প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সামনে যতো চ্যালেঞ্জ

521

মন্তব্য প্রতিবেদন: গত ২৪ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার ৩০ তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ট্রেজারের ক্ষমতায় থাকা লিবারেল পার্টির স্কট মরিসন। অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্টমিনিস্টার পার্লামেন্টের পদ্ধতি অনুসরন করে এবং সেই কারনে সরকারে থাকা দলীয় প্রধানই সবসময় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এদিন পার্টি সদস্যদের ভোটে ম্যালকম টার্নবোল স্কট মরিসনের কাছে হেরে যান এবং প্রধানমন্ত্রীত্বও হস্তান্তর করেন।

বলা হয়ে থাকে, অস্ট্রেলিয়ার গনতন্ত্রে জনগনই নির্বাচন করে কোন্ দল ক্ষমতায় যাবে আর কে হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই মতবাদকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমানিত করেছে গত ৯ বছরের শাসন কাল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি আ্যবোট এভাবেই এখনকার অবস্থা বর্ননা করলেন, ‘জনগন নয় রাজনৈতিক সদস্যরাই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন বা বদল করে আসছেন।’
আর সেই ধারায় কেভিন রাড, জুলিয়া গিলার্ড, আবার কেভিন রাড, টনি আ্যবোটকে সরিয়ে ম্যালকম টার্নবোল অবশেষে স্কট মরিসন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর কোন অঘটন না ঘটলে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে নির্বাচন হবে এবং তার আগ পর্যন্ত মরিসনই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবোলকে প্রথমে চ্যালেন্জ করেন ক্ষমতাসীন ইমিগ্রেশন মন্ত্রী পিটার ডাটন। প্রথমবার ডাটন হেরে গেলেও পার্টি সদস্যদের আশ্বাসে দ্বিতীয়বার চ্যালেন্জ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রেজারার স্কট মরিসন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী জুলিয়া বিশপ দলীয় প্রধান হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যান। সবশেষে স্কট মরিসনই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
লিবারেল পার্টির সংশ্লিষ্টরা বলেন, সেক্ষেত্রে পিটারের মতো একরোখা নেতা থেকে লিবারেল পার্টি তথা দেশকে বাঁচাতেই স্কট মরিসন প্রধানমন্ত্রীর হাল ধরেছেন। পিটার যে আবারো চ্যালেন্জের হুমকি দেবেনা তার কোন গ্যারান্টি নেই।

একদিকে নিজ দলের কুচক্রী সদস্য অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির বিল শর্টনের সাথেও তাকে লড়তে হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন আসছে নির্বাচনে স্কট মরিসন তথা লিবারেল পার্টির ক্ষমতা আসা কঠিন হবে। টানা ৩৯ টা জরিপে বিল শর্টনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।শর্টন যদিও খুব ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আর সেখানেই স্কট মরিসনের বিপদ সংকেত। কেননা লিবারেল পার্টির নিজেদের মধ্যে কলহ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে।

বিশেষ করে টনি আ্যবট পেঁছনে বসে পিটার ডাটনদের উস্কানি দিয়েই চলেছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী মরিসনের সামনে চ্যালেন্জ হলো নিজ দলে নিজের বিশ্বাসযাগ্যতা ও ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলে বিল শর্টনের মুখোমুখি দাঁড়ানো। তবেই তারপক্ষে আগামী বছর নির্বাচনে জেতা সম্ভবপর হবে।

উল্লেখ্য গত সাধারন নির্বাচনে লিবারেল পার্টি ৪৪ টি আসনে এককভাবে জয়ী হয়। অন্য দুটি দলের সাথে কোয়ালিশন করে ৭৪টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। অন্যদিকে বিল শর্টনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি এককভাবেই ৬৯ টা আসনে নির্বাচিত হয়। সুবিধাজনক কোয়ালিশন না হওয়ার কারনে সেসময় লেবার পার্টি সরকার গঠন করতে পারেনি।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মরিসনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো সে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টার্নবোলের চেয়ে অনেক চৌকষ এবং কর্মঠ।দলের অধিকাংশ সদস্য তাকে পছন্দ করেন। সেটা ধরে রাখতে পারলে প্রতিপক্ষ লেবার পার্টি বা বিল শর্টনের চ্যালেন্জ মোকাবিলা করা তেমন কঠিন নয়।

আর সবশেষে অস্ট্রেলিয়ার জনগন সন্তুষ্ট থাকে এমন কাজ করতে থাকলে সামনের নির্বাচনে আবারো ক্ষমতায় আসবে স্কট মরিসন ও তার দল সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।