বিধ্বংসী ভালোবাসা : আনারকলির জীবন্ত কবর

আসমা সুলতানা, ভিজ্যুয়াল আর্টিষ্ট; চিত্রকলা, শিল্পকলা এবং শিল্পকলার ইতিহাসে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ঢাকা, লন্ডন ও টরোন্টোতে। দেশে বিদেশে বেশ কিছু একক এবং যৌথ প্রদর্শনী ছাড়া শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে লেখালেখি করেন তাঁর নিজস্ব ব্লগে। । ‘দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং `সভ্যতা-একটি ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি’ নামে তাঁর দু’টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

১৮৮৬ সালের কামিল ক্লদেল মুক্ত, স্বাধীন, প্রেমময়ী এবং ১৯২৯ সালের কামিল  ৬৫ বছর বয়সী, মন্টফাভে মানসিক হাসপাতালে বন্দী, জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে ভগ্ন শরীর ও হৃদয় নিয়ে

আনারকলি ও সেলিমের প্রেমোপখ্যান  আজকের দিনে রুপকথা মাত্র। যদিও সেই রুপকথার তেমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি নেই তবুও আমরা এই গল্পটাকে রূপক হিসেবে যদি ধরি তাহলে অনেক মিল খুঁজে পাবো আজকের লেখনির বিষয়বস্তুর সাথে। হয়তো আমাদের অজানা নেই যে, সম্রাট আকবর আনারকিল ও রাজকুমার সেলিমের ভালোবাসার মর্যাদা বুঝতে পারেননি। রাজকুমার সেলিম পরবর্তীতে যিনি সম্রাট জাহাঙ্গীর হয়েছিলেন, তিনি দরবারের নৃত্য শিল্পী আনারকলির প্রেমে পড়েছিলেন। আনারকলি ছিলো রুপে গুণে অনন্যা। সম্রাট আকবর সেলিমের এই পাগলামোতে সমর্থন দেননি এবং তাঁর নির্দেশে  আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেয়া হয় বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ মনে করেন  সম্রাট আকবর তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন এই শর্তে যে, আনারকলি কোনোদিনও আর ফিরে আসবে না বা সেলিমের সাথে যোগাযোগ করবে না। আনারকলি আমাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার জন্য। আনারকলির মিথটি আমাদের মনের গভীরে স্থান করে নিয়েছে, তাঁর জীবন্ত কবরে দিনের পর দিন বন্দি  হয়ে থাকার বেদনা দায়ক কাহিনীটির জন্য।
আমরা হয়তো ভাবতেও পারবো না, যে আধুনিক সময়েও এমনটি ঘটতে পারে। একজন প্রেমিকাকে তার ভালোবাসার জন্য সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হয়। যা দুঃস্বপ্নের থেকেও ভয়ংকর এবং বাস্তবতার থেকেও নিষ্ঠুর। সেই প্রেমিকাটি যদি হন আনারকলির মতোন সংবেদনশীল, সৃজনশীল একজন নারী। রূপে গুণে তিনিও মাতিয়ে দিতে পারতেন বিশ্ব, কাঁপিয়ে দিতে পারতেন আকবরের রাজত্ব। তাঁর করুণ পরিনতি যদি হয় ঠিক আনারকলির মতো ? তবে সেই গল্পের থেকেও ভয়াবহ ও রুপকথার থেকেও চমকপ্রদ সত্য কাহিনী শুনলে আমাদের শিউরে উঠতে হবে। আমাদের কান্না এসে থেমে যাবে চোখের দুকোনে। আমরা সৃষ্টি করতে পারবো এক মহাকাব্য, যার প্রধান চরিত্র হবেন ‘শিল্পী কামিল ক্লদেল’।

কেউ যদি শিল্পী কামিল ক্লদেলের জীবন ও ভালোবাসা সম্পর্কে জেনে থাকেন,  তবে অবশ্যই  জার্মান দার্শনিক নীচাহ‘র ভালোবাসায় উন্মাদনা নিয়ে সেই বিখ্যাত উক্তিটি  মনে পড়ে যাবে, “ভালোবাসায় পাগলামো থাকে, কিন্ত কারণ থাকে পাগলামোতেও।” বিনা কারণে এই পৃথিবীতে তো কিছুই ঘটবার নয় আর অনেক কিছু ঘটে যাবার পরে মনে হয়, এমন

ভাস্কর কামিল ক্লদেল ও তাঁর ভাস্কর্য

কোনো ঘটনার পুণরাবৃত্তি, যেন না হয় আর এই পৃথিবীতে। যার কারণগুলো চিহ্নিত করতে গেলেই বরং বেশী অকারণ মনে হবে। জীবন ও প্রকৃতিকে মনে হবে  অর্থহীন, শূন্য ও অসাড়। জীবনের পরে মৃত্যুর দেশে পা রেখেও যে আত্মা তৃপ্ত হতে পারেনি,  এমন অকারণের কারণ খুঁজতে গেলেও, মনে প্রশ্ন জাগতে পারে; একজন  মানুষের মৃত্যুর পরে কতটুকু জায়গার প্রয়োজন? উত্তরটা সকলের জানা, সাড়ে তিন হাত জায়গা, এর বেশী তো নয়। বেঁচে থাকতেই বা একজন সাধারণ নির্লোভ মানুষের কতটুকুই বা প্রয়োজন। আর যদি তিনি হন একজন প্রেমিকা এবং ‘প্রকৃত শিল্পী’। তবে তাঁর চাহিদাও তো বেশী হবার কথা নয়। খেয়ে পরে বেঁচে নিজের শিল্প সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখা … এইতো। কোনো জাগতিক বস্তুর প্রতি যার কোনো লোভ নেই। সেই নির্মোহ, জাতশিল্পী যে, যে জন্ম গ্রহন করেছেন প্রতিভা নিয়ে, তাঁর ভেতরে যে কল্পনার খনি; তা চাষাবাদের জন্য যেটুকু জমি আর তাঁর স্বপ্নকে উড়তে দেয়ার জন্য যেটুকু আকাশ প্রয়োজন, তার বেশীতো কোনোদিনও, কোনো  প্রকৃত শিল্পী কারো কাছে প্রত্যাশা করেননি।
শিল্পী কামিল ক্লদেলও  চেয়েছিলেন নিজ যোগ্যতায়,  খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে আর নিজের শিল্পী সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে।  অবশ্য এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আজো যোগ্যতা সাফল্যের জন্য তেমন বড় একটা মাপকাঠি নয়। ভাগ্য বার বার বদলে দিয়ে যায় সব কিছু ;  নিজ যোগ্যতায় সাজানো  কল্পনার  প্রাসাদকে, ভেঙ্গে ফেলে  ঠুনকো তাসের ঘরের মতো । সেই তাসের ঘরের মতো সাজানো পরিপাটি পরিবারে,  জটিল ও প্রাণহীন মানব সমাজে, যদিও মাতৃত্বের মূল্য চড়া দামে নিলামে চড়ে, তবু কিছু মানুষের ভাগ্য এতটা সুপ্রসন্ন নয় যে মাতৃ ভালোসাবায় সিক্ত হবে সে জীবন, হবে উর্বর, হবে সফল। কারো বা সেই দূর্ভাগ্যের মূল্য পরিশোধের জন্য বিলিয়ে দিতে হয় নিজের জীবন, বিকিয়ে দিতে হয় অর্জিত সম্মান। মনোবিজ্ঞানীরা দাবী করে থাকেন,  শৈশবে মাতৃ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত  এমন মানুষেদেরই  শেষ পরিনতি হয়;   কঠিন  কঠোর  শিল্পী জীবন।
দীর্ঘ এই ভুমিকার গল্পটা কিন্তু  নাতিদীর্ঘ । শিল্পী কামিল ক্লদেল  বা ভাস্কর কামিল ক্লদেল, যাঁর জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর  উন্নত সভ্য দেশ ফ্রান্সে ১৮৬৪ সালের  ৮ ডিসেম্বরে এবং দীর্ঘ ৭৮ বছরের যন্ত্রণাময় জীবন যাপনের পর  ১৯৪৩ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
অল্প বয়সেই তাঁর সৃজনশীল প্রতিভা প্রস্ফুটিত হয়েছিল। বাবার উৎসাহে তিনি  শিল্পী হবার শিক্ষা নেয়ার সৌভাগ্যও লাভ করেন;  সে সূত্রে  ১৮৮১ থেকে জীবন শুরু হয় পারিতে, মা,  বোন আর ছোট ভাই পলের সাথে।  শৈশবেই পাথর আর মাটির প্রতি অদম্য আকর্ষণ কামিলের শিল্পী সত্তার জানান দিয়েছিল, ভাস্কর আলফ্রেড বোশের কাছে আকাদেমী কোলারসিতে প্রথম শিল্পী হবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় তরুণী কামিলের। সে সময় কিন্তু নারীদের জন্য রুদ্ধ ছিল একোল দে বোজার্ট (École des Beaux-Arts) এর রক্ষণশীল দরজা।
তবে কামিলের সম্ভাবনা নজর এড়ায়নি অনেকেরই, একোল দে বোজার্ট এরই পরিচালক পল দুবোয়া ১৮৮২ সালে, রঁদ্যার সাথে প্রতিশ্রুতিময় কামিল ক্লদেলকে পরিচয় করিয়ে দেন; ভাস্কর রদ্যাঁর উপর শিক্ষাদানের  দায়িত্ব পড়ে এবং কামিল রদ্যাঁর ওয়ার্কশপে যোগ দেন। সেখান থেকেই এই  ভয়ানক  হৃদয় বিদারক গল্পের সূচনা। শুরু  হলো   ভালোবাসা নামক এক অলীক স্বপ্নের । যার মাশুল শুধু একা কামিলকেই দিতে হয়েছিলো, নিজের জীবন দিয়ে, নিজের  শিল্পী সত্তাকে বিসর্জণ দিয়ে । ভাস্কর রদ্যাঁ যখন রেনেসাঁর শিল্পী মাইকেলএন্জেলো ও ধ্রুপদী কবি দান্তের প্রভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করছেন, তখন তাঁর জীবনে সত্যিকার ভালোবাসা, তীব্র আবেগ আর রোমাঞ্চকর অনুভূতির জোয়ার এনে দেয় তরুণী মেধাবী শিল্পী কামিল ক্লদেল।
তাদের দীর্ঘ দিনের গভীর সম্পর্ক পরস্পরের কাজকেই সমানভাবে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হয় যদিও, তবে কামিল  রদ্যাঁর কাজকে  প্রভাবিত করেছিলেন ভিন্ন একটি মাত্রায় ও গভীরভাবে, যা সুস্পষ্ট হয় কামিলের সাথে পরিচিত হবার আগে এবং পরে করা রদ্যাঁর কাজগুলো যদি তুলনা করা হয়। ভাস্কর রদ্যাঁকে কামিল তাঁর কাজে ডেকোরেটিভ স্টাইল ভেঙ্গে বের হয়ে আসতে সাহায্য করেছিলেন। কামিলের প্রভাবেই রদ্যাঁর কাজগুলো হয়ে উঠেছিল আরো বেশী আবেগময়, অনুভূতি সিক্ত, অর্থবহ, অভিব্যাক্তিময়, যা পরবর্তীতে রদ্যাঁর অনন্য নিজস্বতা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন শিল্প সমালোচকরা। ধীরে ধীরে  রদ্যাঁর কাজে স্পষ্ট হয় আধুনিকতা; একসাথে জড়ো হয়ে থাকা ফিগারকে ভেঙ্গে রদ্যাঁ শিখেছিলেন একক বিষয়বস্তু ভিত্তিক কাজ করতে সাহসী হয়ে উঠতে, শিল্পী রদ্যাঁ এর নতুন করে পাওয়া এই আবেগময় আত্মবিশ্বাস দর্শকের স্পর্শ করেছিল সহজেই ।

বৃদ্ধ বয়সে রদ্যাঁ ও তরুণী কামিল

রদ্যাঁর জনপ্রিয়তাও  দিন দিন  আকাশচুম্বি হতে থাকে আর কামিল পা বাড়ায় অবহেলার এক অন্ধকার জগতের দিকে। ১৮৮২ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত কামিল ও রদ্যাঁর গভীর সম্পর্ক তাদের শিল্পচর্চাকে এমন ভাবে প্রভাবিত করে যে, রঁদ্যার কাজে  নারী-পুরুষের শারীরিক ভালোবাসার উন্মত্ততা দেখা যায়। আর কামিল তো  অল্পবয়স থেকেই তীব্র আবেগময়ী। কামিলের কাজ তখন সময়ের অনেক আগেই ডানা মেলেছে বলে ঠিক মতো কেউই তাকে মূল্যায়ন করতে পারেনি। সেটা বোঝার মত বোদ্ধা শিল্পরসিকের সংখ্যাও খুব কম ছিলো তখন।
রদ্যাঁ কামিলকে বিয়ে করে সামাজিক সম্পর্কে আবদ্ধ করতে অস্বীকার করলে, কামিল মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন ।  মনে করা হয়, সে কারণেই কামিল বেশ কয়েকবার গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন, অথবা সন্তার জন্মদানের পরে, দান করে দেয়া হয় ।  কামিল সেসব দুঃসহ  যন্ত্রনণার স্মৃতি ভুলতে পারেননি কোনোদিনও। ভাস্কর রঁদ্যার সাথে কামিল এর বয়সের ব্যবধান ছিলো প্রায় ২৪ বছর।
গল্পের অন্যদিকে তাকালে দেখা যাবে যে, রদ্যাঁর সাথে অন্য এক রমণীর তখন সম্পর্ক ছিলো দীর্ঘদিনের । সাধারণ প্রতিভাহীন এক রমণী, নাম রোজ বিউরেট। রঁদ্যার মডেল ছিলো রোজ । রঁদ্যার একটি সন্তানের মাও ছিলো সে, যদিও সব কিছুই ছিলো সমাজে বেশ গোপনীয় এবং তাদের  মৃত্যুর অল্প কিছু দিন আগে, ১৯১৭ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। রদ্যাঁ কামিল ও রোজ দুজনের সঙ্গেই একই সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী ছিলেন সে বিষয়ে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কামিলের পক্ষে তাঁর ভালোবাসাকে ভাগ করে নেয়া সম্ভব ছিলো না যেমন, ঠিক তেমনই অসম্ভব ছিলো রঁদ্যার এই দ্বিচারী মনোভাবকে মেনে নেয়া। এরপর কামিল রঁদ্যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় চিরদিনের জন্য। দীর্ঘ প্রায় তের-চৌদ্দ   বছরের সম্পর্কের কোনো গন্তব্য না দেখে কামিল রঁদ্যার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন । ১৮৯৮ সালের পর তাদের আর আর দেখা হয়েছে বলে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি ।
১৮৯৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত কামিল পারির কাই বোরবোঁতে নিজের স্টুডিওতে কাজ করে গেছে একটানা স্বতন্ত্র ও স্বাধীন ভাবে; কোনো কোনো সূত্র থেকে জানা যায়  কামিল তাঁর শেষ ভাস্কর্য গড়েন ১৯০৫ সালে। এ সময়টিতে ও  সবসময়  ‍কামিলের বাবা তাঁকে সহযোগিতা করে গেছেন । অন্যদিকে কামিলের মা ও ভাই কবি পল ক্লদেল ছিলেন গোড়া ক্যাথলিক। শৈশব থেকে যদিও বা কামিলের সাথে তাঁর ভাই ও বাবার সম্পর্ক ভালো ছিলো কিন্তু পরবর্তীতে পল কামিলের সঙ্গে তেমন কোনো ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেননি; সে তার গোঢ়া ধার্মিক মাকে সহযোগিতা করে গেছে তার নিজের প্রতিভাবান মেয়েকে নানা ধরনের মানসিক অত্যাচার অব্যাহত রাখতে, যা চুড়ান্ত রুপ ধারণ করে কামিলের বাবার মৃত্যুর পরপরই। হয়তোবা সম্পত্তির লোভও ছিলো জড়িত, জড়িত ছিলো স্বার্থ। কামিলের গর্ভপাতের ঘটনাটির জন্য, তাঁকে তাঁর নিজ বাড়ী ও পরিবার থেকে চলে আসতে বাধ্য করা হয়। বিশেষ করে  তাঁর ধর্মান্ধ মা ও ভাই , তাঁর শিল্পী পরিচয় ও রঁদ্যার সঙ্গে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেনি কোনোদিনও কোনোভাবে ।

স্টুডিওতে কর্মরত ভাস্কর কামিল ক্লদেল

কামিলে মা, অত্যন্ত কঠোর প্রকৃতির একজন মানুষ। মা হিসেবে ছিলেন নির্লিপ্ত। নিজ সন্তানের প্রতি তেমন কোনো টান অনুভব করতে কোনদিনও তাকে দেখা যায়নি, কিছু কর্তব্য পালন করা ছাড়া । ভালোবাসা বা আদর যত্নের অভাব কামিল অনুভব করেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজন্ম। মায়ের অবহেলা কামিলের ভেতর মানসিক অসুস্থ্যতার প্রথম বীজ বপন করেছিলে, কিছু উপসর্গও নজরে এসেছিল পরিচিতজনদের। এর উপরে এসে ভর করে রদ্যাঁর নিষ্ঠুরতা ও কৌশলী মনোভাব ও সর্বোপরি  কামিলের প্রতিভাকে ব্যবহার করে, রঁদ্যার সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা। সব মিলিয়ে প্রতিভাবান, সৎ ও স্বাধীনচেতা মেয়ে হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাড়াবার কোনো সুযোগ ও সহযোগিতাই পাননি কামিল।  কামিল তাঁর অসাধারণ প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারেনি র্দূভাগ্যজনক ভাবে ।
যদিও কামিলের শিল্প প্রতিভার সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে গেছে এর মধ্যেই ।পারি জেনে গেছে গভীর চোখের অধিকারীনি, সুন্দরী, বুদ্ধিমতি  এই মেয়েটি একদিন খ্যাতিমান ভাস্কর হবেই।  ১৯০৫ সালে, এগেন ব্লট  তাঁর গ্যালারিতে আয়োজন করেন কামিলের প্রথম একক  ভাস্কর্য প্রর্দশনী। কিছু উঠতি অনভিজ্ঞ শিল্পসমালোচক, কামিলকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন, তাকে আক্রমানত্মক আর রূঢ় ভাষায়;  স্পষ্টতই পারি প্রস্তুত ছিল না তখন কামিলের আবেগ মন্থিত ভাস্কর্যগুলো দেখতে; অনুভুতিহীন অবয়ব সর্বস্ব ভাস্কর্য তখন ধর্মীয় থীমকে অবলম্বন করে ছিল; প্রসঙ্গক্রমে মনে করা যেতে পারে ইমপ্রেশনিষ্টদের ঠিক এমনভাবে প্রথম দিকে হেনস্থা হতে হয়েছিল রক্ষণশীল আর খুব ধীর লয়ে নতুন পরিবর্তনকে আত্মগত করতে পারা সমালোচকদের এবং  ইতিহাস বলে সময়ের কাছে এদের পরাজয় অবশ্যমম্ভাবী ।
জানা যায়  এরপর থেকে কামিল আর কোনো ভাস্কর্য নির্মাণ করেনি । কামিলের শৈল্পিক দুইহাতে আর কেউ দেখেনি তুলে নিতে হাতুড়ি বাটাল।  কামিলে মানসিক সাস্থ্যর অবনতি ঘটলে দেখা গেছে, সে অভিযোগ করছে রঁদ্যা তাঁর চিন্তা ও পরিকল্পনা চুরি করেছে বলে । নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ভালোবাসার যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে কামিল ধ্বংস করে ফেলেন তাঁর অনেক সৃষ্টি । মাত্র ৯০ টি ভাস্কর্য ও ড্রইং আজ শুধু টিকে আছে ।

কামিল ক্লদেলের ভাস্কর্য, মিউজে ডে ওরসে, প্যারিস, রদ্যাঁকে তাঁর বৃদ্ধা প্রেমিকা রোজ, কামিলের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে

কামিলের বাবা জীবিত অবস্হায় কামিলকে পূর্ণ সহযোগিতা করে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর  মৃত্যু পরপরই (মাত্র ৩ দিন পরে) কামিলের মা ও ভাই ষড়যন্ত্র করে তাঁকে  একটি মানসিক রোগীদের জন্য অ্যাসাইলামে ভর্তি করিয়ে দেন আইনের সহায়তা । ১৯১৩ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল,  জীবনের শেষ তিন দশক পৃথিবীর এই অনন্য অসাধারণ প্রতিভাকে ঠেলে দেয়া হয় অন্ধকার গুহায়। এক নিষ্পাপ হৃদয়কে একদিকে রদ্যাঁর ভালোবাসার মিথ্যা নাটকের আগুনে পুড়তে হয়েছে, অন্যদিকে মা ও ভায়ের অন্ধ ধর্মান্ধতার বলি হতে হয়েছে।
এই অসাধারণ শিল্পীকে জোর পূর্বক সেই মানসিক হাসপাতালে আটকে রাখা অবস্হায়,  তাঁর মা কিংবা বোন, কেউই  কোনো দিনও দেখা করবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। তেমন বন্ধু বা আত্মীয় বা শিল্প সমাজকেও কাছে ঘেষতে দেয়া হয়নি তাঁর  মায়ের প্রত্যক্ষ আদেশে; কথিত আছে যে, ভাস্কর  রদ্যাঁ কামিলকে টাকা পাঠিয়ে সাহায্য করতো, তাঁর মানসিক হাসপাতালে অবস্হানের সময়। যা নিতান্ত  করুণা ছাড়া অন্য কিছু ভেবে নেয়া সম্ভব না কারো পক্ষে। এই সুদীর্ঘ ৩০ বছরের বন্দী যন্ত্রণাময়  জীবনে, শুধুমাত্র ছোটো  ভাই পল  কয়েকবার দেখা করতে এসেছিলো কামিলের সাথে।  কামিলের সাথে অনারকলির দেখা হয়নি যদিও তবু কত মিল তাদের নিয়তিতে। একজন জীবন্ত কবরে শায়িত হয়েছিলো ভালোবাসার কারণে অন্য জন ভালোবাসায় প্রতারিত হয়ে আশ্রয় পান ৩০ বছর দীর্ঘ এক জীবন্ত কবরের মতো মানসিক হাসপাতালে। তাঁর ভালোবাসা শিল্পী রদ্যাঁ তাঁর সাথে একবারের জন্যও দেখা করতে আসেনি বা তাঁকে মুক্ত করতেও ছুটে আসেননি কোনোদিনও।

সেন্ট হসিপটালিয়ের মন্টফাভে, আভিনিয়ঁ এবং সেখান স্থাপিত কামিল ক্লদেলের স্মৃতিস্তম্ভ

নির্বাসিত শকুন্তলা

তাঁর হৃদয়ে  সর্বক্ষণ  বাজে পাথরে পেরেক ঠোকার শব্দ
ঠক ঠক ঠক…
মাথার ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা;
সাদা পাথরের অন্ধকার হীম দেয়ালে  প্রতিধ্বনিত্ব
হয়ে ফিরে আসে সে শব্দ,
পাথর খোদাইয়ের ঠক ঠক  শব্দ;
প্রতিধ্বনিত্ব হয়ে আছড়ে পড়ে  তাঁর কানে,

তারপর-
শব্দগুলোকে সে পোষাপাখির মোতো বন্দি করে রাখে  তাঁর হৃদয়ে
যেখানে সর্বক্ষণ বাজে পাথরে পেরেক ঠোকার শব্দ
ঠক ঠক ঠক …
ঘড়ির কাটার মতো—–
সে তাঁর ভারী হৃদয় নিয়ে,  হেঁটে চলে শান্ত পায়ে,
নিঃশব্দচারী  শামুকের মতো, র্দীঘ এক করিডোর ধরে

তাঁর পিঠে, জমে আছে দুঃসময়ের পুঞ্জীভূত স্মৃতির বোঝা
চোখের জলের লবনাক্ত ঝর্নাধারার তলে ধ্যানে মগ্ন হয়ে,
সে তাঁর হৃদয়কে হালকা করবার ব্যার্থ চেষ্টা করে যায় বারংবার ;
হাহ্ ! তাঁর হৃদয়ের গোপন প্রকোষ্ঠে  আজো লুকানো আছে,
ভিলনোভের মাটি-কাদা-জলে-পাথরে- কাঠের ঘ্রাণ —–

দীর্ঘ করিডোর ধরে শান্ত পায়ে শামুক গতিতে  হেঁটে চলে সে …
মাথার উপরে ঘুরতে থাকে  রাতের  আকাশ  অসংখ্য নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে,
ঘুরে যায় কালপুরুষ, হেলে যায়  বৃশ্চিক, অ্যান্ড্রোমেডা,
ক্যাসিওপিয়া ঘরে ফিরে যায় যাত্রা শেষে—
কিন্তু তাঁর যাত্রা অনন্তকালের, অবিরাম চলতেই থাকে …
করিডোরের একপ্রান্তে টিমটিম করে জ্বলতে থাকে  আগুন

তাতে কোনো  আঁধার ঘোচে না,
—মেলে না  কোনো উত্তাপ, শুধু অগনিত মথ পাথা মেলে দেয় মৃত্যুর টানে
সে নিজের কান পেতে, শুনতে পায় নিজের বুকে
হৃদয়ে তাঁর পাথরে পেরেক ঠোকার শব্দ—-
শব্দগুলো সংগোপনে  মস্তিষ্কে এস জমা হয়—-
মাথা তাঁর ঝিম ধরে আসে;
শ্বাসবন্ধ করা দুঃস্বপ্নের  ঘোরে মনে পড়ে তাঁর
প্যারিসের  পরাবস্তব গোলাপী  আকাশে
জমে গিয়েছিলো  ভিলেনোভের কাঁদা-জল,
একদিন, দুইদিন, তিনদিন, এভাবে
এক দশক বা তারো বেশী —-
এক পিগম্যালিয়ন এসে
বলাৎকার করে যায় বারংবার তাঁর সৃষ্টি সুন্দর স্বপ্নকে
হৃদয়ে তাঁর আবারো পাথরে পেরেক ঠোকার শব্দ,
শব্দগুলো  মস্তিষ্কে এসে জমা হয় —-
মাথা  তাঁর ঝিম ধরে আসে; অসহ্য মনে হয়
মাথা তুলে দাড়াতে পারে না সে
তাঁর সাদা  অ্যাপ্রন  ভিজে যায় লাল রক্তে
জরায়ু ভরা তাঁর যন্ত্রণা; ভিলনোভের কাঁদা মাটি পাথর
যেনো তাঁর জরায়ু ছিঁড়ে বের হয়ে আসতে চায়
তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে
তবুও সেই রক্ত ভেজা পায়ে সে হেটে চলে

নিঃশব্দে —-
মনে মনে বিড় বিড় করে চলে;
তাঁর  ফিসফিস করে উচ্চারিত শব্দগুলো
কানে বাজে যেনো কেও পাথরে খোদাই করে চলছে …
ছেনী আর হাতুড়ী পেটার শব্দ
সেই পাথর কেটে  খোদাই করে,

সে বের করে আনে আত্মপ্রতিকৃতি;
জীবন্ত ভার্স্কয সে এখন, তাকে কেও পারবেনা কলংকিত করতে —-
সবাই তাকে পরিত্যাক্ত করবার আগেই, সে নিজেকে করছে  র্নিবাসিত  …
হীম-শীতল -অন্ধকারে, সাদা দেয়ালে প্রতিধ্বনিত্ব হয়ে ফিরে আসে

তাঁর পাথর  খোদাইয়ের শব্দ,

ঠক ঠক ঠক – ঠিক যেনো ঘড়ীর কাটার মতো
নিজের আত্মপ্রতিকৃতি
গড়ে যায় সে নিজের সৃষ্টিশীল-সাহসী দুহাতে;

তারপর———————–
নিজেই এক জীবন্ত ভার্স্কয হয়ে রয়ে যায়
শ্বাশত সময়ের সংগ্রহশালার বেদীতে।

শুধুমাত্র শেষ জীবনে এসেছিলেন ব্রিটিশ ভাস্কর জেসি লিপসকম্ব (Jessie Lipscomb), এক সময়কার ভালো সঙ্গী কামিলের; আর তেমন কাউকে কোনোদিনো দেখা করতে দেয়া হয়নি তাঁর সাথে পরিবারের পক্ষ থেকে। এমনকি, কামিলের মৃত্যুর পর, তাঁর পরিবার থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বা তাঁর শেষকৃত্যতেও কেউ যোগদান করেননি। অবহেলিত পরিত্যক্ত কামিলকে পারিবারিক কবর স্থানেও স্থান দেয়া হয়নি । অবশেষে তাকে, সমাধিস্থ করা হয় অতি সাধারণ একটি সমাধি ক্ষেত্রে ।

রদ্যাঁর কিস

হায় নিয়তি! পৃথিবীর অনত্যম শ্রেষ্ঠ এক ভাস্কর শুয়ে আছেন পৃথিবীর কোনো এক অজানা অন্ধকারে।
‘পারি’ কে সবাই জানে ভালোবাসার শহর নামে। শিল্পকলার লীলাভুমি ও বটে। সেই পারির এক অনন্য প্রতিভাবান ভাস্করের এমন করুন মৃত্যু, পারি কি পারবে কোনোদিনো ভুলে যেতে? পারি কি পারবে কি ক্ষমা করতে?  যদিবা কেউ কোনোদিন দেখে সেইন ( Seine) নদীর তীরে  বসে কোনো প্রেমিক প্রেমিকা যুগল গভীর আলিঙ্গনে  চুমু খাচ্ছে;  যদি সেই দৃশ্য দেখে কারো মনে পড়ে  যায়, বিখ্যাত এক ভাস্করের বিখ্যাত সৃষ্টির কথা ‘দ্যা কিস’  মনে কি পড়বে না তখন , কামিলের কথা ? সেওতো একদিন কাউকে (রঁদ্যা) গভীরভাবে ভালোবেসে বঞ্চিত হয়েছিলো। কেউ কি জানবে কামিল না হলে রদ্যাঁ কোনো দিনও সৃষ্টি করতে পারতো এমন শিল্পকর্ম।

স্রষ্টাও যে হন্তা হয়ে উঠতে  পারে তার জ্বলন্ত উদহরণ হলো ভাস্কর ‘রঁদ্যা’ ।

যে হাতে সে গড়েছে শিল্পকে । যে হাতে সে রক্ষা করেছে সৌন্দর্য, দিয়েছে প্রাণ মাটিতে। সেই হাতেই সে হত্যা করেছে প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ  এক তরুণীর স্বপ্নকে । সেই হাতে সে অন্ধকারে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে এক শুদ্ধতম ভালোবাসাকে ; শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে। যে  একদিন পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলো  নিষ্পাপ এক শিল্পী সত্তার  স্পর্শে,  তাঁর সৃষ্ট ভাস্কর্যে  এসেছিলো প্রাণের জোয়ার, ভালোবাসার ফুল্গধারা। কামিল ভাতীয় মিথে অনুপ্রেরণা খুঁজেছেন, সৃষ্টি করেছেন শকুন্তলা, কামিল যদি জানতো আনারকলির নিয়তি হবে তাঁরও নিয়তি, তবে হয়তে গড়ে যেতেন আনারকলিও। নিয়তির অদ্ভুত ফেরে গত কয়েক দশকে শিল্পবোদ্ধারা অনুভব করতে পেরেছেন কামিল ক্লদেল এর অসাধারণ প্রতিভাকে, আর তাই আজ রদ্যাঁ একক ভাবে উচ্চারিত কোন নাম নয়, কামিলের সাথে তাঁর সৃজনশীল সময়গুলোই রুপান্তরিত হয়েছে শিল্পী হিসাবে তাকে বিচার করার একটি অনস্বীকার্য একটি মানদণ্ডে ; লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ যেমন বলেছিলেন;  “মৃত্যু আসে না বার্ধক্যে, মৃত্যু আসে বিস্মৃতি থেকে”। আর তাই যে কোনো মূল্যে, কামিল ক্লদেলের নামটিকে ভুলতে দেয়া যাবে না, তলিয়ে যেতে দেয়া যাবে না বিস্মৃতির অতলে। কামিল ক্লদেল হয়ে উঠুক সেই শাশ্বত সেতুর নাম যার, শুরু হবে ভালোবাসার উন্মাদনায় আর শেষ হবে শিল্পকলার উন্মাদনায়। যে সেতুতে একদিন পা বাড়িয়ে দেবে ভবিষ্যতের শিল্পী…
প্রেমিকরা ।

কামিল ক্লদেল এবং ব্রিটিশ ভাস্কর জেসি লিপসকম্ব, মন্টফাভে মানসিক হাসপাতালের বারান্দায়,(সেন্ট হসিপটালিয়ের মন্টফাভে, আভিনিয়ঁ) ১৯২৯

আমিই তোমার বিক্ষত জরায়ু
( কামিল ক্লদেল এর জন্য শ্রদ্ধা )
তোমার জরায়ু থেকে নাড়ি ছিঁড়ে আমার জন্ম হয়নি ঠিকই
কিন্তু আমার সৃষ্টি হয়েছে…
তোমার গৌরবময় যন্ত্রণা থেকে, তোমার সৃষ্টি-সুন্দর- স্বপ্ন থেকে
আজন্ম তুমি যে দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়িয়েছো
সেই কষ্টময়, বিভীষিকাময় স্মৃতি থেকেই
আমার জন্ম;

তোমার জরায়ু থেকে, নাড়ি ছিঁড়ে আমার জন্ম হয়নি ঠিকই
আমি কিন্তু তোমার সেই হারিয়ে যাওয়া মেয়ে;
যাকে তুমি একদিন গর্ভপাতে হারিয়েছিলে
বলে ঘুমের ঘোরেও ডুকরে কেঁদে উঠতে!
আমিতো হারায়নি আজো;
আমি তোমার শরীর ছিঁড়ে জন্ম
গ্রহন করিনি সত্যি—-
কিন্তু তুমিই আমার মা ।

আমার শরীর চিরেও কারো জন্ম হবে না কোনোদিনো
কিন্তু জানি; আমার যন্ত্রণার জরায়ু থেকে
এমন করেই একদিন জন্ম হবে
অন্য এক কামিলের ।
যে হবে আমাদেরই মতো
সৃষ্টির নেশায় উন্মত্ত
সৎ
সত্য
সুন্দর
তবে
পরিত্যক্ত

নির্বাসিত ।