প্রশান্ত পাড়ে বাঙ্গালি তরুণের দ্যুতি

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা রিপোর্ট: অর্ক দাশগুপ্ত সিডনিতে বসবাস করেন। বাবা প্রখ্যাত কলামিস্ট, লেখক ও কবি অজয় দাশগুপ্ত ও মা দীপা দাশগুপ্তের একমাত্র সন্তান। পড়াশুনা ও বেড়ে উঠা সিডনিতেই। থিয়েটারে হাতে খড়ি হলেও অস্ট্রেলিয়া টেলিভিশনের প্রিয় মুখ অর্ক অভিনয়ও করেছেন নামকরা হলিউড সিনেমায়, পাইপ লাইনে রয়েছে আরও সব ছবি। বিদেশের মাটিতে তিনি ক্রমাগত উজ্জ্বল করে যাচ্ছেন বাংলার মুখ।
আজ ২৩মে অর্ক দাশগুপ্তের জন্মদিন। আমরা প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে মুখোমুখি হয়েছিলাম গুণী এই তরুণের।

টিভি সিরিজ পালস্ এর চরিত্রে অর্ক

প্রশান্তিকা: অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন, ফিল্ম বা থিয়েটার কিভাবে শুরু হয়েছিলো ?
অর্ক: আমার শুরুটা হয়েছিলো থিয়েটার দিয়ে। যখন আমি হাইস্কুলে পড়ি তখনই এর শুরু। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটির ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আমি রিহার্সেল ও অভিনয় চালিয়ে গেছি। ২০০৯ সালে গ্রিফিন থিয়েটারে প্রথম ইন্ডিপেন্ডেন্ট মঞ্চ নাটক ‘References to Salvador Dali, Make Me Hot!’ এ সুযোগ পাই। এরপর থেকে অস্ট্রেলীয় টেলিভিশন ও ফিল্ম কোম্পানীগুলো আমার সাথে যোগাযোগ শুরু করে।

প্রশান্তিকা: সম্প্রতি টেলিভিশনে আপনাকে এ এনজেড ব্যাংকের একটি বিজ্ঞাপনে প্রধান ভূমিকায় দেখেছি, এর আগে কমনওয়েলথ ব্যাংকেরও মডেল ছিলেন। বিজ্ঞাপনে আপনার হাতেখড়ি হয়েছে কিভাবে?
অর্ক: আমার বিজ্ঞাপনে হাতেখড়ি হয়েছে আসলে অস্ট্রেলিয়ার ল্যাম্ব বিজ্ঞাপনটি দিয়ে। আমার সঙ্গে ছিলেন অলিম্পিক শিরোপা জয়ী ক্যাথি ফ্রিম্যান। সেই বিজ্ঞাপন প্রচন্ড হিট হয়েছিলো। তখন থেকে আমাকে অস্ট্রেলিয়ার মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার মানুষজন চিনতে শুরু করে।

প্রশান্তিকা: আন ইন্ডিয়ান সিনেমায় প্রখ্যাত ক্রিকেটার বেট লী’র সঙ্গে নাকি দ্য লায়ন ছবিতে ডেভ প্যাটেলের সঙ্গে, কোন চরিত্রটি করতে ভালো লেগেছে ?
অর্ক: বলা মুশকিল কোন্ চরিত্রটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তবে আমি বলব সব চরিত্রই আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। ব্রেট লী এবং ডেভ প্যাটেলের সঙ্গে অভিনয় করার পর ওরা আমার বন্ধু হয়ে গিয়েছে। আমার বাসায় ওদের আসা যাওয়া ছিলো। দ্য লায়নে ডেভ ছাড়াও নিকোল কিডম্যানকে পেয়েছিলাম। তাঁর মতো এতবড় অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয় করতে প্রচন্ড ভালো লেগেছে। তিনি একই সঙ্গে চমৎকার এক মানুষ।

হলিউডের ছবি লায়নের প্রিমিয়ার শোতে অর্ক

প্রশান্তিকা: হলিউডের কোন্ প্রজেক্টে কাজ করছেন এই মুহূর্তে ?
অর্ক: সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে শ্যুটিং করে এলাম ম্যুলান ছবির। সেখানেও জেফ চ্যানের মতো বড় অভিনেতারা ছিলেন। ছবিটির আরও এক বছর শ্যুটিং চলবে। কথা হচ্ছে হলিউডের আরও একটি প্রজেক্টের। শিগগির জানিয়ে দেবো।

প্রশান্তিকা: গতবছর সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আপনার বানানো শর্টফিল্ম ‘খানা খাজানা’ ৫ম স্থান অর্জন করেছিলো, এবছর ছবিটি মেলবোর্ন ফেস্টিভ্যালে নির্বাচিত হয়েছে। তবে কি অর্ককে আমরা ভবিষ্যতে একজন নিয়মিত নির্মাতা হিসেবে পাচ্ছি?
অর্ক: আমার স্বভাব হলো যখন যেটা ভালো লাগে তখন সেটাই করি। অভিনয় চলছে, চলবে। এর মাঝে ভালো লাগলে নির্মাণও করবো।

প্রশান্তিকা: আপনার বাবা স্বনামধন্য লেখক। তাঁর লেখা কি নিয়মিত পড়েন?
অর্ক: নিয়মিত না হলেও পড়ি। কখনও কোন বিষয়ে একমত না হলে আমরা কথাও বলি।

প্রশান্তিকা: অবসরের সময় কাটে কিভাবে?
অর্ক: বই পড়ে, সিনেমা দেখে। কখনও শখে রান্নাও করি। বাসায় আমার রান্নার সুনাম রয়েছে।
প্রশান্তিকা: বাংলাদেশের সিনেমা বা নাটকে অভিনয়ের ইচ্ছে আছে কি?
অর্ক: কখনও সুযোগ বা সময় পেলে অবশ্যই করব।
প্রশান্তিকা: আজ আপনার জন্মদিন। প্রশান্তিকার পুরো টিম, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা।
অর্ক: আপনাদেরও শুভেচ্ছা। সকলের মঙ্গল কামনা করি।

মা ও বাবার সঙ্গে অর্ক

অর্কর বাবা অজয় দাশগুপ্ত গুণী এই ছেলের জন্মদিনে বলেন, “অনেক বছর পর অর্ক আমাকে চমকে দিয়ে জানিয়েছিল ও অভিনয় করবে। মানে সিরিয়াসলি অভিনয়কে জীবন হিসেবে বেছে নেবে।জানি না কোন উত্তরাধিকারে তার এই নেশা। হয়তো মায়ের অবয়ব হুবহু পাবার কারণে তার মনে হয়েছে সে অভিনয় করতে পারবে। আমার মতো হলে সাহস করতো বলে মনে হয় না।কতদূর যাবে, যেতে পারবে জানি না। ওর জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন।”