প্রশান্তিকার ঈদ আনন্দে কবিতা – প্রশান্তিকা পংক্তিমালা

  •  
  •  
  •  
  •  
হ্যালুসিনেশন
আহমেদ শরীফ শুভ
কখন আসবে?
তোমার অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় এক মিনিট
তুমি আসছো তো আসছোই
মনে হচ্ছে এক যুগ।
ধানমন্ডি সাতাশ বসে আছে
গুলশানের কফি হাউস, নিকেতন
সবাই অপেক্ষায়
তবুও তুমি আসছোনা
একশো বিশ সেকেন্ড
দুই যুগ পেরিয়ে গেছে
তুমি আসছো তো আসছোই।
এই যে, তোমার ঘ্রাণ পাচ্ছি
কাছাকাছি কোথাও পাচ্ছি পায়ের শব্দ
তুমি কি চলে এসেছো?
তোমার ওড়না দেখছি, গোলাপী জামা
কারুকাজ করা হলদে পা’জামা
গাড়িতে উঠেই আমার হাত কোলে নিয়ে বললে…
‘জানো, তোমার জন্য
কতো মিথ্যে কথা বলতে হলো অফিসে আজ!’
আহা, যেন কফি ওয়ার্ল্ড বসে আছে কেবল আমারই জন্য!
তুমিও কি যাবেনা ওখানে?
তিন মিনিট পেরিয়ে গেছে
তিন যুগের  বেশি দাঁড়িয়ে আছি তোমার অপেক্ষায়।
আমি তোমার স্পর্শ পাচ্ছি ঠোঁটে
পারফিউমের চেয়েও তীব্র স্নিগ্ধতায় তোমার ঘ্রান
হ্যালুসিনেশন!
ভিজ্যুয়াল
অডিটরি
অলফেকটরি
টেকটাইল
এবসোলিঊট হ্যালুসিনেশন!
আমার অফিসে বসেই
তোমার অফিসের নিচে দাঁড়িয়ে আছি
জানালায় চোখ
বাইরে বৃষ্টি
ওপারে জানজট
তুমি আসছো তো আসছোই..
অহেতুক 
রাফিয়া হাসিন যুঁই
তোমার বোধহয় শেষ কথা – ‘পরে’
ছুরির তীব্র আঘাতে স্তব্ধ হৃদয়, পারে না শ্বাস নিতে,
হোঁচট খায় কান্না, রক্ত কণিকা পারে না চাইতে তোমাকে
ঝড়ের রাতে বৃষ্টির একঘেঁয়ে কান্নার অসহ্য দীর্ঘশ্বাস যেন দুঃস্বপ্নের ফেরারী। …
শেষবারের মতো অহেতুক তোমাকে চেয়ে মৃত্যু কি করে অপেক্ষা, – ‘পরে ’???
জীবন নদী
সাহিদা মোস্তফা
একদিন সোনালী বর্ণচ্ছটায় সুর্য এনেছে প্রভাত।
নিশিথের ক্লান্তি দু:স্বপ্ন ঝেড়ে প্রস্ফুটিত ফুলের মত জীবন হয়েছে প্রতিভাত।
দীপ্তি বিভোর মিষ্টিমধুর বিকেল খুশিতে নতজানু মুগ্ধ মিহি রোদ ছড়িয়েছে যত।
উচ্ছল তিতলির মত মন অবগাহন করেছে ইচ্ছেমত।
এমনি করেই যদি বয়ে যেত দিন নিরবধি
সুজলা শ্যামলা এইমন জীবন নদী।
আহা প্রেম প্রণয়ের পাল তুলে ছুটে চলে
সাগরের অনন্ত সলিলে দুর্বার ঢেউ তুলে।
স্বার্থকতার মোড়কে ঢাকা পড়ে যায় জীবন
সময়ের আত্ম বলিদানে হেসে লুটায় প্রনয়ক্ষন।
কিন্তু তাই কি হয় তা ত হবার নয়!
জীবন কি কখনো এমন হয়।
হৃদয়ের বিত্ত বৈভবে মনই গাঁথে দিবসের স্বরলিপি
অকস্মাৎ রুদ্ররূপ ভেসে আসে দু:স্বপ্নের জলোচ্ছ্বাস সুনামি।
একবুক কান্না যেমন আছে নদী হয়ে বয়ে চলে।
এক অরন্য সুখও আছে বন্য হয়ে উচ্ছল কথা বলে। কিছু স্বপ্ন যেমন ধুসরমেঘী আকাশে নিরন্তর উড়ে।
কিছু তার সুর্যের রোদেলা আলোয় অবগুন্ঠন ফেলে উদ্ভাসিত হয় আদরে।
অরন্যের নিস্তব্দতায় শুন্যতার দীর্ঘশ্বাস যেমন গুমরে উঠে শোকের আর্তনাদে।
তেমনি আনন্দ উচ্ছ্বল প্রাচুর্যের প্রাণ সমুদ্র উত্তাল ঢেউ তোলে সৈকত তটে।
জীবন জীবন মানেই শুন্যস্থান পুরন
এক স্বপ্ন হারায় নতুনের হয় আগমন।
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন মানেই জীবন
জীবনের হাত গাঁথে অভিলাষ গড়ে স্বপ্নের ভূবন।
বৃষ্টি ও তুমি
সাফিয়া নার্গিস
হঠাৎ আসা বৃষ্টির মতোই তুমি এসেছিলে,
এসেই তোমার শীতল পরশে আমায় ভিজিয়েছিলে,
কত শত রঙিন স্বপ্ন এঁকেছিলে আমার নয়নে,
শ্রাবণ ধারার প্রশান্তির ছোঁয়া লেগেছিলো সেদিন আমার তৃষিত মনে।
এক বৃষ্টিস্নাত বিকেলে কদমগুচ্ছ হাতে দিয়ে বলেছিলে “ভালোবাসি”,
কম্পিত হাতে কদমগুচ্ছ নিয়ে তোমায় দিয়েছিলেম আমার মৌন হাসি।
কি বুঝেছিলে জানিনা,
শুধু আমার হাতটি হাতের মুঠোয় নিয়ে,
বলেছিলে, কভু চলে যেও না।
সেই থেকে হয়েছিলো শুরু দুজনার পথচলা,
কতো গল্প, মান-অভিমান আর কতো কথা বলা।
বৃষ্টি এলেই আমায় চমকে দিয়ে
তুমি এসে হাজির হতে,
“তোমার শহর আমায় ক্লান্ত করেছে,
শান্তি পেতে এসো বৃষ্টিস্নান করি” বলেই
আমার পানে দুহাত বাড়াতে।
আজ শুধুই সব স্মৃতি,
এক শ্রাবণে এসেছিলে
ছিলো কতো প্রেম প্রীতি।
হারালে কোথায়, কোন সুদূরে,
আজ বৃষ্টিস্নান করো কার হাতটি ধরে?
আজও বৃষ্টি এলে মন ময়ূরী মোর নেচে উঠে,
বৃষ্টির রিনিঝিনি তালে হৃদকম্পন বাড়ে।
আজও শ্রাবণধারা বয়ে চলে,
বাঁধ মানেনা সে কোন ছলে।
শুধু আষাঢ় শ্রাবণের প্রয়োজন হয়না,
নয়নের নোনাজল স্বপ্নগুলোকে বানভাসি করে,
ভেসে যাওয়া স্বপ্নেরা আর ফিরে না।
হৃদমন্দিরে দেখি তোমায় প্রতিনিয়ত,
তোমার পদতলে পূজার ফুলে করি কতো ব্রত।
আজ তুমি, বৃষ্টি এলেও,এসে হাত বাড়াও না আর,
তবুও বৃষ্টিস্নাত দু নয়ন তোমায় খুঁজে বারবার।
দুইখন্ড হৃদয়
মেরিনা আক্তার
ক্ষমা করো আমায় তুমি,
তুমি তোমার ছত্রিশ টুকরো মনটাকে
ধীরেধীরে একত্রিত করে ফেলেছো
আর ভালোবাসছো শুধুই আমায়।
সত্যিই কি তাই?
সত্যি কি তুমি পেরেছো হৃদয়টাকে একত্র করতে?
পারোনি! কারণটা না হয় নাই বললাম।
তবু ধরে নিলাম তুমি আজ এক হৃদয়ের মালিক।
তোমার হৃদয়ের টুকরোগুলো ছিল তোমার শরীরের আনাচে কানাচে
নদী,ঘাস,পাহাড়,সমুদ্রের মাঝে
তাই তো পেরেছো ওদের এক করতে।
কিন্তু আমি!
এই আমার দশ খণ্ড মনটাকে অনেক কষ্টে
অনেক কষ্টে দুই খণ্ডে রূপ দিতে পেরেছি,
এক খণ্ড করতে পারিনি,
আর পারবোও না কোনদিন বলে দিচ্ছি তোমায়,।
যদি এই দু’খণ্ড হৃদয়টাকে একখণ্ড করতে বলো
তাহলে আমি বলবো,”এড়িয়ে যাও আমায়।”
“ভুলে যাও একেবারে”
তুমি তো জানো দু’খণ্ড হৃদয়ের একখণ্ড
আমার শরীরের ভেতর আর বাকি খণ্ড!
সে ছোটছোট পায়ে হেঁটে বেড়ায় আমার চারিপাশ,
ঠিক ছ’বছরের এই ছোট্ট হৃদয়ের টুকরোকে আমি
আমি আলাদা করতে পারবো না কখনও।
আমার হৃদয়ের একটা টুকরো যে আমার পুরো আকাশ জুড়ে।
ইচ্ছে হলেই ওকে এক করতে পারবো না।
তার চেয়ে বরং আমি মরে যাই
কিংবা হারিয়ে যাই তোমার থেকে সেই ভালো হবে।
সেইদিন
আরাফাত তন্ময়
হায়-
কবে নিটোল স্বাস্থ্যবতী তরুণী কিংবা পুরুষত্বের রোষানলে পড়া নারীর হাতে গ্রেনেড উঠবে?
রাইফেল উঁচিয়ে কবে যে আইনমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে?
হায়-
কবে নারীসমাজ ঝাড়ুমিছিল করে
ইট-পাটকেল, ছেঁড়া জুতা ছুঁড়ে মারবে হাইকোর্টের দিকে কিংবা যৌন নিপীড়কের আশ্রয়দাতার মুখে দলা করে থুথু ছিটাবে?
এখনই এসেছে সময়
করো নয় তো মরো!
বাস, ট্রেন অথবা পাবলিক প্লেস
যেখানেই ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ সেখানেই কষে একটা থাপ্পড়; কমপক্ষে
কফযুক্ত এক দলা থুথু…
হে নারী,
শর্টস-জিন্স পরতে পারেন; পকেটে
কিচেন-নাইফ রাখতে পারেন না?
শাড়ির আঁচল দিয়ে তো দিব্যি গলা পেঁচানো যায়; শালাদের
গলায় ফাঁস পরিয়ে রাস্তায় টানতে পারেন না?
তথাকথিত নারীবাদীদের বেশ্যা বললে ওড়না ছাড়া তাদের উর্বর বুক তখন নৌকার পাটাতনের মতো খাড়া হয়ে যায়; রেগে
গিয়ে আন্দোলনে নামে!
অথচ
যখন যৌনাঙ্গ বিকৃত করা হয়
বয়কাট দেয়া খানকিরা তখন নির্বাক…
হায়-
কবে যে হিজড়াদের ভাড়া করে জাতীয় সংসদের দেয়ালে হিসু করানো হবে!
আমি সেই দিনের অপেক্ষায়; ব্যবহৃত
শতশত প্যাড যখন স্বৈরাচারী সরকারের দিকে ছুঁড়ে মারা হবে
সে ঐতিহাসিক নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে আমি আরামে মরতে চাই…