নুসরাত হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল, বেড়িয়ে এল লোমহর্ষক তথ্য

  •  
  •  
  •  
  •  

ফেনী সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দিয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র ৪৮ দিনের তদন্তে নুসরাত খুনের এ অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পিবিআই।

বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাণদণ্ডের সুপারিশ করে তদন্তকারী কর্তাকর্তা শাহ আলম চার্জশিটটি জমা দেন।

ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ৭২২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে কারন জেল থেকে তার নির্দেশনাতেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

বাকি আসামিরা হলেন- সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম (৫০), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আফছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মণি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আবদুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), মোহাম্মদ শমীম (২০) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে পিবিআইর ৭২২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, “প্রথমে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে অনেকেই বলেছেন, মাদরাসার আলেমদের অপমান ও প্রেমের ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা সেটি পাইনি। আমরা পেয়েছি ওই মাদরাসার সকলের স্বার্থে এই মেয়েটি ঘা দিয়েছিল। ওই মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক ক্ষমতা, ছাত্রীদের এখানে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন করার ক্ষমতা ভয়াবহ। এই মেয়েটি এর প্রতিবাদ করে। যে কারণে তাকে তারা সবাই মিলে পরিকল্পনা করে হত্যা করে।”

বনজ কুমার আরো বলেন, “সিরাজ-উদ-দৌলার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির পুরো ঘটনায় সবার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করেছে। জবানবন্দিতে তিনি নুসরাতের গায়ে হাত দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি (অধ্যক্ষ) বলেছেন যে ‘নুসরাতকে প্রথমে প্রেসার দিবা। না হলে খুন করবা’। খুনের পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন যে ‘আগুন দিয়ে খুন করবা এবং আত্মহত্যা বলে চালাবা’।”

২৭ মার্চ অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান। এ সময় মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই ভবনের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

ঘটনার সময়কার সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।