বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের সুইটহার্ট সুমী ও চিরকুট

  •  
  •  
  •  
  •  

 197 views

সিডনির খ্যাতনামা আয়োজক দল ‘লিসেন ফর’ এর উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারো আয়োজিত হল “বাংলাদেশ নাইটস” কনসার্ট। সঙ্গীত পিপাসু  সিডনি প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই কনসার্টের এটা ছিল ৪র্থ আয়োজন। ‘মাকসুদ ও ঢাকা’র সাথে ‘লিসেন ফর’এর এবারের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চিরকুট। এই আয়োজনের অন্যতম মিডিয়া পার্টনার হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহের সিডনি সফরে তাঁদের সাথে ছিলেন ‘প্রশান্তিকা’ টিম। একসাথে এয়ারপোর্ট থেকে কনসার্ট হল, সেখান থেকে অপেরা হাউজ কিংবা ঝুম বৃষ্টিতে লা পেরুজের বেয়ার আইল্যান্ডে ভিজতে ভিজতে হয়েছে অনেক কথা। এই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নানা বিষয়ে কথাবার্তার আলোকে সাজানো হয়েছে সম্পূর্ন ইনফর্মাল এই সাক্ষাৎকার। যদিও এই সাক্ষাৎকারের বেশিরভাগ অংশ নেয়া হয়েছে সিডনিতে চিরকুটের অবস্থান করা শেষ রাতে স্থানীয় বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ‘ফুসকা হাউজ’এ বসে। তুবুও প্রায় সুনির্দিস্ট কোন টাইমলাইন ছাড়াই বিভিন্ন সময়ে বলা কথা আর বন্ধুতপূর্ন আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচিত অংশ নিয়ে সাজানো আমাদের এই প্রয়াস। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি চিরকুট ব্যান্ড এবং ভোকাল শারমীন সুলতানা সুমিকে চমৎকার এই চলমান আলোচনায় সময় দেয়ার জন্য। সেইসাথে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা ‘লিসেন ফর’ টিমকে, এই পুরো ব্যাপারটার সমস্ত কৃতিত্ব তাঁদের প্রাপ্য।

ছবি ও সাক্ষাতকারঃ ফাহাদ আসমার

প্রশান্তিকা: সুমি আপু আপনাকে ধন্যবাদ সিডনিতে আসার জন্য। প্রশান্তিকা এবং পাঠকদের পক্ষ থেকে সিডনিতে স্বাগতম।
সুমী: অসংখ্য ধন্যবাদ। এটাই সিডনিতে আমাদের প্রথম সফর। আমরা সত্যি বলতে অত্যন্ত এক্সাইটেড।

কেমন লাগছে সিডনি?
কেমন লাগছে বুঝতে যতটুকু সময় থাকতে হয়, দেখতে হয় ততটুকু সময় আসলে থাকা হয়নি, আবহাওয়াও কিছুটা প্রতিকূল। কিন্তু খুবই অন্যরকম একটা অনুভূতি। আমার কাছে একদম বাংলাদেশই মনে হচ্ছে, কারন এখানকার আশেপাশে যাদের দেখতে পাচ্ছি সব আমাদেরই ভাইবোন। আর আমাদের যে কনসার্ট হল, “বাংলাদেশ নাইটস”, সেখানে প্রবাসী সবাই এসেছে, যে পরিমাণ এপ্রিশিয়েশন আমরা পেয়েছি তা অসম্ভব ভালো লেগেছে।

কনসার্ট তো চমৎকার হল। আয়োজক সংগঠন ‘লিসেন ফর’ যারা “বাংলাদেশ নাইটস” নামের কনসার্টটি আয়োজন করেছে, একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে কেমন লেগেছে তাদের আয়োজন?
খুব, খুবই ভালো। কারন দেশের বাইরে প্রফেশনালি সবকিছু ঠিক করে এতো সুন্দর একটা প্রোডাকশন আমরা দেখেছি, এক কথায় অসাধারণ। আমাদের কাছে অনেক ইন্সপায়ারিং লেগেছে। সেইসাথে,  অরগানাইজিংয়ে যারা ছিলেন সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং এমন একটা আয়োজনে চিরকুটকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।

সিডনির আতিথেয়তা কেমন হচ্ছে? সিডনিবাসীর হসপিটালিটি নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?
আসলে বাংলাদেশের মানুষতো সবসময় আতিথেয়তার দিক দিয়ে এগিয়ে, যে কোন কারো চেয়ে। এটা থাকবেই, এটা আমাদের রক্তে বিল্ট-ইন আছে। তারই ধারাবাহিকতায় সিডনিতে এসে আমরা দেখছেন তো (হাসি) মোটামুটি খাওয়া স্টপ করতে পারছি না। প্রতিমুহূর্তে সবাই খোঁজ খবর নিচ্ছেন, কি খাচ্ছি, কোথায় কিভাবে আছি। এই যেমন আপনি আমাদের খুব সুন্দর সুন্দর ছবি তুললেন, যত্নের কোন শেষ নেই। এই জিনিসটাই আমরা সবচেয়ে পছন্দ করি আমাদের নিজেদের লোকজন, বাংলাদেশের লোকজনের যে তারা জানে কিভাবে আপন করে নিতে হয়। এবং সেটাই আমাদেরকে নিয়েছে সবাই সিডনিতে।


সিডনির মঞ্চে চিরকুট

একটা মজার প্রশ্ন করি। আপনি তো অনেক দেশে অনেক শহরে শো করেছেন। যদি জানতে চাই সিডনিকে কত নাম্বারে রাখা যায় আপনার দৃষ্টিতে?
হা হা হা। নো নো নো প্লিজ। এটা আমার জন্য খুব কঠিন প্রশ্ন হয়ে যাবে। নাম্বারিং না করি, ভালোবাসা তো আর নাম্বার দিয়ে বিচার করা যায় না। শুধু এটুকু বলবো, সিডনি কোনভাবেই কোন অংশে কারো চেয়ে কম নয়।

একটা খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, আমরা খেয়াল করে দেখেছি মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বা অমিতাভ রেজা তাদের সাম্প্রতিক সিনেমাগুলোতে আপনি অনেকটা অটো চয়েস। তাদের ছবিগুলোতে বিখ্যাত সব টাইটেল সং এবং অন্যান্য গানে আমরা আপনাকেই দেখছি। টেলিভিশন, ডুব, আয়নাবাজিতে আপনার জয়জয়কার। এই সাফল্যের রহস্য কি?
গানগুলো আমার একার নয়, আমাদের ব্যান্ড চিরকুটের। আর এটার কোন রহস্য নেই। ফিল্ম তো আসলে ডিরেক্টরের জায়গা, তো উনাদের ফিল্মে কাকে নেবেন কাকে নেবেন না এটা সম্পূর্ন তাদের ব্যাপার। হয়তো আমাদের গানের টেস্ট উনাদের ফিল্মের সাথে গিয়েছে তাই তাঁরা আমাদের নিয়েছেন। ওনারা আমাদের বন্ধু, বড়ভাই। আমরা খুব খুশি যে আমাদের গানগুলি তাদের ফিল্মে গিয়েছে এবং মানুষ সে গান শুনেছে, প্রশংসা করেছে এটা অন্যরকম ভালোলাগার ব্যাপার। তাদের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।
ফারুকি এবং অমিতাভ ভাই তো অসাধারণ, বলার কোন অবকাশ রাখেনা । তাঁরা বলতে গেলে আমাদের ফিল্মকে লিড করছেন, আমাদের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের ছবিতে কাজ করতে পারা সত্যি বলতে অনেক বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার আমাদের দলের জন্য। আমরা উনাদের সাথে কাজ করতে খুব ইন্সপায়ার্ড ফিল করি।

লা পেরুজের বেয়ার আইল্যান্ডে ‘চিরকুট’এর সাথে প্রশান্তিকা সঞ্চালক

একটু পেছনে ফিরে যাই, আপনি যখন ব্যান্ড ফর্ম করলেন, চিরকুট। আপনার ইন্সপায়রেশন কি ছিল বা কারা ছিল, বা কাউকে সেভাবে ফলো করতেন কিনা?
আসলে এই ব্যান্ডে আমি একা তো না, আমাদের সবার প্রচুর মিল, আমাদের মিউজিক টেস্ট মিলে যায়, গানের ব্যাপারে, গান শোনার ব্যাপারে, সেখান থেকেই আসলে দল হয়ে ওঠা। আর, আমরা সবাই আমাদের বাংলাদেশের অসাধারণ সব ব্যান্ডগুলোর গান তো শুনতামই, এতো চমৎকার সব ব্যান্ড আছে আমাদের। আমরা সবার গান শুনতাম। এলআরবি, নগর বাউল, জেমস, মাইলস, মাকসুদ ভাই, ফিডব্যাক অয়ারফেইজ মাইলস, আর্ক আরো অনেক অনেক ব্যান্ড আছে শেষ করা যাবে না। এই গানগুলো শুনে আমরা অনেক ইন্সপায়ার্ড হতাম। এছাড়া ইন্টারন্যাশনালি আর্টিস্ট বা ব্যান্ড যারা আছেন যেমন পিংক ফ্লয়েড, বিটলস এবং আরো অনেক নাম বলতে হবে যারা আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করেছেন। ইন ফ্যাক্ট গান শোনার ব্যাপারে, অনুপ্রাণিত হবার ব্যাপারে আমাদের কোন বাঁধাধরা নেই, আমরা সবার সব ধরণের গান শুনি। সত্যি বলতে দলের বাকিরা শোনে, ওরা প্রচুর গান শোনে। আমার অতোটা শোনা হয়না ওদের মত করে। আমি পার্সোনালি মৌসুমি ভৌমিকের গান শুনতাম প্রচুর, কবির সুমনের গান অনেক বেশি শুনতাম। তবে আমার কাছে মনে হয় আমাদের অনুপ্রেরণার বড় একটা  অংশ গানের বাইরে থেকে এসেছে , আমাদের চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি, মানুষের জীবন, সংগ্রাম আমাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে গানের ক্ষেত্রে।

সিডনির মঞ্চে চিরকুট

এই কয়দিন আমরা একসাথে ছিলাম, আপনাদের মধ্যে খুব সুন্দর একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম যে, আপনাদের দলটা একটা সুখী ফ্যামিলির মত। পরিবারের কাজিনরা একসাথে ঘুরতে বেরোবার মত করে আপনারা মজা করছেন। আপনাদের দলের আপনি একমাত্র নারী এবং বাকিরা আপনাকে যথেষ্ট সন্মান করছে। আপনি সেই ফ্যামিলির অনেকটা বড় বোনের মত ওদেরকে ডাকছেন, কথা বলছেন, খোঁজখবর রাখছেন, আগলিয়ে রাখছেন। তারাও সেটা ফিরিয়ে দিচ্ছে। আপনাদের এই সম্পর্কটা আসলে কিরকম আপনার চোখে?
আসলেই আমরা একটা ফ্যামিলি, অনেকবছর ধরে তো আমরা একসাথে আছি। আমাদের ব্যান্ডের বয়স ৬ বছর, এখানে যারা আছে তাঁদের বেশিরভাগের সাথে আমার সম্পর্ক  ১২ বছরেরও বেশি। কয়েকজনের সাথে সেটা ছয় সাত বছর । আমরা আসলেই একটা সুখী ফ্যামিলি। একটা বাড়িতে থাকতে হলে পরিবারের সদস্যদের যে পরিমাণ সহমর্মিতা, স্যাক্রিফাইস কেয়ার লাগে আমরা প্রত্যেকের জন্য সেটা করি, একজন আরেকজনকে ভ্যালু দেই। এটা আসলে প্র্যাকটিস না, এটা আমাদের রক্তে মিশে গেছে। আমরা আলাদা ভাবতে পারি না নিজেদেরকে। এই কারণেই আপনাদের এই ধারণাটা হয়েছে হয়তো। আর এটা একদম ন্যাচারালই এসেছে আমাদের মধ্যে, কোন প্রকার আরোপিত কিছু ছিল না।


সিডনি এয়ারপোর্টে ‘চিরকুট’ দলকে বরন করে নিচ্ছে ‘লিসেন ফর’, সাথে আছে ‘প্রশান্তিকা’

আপনার মতে এই ফ্যামিলিতে আপনার ভূমিকা কি?
আসলে ভূমিকা নিয়ে তো সেভাবে চিন্তা করিনি, আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ওদেরকে একটা গাইডেন্স দিতে , আমার অভিজ্ঞতা থেকে ওদের সাথে ভালো খারাপ শেয়ার করি, সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার চেষ্টা করি। ওরাও আমাকে আগলিয়ে রাখে, দেখে রাখে। আর ওদেরও বাবা মা যারা আছেন, আঙ্কেল-আন্টিরা তারাও আমাকে সেভাবেই আদর করেন ভালোবাসেন। তাঁরাও আমাকে গাইড করেন, ভালোমন্দ বুঝতে সাহায্য করেন, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। এটা আসল বোথ ওয়েতে কাজ করে। আমিতো আসলে আলাদা কিছু না। আমরা সবাই সবাইকে দেখে রাখছি।

আচ্ছা, সিডনিতে কোথায় কোথায় ঘুরলেন? কি কি দেখলেন?
কায়ামাতে গেলাম, ব্লো হোল দেখলাম, প্রচন্ড প্রচন্ড সুন্দর লেগেছে। তারপর গেলাম ব্লু মাউন্টেইন্স থ্রি সিস্টারস দেখলাম, অভিভূত। এরপর ন্যাশনাল পার্কে গেলাম। আর অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক অপেরা হাউজ, হারবার ব্রিজ দেখলাম। লা পেরুজ ঘুরলাম। খুবই ইন্টারেস্টিং সবকিছু। আরো কিছু জায়গা ঘুরলাম, এই মুহুর্তে নাম মনে করতে পারছিনা।

হটাৎ বৃষ্টি, সিডনি রকস

সিডনিতে আপনারা আসার পর থেকেই বৃষ্টি, এই বৃষ্টিতে অভিজ্ঞতা কি?
এটা একটু দুঃখ পেয়েছি, রোদ পাইনি। রোদ হলে সিডনি হয়তো আরো সুন্দর লাগত দেখতে। আশা করি পরেরবার সুন্দর আবহাওয়ায় সিডনি দেখতে পারবো।

আপনারা তো গতকাল খুব উপভোগ করলেন সিডনির বৃষ্টি। অনেক সময় নিয়ে ভিজলেন লা পেরুজ বেয়ার আইল্যান্ডে। কেমন লেগেছে?
হ্যাঁ, আমরা অনেক লাফালাফি করেছি, অনেক মজা করেছি। খুব মজা পেয়েছি বলতে গেলে সমুদ্রের মাঝে বৃষ্টিতে ভেজা এটা একদম ফার্স্ট টাইম ছিল। কিন্তু আমরা অনেক এন্জয় করেছি।

সিডনিতে যদি আবার আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয় আসবেন তো?
অবশ্যই আসবো। ভালোবেসে যারাই ডাকবে, আমরা অবশ্যই তাঁদের সাথে আছি, থাকবো।

বাংলাদেশে ইদানীং আমাদের পরিচিত সব ভালোবাসার ব্যান্ডদলের মাঝে এক ধরণের ভাঙ্গন দেখতে পাচ্ছি। এটা আপনি কিভাবে দেখছেন?
না না আমি আসলে এটাকে ভাঙ্গন বলতে নারাজ। একটা অফিস থেকে লোক চলে যায়, নতুন লোক আসে বা একটা ফ্যামিলি থেকে মানুষ দূরে চলে যায় অনেক কিছু হয়, এটাকে আসলে ভাঙ্গন বলে এতটা হাইলাইট করার কিছু নেই। ব্যান্ডে লোক আসবে, লোক যাবে কিন্তু যারা বেসিক্যালি ব্যান্ডটাকে ফিল করবে তারা থেকে যাবার চেষ্টা করবে সবসময়।

ঝুম বৃষ্টিতে লা পেরুজ

চিরকুটের ভবিষ্যৎ কি, কি করবে চিরকুট নেক্সট?
জানি না তো কি করবে চিরকুট। আমরা আসলে ভবিষ্যৎ নিয়ে সেভাবে ভাবি না। আজকের কাজটা ঠিকমত করার চেষ্টা করি, ফিউচার ভেবে করিনা কখনো। কিন্তু যেটা করছি গান, সিনেমার গান এগুলোতে আরো ভালো করার চেষ্টা থাকবে, মানুষের আরো কাছে যেতে পারবো এমন গানে এমন প্রোডাকশনে কাজ করার ইচ্ছা আছে আমাদের।

নতুন কোন অ্যালবাম?
এখনি না, উধাও বের হল মাত্র, আমাদের থার্ড এ্যালবাম। সেটা নিয়েই আছি আপাতত।

প্রশান্তিকার পাঠকদের কিছু বলবেন?
প্রশান্তিকা এবং পাঠকদের অনেক শুভকামনা, মানুষের জন্য কাজ করবে প্রশান্তিকা এই কামনা করছি।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ প্রশান্তিকা এবং সিডনিবাসীর পক্ষ থেকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ সিডনি।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments