বাংলাদেশ-অষ্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিশীলতায় অষ্ট্রেলিয়ার বিশ্লেষকদের উচ্চাশা

  •  
  •  
  •  
  •  


প্রশান্তিকা ডেস্কঃ গত ১২ জুন, ২০১৯ তারিখে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অষ্ট্রেলিয়ান বিশ্লেষকগণ বাংলাদেশ অষ্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিশীলতায় উচ্চ আশা ব্যক্ত করেন। সেমিনারে অষ্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন এ্যাফেয়ার্স এন্ড ট্রেড, মেলবোর্ন ও ক্যানবেরার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীগণ অংশগ্রহণ করেন। গত এক দশকে তাঁরা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অষ্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের প্রত্যাশার বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, যে বাংলাদেশকে উপজীব্য করে বিশ্লেষক, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা অষ্ট্রেলিয়ায় এই প্রথম।

মেলবোর্ন ল স্কুলে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ হাইকমিশন, ক্যানবেরা এবং মেলবোর্ন ভিত্তিক Think Tank সেন্টার ফর পলিসি ডেভেলপমেন্ট (CPD)। সেমিনারটি দু’টি সেশন এ বিভক্ত ছিল। প্রথম সেশন ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উদীয়মান এবং অষ্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের অংশীদারীত্বে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এর প্রভাব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভূমিকা। দ্বিতীয় সেশন টি ছিল এশিয়া অঞ্চলে Forced  Migration (জোরপূর্বক অভিবাসন) এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব ও আঞ্চলিক পর্যায়ে গৃহীতব্য পদক্ষেপ সমূহ।

সেমিনারের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নিউ-জিল্যান্ডের সাবেক মন্ত্রী এবং জাতিসংঘের রোহিঙ্গা বিষয়ক উপদেষ্টা ক্রিস কার্টার, UNHCH এর সাবেক সহকারী হাইকমিশনার এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চেন্সেলরের সহকর্মী এরিকা ফেলার CPD-র নির্বাহী পরিচালক ট্রেডার মেকলিয়ড, অষ্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের এসোসিয়েট ডিন নিকোলাস ফেরাললী এবং অষ্ট্রেলিয়ান DFAT এর সহকারী সচিব এন্ডেুা কলিন সহ প্রায় ত্রিশ জন বিশ্লেষক।

বাংলাদেশ হাইকমিশনার সুফিউর রহমান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সাফল্যসমূহ তুলে ধরেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে তা তুলনা করে বাংলাদেশের দ্রুত এবং স্থিতিশীল অগ্রগতির কারণ সমূহ ব্যাখ্যা করেন। তিনি অষ্ট্রেলিয়ান বিশ্লেষকগণকে ‘বাংলাদেশ’ এর উপর নিবিড় অধ্যায়নের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ কিভাবে সাহায্য নির্ভর দেশ থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে বাণিজ্যিক অংশীদার হবার ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে তার বিস্তারিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি অদূরভবিষ্যতে অষ্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সহায়তার বাইরে অষ্ট্রেলিয়ার শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি কাজ এবং কৌশলগত সহযোগীতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।

সেমিনারের দ্বিতীয় অংশে আলোচকগণ সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অভিবাসন এবং এর সুদূর প্রসারী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচকগণ একমত হন যে, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে সকলের দায়িত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার অবকাশ রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব ও নিরাপত্তাহীনতা দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও আরও দূরে অষ্ট্রেলিয়ার মত দেশেও কিভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়।

সংবাদ প্রেস বিজ্ঞপ্তি