মোবাইল ফোনের নেশায় প্রক্রাস্টিনেশনের প্রভাব । শিল্পী রহমান

  •  
  •  
  •  
  •  

চোখের সামনে পাহাড় সমান কাজ বা পড়াশুনা জমে আছে, কিন্তু নিজেকে কোনভাবেই ঠেলে সেই জায়গাটায় নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না যেখান থেকে কাজটা শুরু করা সম্ভব, শেষ করা তো দূরের কথা। পড়াশুনা বা জমে থাকা কাজগুলো করবার সম্পূর্ণ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কেমন একটা অবসাদ যেন আমাদের শরীর এবং মনকে শেকলে বেঁধে রাখে, অথবা অন্য সবকিছুই হয় কেবল কাজের কাজটা ছাড়া।
পড়াশুনাকে কেন্দ্র করে লেখাটি লিখলেও এই অভ্যাস যে কোন কাজেই সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস করি কারণ প্রক্রাস্টিনেশন আমাদের অনেক কিছু নিয়েই হতে পারে।
এতো লম্বা সময় ঘরে বসে থাকা হয়নি আমাদের কখনোই। সব সময় একটা রুটিন ছিল, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ছোঁটার তাড়া ছিল। স্কুল বা কলেজ শেষ করে কোচিং কিংবা অন্য কোন লেসনের পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে সারাদিন ভীষণ ব্যস্ততায় কেটেছে সবার সময়। পরীক্ষা বা এসাইনমেন্টের চাপও ছিল সর্বক্ষণ। এখন সেগুলো নেই, যদিও এই করোনার সময় অনেক স্কুল কলেজ হয়তো অনলাইনে সেটা বহাল রাখবার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা জানি বাংলাদেশের বেশীর ভাগ ছাত্র ছাত্রীই এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারছে না, সুযোগই নেই। আবার পারলেও তারাও যে প্রক্রাস্টিনেশনে ভুগছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
এখানে একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো যে, মনোবিজ্ঞানী ডঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “পড়ালেখাকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য করে নিলে, সুস্থভাবে সুখী জীবন যাপন কঠিন হয়ে যেতে পারে। বেঁচে থাকবার জন্য মনের শান্তি খুব প্রয়োজন। আর সেই  কারনেই আমাদের সকল চিন্তার মূলেই রয়েছে আমাদের মন। আমাদের স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে মন। মন সর্বশ্রেষ্ঠ, মন ছাড়া পৃথিবীতে আর কিছু নেই। মন বাতাসের চাইতে আগে যায়। শুধু স্বাস্থ্য নয়, পৃথিবীর সব কিছুর জন্যই আমাদের মনের প্রয়োজন আছে। আর তাই মনের সুস্থ বিকাশ অত্যন্ত জরুরী “।
তাই অভিভাবকদের অনুরোধ করবো ওদেরকে বার বার পড়ালেখার জন্য চাপ দিয়ে স্ট্রেস না বাড়িয়ে কিভাবে সাহায্য করা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে পারেন। কারণ ওরা নিজেরাই এটা নিয়ে অনেক অশান্তির মধ্যে রয়েছে, তার ওপরে এই বাড়তি চাপ নেয়া মনের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

প্রক্রাস্টিনেশন, কথাটার অর্থ কি?
সহজ করে বললে, চোখের সামনে লম্বা একটা কাজের লিস্ট কিন্তু সেগুলো না করে ভিন্ন কিছু করাকেই প্রক্রাস্টিনেশন বলে। সত্যি বলতে এই মুহূর্তে সেই ‘ভিন্ন কিছু’ কি সেটা আমরা সবাই বুঝতে পারছি। নেটে বসে থাকা বা স্মার্টফোন ব্যবহার করা। কেউ হয়তো ফেসবুকিং করছে, না হলে ইন্সটাগ্রাম বা টুইটার, নাহলে কোন গেইম নিয়েই দিন কাটিয়ে দিলো, অথবা সারাদিন চ্যাটিং করছে নাহলে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে কিংবা অন্য কিছু। এটাই হচ্ছে প্রকাস্টিনেশন। এই যে সব কাজই চলছে শুধু মাত্র কাজের কাজ ছাড়া কাজই হলো প্রক্রাস্টিনেশন। অনেক মানুষ আছেন যাদের কাছে এটা শুধু মাত্রই একটা শব্দ, এটার কোন প্রভাব উনাদের কখনো ছুঁয়ে যায়নি। তাঁদেরকে আমি সাধুবাদ জানাই, কিন্তু প্রক্রাস্টিনেশন করবার মতো মানুষের সংখ্যা হয়তো এই মুহূর্তে অনেক বেশি, বিশেষ করে করোনার সময় ঘরে বসে মানুষ এটা নিয়ে অনেক সাফার করছে।
প্রক্রাস্টিনেশনের সাথে anxiety র একটা সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যখন উৎকণ্ঠায় ভুগি তখন প্রক্রাস্টিনেশন আমাদেরকে একটা সাময়িক পরিত্রাণ দেয়। কিন্তু সেটা পরবর্তীতে আমাদের anxiety এর পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। কারণ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে ঠিকই , কিন্তু কাজগুলো তো আর নিজে নিজে হয়ে যাচ্ছে না। পিছিয়ে পড়ার ভয়ে স্ট্রেস বাড়তে থাকে। কিভাবে এতগুলো পড়া বা কাজ শেষ করা সম্ভব, সবার পড়া হচ্ছে শুধু যেন আমারটাই হচ্ছে এমন একটা অস্থিরতা পেয়ে বসে। তখন ব্যর্থতার অনুভূতি পীড়া দিতে শুরু করে।  ‘ফিয়ার অফ ফেইলিউর’, বা ‘ ডিসঅ্যাপ্রুভাল’ এর অনুভূতি আবারও প্রক্রাস্টিনেশনের দিকে ঠেলে দেয় এবং একটা খারাপ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।
‘ ডিসঅ্যাপ্রুভাল’ হলো সব কিছু পারফেক্ট করবার একটা প্রবণতা, যেমন, জিপিএ ৫ পেতেই হবে, সায়েন্সে পড়তেই হবে, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতেই হবে, পছন্দের সাবজেক্টে পড়তেই হবে ইত্যাদি ভাবনাগুলো অনেক বেশী চাপের সৃষ্টি করে মনের মধ্যে। আরও রয়েছে , যেমন, “ আমি খারাপ রেজাল্ট করলে বাবা মা হতাশ হবে , টিচার কি বলবে ? সমাজ, আত্মীয় স্বজন বন্ধু সবাই কি বলবে ?” ইত্যাদি ভাবনাগুলোও এক মুহূর্তের জন্য মাথা থেকে সরানো যায়না। একটা লক্ষ্য থাকা অবশ্যই ভালো , যেটার দিকেই যাত্রা হবে প্রত্যেকটা মানুষের কিন্তু সেটা যেন আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত চাপে প্রক্রাস্টিনেশন জায়গা করে নেয় আমাদের জীবনে। যত ভয় ততো অসাড়তা, যত কাজ ততো অন্যকিছু নিয়ে ডুবে থাকা। এর সাথে মোবাইল ফোনের একটা বিশাল ভূমিকা যুক্ত হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির কারণে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এটার সত্যতা নিশ্চয়ই অনেকেই অকপটে স্বীকার করে নেবেন।

আমরা সবাই জানি মোবাইল ফোনে আমাদের অ্যাডিকশন হয়ে যাচ্ছে বা গেছে। যদিও এই করোনার সময় অনেকেই অনলাইনেই ক্লাস করছে, পরীক্ষা দিচ্ছে। সেটা ঠিক আছে । এর বাইরে মানুষ কতোটা সময় আঠার মতো লেগে রয়েছে মোবাইলের সাথে সেটাই প্রশ্ন। মোবাইলে নেশা হয়ে সন্তানের শুধু ক্ষতিই হচ্ছে এমন নয় , এর অনেক উপকারিতাও রয়েছে কিন্তু সেই ক্ষেত্রে এর ব্যবহারটা হতে হবে পরিমিত এবং পরিশীলিত। মোবাইল বা গেজেটের কোন অপরাধ নেই, অপরাধ হচ্ছে আমরা কিভাবে সেটিকে ব্যবহার করছি।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ যখন কোন গেইম খেলে, পর্ন দেখে বা অন্য কোন অ্যাপস ব্যবহার করে যেমন, ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম নিয়ে পড়ে থাকে, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে এক ধরণের পদার্থের নিঃসরণ ঘটে এবং সেটিই তখন তাঁদেরকে আসক্ত হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু মোবাইল ফোন দিয়ে তারা যদি ক্লাস করে বা কোন শিক্ষামূলক কিছু করে বা শিক্ষা গ্রহন করে তাহলে তাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ কম হয় আর তাই আসক্ত হওয়ার সুযোগও কম থাকে।
স্কুলে যাওয়া ছেলে মেয়েদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করবার দরকার নেই, তবে তার ব্যবহারটা হতে হবে পরিমিত এবং পরিশীলিত । অনেকসময় দেখা যায়, বয়ঃসন্ধির ছেলে মেয়েদের মোবাইলে নেশা হয়ে যাচ্ছে বলে ওদের কাছে থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু এতে হয়তো উল্টো ওদের পড়াশুনার ক্ষতিই হতে পারে সেই সাথে জন্ম নিতে পারে অভিভাবকের প্রতি একটু অসুন্তুস্টি। পরিমিত ব্যবহারটা ছোট বেলা থেকেই শিখলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। মোবাইলেরও প্রয়োজন রয়েছে। এখান থেকেও শিক্ষা গ্রহন করতে হচ্ছে তাই এটা বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মোবাইল ব্যবহারে আমরা আমাদের শিশুকে কিভাবে প্রণোদনা দিচ্ছি সেটার ওপরে নির্ভর করে সেটি শিশুর কতোটা ক্ষতি করছে। একই ভাবে ভিডিও গেইমগুলোকেও একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে এলে ওদের নেশা কমতে পারে।
সারাক্ষণ মোবাইল ফোনটা হাতে থাকলে যেটা হয়, আপনি যখন দেখছেন আপনার সামনে পাহাড় সমান পড়া জমে আছে, যা করা হচ্ছে না বলে anxiety বাড়ছে, ঠিক তখনই মোবাইল ফোনটা একটু সাময়িক স্ট্রেস রিলিফের কাজ করছে। মনে মনে হয়তো ভাবছেন “ ইশ কতো সময় নষ্ট করছি, পড়তে বসতে হবে”  হয়তো ভাবছেন আর ৫ মিনিট পরেই ফোনটা রেখে এক গ্লাস পানি খেয়ে পড়তে বসবেন। ৫ মিনিটের জায়গায় আধা ঘণ্টা চলে যায়। আধা ঘণ্টা পরে উঠলেন, পানি খেয়ে পড়তে বসার কথা, কিন্তু পানি খেয়ে নিজের অজান্তেই আবার ফোনটা হাতে চলে আসে, আবার একটু ব্রাউজ করলেন চলে গেলো আরও আধা ঘণ্টা। হয়তো ভাবলেন, আচ্ছা থাক এবার ফেসবুকে ঢুকবোই না, একটু ইন্সটাগ্রাম দেখেই পড়তে বসবো, চলে গেলো আরও আধা ঘণ্টা, এরপর শাওয়ারের সময় হলো, কিংবা লাঞ্চ, নাহলে মা ডাকল কিছু করতে, এইভাবে সবই হচ্ছে শুধু পড়াশুনা বা কাজগুলোতেই হাত দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু আপনার সম্পূর্ণ ইচ্ছে আছে পড়াশুনা করবার , কাজ করবার। এই সম্পূর্ণ ইচ্ছের কাছে আপনার প্রক্রাস্টিনেশন জিতে যাচ্ছে বার বার।
কি করবেন ? লড়বেন ? কিভাবে লড়বেন ?
আসুন দেখা যাক কি করা যায় ?
প্রথমেই আপনার উৎকণ্ঠার সাথে বোঝাপড়া করতে হবে। আপনার উৎকণ্ঠা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে নিজের অসংলগ্ন চিন্তা ভাবনাগুলোকে চিনতে চেষ্টা করুন এবং এগুলোর কারণ কি হতে পারে লক্ষ্য করুন। জারনালিং করুন বা ডাইরি লিখুন, চেষ্টা করুন সারাদিনের ইতিবাচক ঘটনা গুলোকে লিখতে। গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের প্র্যাকটিসও এই ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করতে পারে। তারপর শুরু করুন প্রক্রাস্টিনেশনের বিরুদ্ধে আপনার লড়াই।
১/ প্রথমেই একটা লিস্ট করুন, প্রাইওরাটাইজ করুন। কোনটার পেছনে কতোটুকু সময় দেবেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখে ফেলুন।
২/ কাজ শুরু করবার আগে মোবাইলটা অফ করে দিন। সারাদিনে কখন মোবাইল ব্যবহার করবেন সেই সময়টা নির্ধারণ করে ফেলুন। কারণ পড়ার সময় বা কোন কাজ করবার সময় পাশে মোবাইলটা থাকলে প্রথমে আপনার চোখ চলে যাবে, যে কোন নোটিফিকেশনে যা প্রতি মুহূর্তে আপনাকে ডিস্ট্র্যাক্ট করবে। তারপর নিজের অজান্তেই হাত চলে যাবে। তাই মোবাইলটাকে অফ করে দূরে সরিয়ে রাখুন। পাশের ঘরে কিংবা ড্রয়ারে। ২ ঘণ্টা পড়াশুনা করতে পারলে , আধা ঘণ্টা ব্যাবহার করতে পারবেন বলে নিজেকে পারমিশন দিন। আপনি চাইলে আরও লম্বা সময় মোবাইল ব্যাবহার না করে থাকতে পারেন।
৩/ শুরু করে দিন কোথাও – যদি এমন হয়, যে বুঝতেই পারছেন না কোথায় শুরু করবেন, তাহলে কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। একটা ধাপে আঁটকে গেলে, নিজেকে ঠেলে আরেকটা ধাপে নিয়ে যান। পরে আবার ফিরে আসতে পারবেন। নিজের ওপরে অনেক বেশী কঠিন হয়ে যাবেন না।
৪/ নিজেকে ভুল করবার পারমিশন দিন- নিজেকে যুক্তি দিয়ে জিজ্ঞেস করুন এটাতে এতো পারফেক্ট হবার প্রয়োজন রয়েছে কিনা। জিজ্ঞেস করুন, পারফেক্ট না হলে কি এমন ক্ষতি হতে পারে? অথবা খুব ভালো কিছুই কি হতে হবে অথবা মাঝামাঝি হলেই বা কি হবে? এই অ্যানালাইসিস গুলো করতে পারলেও একটা হালকা লাগতে পারে। আগে থেকেই একটা বদ্ধমুল ধারণা থাকা ঠিক না, তাহলে একটা সীমাবদ্ধতায় আঁটকে যাবেন, সমস্ত কিছুর বিকল্প চিন্তার জায়গা বা সুযোগ থাকতে হবে।
৫/ চেষ্টা করুন – আপনি যদি কোন সাবজেক্টকে ভয় পেয়ে শুরুই করতে না পারেন, তাহলে আঁটকে যাবেন। সেটা নিয়ে অনেক বেশী জল্পনা কল্পনা না করে চেষ্টা করুন। ভুল হতে পারে, সময় লাগতে পারে কিন্তু আপনি তখন শুরু করে দিয়েছেন তাই থামবেন না। মনে রাখবেন   action is the best way to learn and weigh alternatives .  শুরু করে দেবেন , একভাবে না হলে বিকল্প কোন উপায় বের করা যাবে। কিন্তু শুরু করে দিন।
৬/ রিলাক্স করুন – যেই চ্যাপটারটা বা সাবজেক্টটা পড়তে বেশী ভয় লাগছে সেটা শুরু করবার আগে একটু ব্রিদিং এক্সারসাইজ করে নিন।
৭/ একটা রুটিন তৈরি করুন –  প্রতিদিনের জন্য “ ডে প্ল্যানার” ব্যবহার করতে পারেন। আপনার মাথায় কি আছে, কি কি করবেন সব জানেন, এটা দিয়ে খুব একটা সাহায্য হবে না । এরচেয়ে লিখে ফেলুন। লিখে ফেললে এমনিতেও anxiety কমে যায় কারণ আপনি লিখবার সময়ই বাছাই করে ফেলছেন, প্রাইওরাটাইজ করছেন, এটা অনেক সাহায্য করবে, যখন চোখের সামনে দেখবেন কি করতে হবে। এটা প্রতিদিন সকালে উঠে নাস্তা খাবার সময়ই করে ফেলতে পারেন। লিস্টের সব কাজ শেষ না হলেও ক্ষতি নেই, পরের দিন হবে। আবার লিস্ট করবেন, এভাবেই অল্প অল্প করে কাজ এগুবে। একসময় এর গতিও বাড়বে।
৮/  নিজেকে পুরস্কৃত করুন-  সহজ কিংবা কঠিন কিছু করে ফেললে নিজেকে প্রিয় কিছু দিয়ে রিওয়ার্ড দিন। হয়তো কিছু খেলেন, কিংবা খুব কঠিন নিয়ম মেনে আধা ঘণ্টা গেইমও খেলতে পারেন বা ফেসবুকিং করলেন। অ্যালার্ম দিয়ে শুরু করবেন, যেন আধা ঘণ্টা পর আলার্মের আওয়াজে আপনার কাজ ফিরবার সময় মনে পড়ে যায়। শুধুমাত্র সফলতার পরই নিজেকে এই পুরস্কার দিন তাহলে ভালো লাগবে।
৯/ Group work – হলে কাজ ভাগ করে দেবেন । কলেজ বা ইউনিভার্সিটির প্রজেক্ট বা প্রেজেন্টেশন এর কাজ গুলো ভাগ করে দিন । একবার ভাগ করা হয়ে গেলে, নিজের অংশে মন দিন। অন্যে কি করলো এটা নিয়ে ভাববেন না। হয়তো ওদেরও প্রক্রাস্টিনেশন হচ্ছে। যদি পারেন ওদের প্রক্রাস্টিনেশন দূর করবার পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু আপনি ওদের অংশটুকু নিয়ে ভাববেন না ।
১০/ নিজেকে অপরাধী ভাববেন না- প্রক্রাস্টিনেশন হয় সময় ব্যবস্থাপনার কারণে। তাই নিজেকে অপরাধী ভাববেন না। নিজে পারছেন না, আপনি একজন আলসে, বিশৃঙ্খল, আপনাকে দ্বারা কিছু হবে না, কিছু পারেন না – এগুলো ভেবে সামনে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন। কারণ এগুলো আপনাকে কোনভাবেই সাহায্য করবে না। আপনি আসলে একটু প্রক্রাস্টিনেশনের খারাপ অভ্যাসে পরে গেছেন, কিন্তু এখান থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা শুরু করুন, আপনি পারবেন। তাহলে আজ থেকেই শুরু হয়ে যাক। শুভ কামনা ।

শিল্পী রহমান: 
গল্পকার, কবি, সংস্কৃতিকর্মী, কাউন্সেলর ও গবেষক। স্থায়ী নিবাস ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়ায়। কর্মসূত্রে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে।
প্রকাশিত গ্রন্থসমুহ: ধর্ষণ ধর্ষক ও প্রতিকার; উৎকণ্ঠাহীন নতুন জীবন; মনের ওজন; সম্ভাবনার প্রতিচ্ছায়ায়; যুদ্ধ শেষে যুদ্ধের গল্প; পথের অপেক্ষা; পাহাড় হবো ইত্যাদি।