ফকির আলমগীর আর নেই

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা ডেস্ক: কিংবদন্তী গণসঙ্গীতশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর আর নেই। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি …রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেলেন।

ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কোভিড ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ফকির আলমগীরের হার্ট অ্যাটাক হয়। রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালের কোভিড আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্য ডাক্তার আমিনা সুলতানা ফকির আলমগীরের মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।

করোনায় আক্রান্ত শিল্পীকে গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে ফকির আলমগীরের গায়ে জ্বর ও খুসখুসে কাশি ছিল। এরপর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তিনি ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভূগছিলেন। গত শুক্রবার তাকে দুই ব্যাগ প্লাজমা আর ইনজেকশনও দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীতচর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যাঁরা আছেন হৃদয়পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তাঁর। ফকির আলমগীর ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থানে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেছা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments