নীল ল্যাভেন্ডার – আগুন্তক

  •  
  •  
  •  
  •  
বছরের এই সময়টা খুব সুন্দর। হিম শীতল বাতাস বইতে থাকে, ম্যাপেলের শুস্ক পাতাগুলা ঝরে পরে সাগরপাড়ে হলুদ সবুজ কার্পেটের মতো দেখায়। ভেনিস বন্দরে সপ্তাহান্তে জাহাজগুলো এসে ভিড়ে। নাবিকদের পরিবার উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এই বুঝি এলো তাদের ভালোবাসার মানুষগুলো। কারো কারো অপেক্ষার অবসান হয়  আবার কারো কারো অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ হয়না। প্রতিটি জাহাজ আসলেই ক্লান্ত এই বন্দরে আনন্দের আলোতে ভাসে উঠে।
এমনই এক জাহাজে ভেসে এসেছিলো ভ্লাদিমির।  ক্লারার ক্লান্তিময় দিনগুলোতে ভালোবাসার ঝাপ্টা নিয়ে। রবার্টের পানশালায় কাজ করে দিনগুলো শুধু কেটে  যাচ্ছিলো ভালোবাসাহীন, যত্নহীন, একঘেয়ে। ঝড়ের মতো কেন আসলো ভ্লাদিমির তার জীবনে। ক্লারার এখনো মনে আছে সেই দিনের কথা…
পানশালায় অন্যদিনের মতোই কাজ করছিলো ক্লারা। বিকট শব্ধে কেউ একজন টেবিলের উপর পা তুলে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। অনেক রাগ হয়ে ডাকতে গিয়ে কি মায়ায় যেন চোখ আটকিয়ে যায়, এই মায়ায় ক্লারার জীবনের জন্য কাল হলো। ক্লারার প্রেমহীন, ভালোবাসাহীন দিনগুলো হয়ে উঠেছিল উচ্ছল। হাতে হাত রেখে সমুদ্রের ধরে হাটতে হাটতে কত না বলা কথায় না বলেছিলো ভ্লাদিমিরকে। কি সুন্দর দিনগুলোই না ছিল, প্রতিটি সকাল কাটতো ভ্লাদিমিরের কাঁধে মাথা রেখে, ক্লান্ত দুপুরগুলো ওর গিটারের টুংটাং শব্ধে, আর রাতগুলো নীরব জোছনায় ঝিঝি পোকার ডাক শুনে।
দূরে জাহাজের সাইরেন শোনা যায়, জাহাজ থেকে নোঙ্গর পানিতে ফেলার চপচপ শব্ধ  শোনা যায়, খোলাসীরা নোঙ্গর জটিতে বাধার জন্য ছুটে যায়, নাবিকদের পরিবার এক এক করে ভিড় করে জেটির  দুই পশে, ক্লারার হটাৎ অনেক অস্থির লাগে, হটাৎ করেই গালগুলা লাল হয়ে উঠে, অজানা ভালোলাগাই মন ভোরে উঠে, আজকে কি তবে ভ্লাদিমির আসবে, গত বড়োদিনে মার দেয়া পোশাকটা পরে এসেছে ক্লারা, ভ্লাদিমিরের অনেক পছন্দের এটা, বাগান থেকে তুলে আনা ল্যাভেণ্ডার ফুলগুলো হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে ক্লারা জেটির দিকে এগোতে থাকে। দূরে রবার্টের পানশালায়  টুংটাং করে বাজতে থাকে গিটার,  এক এক করে নাবিকরা জাহাজ থেকে নাবিকরা নামতে থাকে ক্লারার হৃদস্পন্দন বাড়তে থাকে। একসময় জাহাজ খালি হয়ে যায়, নাবিকরা এক এক করে সবাই বাসায় ফিরতে থাকে, বন্দরের পানশালাগুলার আলো নিভে আসে, না ভ্লাদিমির আজও  আসেনি।
হিম শীতল বাতাস বইতে থাকে, ঝরা ম্যাপেলের শুস্ক পাতায় ক্লারা হাটতে থাকে ক্লান্ত পায়ে, দূর সাগরের পড়ে নীল ল্যাভেণ্ডারগুলো পড়ে থাকে অযত্নে, অবহেলায়
(ভেনিস বন্দরে এক মেয়েকে এই ভাবেই নাবিকরা বৃদ্ধ হতে দেখেছে, তার প্রেমিকের অপেক্ষায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে, নাবিকরা তার চেহারাকে গুডলাক চর্ম ভাবতো, তার পর একদিন আর তাকে দেখা বন্ধ হয়ে যায়, কেউ আর তার প্রেমিকের জন্য নীল ল্যাভেন্ডার নিয়ে অপেক্ষা করে না )