও পারল না।মনে হতে পারে যে ‘বিয়ে’ এই ভাঙ্গনের জন্য দায়ী। আসলেই কি তাই? 
উন্নত বিশ্বে ছেলেদের সত্যি সঠিক মেয়ে পাওয়া অনেক কঠিন কাজ।আমাদের দেশেও কি তাই না? চারপাশে এত ছেলে এত মেয়ে অথচ বিয়ের জন্য ছেলেরা মেয়ে পায় না আর মেয়েরা ছেলে পায় না। আমাদের দেশে আজও ছেলেরা স্ত্রীর সেবা থেকে বঞ্চিত না।কিন্তু দেশের বাইরে বিয়ে করা মানে ছেলেদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা। আইন সবই মেয়েদের পক্ষে। (তারপরও মেয়েরা নির্যাতিত হচ্ছে না তানা। তবে আমি আজ ছেলেদের নিয়ে লিখছি। মেয়েদের কোথায় জাব না।)বিয়ের পর কোন কারণে ডিভোর্স হয়ে গেলেছেলেদেরকে অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়।কারণ সম্পত্তি সব সমান দুই ভাগে ভাগ হবে আর বাচ্চা থাকলে মায়ের কাছে বাচ্চা যাবে এবং সে কারণে মায়ের কাছে চলে যায় অধিকাংশঅংশ।সব সময় যে ছেলেদের দোষ থাকে তা কিন্তু কখনই বলা যাবে না।আবার শুধু মেয়েদের দোষ দিলেও হবে না।আসলে যে কোন ক্ষেত্রে যে কোন রিলেশন ভেঙ্গে যাবার পেছনে দুই পক্ষেরই কিছু না কিছু ভুল থাকে।কারণ এক হাতে কখনোই তালি বাজে না।

এতক্ষণ ধরে এই বিশাল ভূমিকা করার হেতু পুরুষ নির্যাতন নিয়ে কিছু লিখবো বলে।একজন নারী হয়ে আমি আজ লিখতে বসেছিপুরুষের না বলা দুঃখ যা থেকে যায় লোক চক্ষুর অন্তরালে।কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম ব্যাপারটা নিয়ে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীরাই নির্যাতিত হয়ে আসছে যুগে যুগে কালে কালে।তবে পুরুষ নির্যাতনের হারও কিন্তু কম না।অস্ট্রেলিয়াতে এসে আমি পরিচিত হলাম ম্যান’স হেল্প লাইনের সাথে।তখন ভাবতাম ছেলেদের আবার কিসের দুঃখ! পরে বুঝলাম আসলে আমরা সবাই তো মানুষ।এখানে ছেলে বা মেয়ে কথাটা আপেক্ষিক।ভালো সব সময়ই ভালো সে ছেলেও হতে পারে মেয়েও হতে পারে।আর যে খারাপ সে ছেলে কিংবা মেয়ে যেই হোক তাকে আমরা খারাপই বলব।তবে এক্ষেত্রে আরো একটি প্রসঙ্গের অবতারণাকরা সম্ভব সেটি হল মানুষ কিন্তু খারাপ হয় সঙ্গ দোষে, পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে। আমরা যদি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আয়ত্ত করতে পারি , যদি আমরা মুদ্রার দুই পিঠ দেখতে চেষ্টা করি তবে অনেক ভাঙ্গতে বসা সম্পর্কও হয়ত জোড়া লেগে যেতে পারে ।যেকোন অন্যায়কে সহজেই না বলতে প্যারাটা অনেক বড় পারা। যাহোক কথা বলছিলাম নির্যাতন নিয়ে।এখানে একটা বিষয় চলে আসে যে কী কী ধরনের নির্যাতন হতে পারে প্রথমত শারীরিক এরপর মানসিক ও অর্থনৈতিক। শারীরিকভাবে নারী দুর্বল বিধায় সবলের হাতে নারী শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছে যুগেযুগে।আবার নারীর হাতেও যে নারীরা নির্যাতিত হয় সে উদাহরণও ভূড়ি ভূড়ি দেয়া যায়।যাই হোক সেটা নিয়ে পরে না হয় বলা যাবে।এর পর আসে মানসিক নির্যাতন।এক্ষেত্রে আমি বলব নারী পুরুষের নির্যাতনের হার সমান সমান।হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের হার বেশিও হতে পারে।যদিও কথায় বলে মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না।কিন্তু একটু ভাবলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে যে ছেলেদের যন্ত্রণা আরো অনেক বেশি।কারণ তারা চাইলেও বলতে পারে না কাউকে নিজেদের যন্ত্রণার কথা।তাছাড়া বলতে গেলেও বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু মেয়েদের পক্ষই নেবে।আর বলবে অবলা নারীর নামে অহেতুক কেন এসব বলা।ছেলেদের ইগো সমস্যাও অনেক থাকে।আমরা অনেকেই নারী পুরুষ নির্বিশেষে চোখেরজলের বন্যা বইয়ে দিতে পারি এবং এটাকে স্বাভাবিক মনে করি নিজের আবেগ প্রকাশ করবারজন্য।কিন্তু তারপরেও অনেকে হয়ত কাঁদতে ভুলে গেছে।যেমন হয় আরকি অল্প শোকে কাতর আর অধিক শোকে পাথর। 

এবার আসি অর্থনৈতিক নির্যাতন।এক্ষেত্রে আসলে দুই পক্ষই সমান।তবে নারীরা কিছুটা বেশি হবে আমাদের দেশেরপ্রেক্ষাপটে।কারণ এখনো আমাদের দেশের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সেভাবে নেই বললেই চলে। আবার স্ত্রীর সীমাহীন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অনেক পুরুষের দুর্নীতির পথ বেছে নেবার কথাও ফেলে দেয়া যায় না। এটা সত্যি খুব কষ্টের। বেশ অনেক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার এক টিভি চ্যানেলে একটা অনুষ্ঠানে দেখছিলাম যে এখানে সিঙ্গেল মায়েদের সংখ্যা প্রচুর। আর এখানকার আইন অনুযায়ী বাবা সন্তানের ভরন পোষণ বহন করবে। আর এই কাজটা নিশ্চিত করে এখানকার চিল্ড্রেন সার্ভিস।একজন মহিলাকে দেখালো যার ১২টা বাচ্চার বাবার সংখ্যাও ১২ জন। এবং সে সরকারি অনুদানসহ সেই বারোজন লোকের কাছ থেকে বাচ্চাদের খরচ আদায় করে দিব্যি রাজার হালে আছে। একজন লোকের ইন্টারভিউও দেখালো। যাকে কিনা তার মাসিক ইনকামের বেশির ভাগ টাকা চাইল্ড সার্ভিসকে দিয়ে দিতে হয়।

টিভিতে দেখা কথা নাহয় বাদ দিলাম। একবার ট্রেন স্টেশনে আমি নিজে এক মহিলার সাথে কথা বলেছিলাম। আমরা তখন সিটি থেকে অনেক দূরে থাকতাম। তার সাথে ডাবল প্রাম। দুইটা বাচ্চা প্রামের সামনে পেছনেও একটা আছে। আর বাকি দুইজনের একজন প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। একজন কিন্ডারে। আমি সেদিন জানতাম না যে সে সিঙ্গেল মা। বেশ কিছুদিন পর আবার দেখা ওদের সাথে। দেখলাম সে প্রেগনেন্ট। আমি সেদিন কথায় কথায় জানতে চাইলাম ওদের বাবা কি করে। মহিলা বলে যে সে সিঙ্গেল মা। সিঙ্গেল মা বলতে আসলে অনেক কিছুই বুঝায়। হয়ত হাজবেন্ড ছিল ডিভোর্স হয়ে গেছে অথবা লিভ টুগেদার করেছিল কারো সাথে। এখানে এমন সিঙ্গেল মা দের জন্য সরকার টাকা দেয়। বাচ্চা একটা নির্দিষ্ট বয়স না হওয়া পর্যন্ত মায়েদের চাকরি করতে হয় না। এই সব কারণে এখানে অনেক টিন-এজ মেয়েরা বাচ্চা নিয়ে নেয়। যাতে করে স্কুলে না যেতে হয়। সুবিধার অপব্যবহার কত ভাবেই না হচ্ছে।
আরএকটা ব্যাপার হল আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না যে আমরা নির্যাতিত হচ্ছি। এটা নারী পুরুষ নির্বিশেষেই আমি বলব।আবার অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে- কখনও অনিচ্ছায় – অনেক সময় আবার সংসারের শান্তি রক্ষার জন্য মেনে নেই অসংখ্য অন্যায়কে। আবার অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি যে — যার যার তার তার মত চললেই তো হয়। তাহলে একসাথে থাকার দরকারটা কি? হিজ হিজ হুজ হুজ লিভ টুগেদারে হয়। বিয়েতে হয় না। বিয়ে মানে একটা দায়িত্ব। দুইজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটা সংসার গড়ে ওঠে। এটা ঠিক যে সংসারের শান্তির জন্য অনেক সময় সেক্রিফাইস করতে হয়। তবে সব সময় সেক্রিফাইস কি আসলেই শান্তি আনতে পারে?
আমার কাজের সুবাদে বেশ কিছু ফ্যামিলি ভায়ল্যান্স এর কাজ করতে হয়েছিল। বলাইবাহুল্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে যে মেয়েরা জাস্ট সুযোগের অপব্যাবহার করছে। সামান্য পাবারিক কলহে পুলিশ ইনভল্ভ করছে। সমাজের সামনে হিউমিলিয়েশনের স্বীকার স্বামী চাইলেও আর সংসার টিকিয়ে রাখতে পারছে না। আমি কখনই বলি না যে ছেলেদের কোন দোষ নেই। আসলে এখানে আমার ভিউ হল আমরা প্রত্যেকেই ভুলে যাই আমাদের সিমা কতটুকু। নারী পুরুষ নির্বিশেষে নিজের সিমা (লিমিট) সম্পর্কে সচেতন হওয়া খুব গুরুত্বপুরন। তাই সীমার লঙ্ঘন (ভালো অথবা খারাপ) সবসময় বিপর্যয় ডেকে আনবেই। আমাদেরকে বুঝতে হবে কোতটা সহ্য সীমার মধ্যে আর কোতটা হলে তা সীমার বাইরে। পুলিশ কল করতে হলে সেটা অবশ্যই করা উচিৎ। তবে সিস্টেম কে এবিউজ করবার জন্য না।
আমরা শহুরে ব্যস্ত মানুষেরা ধীরে ধীরে ইন্ডিভিজুয়াল হয়ে যাচ্ছি। যে কারণে এখন আর যৌথ পরিবার চোখে পড়ে না। আমরা বলতে পারি না যে বিয়ের পর আমাদের দুইজন বাবা দুইজন মা। তোমার মা আমার মা করেই অহেতুক নিজেদের মধ্যে দুরত্ত তৈরি করে চলি আমরা। বিয়ে কি শুধু দুই জন মানুষের মধ্যেই হয় নাকি দুই পরিবারের মধ্যে হয়? এই বাস্তব সত্য আমরা অনেকেই উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হই। ফলে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে। আর হালের আরেক সমস্যা হল আগের ঘরের বাচ্চা কাচ্চা। কাড়ন ডিভোর্স বেড়েছে তাই বলে মানুষ তো আর একা থাকতে পারে না। নতুন করে বিয়ের পিড়তে বসতেই হয়। সেক্ষত্রে দেখা যায় আগের সংসারের বাচ্চা গুলি অবহেলিত অসহায় হয়ে পড়ে। একটু আগে বলছিলাম যে সেক্রিফাইস করলেই কি সংসারে শান্তি আসে? আমি জানি না। তবে আমার মনে হয় যে আমাদেরকে এসারটিভ হতে জানতে হবে। পারস্পরিক সমমর্মিতা আর সহনশীলতাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আমরা যেটা করি হয় ঝগড়া, না হয় কিছু না বলে প্যাসিভ হয়ে যাই। সব কিছু নিজের ভেতর জমাতে জমাতে একসময় আর নিজেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়না। নিজের অস্তিত্ব বলে তখন আর কিছু থাকে না। সেই সাপের গল্পের মত। যে সাপ গ্রামের বাচ্চাদের ভয় দেখাত। গ্রামবাসীরা সাপকে বলেছিল যেন বাচ্চাদের ভয় না দেখায়। কিন্তু সাপ নিজেই এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে গেল। কারণ কি? তাকে ভয় দেখাতে মানা করা হয়েছিল। ফোঁস ফোঁস করতে না। এই ফোঁস ফোঁস করাটা আসলেই অনেক জরুরি। আর আমি যেটা বলছিলাম যে এসারটিভনেস। এটা আসলে নিজের মতামত প্রকাশ করা, নিজেদের মাঝে কথা বলে ভুলবোঝাবুঝি দূর করতে সচেষ্ট হওয়া আবার কখনও প্রয়োজনে দৃঢ় হওয়া। অন্যায়ের প্রতিকার করবার জন্য সচেষ্ট হওয়া পরম মমতায়। ভালোবাসার শক্তি অনেক। ভালোবেসে সব কিছুকেই জয় করা সম্ভব।একটা কথা শুনেছিলাম ‘যে ঘুড়ি যতই উপরে উঠুক না কেন নাটাই থেকে বিচ্ছিন্ন হলে একদিন তা মাটিতে পড়ে যাবে।’সেই কথার প্রেক্ষিতে আমার মনে হয় সম্পর্ককে মজবুত করতে কখনো কখনো সুতোয় টান দিতে হবে আবার কখনও ছাড় দিতে হবে। একেবারে ছেড়ে দিলেও যেমন হবে না আবার বেশি টেনে ধরলেও সে সম্পর্ক টিকবে না।যেকোন সম্পর্কের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস। আবার সম্পর্কের মাঝে স্পেস থাকাটাও অনেক জরুরি। সব থেকে বড় ব্যাপার হল একে যতœ করতে হয়। ঠিক যেন একটা চারা গাছের মত। গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে কী করতে হয়— পানি দিতে হয়—কখন ছায়া দিতে হয়। আবার চারপাশে গজানো আগাছাগুলিকে উপড়ে ফেলতে হয় যেন সেটা আসল গাছের ক্ষতি করতে না পারে। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে একচেটিয়া নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলতে আমি রাজি না। আমাদেরকে মুদ্রার দুই পিঠই দেখতে হবে। এই কারণেই আমার আজকের এই লেখা। আমরা যদি নিজেদের ভুলগুলিকে সবসময় বের করতে চেষ্টা করি তাহলে কিন্তু আর কোন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয় না। হ্যাঁ, জীবন মানে এখানে সবই থাকবে। আনন্দ বেদনা দুঃখ কষ্ট। এর কোনটাই কিন্তু স্থায়ী না। একটার পর একটা আসে আবার চলে যায়। এখন কথা হল এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিগুলি আমরা কে কতটা প্রোএক্টিভলি হ্যান্ডেল করতে পারছি তার উপর আমাদের সুখ শান্তি নির্ভর করছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলেই নির্যাতনের হার সে সাথে সংসার ভাঙ্গার হারও কমে যাবে। সব শেষে বলব প্রচলিত একটা কথা“সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে” আমরা সবাই জানি। তবে এর পরের অংশটি আমরা অনেকেই জানি না “ গুণবান পতি যদি থাকে তার সনে”

তানজিলা মিম
কাউন্সেলর (মাল্টিলিঙ্গুয়াল কাউন্সেলিং ক্যাফে),কনভেনর (কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি মেলবোর্ন )